রামের পরিচয় দাও
রামের পরিচয় দাও
![]() |
| রামের পরিচয় দাও |
উত্তর মধুসূদনের রাম এক কথায় 'ভিখারী রাঘব'।মধুসূদনের রাম বাল্মীকির রাম নয়। সাধারণভাবে বলা যায়, মধুসূধন রামচন্দ্রকে মসীলিপ্ত করে এঁকেছেন ।
তাঁর রাম ভীরু, কাপুরুষ, অধীর এবং এক হিসেবে গুপ্তহত্যার প্রশ্রয়দাতা । যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে, সীতাকে উদ্ধার না করে, আপন প্রাণ নিয়ে পালাতে চায়। শুধু লক্ষ্মণ ও বিভীষণই তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে ধরে রেখেছে।
প্রমীলার নারী বাহিনী দেখে তার প্রাণ উড়ে গিয়েছিল। লক্ষ্মণ যখন দেবী মন্দিরে পূজার জন্য তার কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেছিল তখন গলদশ্রুলোচনে যেভাবে অনুমতি দিয়েছি তা বীরোচিত নয়।
এভাবে দেখলে রাম চরিত্রে প্রশংসনীয় কিছু খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে মূলত রামের প্রতিপক্ষকে মহৎ করতেই রামের প্রতি এ অবজ্ঞা ।
দেবদূত চিত্ররথের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাবার উপায় জানতে চাইলে তিনি বলেন- দেব প্রতি কৃতজ্ঞতা, দরিদ্রপালন, ইন্দ্রিয়দমন, ধর্মপথে সদাগতি, নিত্য সত্য দেবী সেবা— তখন বোঝা যায়, স্বয়ং রাম এ সমস্ত গুণে ভূষিত।
কেননা, রাম এ কাব্যে দেবনির্ভর মানুষ। মধুসূদনের দূতী—প্রণমি আমি রাঘবের পদে, বীর শ্রেষ্ঠ তুমি, ইত্যাদি কথায় অবশ্যই শ্রদ্ধা আছে। মহাপুরুষোচিত উদারতার বশবর্তী হয়ে রাম প্রমীলা বাহিনীকে সম্মানে পথ ছেড়ে দিচ্ছে, প্রমীলার পতিভক্তি, শক্তি ও বীরপনায় প্রশংসাও করেছে।
প্রমীলাকে সুখে থাক, আশীর্বাদ করি। হনুমানকে বলেছে- দেহ ছাড়ি পথ, বলি, অতিসাবধানে শিষ্ট আচরণে তুষ্টকর বামা দলে ।
‘নাহি কাজ প্রিয়তম, সীতায় উদ্ধারি।' কথাটি রাম বলেছে শক্তিশ্রেষ্ঠ আহত লক্ষ্মণের জীবন সংশয় দেখে । লক্ষ্মণ নব স্ত্রীকে ফেলে এসেছে। লক্ষ্মণের ত্যাগের কথা স্মরণ করে স্বীয় পত্নীর প্রতি উপেক্ষা দেখিয়েছে। সীতা উদ্ধার নিতান্ত রামের স্বার্থ— এই স্বার্থই তাকে কুণ্ঠিত করেছে। কিন্তু এটা ঠিক যে, দেবতা তোষণ রাম চরিত্রকে দুর্বল করেছে।
.png)