কাব্যলিঙ্গ বা হেতু অলংকার কাকে বলে?
কাব্যলিঙ্গ বা হেতু অলংকার কাকে বলে?
উত্তর : যদি কোনো পদের পদগুচ্ছে বা বাক্যের অর্থকে ব্যঞ্জনার সাহায্যে কোনো বর্ণনীয় বিষয়ের কারণ স্বরূপ দেখানো হয়, তবে তাকে কাব্যলিঙ্গ বা হেতু অলংকার বলা হয়।
এই কাব্যলিঙ্গ বা হেতু অলংকারের 'হেতু'টিকে কোনো হেতু-বাচক শব্দে সরাসরি উল্লেখ করলে এর চমৎকারিত্ব থাকে না এবং অলংকারও হয় না; এজন্য হেতুটি সবসময়ে বাচক শব্দে নির্দিষ্ট না হয়ে, নির্দেশিত হয় ব্যঞ্জনা বা suggestion-এর সাহায্যে।
(i) যথা পদার্পণ তুমি কর, মধুমতি কেন না হইবে সুখী সৰ্ব্বজ তথা, জগৎ-আনন্দ তুমি, ভুবন-মোহিনী! —মধুসূদন সরমা সীতাকে (তুমি) বলেছে- সীতা যেখানে যাবে (পদার্পণ করবে) সেখানে সকলেই সুখী হবে; কারণ জগৎ-আনন্দ তুমি সীতা, ভুবনমোহিনী।'
এ হেতুটি উল্লিখিত বাক্যটির দ্বারা ব্যঞ্জনায় আভাসিত, (suggestion-এ) এজন্যেই কাব্যলিঙ্গ বা হেতু অলংকারের চমৎকার উদাহরণ।
(ii) সেই মহূর্তেই জানিলাম মনে, নারী আমি! সেই মহূর্তেই প্রথম দেখিনু . সম্মুখে পুরুষ মোর। -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চিত্রাঙ্গদার নারীসত্তার জাগরণের হেতু বীর্যবান অর্জুনের সাক্ষাৎকার। ['প্রথম দেখিনু সম্মুখে পুরুষ মোর' (চিত্রাঙ্গদার)] কারণটি ব্যঞ্জনায় বিবৃত।
(iii) হাসি হায় সখা, এ তো স্বর্গপুরী নয়। পুষ্পে কীটসম হেথা তৃষ্ণা জেগে রয় মর্ম-মাঝে, বাঞ্ছা ঘুরে বাঞ্ছিতের ঘিরে লাঞ্ছিত ভ্রমর যথা বারম্বার ফিরে মুদিত পদ্মের কাছে। হেথা সুখ গেলে স্মৃতি একাকিনী বসি দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
শূন্যগৃহে; হেথায় সুলভ নগে হাসি। -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দেবযানী কচের কথার (সুকল্যাণ হাসে, প্রসন্ন বিদায় আজি দিতে হবে দাসে।) উত্তরে 'হাসির' দুর্বলতা প্রসঙ্গে ব্যঞ্জনায় বিবৃত করেছে হেতু বা কারণ (পরবর্তী বাক্যাবলিতে)।
(iv) - মোর অধিকার আনন্দের নাহি নাহি। দারিদ্র অসহ পুত্র হয়ে জায়া হয়ে কাঁদে অহরহ -কাজী নজরুল ইসলাম
আমার দুয়ার ধরি। আনন্দের অধিকার না-থাকার হেতুটি (দারিদ্র্য অসহ... দুয়ার ধরি।) পরবর্তী বাক্যে ব্যঞ্জনায় আভাসিত বলে অলংকার কাব্যলিঙ্গ বা হেতু।
(v) তোমার কান্নার সুরে বেতের ফলের মতো তার ম্লান। চোখ মনে আসে! - জীবনানন্দ দাশ 'স্নান চোখ' মনে পড়ার হেতু 'তোমার' (চিলের) 'কান্নার সুর'-এ পদগুচ্ছের ব্যঞ্জনাগত কারণ। এজন্যই হেতু অলংকার।
.png)