খুজে না পেলে সার্চ করো

৩৯টি ২য় পত্র পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর pdf

৩৯টি পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর pdf
৩৯টি পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর pdf

৩৯টি পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর pdf

সৃজনশীল প্রশ্ন ১

দেশটির B অঞ্চল আয়তনে বিশাল। প্রশাসনের পক্ষে এত বড় অঞ্চলের সবকিছু সমানভাবে দেখভাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বিবেচনায় তখন অঞ্চলটিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। কিন্তু কিছুদিন পরে আবার দুটি অঞ্চলকে এক করে দেওয়া হয়। এতে করে একটি অংশে অসন্তোষ প্ৰকাশ পায় ।

ক. অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

খ. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায় ?

গ. উদ্দীপকে আলোচিত বিষয়টি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন অংশের সাথে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়টির প্রভাব বিশ্লেষণ কর ।

১ নং প্রশ্নের উত্তর : →

ক। অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

খ। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে প্রদেশের স্বাধীনতাকেই বোঝায়। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের যে ব্যবস্থা রাখা হয় এর ফলশ্রুতি হিসেবে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করা হয়। 

১৯৩৫ সালের আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের মূলকথা হলো প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার প্রাদেশিক আইনসভার কাছে জবাবদিহিতা থাকবে এবং আইনসভা সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী হবে।

গ। উদ্দীপকের আলোচিত বিষয়টি আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ অংশের সাথে সংগতিপূর্ণ ।

ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক অগ্রগতির ইতিহাসে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ একটি অনন্য সাধারণ ঘটনা। ব্রিটিশ ভারতের সর্ববৃহৎ প্রদেশ বঙ্গকে বিভক্ত করার প্রশাসনিক যুক্তি দেখিয়ে ১৯০২ সালে লর্ড কার্জন ভারত সচিবকে চিঠি লিখেন। 

অবিভক্ত বাংলার আয়তন প্রায় দুই লক্ষ বর্গমাইল এবং জনসংখ্যা ছিল প্রায় সাত কোটি। এই বিশাল আয়তনের প্রদেশের শাসনভার একজন গভর্নরের পক্ষে সুচারুরূপে শাসন করা সম্ভব নয়।

এজন্য বঙ্গ প্রদেশকে বিভক্ত করে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বিভাগ ও আসামকে নিয়ে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে একটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করা হয় এবং বাকি অংশ পৃথক প্রদেশের মর্যাদায় অটুট থাকে। 

নতুন প্রদেশের রাজধানী করা হয় ঢাকা এবং ঢাকাকে কেন্দ্র করে দ্রুত বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি গড়ে উঠতে থাকে। 

ফলে পূর্ব বাংলার গণমানুষের ভাগ্যোন্নয়নের দ্বার উন্মোচিত হয় এবং তারা খুশি হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত হিন্দু সমাজ বঙ্গভঙ্গকে মেনে নিতে পারেনি। তারা এর তীব্র বিরোধিতা করতে শুরু করে।

উদ্দীপকে বঙ্গভঙ্গের ঘটনাটি ইঙ্গিতপূর্ণ রয়েছে। এতে দেখা যায় যে, A দেশটির B অঞ্চল বিশালায়তন হওয়ায় প্রশাসনিক কারণে B কে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। 

কিন্তু কিছুদিন পর আবারও দুটি অঞ্চলকে এক করে দেওয়া হয়। যেমনটি ঘটেছিল বঙ্গভঙ্গের ক্ষেত্রেও। অর্থাৎ, ইঙ্গিতপূর্ণ ঘটনাটির প্রেক্ষাপট ও ফলাফল সুস্পষ্টভাবেই বঙ্গভঙ্গের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ।

ঘ। উদ্দীপকে উল্লিখিত সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনা অর্থাৎ বঙ্গভঙ্গ ও এর রদ- এ দুটি ঘটনার প্রভাব ছিল খুই তাৎপর্যপূর্ণ।

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা হলে ভারতবর্ষের হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সম্পূর্ণ বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বঙ্গভঙ্গের ফলে মুসলমান সম্প্রদায় এক নবজীবন লাভ করে। হতাশার গহ্বর থেকে বেরিয়ে এসে তারা নবচেতনায় উদ্দীপ্ত হয় এবং তাদের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার করে। 

পুরাতন ঢাকা ঝলমলিয়ে ওঠে নতুনভাবে। অফিস, আদালত, স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট, চিকিৎসা ভবন প্রভৃতি নতুন করে গড়ে উঠতে শুরু করে। ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প কলকারখানা ঢাকার জীবনে গতি সঞ্চার করে।

পূর্ববঙ্গের মুসলমান সম্প্রদায় ঢাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয় এক শাশ্বত জীবনবোধ। পূর্ব বাংলা নামক নতুন প্রদেশ হওয়ায় মুসলমানরা তাদের স্বতন্ত্র কৃষ্টি ও সভ্যতা বিকাশের এক পৃথক ক্ষেত্র খুঁজে পায়। 

মধ্যবিত্ত মুসলমানগণ এ ব্যবস্থাকে হিন্দু আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে চরম বিজয় বলে উল্লাসে ফেটে পড়ে। অন্যদিকে বঙ্গভঙ্গের প্রতিক্রিয়াস্বরূপ কংগ্রেস ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা বঙ্গভঙ্গের ঘটনাকে বাঙালি জাতির বিকাশমান সংহতি ও চেতনার ওপর সুনিশ্চিত আঘাত বলে বর্ণনা করে।

এছাড়াও বঙ্গভঙ্গের প্রতিক্রিয়ায় লক্ষ করা যায়, পূর্ব বাংলার মুসলমানদের শাশ্বত - জীবনবোধ এবং এর বিপরীতে কলকাতার মাড়োয়ারী, হিন্দু ধনিক ও বণিক সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক জীবনব্যবস্থার বিপর্যয়। 

সর্বোপরি বঙ্গভঙ্গের প্রতিক্রিয়া কলকাতাকেন্দ্রিক সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন নস্যাৎ করার সুযোগ তৈরি করে দেয় এবং মুসলিম জাতীয়তাবাদের প্রসার ঘটাতে সচেষ্ট হয়। যদিও হিন্দু সম্প্রদায়ের চরম আন্দোলনের মুখে ১৯১১ সালে এই বঙ্গভঙ্গ রহিত হয়ে যায়।

আর বঙ্গভঙ্গ রদের প্রভাবে পূর্ব বাংলার গণমানুষের ভাগ্য আবারও বেড়াজালে বন্দি হয়ে পড়ে। মুসলমানদের জাগরণ স্তিমিত হলেও হিন্দুরা তাদের হারানো প্রতিপত্তি ফিরে পায়। ফলে মুসলমানরা হতাশা ও হিন্দুরা আনন্দ প্রকাশে মত্ত হয়ে পড়ে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সৃজনশীল প্রশ্ন ২

অধ্যাপক জাহানারা হক শ্রেণিকক্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের অগ্রগতির ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, ব্রিটিশ ভারতে তৎকালীন শাসকগণ বহু আইন প্রণয়ন করেন। কিন্তু এ আইনগুলো উপমহাদেশের জনগণকে পরিপূর্ণভাবে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তা সত্ত্বেও এ আইনগুলোর মধ্যে সর্বশেষ আইনটি ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিবিদ ও জনগণের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত।

ক. ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

খ. ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে তোমার পঠিত কোন আইনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. উদ্দীপকে অধ্যাপক জাহানারা হকের বর্ণিত আইনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

২ নং প্রশ্নের উত্তর :

ক। ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন ।

খ। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের দুটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ- প্রথমত, এ আইনের মাধ্যমে ক্ষমতা বিভাজনের নীতিতে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কায়েম করার বিধান করা হয়। দ্বিতীয়ত, এই আইনের মাধ্যমে সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

গ। উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের সাদৃশ্য আছে। ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ এক বিস্তৃত ইতিহাস। ইতিহাসের এই অধ্যায়ে অগ্রগতির ধাপে ধাপে রচিত হয়েছে নানা গুৰুত্বপূৰ্ণ আইন। 

তন্মাধ্যে ভারতীয় কাউন্সিল আইন ১৮৬১ ও ১৮৯২ বঙ্গভঙ্গ আইন (১৯০৫) ও বঙ্গভঙ্গ রদ (১৯১১)-মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন (১৯০৯) ভারত শাসন আইন ১৯১৯ ও ভারত শাসন আইন ১৯৩৫ গুরুত্বপূর্ণ।

এসব আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষে শাসন প্রতিষ্ঠা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেছেন। এতদসত্ত্বেও ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ প্রতিফলন না থাকায় জনগণ পরিপূর্ণভাবে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। 

কেননা, উপমহাদেশীয় রাজনীতিবিদ ও জনগণের দুর্বার প্রত্যাশা ছিল স্বাধীনতা অর্জন ও স্বশাসন কায়েম। আর এই আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন ঘটেছিল ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে।

১৯৪৬ সালে সাম্প্রদায়িক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। অবশেষে মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকার সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে ভারত স্বাধীনতা আইন ১৯৪৭ প্রণয়ন করে। 

উদ্দীপকে অধ্যাপক জাহানারা হক শ্রেণিকক্ষে ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ যে আইনের কথা উল্লেখ করেছেন এবং যার বিশ্লেষণ হিসেবে একে বহুল প্রত্যাশিত বলেছেন নিঃসন্দেহেই তা ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। 

তাই পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আইনটি হলো ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন।

ঘ।  ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন রাজনীতিতে উদ্দীপকের সাথে সংগতিপূর্ণ আইনের অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের তাৎপর্য/গুরুত্ব অত্যধিক।

১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এ আইন ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সমস্যা সমাধানের পথে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। 

এ আইনের মাধ্যমে উপমহাদেশে দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সীমানা নির্ধারণ করা হয় এবং গণপরিষদ গঠন করা হয়।

এ আইনের দ্বারা গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতার অবসান হয় এবং রাষ্ট্র দুটিতে সংসদীয় ও দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। ভারত সম্রাটের উপাধি বিলোপ করা হয় এবং ভারত সচিবের পদের বিলুপ্তি ঘটে। 

১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের দ্বারা ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক চিন্তাধারায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে যে সমস্যা তৈরি হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান হয় অর্থাৎ পরাধীনতার বিলুপ্তি ঘটে। 

এ আইনের মাধ্যমে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটে। ভারতের গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন লর্ড মাউন্টব্যাটেন আর পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।  ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের যাত্রা সূচিত হয়। দুটি রাষ্ট্রই স্ব-স্ব সংবিধান প্রণয়নের
ক্ষমতা লাভ করে।

উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দলিল । এ আইন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩

আলীপুর উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নটি আয়তনে অনেক বড়। বিশাল আয়তন ও জনসংখ্যার কারণে উন্নয়ন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। সে কারণে ইউনিয়নটির এক বিশাল জনগোষ্ঠী পৃথক ইউনিয়ন গঠনের দাবি জানায়। কর্তৃপক্ষ এতে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন কারণে উক্ত ইউনিয়নটিকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

ক. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

খ. অপারেশন সার্চলাইট বলতে কী বোঝায় ?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তিকরণের প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ কর।

৩নং প্রশ্নের উত্তর :

ক ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

খ।  ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক বাঙালি নিধনের যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় তার নাম দেওয়া হয় 'অপারেশন সার্চলাইট'। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক তমসাচ্ছন্ন রাত। এ রাতে জেনারেল ইয়াহিয়া অত্যন্ত সুকৌশলে বাঙালিদের ওপর অতর্কিত হামলা করার নির্দেশ দিয়ে ঢাকা ত্যাগ করেন।

তার নির্দেশে পাকিস্তানি বাহিনী রাত ১১টা থেকে নিরস্ত্র ঘুমন্ত নিরীহ বাঙালির ওপর ইতিহাসের সর্বাধিক বর্বরোচিত হামলা চালায়। পাকিস্তানি প্রশাসন এ ঘৃণিত হত্যাযজ্ঞের নামকরণ করে 'অপারেশন সার্চলাইট'।

গ। উদ্দীপকের উল্লিখিত বিভক্তির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ব্রিটিশ ভারতের ঐতিহাসিক ঘটনা বঙ্গভঙ্গের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায় । অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারতের সর্ববৃহৎ প্রদেশ বঙ্গকে বিভক্ত করার প্রশাসনিক যুক্তি দেখিয়ে ১৯০২ সালে লর্ড কার্জন ভারত সচিবকে চিঠি লিখেন।

কারণ সেসময় অবিভক্ত বাংলার আয়তন ছিল প্রায় দুই লক্ষ বর্গমাইল এবং জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি। এ বিশাল আয়তনের প্রদেশের শাসনকার্য পরিচালনা করা ছিল একজন গভর্নরের পক্ষে নিতান্ত দুরূহ ও কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তাছাড়া পূর্ব বাংলার জনগণের স্বার্থ রক্ষার্থে মুসলিম নেতৃবৃন্দ পূর্ব বাংলাকে আলাদা প্রদেশরূপে গড়ে তোলার জন্য ব্রিটিশ সরকারের নিকট দাবি উত্থাপন করেছিল। আর এসবের প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধার কথা চিন্তা করে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গপ্রদেশকে 'আসাম' ও 'পূর্ববঙ্গ' প্রদেশে বিভক্ত করেন। উদ্দীপকেও এই ঐতিহাসিক ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে।

আলীপুর উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নটির আয়তন ও জনসংখ্যা ব্যাপক হওয়ার কারণে সেখানে উন্নয়ন কার্যক্রম ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ কারণে উক্ত ইউনিয়নটির বিশাল জনগোষ্ঠী পৃথক ইউনিয়ন গঠনের দাবি জানায় এবং কর্তৃপক্ষ তাতে সাড়া দিয়ে ইউনিয়নটিকে বিভক্তির সিদ্ধান্ত নেয়। স্পষ্টত উক্ত ইউনিয়নের সাথে বঙ্গপ্রদেশ, পৃথক ইউনিয়ন দাবিকারীদের সাথে মুসলিম নেতৃবৃন্দ, কর্তৃপক্ষের সাথে ব্রিটিশ সরকার এবং সামগ্রিক বিভক্তির সাথে বঙ্গভঙ্গ সম্পূর্ণভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।

পাটে সুতরাং উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনা হলো মনের ১৯০৫ সালের বঙ্গবঙ্গ ।

ঘ।  উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার অর্থাৎ বঙ্গভঙ্গের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। বঙ্গভঙ্গের ফলে অবিভক্ত বাংলার হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে দুই ধরনের বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সরকারি সিদ্ধান্ত মুসলমান জনগণের মধ্যে আনন্দ-উল্লাসের সৃষ্টি করে।

'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' নামক নতুন প্রদেশকে পূর্ব বাংলার মুসলমান সম্প্রদায় আশীর্বাদ বলে স্বাগত জানায়। কেননা নতুন প্রদেশে তারাই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। উৎফুল্ল মুসলমান জনগণ এ স্বপ্ন দেখতে লাগলেন যে, নতুন প্রদেশে তারা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নতি সাধন এবং নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে সক্ষম হবে এবং চাকরি, শিক্ষাদীক্ষা, ব্যবসায় বাণিজ্য সব ক্ষেত্রেই তারা প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।

বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলার মুসলমান জনগণ গর্ব ও মর্যাদাবোধ অনুভব করে। এর ফলে পূর্ব বাংলা তথা সমগ্র ভারতের মুসলমানদের মধ্যে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনার সৃষ্টি হয়। হিন্দুদের বঙ্গভঙ্গ, রদ আন্দোলনকে মোকাবিলা করার জন্য মুসলমান বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক নেতারা ১৯০৬ সালে 'মুসলিম লীগ' নামক একটি রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে। 

ফলে মুসলমানদের মধ্যে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটতে থাকে। অন্যদিকে, বঙ্গভঙ্গ বাংলার হিন্দু জনগণ বিশেষ করে বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ভীষণ ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তারা প্রচার করেন যে, বঙ্গভঙ্গ "বঙ্গমাতার অঙ্গচ্ছেদের সমতুল্য'।

জাতীয়তাবাদী চিন্তাচেতনায় বিকশিত হিন্দু জনসমাজ মনে করে, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বাঙালি মধ্যবিত্ত জাতির বিকাশমান ধারাকে নস্যাৎ করার গভীর ষড়যন্ত্র বলে প্রচার করে। ব্রিটিশ সরকারের এ "বিভেদ ও শাসন' নীতির বিরুদ্ধে তারা প্রচণ্ড গণআন্দোলন গড়ে তোলে । এর ফলে ব্রিটিশ পণ্য বর্জনের জন্য স্বদেশি আন্দোলন ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে ।

পরিশেষে বলা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ভারতের রাজনীতিতে উপরিউক্তভাবে প্রভাব ফেলেছিল।

প্রশ্ন ৫ । রহমান সাহেব একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। তিনি তার ধর্মের অনুসারীদের জন্য পৃথক আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তার দলের বার্ষিক সম্মেলনে একটি প্রস্তাব পেশ করেন। এ প্রস্তাবে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে তার রাজনৈতিক দলটি এ প্রস্তাব সংশোধন করে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করে।

ক. অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

খ. মুজিবনগর সরকার গঠনের প্রেক্ষাপট লেখ।

গ. রহমান সাহেবের পেশকৃত প্রস্তাবের সাথে তোমার পঠিত কোন প্রস্তাবের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রস্তাবের মধ্যে “স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল”— তুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও ।

৫নং প্রশ্নের উত্তর :

ক। অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

খ।  মুক্তিযুদ্ধে বাঙালিকে নেতৃত্বদানের উদ্দেশ্যে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকার গঠন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে এবং সুসংহত করতে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। এ সরকার গঠনের আরও একটা উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সঠিক ও সুশৃঙ্খল পন্থায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই মূলত মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।

গ।  উদ্দীপকের রহমান সাহেবের পেশকৃত প্রস্তাবের সাথে আমার পঠিত লাহোর প্রস্তাবের মিল রয়েছে।

ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক অগ্রগতির ইতিহাসে ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এদিনে লাহোরে মুসলিম লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে ভারতের উপেক্ষিত মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষার্থে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক একটি দাবি উত্থাপন করেন, যা লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত। উক্ত প্রস্তাবের মূল উপজীব্য বিষয় ছিল ব্রিটিশ ভারতে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহ নিয়ে পৃথক গো রাষ্ট্রসমূহ গঠন করা।

পরবর্তীতে পাকিস্তান সৃষ্টির পূর্বে ১৯৪৬ সালে  মুসলিম লীগ রাজনৈতিক কারণে লাহোর প্রস্তাব সংশোধন করে একটি মাত্র স্বাধীন রাষ্ট্র পাকিস্তান গঠনের প্রস্তাব করে। আর উদ্দীপকে যেন এই প্রস্তাবেরই ছায়াপাত ঘটেছে। এতে দেখা যায় যে, রহমান সাহেব একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এবং তিনি তার ধর্মের অনুসারীদের জন্য টি পৃথক আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দলের বার্ষিক সম্মেলনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। তার উক্ত প্রস্তাবেও লাহোর প্রস্তাবের মূল প্রস্তাবের ন্যায় একাধিক রাষ্ট্র গঠনের ইঙ্গিত ছিল।

এভদসত্ত্বেও তার প্রস্তাবটি লাহোর প্রস্তাবের ন্যায় অভিন্ন পরিণতি লাভ করে। আর তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের সাথে যে প্রস্তাবের মিল রয়েছে, তা হলো লাহোর প্রস্তাব।

ঘ। হ্যাঁ, আমিও মনে করি উক্ত প্রস্তাব অর্থাৎ লাহোর প্রস্তাবের মাঝেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল।

ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ছিল লাহোর প্রস্তাব। এ প্রস্তাবের মাধ্যমে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব সুস্পষ্ট রূপলাভ করে। মুসলমানরা মুসলিম লীগের নেতৃত্বে তাদের জন্য একটি আলাদা আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে লিপ্ত হয়। এর মাঝে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল। সর্বাপেক্ষা গঠনমূলক এ প্রস্তাবের মাধ্যমে মুসলমানদের সকল সমস্যার সুরাহা হয়।

পূর্ব পাকিস্তানের যে মুসলমান সম্প্রদায় এতদিন পর্যন্ত নিজেদের আত্মপরিচয়ের সন্ধানে ছিল তারা লাহোর প্রস্তাবে এর সন্ধান পায়। এ প্রস্তাব তাদেরকে একটি জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। ১৯৪৭ সালে পৃথক রাজনৈতিক অস্তিত্ব বা পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলেও এ জাতীয় চেতনাই পরবর্তীকালে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রেরণা জোগায়। সর্বোপরি লাহোর প্রস্তাব অনুযায়ী পূর্ব বাংলায় স্বায়ত্তশাসন প্রদান না করার কারণে পাকিস্তান জন্মের পর থেকেই সেখানে বিভিন্ন আন্দোলন হতে থাকে।

পরবর্তীতে '৭০ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর পূর্ব বাংলাকে তারা ক্ষমতা না দেওয়ার কারণে বাঙালিরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। তাই বলা যায়, লাহোর প্রস্তাবে উপরিউক্ত বিষয় নিহিত থাকার মধ্য দিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন আঁকা ছিল।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৬। 

'ক' নামক বৃহৎ রাষ্ট্রের ঔপনিবেশিক শাসনাধীন 'খ' একটি অঞ্চল। দীর্ঘদিন ঔপনিবেশিক শাসনে থাকার ফলে অঞ্চলটির জনগণ অত্যাচার নিপীড়নে পিষ্ট হতে থাকে। নিজেদের দাবি-দাওয়া আদায় ও যুক্তির লক্ষ্যে ঐ অঞ্চলের জনগণ একটি সার্বজনীন রাজনৈতিক দল 'গ' গঠন করে। কিন্তু দলটি গঠন করার পর সকল জাতি স্বার্থের অধিকার সংরক্ষণে ব্যর্থ হয় এবং ক্ষেত্র বিশেষে একপেশে নীতি গ্রহণ করে। ফলে রাষ্ট্রের সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠী তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে 'ঘ' নামে আরেকটি রাজনৈতিক দল গঠন করে।

ক. রাজনৈতিক দল কী?

খ. ঔপনিবেশিক শাসন বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকের 'গ' নামের রাজনৈতিক দলের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ে যে রাজনৈতিক দল গঠনের সাদৃশ্য রয়েছে তার পটভূমি আলোচনা কর।

ঘ. পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টিতে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত রাজনৈতিক দলটির ভূমিকা মূল্যায়ন কর।

৬নং প্রশ্নের উত্তর :

ক। রাজনৈতিক দল বলতে এমন একটি সংগঠিত নাগরিক সমষ্টিকে বোঝায়, যারা দলীয় আদর্শ প্রচারের মাধ্যমে জনমত গঠনের মধ্য দিয়ে বৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে।

খ। কোনো আধিপত্যশীল দেশ যখন অন্য দেশের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে এবং নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের জন্য দখলকৃত দেশের জনগণকে শোষণ ও সম্পদ লুণ্ঠন করে তখন সে শাসনব্যবস্থাকে বলা হয় ঔপনিবেশিক শাসন। এক্ষেত্রে, শক্তিশালী দেশ সরাসরি তুলনামূলক দুর্বল দেশকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের সম্পদ ব্যবহার করে নিজস্ব ক্ষমতা এবং সম্পদ বৃদ্ধি করে।

গ। উদ্দীপকে 'গ' নামক রাজনৈতিক দলের সাথে ১৮৮৫ সালে গঠিত সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস গঠনের সাদৃশ্য রয়েছে।

এ দল প্রতিষ্ঠার পটভূমি অত্যন্ত ঘটনাবহুল। ব্রিটিশ সরকারের অত্যাচার ও শোষণের প্রতিবাদেই ভারতীয় এ রাজনৈতিক দলটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয় এবং ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের ব্যর্থতার ফলে ভারতবর্ষের উচ্চশিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি কয়েই ইংরেজবিরোধী হতে থাকে।

এছাড়াও ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কালাকানুন এবং ইলবার্ট বিল' পাস হওয়ায় ভারতীয় জনগণের অসন্তোষের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। ভারতীয় জনগণের এ বিক্ষোভকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে দমনের জন্য প্রাক্তন আই.সি.এস. কর্মকর্তা অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম ব্রিটিশ অনুগত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। 

আবার ভারতীয় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত হিন্দু শ্রেণিও এসময় রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল। এর ফলশ্রুতিতে ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস নামের রাজনৈতিক দলটি আত্মপ্রকাশ করে।

উদ্দীপকেও লক্ষ্যণীয় যে, 'খ' অঞ্চলের জনগণ নিজেদের দাবী দাওয়া আদায় ও মুক্তির লক্ষ্যে একটি সর্বজনীন রাজনৈতিক দল গঠন করে যা সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিচ্ছবি বহন করে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের নামের রাজনৈতিক দলের সাথে সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস নামক রাজনৈতিক দল গঠনের সাদৃশ রয়েছে।

ঘ। পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টিতে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'ঘ' নামক রাজনৈতিক দল তথা মুসলিম লীগ অনন্য ভূমিকা পালন করেছিল।

উদ্দীপকের বর্ণনায় যে রাজনৈতিক দলের কথা বলা হয়েছে সেটি হলো মুসলিম লীগ। আর উক্ত দলটি ভারতের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মুসলিম লীগ জন্মলগ্ন থেকেই মুসলমানদের স্বার্থরক্ষায় কাজ করতে থাকে। 

রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় একসময় মুসলিম লীগের মধ্যে এ ধারণা বদ্ধমূল হয় যে, ভারতে অখণ্ডভাবে মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা হতে পারে না। তাই মুসলমানগণ আলাদা দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি থেকেই ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল।

শুধু আলাদা দলই নয়, আলাদা রাষ্ট্র গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্বিজাতি তত্ত্ব ঘোষণা করেছিলেন। 

এ তত্ত্বের মূলকথা ছিল, ভারতে মুসলমানরা যেকোনো বিবেচনায় একটা স্বতন্ত্র জাতি এবং তাদের পৃথক জাতিসত্তা রয়েছে। এ পৃথক জাতিসত্তার স্বার্থরক্ষার জন্য ভারতে মুসলমানদের জন্য আলাদা আবাসভূমি প্রয়োজন।

পরবর্তীতে মুসলিম লীগ নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের লাহোর প্রস্তাব দ্বিজাতি তত্ত্বের রূপরেখা হিসেবে কাজ করে। একই সাথে ব্রিটিশদের 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতির ফল হিসেবে ভারতে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। 

ফলশ্রুতিতে মুসলিম লীগ মুসলমানদের স্বার্থরক্ষায় অনড় অবস্থান গ্রহণ করে। এমতাবস্থায় মুসলমানদের স্বার্থরক্ষার জন্য সেই সময় আলাদা রাষ্ট্রের কোনো বিকল্প ছিল না। ফলে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

অতএব বলা যায়, উদ্দীপকের দলটি তথা মুসলিম লীগ পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল ।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৭। 

বিশাল আয়তনে গঠিত অঞ্চলের প্রশাসক ছিলেন মি. ডেভিট। তার একার পক্ষে বিশাল আয়তন বিশিষ্ট অঞ্চলের উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সুষ্ঠুভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না। ফলে কর্তৃপক্ষ উক্ত অঞ্চলকে 'ক' ও 'খ' দুটি অঞ্চলে বিভক্ত করে প্রশাসক নিয়োগ করেন। এতে 'ক' অঞ্চলের জনগণ খুশি হলেও 'খ' অঞ্চলের জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় ।

ক. লাহোর প্রস্তাবের উপস্থাপক কে ছিলেন?

খ. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল রয়েছে কারণসহ ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' অঞ্চলের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণসহ এর ফলাফল মূল্যায়ন কর। →

৭নং প্রশ্নের উত্তর :

ক। লাহোর প্রস্তাবের উপস্থাপক ছিলেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক।

খ। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ভারতীয় জনগণের সুসংগঠিত একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম। কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের চারটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের কথা ঘোষণা করেন।

নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে ভারতীয় জনগণের অভাব-অভিযোগ দূর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার প্রতি ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টি আকৃষ্ট করা, শাসনব্যবস্থায় জনগণের অংশীদারিত্ব অর্জন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কারের জন্য আবেদন জানানো। তবে ১৯০৫-১৯০৬ সালের দিকে কংগ্রেসের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য স্থির হয় স্বরাজলাভের দাবি ও পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ শাসিত ভারতের ঐতিহাসিক ঘটনা বঙ্গভঙ্গের সাদৃশ্য রয়েছে।

বঙ্গভঙ্গ ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক যুগান্তকারী - ঘটনা। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে অবিভক্ত বাংলা প্রদেশ ছিল আয়তনে সবচেয়ে বড়। একজন গভর্নর জেনারেলের পক্ষে এত বড় প্রদেশ শাসন করা খুবই কষ্টকর ছিল। তাই তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জন ভারত সচিবকে একটি মাত্র কেন্দ্র থেকে এত বড় অঞ্চলের শাসন পরিচালনা করা কঠিন— এই মর্মে এক রিপোর্ট প্রদান করেছিলেন।

তার এই রিপোর্টের আলোকে বাংলা প্রদেশ ভাগ করার কথা বিবেচনা করা হয়। এছাড়াও তৎকালীন বাংলা প্রদেশে হিন্দু | মুসলমান সহযোগে ভারতের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন। দানা বেঁধেছিল যার প্রাণকেন্দ্র ছিল কলকাতা। ব্রিটিশ সরকার এ আন্দোলকে নস্যাৎ করতে এবং একই সাথে ভারতের দুটি বৃহৎ সম্প্রদায় তথা হিন্দু-মুসলমানদের সম্প্রীতি বিনষ্ট করে সংঘাত বজায় রেখে তাদের শাসন দীর্ঘায়িত করতেই বঙ্গভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

আবার প্রশাসনিক কাজ সহজতর করার পাশাপাশি বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতি প্রয়োগ করে হিন্দু- মুসলমানদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে তাদের শাসন দীর্ঘায়িত করার জন্যই বঙ্গভঙ্গ করেছিল। উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই, মি. ডেভিট তার দায়িত্বাধীন বিশাল অঞ্চলের শাসনকার্য পরিচালনা আইন- শৃঙ্খলা রক্ষা ও উন্নয়নের জন্য অঞ্চলটিকে 'ক' ও 'খ' অংশে বিভক্ত করে যা ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

ঘ।  বঙ্গভঙ্গের ফলে উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' অঞ্চলের জনগণের তথ্য। পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সমাজের প্রতিক্রিয়া ছিল বিরূপ । বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের অবস্থান ছিল খুবই কঠিন। বাংলার উচ্চ ও মধ্যবিত্ত হিন্দুরা এর বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ঝড় তুলেছিল। ১ হিন্দু প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী একে বঙ্গমাতার অঙ্গচ্ছেদ হিসেবে উল্লেখ করে।

এবং বঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতা করে। ঢাকায় হাইকোর্ট স্থাপনের ফলে কলকাতার আইন ব্যবসায়ীরা তাদের মক্কেল কমে যাওয়ায় অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা করতে থাকেন। অপরদিকে, কলকাতার সাংবাদিকরাও তাদের স্বার্থ নস্যাৎ হবে জেনে এর বিরুদ্ধাচরণ শুরু করে। 

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত হিন্দু সমাজ মনে করে, পূর্ব বাংলায় ক্রমোন্নতিশীল শিক্ষিত ও রাজনীতি সচেতন হিন্দু সমাজের বিকাশ রোধের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ব্রিটিশ সরকার পূর্ব বাংলার মুসলমানদের প্রভাব বৃদ্ধির জন্য এ ব্যবস্থা নিয়েছেন।

এর ফলে হিন্দুসমাজ বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। প্রথমে ব্রিটিশ সরকারের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে করা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ব্যর্থ হলে কংগ্রেসের উগ্রপন্থি অংশের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে স্বদেশি আন্দোলন। 

বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন যখন স্বদেশি আন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করে তখন সারা দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বদেশি পণ্যের প্রচার ও ব্যবহার বৃদ্ধি পায় এবং বিলেতি পণ্য বয়কট করা হয় ফলে বিলেতি কলকারখানা ও মিল-ফ্যাক্টরিগুলোতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। 

এছাড়াও একপর্যায়ে এ স্বদেশি আন্দোলন বিপ্লবী আন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করে সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের রূপ নেয় ।এর ফলে বাধ্য হয়ে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করেন।

অতএব উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বঙ্গভঙ্গের ফলে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সমাজের মধ্যে যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল তার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের ফলাফল হিসেবে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৯। 

জনাব ‘X’ বিশাল একটি অঞ্চলের প্রধান। এত বড় অঞ্চল শাসন করা তার পক্ষে ছিল কষ্টকর। তাই তিনি কাজের সুবিধার্থে অঞ্চলটিকে দুই ভাগে ভাগ করতে চেয়েছিলেন। এ অঞ্চলে বসবাসকারী একটি অংশ ছিল অবহেলিত । তাদেরই একজন মহান নেতা উক্ত অংশের জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে শাসকগোষ্ঠীর নিকট অঞ্চল বিভক্তির আবেদন করেন। অবশেষে শাসকগোষ্ঠী বিভক্তির সিদ্ধান্ত নেন। তিনি অবহেলিত অংশের জনগণের সামাজিক প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন ।

ক. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

খ. ১৯৪৬ সালের মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা কেন ব্যর্থ হয়েছিল?

গ. জনাব 'x'-এর অঞ্চল বিভক্তিকরণ সিদ্ধান্তের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মহান নেতার রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানটি বিশ্লেষণ কর।

১নং প্রশ্নের উত্তর :

ক। ১৮৮৫ সালে ভারতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়।

খ। ১৯৪৬ সালের ১৬ মে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সমস্যা সমাধানের জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লেমেন্ট রিচার্ড অ্যাটলির গঠিত কমিশন একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করে যা ঐতিহাসিক মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা বলে খ্যাত। এ মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা বিভিন্ন কারণে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

ভারতের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনাকে ঘিরে বিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় । তারা কেউই মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা থেকে সন্তুষ্টি লাভ করতে পারেনি। তাই তাদের তোপের মুখে পড়ে মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

গ। জনাব 'X'-এর অঞ্চলের বিভক্তিকরণ সিদ্ধান্তের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক বঙ্গভঙ্গের মিল রয়েছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক এবং শাসনতান্ত্রিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ একটি অনন্যসাধারণ ঘটনা। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে বাংলা প্রদেশের বিশাল আয়তন ও জনসংখ্যার জন্য একজন প্রশাসকের পক্ষে সুচারুরূপে শাসন করা সম্ভব ছিল না।

পক্ষান্তরে, আসাম প্রদেশ ছিল অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র এবং জনসংখ্যাও ছিল কম। এজন্য বাংলাকে বিভক্ত করে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বিভাগ ও আসামকে নিয়ে নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়। এছাড়াও কলকাতার ধনী ও সামন্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের একচেটিয়া আধিপত্যের নাগপাশ থেকে পূর্ব বাংলার অবহেলিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত জনসাধারণকে মুক্তিদানের লক্ষ্যে ১৮৫০ সালেই বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব পেশ করা হয়েছিল।

বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাবের পিছনে যে মহান ব্যক্তিদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা কাজ করেছিল তাদের মাঝে অন্যতম হলেন ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ। তিনি পূর্ব বাংলার গণমানুষের যে দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন তার যৌক্তিকতা বিচার করে এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কারণ মিলিয়ে তৎকালীন ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ করেন। উদ্দীপকেও লক্ষ করা যায়, বিশাল আয়তন ও একটি অঞ্চলের জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য তাদেরই মহান নেতার আবেদনের প্রেক্ষিতে জনাব 'X' তার শাসিত অঞ্চলটিকে দুই ভাগ করতে চেয়েছিলেন। অর্থাৎ উদ্দীপকে বঙ্গভঙ্গের চিত্রই প্রতিফলিত হয়েছে।

তাই বলা যায়, জনাব 'X'-এর রিভক্তিকরণ সিদ্ধান্তের সাথে বঙ্গভঙ্গের সাদৃশ্য বিদ্যমান।

ঘ।  উদ্দীপকে উল্লিখিত মহান নেতা তথা নবাব স্যার সলিমুল্লাহর রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানটি হলো বঙ্গভঙ্গ ।

নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের মুসলমান সমাজের একজন যোগ্য ত্রাণকর্তা। তিনি তার সমগ্র জীবন পূর্ববঙ্গের এবং সেখানে বসবাসরত মুসলমানদের কল্যাণের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন কলকাতার ধনী ও সামন্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের একচেটিয়া আধিপত্যের নাগপাশ থেকে পূর্ব বাংলার অবহেলিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত জনসাধারণকে মুক্তিদানের লক্ষ্যে ১৮৫০ সালে যে প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ছিলেন এ প্রস্তাবের পিছনে অক্লান্ত পরিশ্রমী ব্যক্তি।

তিনি বাংলাকে বিভক্ত করার পক্ষে বিভিন্ন দাবি ও যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। কলকাতার ধনী সম্প্রদায় শিক্ষা ও সম্পদে অগ্রগামী থাকায় চাকরি ও ব্যবসায় বাণিজ্যে কর্তৃত্ব গ্রহণ করে কীভাবে তাদের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে আর পূর্ববঙ্গের মানুষ কীভাবে পিছিয়ে পড়ছে তা তুলে ধরেন। তিনি আরও উত্থাপন করেন, কীভাবে কলকাতা বাংলা- প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় ব্যবসায় বাণিজ্য ও শিল্পকারখানা কলকাতাকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠছে। আর অন্যদিকে পূর্ববঙ্গের মানুষ বঞ্চিত হয়ে তারা আরও পশ্চাৎপদ হচ্ছিল।

এসব যুক্তির আলোকে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ আশা পোষণ করেন, যদি বঙ্গকে ভাগ করা হয় তাহলে পূর্ববঙ্গ ও এতে বসবাসকারী মুসলিমরা সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকসহ সকল দিকে এগিয়ে যাবে। লর্ড কার্জন তার উল্লিখিত যুক্তিসমূহের বাস্তবতা ও সুবিধার কথা চিন্তা করে বঙ্গভঙ্গ করার উদ্যোগ নেয়। তাছাড়া বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হবার ফলে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সমাজ যে বিরোধিতা ও আন্দোলন গড়ে তুলে তা প্রতিহত করার লক্ষ্যে নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মুসলিম লীগ গঠিত হয়। যা ভারতের রাজনীতিকে নতুন মাত্রা যোগ করে।

১৯১১ সালে ব্রিটিশ সরকার যখন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রবল বিরোধিতা ও উগ্র হিন্দু সম্প্রদায়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলে বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করেন তখন পূর্ব বাংলার হতাশাগ্রস্ত মুসলমানদের মনজয় ও পূর্ণসমর্থন লাভের আশায় নবাব স্যার সলিমুল্লাহর দানকৃত জমিতে ব্রিটিশ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত তারই প্রচেষ্টায় উপরিল্লিখিত বিভিন্ন উন্নয়ন পূর্ববঙ্গের মুসলমান জনগণের জন্য হলেও তা হয়েছিল মূলত বঙ্গভঙ্গের ফলেই।

অতএব উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, নবাব স্যার সলিমুল্লার রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো বঙ্গভঙ্গ।

প্রশ্ন ১০। ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় উপমহাদেশ শাসনকালে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর একটি শাসনতান্ত্রিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফলে এদেশে দ্বৈতশাসন ও দায়িত্বশীল "শাসনব্যবস্থা চালু হয়। পরবর্তীতে ১৯৩৫ সালে আরেকটি শাসনতান্ত্রিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে বলা হয়, প্রদেশগুলো হবে। স্বায়ত্তশাসিত। এছাড়া এখানে সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠিত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত থাকবে। প্রকৃতপক্ষে এ ব্যবস্থায় গভর্নর জেনারেল ও প্রাদেশিক গভর্নরের ব্যাপক ক্ষমতা ছিল ।

ক. ফরায়েজি আন্দোলন কী?

খ. নবাব আবদুল লতিফকে বাংলার সৈয়দ আহমদ বলা হয় কেন?

গ. উদ্দীপকের প্রথমাংশে কোন আইনের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লিখিত ব্যবস্থাটি বাস্তবে কতটুকু কার্যকরী হয়েছিল? মতামত দাও ।

১০নং প্রশ্নের উত্তর :

ক।  উনিশ শতকের প্রথমদিকে বাংলা অঞ্চলে হাজী শরীয়তউল্লাহর নেতৃত্বে যে সংস্কার আন্দোলন গড়ে ওঠে তাঁকে ফরায়েজি আন্দোলন বলে।

খ।  শিক্ষা বিস্তারে নবাব আব্দুল লতিফের অবদান ছিল অসামান্য। তিনি স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছিলেন যে, শিক্ষা ব্যতীত এ ভূখণ্ডের মুসলমান সম্প্রদায়ের মুক্তির কোনো বিকল্প পথ নেই। তাই তাদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষা প্রসারের জন্য ১৮৬৩ সালে তার একক প্রচেষ্টায় 'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' বা মুসলিম সাহিত্য সমিতি নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়।

তাছাড়া তার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ১৮৫৫ সালে 'কলকাতা হিন্দু কলেজ' প্রেসিডেন্সি কলেজে রূপান্তরিত হয়। এর ফলে মুসলমানদের ইংরেজি শিক্ষার পথ প্রশস্ত হয়। তিনি নানা সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।তার প্রচেষ্টায় কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। তিনি মুহসিন ফান্ড পুনর্গঠন করেন। সমাজ সংস্কার ও শিক্ষা বিস্তারে উত্তর ভারতের স্যার সৈয়দ আহমদের মতো তার বিশেষ অবদান ছিল বলেই তাকে 'বাংলার সৈয়দ আহমদ' বলা হয়।

গ।  উদ্দীপকের প্রথমাংশ ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের কথা বলা হয়েছে।

ভারতবর্ষের শাসনতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন। পূর্বে ১৯০৯ সালে মর্লে-মিন্টো যে সংস্কার আইন প্রবর্তন করেন তাতে ভারতবাসীর দাবি-দাওয়া পূরণ না হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয় এবং ১৯১৪ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় ভারতের সাহায্য অপরিহার্য হয়ে ওঠায় ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের দাবি-দাওয়ার প্রতি নমনীয় হয়।

ফলে ১৯১৭ সালে এক নতুন নীতি ঘোষণা করেন। ১৯১৯ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান হওয়ায় উক্ত নীতি বাস্তবায়নের জন্য ১৯১৯ সালের ভারত শাসন প্রবর্তন করেন। এ আইনের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো প্রদেশে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন। এর মাধ্যমে প্রদেশিক সরকারের বিষয়সমূহকে সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত বিষয় এই দুই ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা, ভূমি রাজস্ব, পানি সেচ, পুলিশ, বিচার বিভাগ, জেল ইত্যাদি সংরক্ষিত বিষয়ের দায়িত্ব ছিল গভর্নরের হাতে। অন্যদিকে, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প ও স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত বিষয়সমূহ হস্তান্তরিত বিষয় হিসেবে গভর্নর প্রাদেশিক মন্ত্রীদের সহায়তা ও পরামর্শ নিয়ে পরিচালনা করত।

এ আইনে একটি দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উদ্দীপকের প্রথমাংশে যে আইনের কথা উল্লিখিত হয়েছে তা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে নেওয়া একটি শাসনতান্ত্রিক উদ্যোগ, যার মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতে দ্বৈতশাসন ও দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা চালু হয় অর্থাৎ এ আইন ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের প্রতিচ্ছবি বহন করে।

তাই বলা যায়, উদ্দীপকের প্রথমাংশে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের কথা বলা হয়েছে।

ঘ। উদ্দীপকে শেষাংশে উল্লিখিত আইন তথা ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন বাস্তবে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয় ।

প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের অর্থ প্রদেশে স্বশাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রদেশের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা। মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবমুক্ত থেকে প্রদেশের তালিকাভুক্ত বিষয়গুলোর ওপর প্রাদেশিক সরকারের স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাকে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলে।

এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার প্রাদেশিক শাসনের ওপর কোনোরূপ হস্তক্ষেপ করবে না। প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা তাদের কাজের জন্য যৌথভাবে প্রাদেশিক আইনসভার নিকট দায়ী থাকবে। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হলেও বাস্তবে তার কার্যকারিতা লক্ষ করা যায়নি। কারণ ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন শুধু তত্ত্বগতই ছিল, বাস্তবে নয়। এ আইনের অধীনে গভর্নর জেনারেল ছিলেন প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী এবং মহাপরাক্রমশালী শাসক প্রধান। শাসন সংক্রান্ত, অর্থসংক্রান্ত, আইন প্রণয়ন ইত্যাদি বিষয় ছিল তার এখতিয়ারভুক্ত।

গভর্নর জেনারেল ও গভর্নরদের অপরিসীম ক্ষমতা প্রদানের ফলে প্রদেশে দায়িত্বশীল সরকার গড়ে ওঠেনি। মূলত ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ছিল অকার্যকর ও অর্থহীন।

প্রশ্ন ১১। ঔপনিবেশিক একটি রাষ্ট্রে দুটি সম্প্রদায় বাস করত। তাদের মধ্যে সবসময় দ্বন্দ্ব লেগেই থাকত। একটি সম্প্রদায়ের নেতা ছিলেন জনাব N তিনি তার সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষায় একটি সুপারিশমালা পেশ করেন।এ সুপারিশমালায় একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়, যা অন্য সম্প্রদায় মনেপ্রাণে মেনে নিতে পারেনি। এর ফলে বিভিন্ন জায়গায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা শুরু হয়। শাসকগোষ্ঠী এ দুই সম্প্রদায়ের সাথে শান্তিপূর্ণ আলোচনা করে ব্যর্থ হন। অবশেষে শাসকগোষ্ঠী এমন একটি আইন প্রণয়ন করেন, যার মাধ্যমে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

ক. মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?

খ. মুসলিম লীগ কেন গঠিত হয়েছিল?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সুপারিশমালার সাথে তোমার পঠিত কোন বিষয়ের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

১১নং প্রশ্নের উত্তর :

ক মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৬ সালে।

খ।  পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি ফরজ বিষয়ের কোনো প্রকারের কুসংস্কার ও বিকৃতির প্রয়োগ না করে কুরআনের নির্দেশ পালন করার জন্য হাজী শরীয়তউল্লাহ যে আন্দোলন করেছিলেন তাই ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত।

গ।  উদ্দীপকে উল্লিখিত সুপারিশমালার সাথে আমার পঠিত লাহোর প্রস্তাবের মিল রয়েছে। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে মুসলিম লীগের এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে মুসলমানদের স্বতন্ত্র আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে প্রস্তাব গৃহীত হয় তা-ই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব ।

লাহোর প্রস্তাবের সুপারিশমালার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো লাহোর প্রস্তাবে ভারতবর্ষকে বিভক্ত করে এর উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চলের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠনের কথা বলা হয়। উল্লিখিত স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের অধীন ইউনিট বা প্রদেশগুলো স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম হবে। ভারতের অন্যান্য হিন্দু অঞ্চলগুলোর সমন্বয়ে পৃথক হিন্দু রাষ্ট্র গঠিত হবে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাথে পরামর্শের ভিত্তিতে তাদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষার জন্য সংবিধানে পর্যাপ্ত ক্ষমতা রাখতে হবে।

প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ ইত্যাদি বিষয়ের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর ন্যস্ত থাকবে। এক্ষেত্রে ভারতের মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণকল্পে সুনির্দিষ্ট পন্থা নির্ধারণপূর্বক লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়। তবে অন্য সম্প্রদায় এ প্রস্তাব মনেপ্রাণে মেনে নিতে পারেনি। এর ফলে বিভিন্ন জায়গায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা শুরু হয় ।

উদ্দীপকে উল্লেখ্য যে, ঔপনিবেশিক একটি রাষ্ট্রে দুটি সম্প্রদায় বাস করত। তাদের মধ্যে সবসময় দ্বন্দ্ব লেগেই থাকত। একটি সম্প্রদায়ের নেতা ছিলেন জনাব N। তিনি তার সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষায় একটি সুপারিশমালা পেশ করেন। এ সুপারিশমালায় একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়, যা লাহোর প্রস্তাবকে নির্দেশ করে।

সুতরাং উদ্দীপকের সুপারিশমালার সাথে আমার পঠিত ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের মিল রয়েছে।

ঘ।  ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এ আইন ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সমস্যা সমাধানের পথে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ আইনের মাধ্যমে উপমহাদেশে দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সীমানা নির্ধারণ করা হয় এবং গণপরিষদ গঠন করা হয়।

এ আইনের দ্বারা গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতার অবসান হয় এবং রাষ্ট্র দুটিতে সংসদীয় ও দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। ভারত সম্রাটের উপাধি বিলোপ করা হয় এবং ভারত সচিবের পদের বিলুপ্তি ঘটে। ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের দ্বারা ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক চিন্তাধারায় বৈপ্লবিক Gretaille 4C-Alle
পরিবর্তন ঘটে। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে যে সমস্যা তৈরি হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান হয় অর্থাৎ পরাধীনতার বিলুপ্তি ঘটে।

এ আইনের মাধ্যমে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটে। ভারতের গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন লর্ড মাউন্টব্যাটেন আর পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের যাত্রা সূচিত হয়। দুটি রাষ্ট্রই স্ব-স্ব সংবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা লাভ করে। উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দলিল । এ আইন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি।

প্রশ্ন ১২। বিদেশি শাসনাধীন কোনো একটি রাষ্ট্রে দুটি প্রধান সম্প্রদায় বাস করে। প্রায়ই তাদের মধ্যে বিরোধ লেগে থাকে। শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েও সরকার ব্যর্থ হয়। দেশটি বিভক্ত করাই সমাধান ভেবে সরকার পার্লামেন্টে একটি আইন পাশ করে। আইনটিতে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয় ।

ক. পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের গভর্নর কে ছিলেন?

খ. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনটির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আইনের মিল আছে? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর ।

১২নং প্রশ্নের উত্তর :

ক।  পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের গভর্নর ছিলেন স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার।

খ। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে প্রদেশের স্বাধীনতাকে বোঝায়। এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের মূলকথা হলো প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার প্রাদেশিক আইনসভার কাছে জবাবদিহিতা থাকবে এবং আইনসভা হবে সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী। এর মাধ্যমে মূলত দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালানো হয়।

গ।  উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে আমার পঠিত ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের সাদৃশ্য আছে।

১৯৪৬ সালে সাম্প্রদায়িক অবস্থার মারাত্মক অবনতির কারণে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের ঐক্য প্রতিষ্ঠার সকল আশার অবসান ঘটে এবং মুসলিম লীগ মন্ত্রিমিশন প্রস্তাবিত গণপরিষদে অংশগ্রহণে অসম্মতির ফলে ১৯৪৬ সালের মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।

এ অবস্থায় ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে ভারত ত্যাগের ঘোষণা দেয়। আর এ ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে ভারতের গভর্নর জেনারেল নিয়োগ করা হয়। মাউন্টব্যাটেন তৎকালীন ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারত বিভাগের একটি বাস্তব ও সর্বসম্মত পরিকল্পনা ব্রিটিশ সরকারের নিকট পেশ করেন। ১৯৪৭ সালের ৩ জুন এ পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। তাই এ পরিকল্পনা ৩ জুন পরিকল্পনা নামে খ্যাত।

কেউ কেউ আবার একে মাউন্টব্যান্টেন পরিকল্পনাও বলে থাকেন। ১৯৪৭ সালের ৩ জুনের মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনাকে কার্যকর করার জন্য ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই ব্রিটিশ আইন পরিষদে ভারতীয় স্বাধীনতা আইন পাশ করা হয়। ভারতীয়দের শাসন ব্যাপারে ব্রিটিশ সরকারের সর্বশেষ সাংবিধানিক পদক্ষেপ হচ্ছে ভারতীয় স্বাধীনতা আইন প্রণয়ন। এ আইনের ফলে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ও ১৫ আগস্ট যথাক্রমে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

ব্রিটিশ ভারতের সিন্দু, বেলুচিস্তান, পশ্চিম পাঞ্জাব, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, পূর্ব বাংলা, আসামের কাছাড় ও সিলেট জেলার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল এবং পাকিস্তানে যোগদানেচ্ছু দেশীয় রাজ্য নিয়ে পাকিস্তান ও ব্রিটিশ ভারতের অবশিষ্টাংশ ও ভারতে যোগদানেচ্ছু দেশীয় রাজ্য নিয়ে ভারত গঠিত হয়। তেমনিভাবে উদ্দীপকের আইনেও দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুটি সম্প্রদায়ের জনগণের মাঝে শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে, যা ১৯৪৭ সালের ভারত শাসন আইনকেই নির্দেশ করছে।

সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন সাদৃশ্যপূর্ণ ।

ঘ।  ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন রাজনীতিতে উদ্দীপকের সাথে সংগতিপূর্ণ আইনের অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের তাৎপর্য/গুরুত্ব অত্যধিক ।

১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এ আইন ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সমস্যা সমাধানের পথে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ আইনের মাধ্যমে উপমহাদেশে দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সীমানা নির্ধারণ করা হয় এবং গণপরিষদ গঠন করা হয়।

এ আইনের দ্বারা গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতার অবসান হয় এবং রাষ্ট্র দুটিতে সংসদীয় ও দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। ভারত সম্রাটের উপাধি বিলোপ করা হয় এবং ভারত সচিবের পদের বিলুপ্তি ঘটে। ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের দ্বারা ভারতীয় উপমহাদেশের, জনগণের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক চিন্তাধারায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে যে সমস্যা তৈরি হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান হয় অর্থাৎ পরাধীনতার বিলুপ্তি ঘটে।

এ আইনের মাধ্যমে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটে। ভারতের গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন লর্ড মাউন্টব্যাটেন আর পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ । ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের যাত্রা সূচিত হয়। দুটি রাষ্ট্রই স্ব-স্ব সংবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা লাভ করে। উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দলিল। এ আইন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি ।

প্রশ্ন ১৩।  ভারতীয়দের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ১৮৮৫ সালে সর্বপ্রথম এ উপমহাদেশে একটি রাজনৈতিক দলের উদ্ভব ঘটে। এ দলটি একটি সম্প্রদায়ের দাবি-দাওয়া আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা রাখলেও অন্য একটি সম্প্রদায়ের লোকজন বঞ্চিত হতে থাকে। পরবর্তীতে বঞ্চিত সম্প্রদায় তাদের স্বার্থ এবং দাবি-দাওয়া পূরণের উদ্দেশ্যে আরও একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। পরবর্তীতে দল দুটির নেতৃত্বে ভারত [ বিভক্ত হয়ে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয় ।

ক. যুক্তফ্রন্ট সরকারের কৃষিমন্ত্রী কে ছিলেন?

খ. বারাসাত বিদ্রোহ বলতে কী বোঝ?

গ. উদ্দীপকে কোন কোন রাজনৈতিক দলের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. ভারত বিভক্তিতে উক্ত দল দুটির ভূমিকা বিশ্লেষণ কর ।

১৩নং প্রশ্নের উত্তর :

ক। যুক্তফ্রন্ট সরকারের কৃষিমন্ত্রী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

খ।  ব্রিটিশ শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে কৃষকরা যখন সর্বস্বান্ত ও দিশেহারা হয়ে পড়ে তখন মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলেন। তিতুমীরের কৃষক আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল নীলকর ও স্থানীয় সামন্ত রাজা-জমিদারদের শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে। ইংরেজ সরকারকে একাধিকবার নীলকর ও জমিদারদের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করলেও তাদের উদাসীনতায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিতুমীর নিজ বাহিনীকে সংগঠিত করেন।

১৮৩১ সালে তিনি দলবলসহ চব্বিশ পরগণার কিয়দংশ এবং নদীয়া ও ফরিদপুরের কিছু অংশের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হন। স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংগঠিত প্রায় ৮৩ হাজার কৃষক-সেনাকে নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন, যা ইতিহাসে তিতুমীরের বারাসাত বিদ্রোহ নামে পরিচিত।

গ। উদ্দীপকে সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের কথা বলা হয়েছে।

সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস উপমহাদেশের প্রথম রাজনৈতিক দল যা ভারতীয়দের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মূলত ব্রিটিশ সরকারের কাছে ভারতীয়দের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরার জন্য একটি প্লাটফর্ম। মূলত রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা থেকেই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের জন্ম হয়।

প্রতিষ্ঠালগ্নে ভারতীয় কংগ্রেস ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সর্বশ্রেণি পেশার মানুষের সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম শুরু করলেও কালক্রমে কংগ্রেস হিন্দু নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় ভারতীয় মুসলমানদের স্বার্থ ও দাবি-দাওয়া উপেক্ষিত হয়। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের ফলে হিন্দু সমাজ বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করলেও মুসলমানরা এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানালে তা তীব্র রূপলাভ করে। এর প্রেক্ষিতে ১৯০৬ সালে কতিপয় মুসলিম নেতৃবৃন্দের প্রচেষ্টায় মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও ব্রিটিশ সরকারের কাছে দাবি-দাওয়া পেশ করার জন্য সাম্প্রদায়িক দল হিসেবে মুসলিম লীগের জন্ম হয়।

পরবর্তীতে এ দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বেই সৃষ্টি হয় দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র ভারত এবং পাকিস্তান। উদ্দীপকেও দেখা যায়, ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত দলটি একটি সম্প্রদায়ের দাবি-দাওয়া আদায়ে সোচ্চার হলেও অন্য সম্প্রদায় বঞ্চিত হয় এবং তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ে বঞ্চিত সম্প্রদায়টি অন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে। পরবর্তীতে ধর্মভিত্তিক দুটি দলের নেতৃত্বে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয় যা সুস্পষ্টতই সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগকেই নির্দেশ করে ।

অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের কথা বলা হয়েছে।

ঘ। ভারত বিভক্তিতে উক্ত দল দুটি অর্থাৎ সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ভারতীয় কংগ্রেস ছিল একটি মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ের সংগঠন এবং এর নেতৃত্বে ছিলেন উচ্চ শিক্ষিত এবং পাশ্চাত্য ভাবধারার বুদ্ধিজীবীগণ। ফলে এসময়ে কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক উপায়ে ব্রিটিশ সরকারের কাছে কেন্দ্র ও প্রদেশে ব্যবস্থাপক সভার প্রসার ও সম্প্রসারণ, ভারতীয় কাউন্সিলের বিলোপ, প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ভারতীয়দের অধিকহারে অন্তর্ভুক্তি, শাসন ও বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ ইত্যাদি দাবি জানায়।

এছাড়া কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ 2. অর্থনৈতিক সংস্কারের কথাও ব্রিটিশ সরকারের কাছে তুলে ধরেন। অধিকন্তু কংগ্রেসের কার্যক্রম শুধু শাসনতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এসবের পাশাপাশি ভারতবাসীর গণতান্ত্রিক ও নাগরিক অধিকারের বিষয়েও কংগ্রেস ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এভাবে ধীরে ধীরে কংগ্রেস বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ে কার্যক্রম অব্যাহত রাখলেও একসময় স্বরাজ প্রতিষ্ঠা ও পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে। কংগ্রেসের পাশাপাশি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মুসলিম জনগোষ্ঠী মুসলিম লীগের  নেতৃত্বে তাদের দাবি আদায়ে সোচ্চার হয়।

ফলস্বরূপ ১৯০৯ সালের মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইনে সর্বপ্রথম মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে কখনো কখনো মুসলিম লীগ ও কংগ্রেস যৌথভাবে আন্দোলন করে। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অধীনে ১৯৩৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগ কয়েকটি প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভে সক্ষম হয়। ১৯৩৭-৪২ সালের মধ্যে কয়েকটি উপনির্বাচনে অভাবিত জয়লাভ করে মুসলিম লীগও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

আবার মুসলিম লীগের অধীনেই পাকিস্তানের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ যে 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' (Two nation Theory) তুলে ধরেন তার ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান ও ভারতীয় ইউনিয়ন নামে দুটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।

প্রশ্ন ১৪। বঙ্গভঙ্গ রদ এবং নেহেরু রিপোর্ট প্রকাশিত হলে মুসলমান নেতৃবৃন্দ হতাশ হয়ে পড়েন। ১৯৩৭ সালের নির্বাচন এবং মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব ঘোষণা হলে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু- মুসলমান দাঙ্গা শুরু হয়। ফলে মুসলমান নেতৃবৃন্দ মনে করেন, তাদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র প্রয়োজন। মুসলমান নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে একজন মহান নেতা এ লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব পেশ করেন। উক্ত প্রস্তাবের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল।

ক. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

খ. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি দ্বিজাতি তত্ত্ব'- ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে যে ঐতিহাসিক প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে তার মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।

ঘ. তুমি কি মনে কর, উক্ত প্রস্তাবের মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

১৪নং প্রশ্নের উত্তর :

ক। ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়।

খ। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ অবিভক্ত পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের দাবি উত্থাপিত হয়।

এসব স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রয়োজনে ভারতবর্ষের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোর সীমানা পরিবর্তন করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়। মূলত মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ কর্তৃক প্রদত্ত দ্বিজাতি তত্ত্বেও প্রায় এমনটাই বলা হয়েছে। দ্বিজাতি তত্ত্বেও ধর্মের ভিত্তিতে দুটি দেশ গঠনের প্রস্তাব করা হয়। তাই বলা যায়, লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।

গ।  উদ্দীপকের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে। বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের অবনতি হয় এবং কালক্রমে তা চরম রূপ পরিগ্রহ করে। নেহেরু রিপোর্ট প্রকাশিত হলে মুসলমান নেতৃবৃন্দ হতাশ হয়ে পড়েন।

১৯৩৭ সালের নির্বাচন এবং পরবর্তীতে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব ঘোষণা হলে দেশের বিভিন্ন স্থানে দাঙ্গা শুরু হয়। ফলে মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাসভূমির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের সম্মেলনে লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন। উদ্দীপকেও লাহোর প্রস্তাবের পটভূমিই চিত্রিত হয়েছে।

লাহোর প্রস্তাবের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-

১. ভারতবর্ষকে বিভক্ত করে এর উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চলের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠন করতে হবে।

২. উল্লিখিত স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের অধীন ইউনিট বা প্রদেশগুলো স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম হবে।

৩. ভারতের অন্যান্য হিন্দু অঞ্চলগুলোর সমন্বয়ে পৃথক হিন্দু রাষ্ট্র গঠিত হবে।

৪. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাথে পরামর্শের ভিত্তিতে তাদের স্বার্থ ও * অধিকার রক্ষার জন্য সংবিধানে পর্যাপ্ত ক্ষমতা রাখতে হবে।

৫. প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ ইত্যাদি বিষয়ের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর ন্যস্ত থাকবে।

এক্ষেত্রে ভারতের মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণকল্পে সুনির্দিষ্ট পন্থা নির্বাচনপূর্বক লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, লাহোর প্রস্তাব প্রথমত ছিল ভারতের হিন্দুদের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ আর ভারতীয় মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের দীপ্ত পদক্ষেপ। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দৃষ্টিতে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্যে পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির সুস্পষ্ট আভাস পরিলক্ষিত হয়েছিল।

ঘ।  হ্যাঁ, আমিও মনে করি উক্ত প্রস্তাব অর্থাৎ লাহোর প্রস্তাবের মাঝেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল।

ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ছিল লাহোর প্রস্তাব। এ প্রস্তাবের মাধ্যমে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব সুস্পষ্ট রূপলাভ করে। মুসলমানরা মুসলিম লীগের নেতৃত্বে তাদের জন্য একটি আলাদা আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে লিপ্ত হয়। এর মাঝে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল। সর্বাপেক্ষা গঠনমূলক এ প্রস্তাবের মাধ্যমে মুসলমানদের সকল সমস্যার সুরাহা হয়। পূর্ব পাকিস্তানের যে মুসলমান সম্প্রদায় এতদিন পর্যন্ত নিজেদের আত্মপরিচয়ের সন্ধানে ছিল তারা লাহোর প্রস্তাবে এর সন্ধান পায়।

এ প্রস্তাব তাদেরকে একটি জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। ১৯৪৭ সালে পৃথক রাজনৈতিক অস্তিত্ব বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলেও এ জাতীয় চেতনাই পরবর্তীকালে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রেরণা জোগায়। সর্বোপরি লাহোর প্রস্তাব অনুযায়ী পূর্ব বাংলায় স্বায়ত্তশাসন প্রদান না করার কারণে পাকিস্তান জন্মের পর থেকেই সেখানে বিভিন্ন আন্দোলন হতে থাকে। পরবর্তীতে বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে পরিশেষে '৭০ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর পূর্ব বাংলাকে ক্ষমতা না দেওয়ার কারণে বাঙালিরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে।
পরিশেষে বলা যায়, লাহোর প্রস্তাবে উপরিউক্ত বিষয় নিহিত থাকার মধ্য দিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন আঁকা ছিল।

প্রশ্ন ১৫ ক' নামক রাষ্ট্রটি দীর্ঘদিন বিদেশি শাসকগোষ্ঠী দ্বারা শাসিত হয়েছে। দেশটিতে দুটি বৃহৎ ধর্মীয় সম্প্রদায় বাস করে। বিদেশি শাসকগোষ্ঠী দেশটির জনগণকে খুশি করার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের আইন প্রণয়ন করেন। কিন্তু কোনো আইনই ধর্মীয় সম্প্রদায় দুটিকে পুরোপুরি খুশি করতে পারেনি। দেশটির দুটি সম্প্রদায়ই স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করে। এমতাবস্থায় শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রটির স্বাধীনতা প্রদানের লক্ষ্যে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করেন। এ আইনের ফলে শাসকগোষ্ঠী 'ক' রাষ্ট্রটিকে দুটি স্বাধীন ভাগে ভাগ করে।

ক. মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার সদস্য সংখ্যা ছিল কত জন?

খ. দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে তোমার পঠিত যে আইনের সাদৃশ্য রয়েছে তার বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ।

ঘ. উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তোমার পাঠ্যবইয়ের আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

১৫নং প্রশ্নের উত্তর :

ক। মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার সদস্য সংখ্যা ছিল ৩ জন ।

খ। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য প্রদেশে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন। প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। যেমন—

ক. হস্তান্তরিত বিষয় এবং

খ. সংরক্ষিত বিষয়। হস্তান্তরিত বিষয়গুলো গভর্নর ও প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা যৌথভাবে পরিচালনা করতেন।

আর সংক্ষিত বিষয় কেবল গভর্নর ও শাসন পরিষদের নেতৃত্বে পরিচালিত হতো। এভাবে প্রাদেশিক শাসন সংক্রান্ত বিষয়কে দুভাগে বিভক্ত করায় একে দ্বৈতশাসন বলে অভিহিত করা হয়।

গ। উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে আমার পঠিত ১৯৪৭ সালের ভারত শাসন আইনের সাদৃশ্য রয়েছে। কেননা, উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রটির প্রদত্ত আইনের সাথে কেবল ১৯৪৭ সালের ভারত শাসন আইনের বৈশিষ্ট্যসমূহই প্রাসঙ্গিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এই আইনের মাধ্যমেই ১৯৪৭ সাথে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি পৃথক ও স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল।
১৯৪৭ সালের ৩ জুন মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট যে আইন পাস করে তা ভারত স্বাধীনতা আইন নামে পরিচিত। এই আইনের সবচেয়ে প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ধারা হলো এ আইনে ভারতবর্ষকে বিভক্ত করে ভারতীয় ইউনিয়ন ও পাকিস্তান নামে দুটি ‘ডোমিনিয়ন' প্রতিষ্ঠিত হয়, যেগুলো কার্যত স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। ফলে 'ভারত সচিব' পদটির কার্যকারিতা বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং এ আইনে উক্ত পদটির অবসান ঘটানো হয়।

একই সাথে এ আইনে রাজকীয় মর্যাদা ও উপাধি থেকে ব্রিটিশরাজের 'ভারত সম্রাট' উপাধি বিলুপ্ত করা হয়। এছাড়া এ আইনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এতে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের কিছু সংশোধনী আনা হয়। তন্মধ্যে ভারত-পাকিস্তানের মন্ত্রিসভার পরামর্শ অনুযায়ী ব্রিটিশরাজ কর্তৃক গভর্নর জেনারেল নিয়োগ, স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা ও বিশেষ ক্ষমতা বিলোপ, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ক্ষমতা হ্রাস প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া এই আইনের আরও কিছু বৈশিষ্ট্য হলো— এই আইনে কমনওয়েলথে থাকা বা না থাকার স্বাধীনতা প্রদান, ডোমিনিয়নগুলোর জন্য গণপরিষদ গঠন ইত্যাদি ।

ঘ। ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন রাজনীতিতে উদ্দীপকের সাথে সংগতিপূর্ণ আইনের অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের তাৎপর্য/গুরুত্ব অত্যধিক।

১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এ আইন ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সমস্যা সমাধানের পথে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ আইনের মাধ্যমে উপমহাদেশে দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সীমানা নির্ধারণ করা হয় এবং গণপরিষদ গঠন করা হয়।

এ আইনের দ্বারা গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতার অবসান হয় এবং রাষ্ট্র দুটিতে সংসদীয় ও দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। ভারত সম্রাটের উপাধি বিলোপ করা হয় এবং ভারত সচিবের পদের বিলুপ্তি ঘটে। ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের দ্বারা ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক চিন্তাধারায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে যে সমস্যা তৈরি হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান হয় অর্থাৎ পরাধীনতার বিলুপ্তি ঘটে।

এ আইনের মাধ্যমে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটে। ভারতের গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন লর্ড মাউন্টব্যাটেন আর পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের যাত্রা সূচিত হয়। দুটি রাষ্ট্রই স্ব-স্ব সংবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা লাভ করে। উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দলিল। এ আইন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি।

প্রশ্ন ১৬। 'X' রাষ্ট্রে একটি নতুন আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দুভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হলো- সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয়। সংরক্ষিত বিষয়গুলো গভর্নরের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ক. মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন কী?

খ. দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে তোমার পঠিত কোন আইনের সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ কর ।

১৬নং প্রশ্নের উত্তর :

ক।  ১৯০৯ সালে ভারতবর্ষের গভর্নর জেনারেল লর্ড মিন্টো ও ভারত সচিব লর্ড মর্গে যৌথভাবে ভারত শাসনের যে আইন প্রবর্তন করেন তাই মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন নামে পরিচিত।

খ।  ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য প্রদেশে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন। প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। যেমন— ক. হস্তান্তরিত বিষয় এবং খ. সংরক্ষিত বিষয়। হস্তান্তরিত বিষয়গুলো গভর্নর ও প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা যৌথভাবে পরিচালনা করতেন।

আর সংক্ষিত বিষয় কেবল গভর্নর ও শাসন পরিষদের নেতৃত্বে পরিচালিত হতো। এভাবে প্রাদেশিক শাসন সংক্রান্ত বিষয়কে দুভাগে বিভক্ত করায় একে দ্বৈতশাসন বলে অভিহিত করা হয়।

গ।  উদ্দীপকের বর্ণিত আইনের সাথে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের সাদৃশ্য রয়েছে।

ভারতের শাসনতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন। এ আইনটি নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ আইনের মাধ্যমে সর্বপ্রথম প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান, ক্ষমতার বণ্টন, দ্বৈতশাসন প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য বা সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়।

উদ্দীপকে ভারত শাসনের একটি ধারা প্রাদেশিক দ্বৈতশাসন বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। এর মাধ্যমে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের প্রদেশে দ্বৈতশাসন বিষয়টিই মূলত তুলে ধরা হয়েছে। এর আওতায় প্রাদেশিক শাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত এ দুইভাগে ভাগ করা হয়। এ আইনের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য ছিল প্রদেশে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন। এ আইনে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইন পরিষদ সৃষ্টি করা হয়। এ আইন অনুযায়ী গভর্নর জেনারেল ইচ্ছা করলে আইনসভার কোনো পক্ষের মতামত না নিয়ে আইন প্রণয়ন করতে পারতেন। এ গভর্নর জেনারেলকে সহায়তা করার জন্য ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি শাসন পরিষদ গঠন করা হয়।

এছাড়া এ আইনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর মাধ্যমে সংসদীয় সরকার প্রবর্তন, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান, প্রাদেশিক আইনসভা, পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তন, উপদেষ্টা বোর্ড গঠন, ভারত সচিবের ক্ষমতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি, ভারতীয় হাই কমিশনারের পদ সৃষ্টি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য ।

পরিশেষে বলা যায়, এ সকল বৈশিষ্ট্যের কারণে অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলেও সাংবিধানিক সংস্কারের দিক দিয়ে এ আইনকে ভারতের সাংবিধানিক ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

ঘ। চিত্রে প্রদর্শিত আইনের ধারাটি হলো ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা প্রদেশে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা।

১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য প্রদেশে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন। প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। যেমন- ক. হস্তান্তরিত বিষয় এবং খ. সংরক্ষিত বিষয়। হস্তান্তরিত বিষয়গুলো গভর্নর ও প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা যৌথভাবে পরিচালনা করতেন। আর সংরক্ষিত বিষয় কেবল গভর্নর ও শাসন পরিষদের নেতৃত্বে পরিচালিত হতো। এভাবে প্রাদেশিক শাসনসংক্রান্ত বিষয়কে দুভাগে বিভক্ত করায় একে দ্বৈতশাসন বলে অভিহিত করা হয়।

ভারতীয়দের দাবি দাওয়ার প্রেক্ষিতে এবং ভারতের শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা নিরসনকল্পে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে মন্টেগু ও চেমসফোর্ড-এর নেতৃত্বে ১৯১৮ সালে যে শাসনতান্ত্রিক সংস্কার রিপোর্ট প্রণয়ন করা হয় তার ওপর ভিত্তি করে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন প্রবর্তিত হয়। এ আইনের একটি আকর্ষণীয় ও সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো প্রদেশে দ্বৈতশাসন (Dyarchy)। এ দ্বৈত শাসনের মূল লক্ষ্য ছিল প্রদেশে দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন, যার মাধ্যমে নির্বাচিত সদস্যগণ বিশেষ করে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণ তাদের যাবতীয় দায়িত্বের জন্য আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন। তবে এ ব্যবস্থা সফল হতে পারেনি।

কারণ প্রাদেশিক সরকারের বিষয়গুলোকে কৃত্রিমভাবে গঠিত দুটি সংস্থার হাতে অর্পণ করার ফলে সরকারের স্বাভাবিক কর্মপ্রবাহ বিঘ্নিত হয়। এছাড়া মন্ত্রিসভার দায়িত্বহীনতা, দলীয় রাজনীতির অনুপস্থিতি, সংসদীয় ঐতিহ্যের অভাব, বিষয় বণ্টনের ত্রুটি, মন্ত্রিসভা ও কার্যনির্বাহী পরিষদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, গভর্নরের প্রভূত্বব্যঞ্জক ক্ষমতা ও আচরণ, সরকারি কর্মচারীদের ওপর মন্ত্রীদের নিয়ন্ত্রণের অভাব ইত্যাদি কারণে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের এই ধারাটি সফলতার न পথে আসতে পারেনি।

আলোচনার পরিশেষে তাই বলা যায়, ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের এই ধারাটির কার্যকারিতা মোটেই এর প্রণয়নের উদ্দেশ্যকে সফল করতে পারেনি।

প্রশ্ন ১৭। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে 'X' রাষ্ট্রের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করে। ধারাবাহিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে শাসকগোষ্ঠী একটি নতুন আইন করে রাষ্ট্রকে দু'ভাগে ভাগ করে। ফলশ্রুতিতে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

ক. ১৮৬১ সালের ভারতীয় কাউন্সিল আইন কী ?

খ. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো আইনের সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আইনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

১৭নং প্রশ্নের উত্তর :

ক। ব্রিটিশ শাসনকে ভারতবাসীর নিকট জনপ্রিয় করে তোলার লক্ষ্যে ভারতে আইনসভা প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ সংবলিত আইনটি ১৮৬১ সালের ভারতীয় কাউন্সিল আইন নামে পরিচিত।

খ।  প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে প্রদেশের স্বাধীনতাকে বোঝায়। এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের মূলকথা হলো প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার প্রাদেশিক আইনসভার কাছে জবাবদিহিতা থাকবে এবং আইনসভা হবে সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী। এর মাধ্যমে মূলত দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালানো হয়।

গ। ৩২ পৃষ্ঠার ১২-এর (গ) নং প্রশ্নোত্তর দ্রষ্টব্য।

ঘ।  ৩২ পৃষ্ঠার ১২-এর (খ) নং প্রশ্নোত্তর দ্রষ্টব্য।

প্রশ্ন ১৮। 'ক' অঞ্চলটি দীর্ঘদিন বিদেশি শক্তি দ্বারা শাসিত হয়ে আসছে। এ অঞ্চলের প্রধান দুটি সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধভাবে বিদেশি শক্তিকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করে আসছিল। বিদেশি শক্তি এ ঐক্যবদ্ধ চেতনাকে নষ্ট করার জন্য 'ক' অঞ্চলটিকে ভৌগোলিকভাবে এমনভাবে ভাগ করে যাতে সম্প্রদায় দুটি পরস্পরের সাথে স্বার্থের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের উদ্ভব ঘটে এবং এ দলটিই পরবর্তীতে একটি স্বাধীন ধর্মরাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা পালন করে।

ক. কোন বিদ্রোহ ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসন ঘটায়?

খ. ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস অসাম্প্রদায়িক ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে 'ক' অঞ্চলের ভৌগোলিক বিভাজন তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনাকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের রাজনৈতিক দলের অনুরূপ পাঠ্যবইয়ের যে দলটি ভূমিকা পালন করেছিল তার গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

১৮নং প্রশ্নের উত্তর :

ক। সিপাহী বিদ্রোহ ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটায় ।

খ।  ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস জনসাধারণকে রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। কিন্তু সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত- স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দলটি নিরপেক্ষ আচরণ করতে ব্যর্থ হয়। বঙ্গভঙ্গ ইস্যুতে কংগ্রেসের সাম্প্রদায়িক আচরণ মুসলমানদের মনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। মূলত মুসলমানদের স্বার্থ উপেক্ষা করার কারণেই মুসলিম লীগের জন্মলাভ ঘটে। সর্বোপরি কংগ্রেসে হিন্দু নেতাদের আধিপত্যবাদ দলটিকে অসাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে পরিণত করে।

আর তাই বলা হয় যে, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস অসাম্প্রদায়িক আচরণে ব্যর্থ।

গ। উদ্দীপকে 'ক' অঞ্চলটির ভৌগোলিক বিভাজন আমার পাঠ্যবইয়ের ঐতিহাসিক বঙ্গভঙ্গের ঘটনাকে ইঙ্গিত করে।

অবিভক্ত বঙ্গ প্রদেশটি ব্রিটিশ ভারতের সবচেয়ে বড় প্রদেশ ছিল। এতে হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল। অন্যদিকে, ব্রিটিশরা 'ভাগ কর এবং শাসন কর (Divide and Rule) নীতিতে এই সম্প্রদায়দ্বয়ের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে তাদের শাসন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করে। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিকভাবে স্বাধীনতা লাভ ও বিদেশি শক্তিকে প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও এ অঞ্চলের অধিবাসীরা ইংরেজদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছিল না।

কংগ্রেসের মাধ্যমে গড়ে তোলা জাতীয়তাবাদকে নস্যাৎ করার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিকভাবে ভৌগোলিক কারণ দেখিয়ে বঙ্গভঙ্গ করা হয় এমনভাবে যেন অন্তর্দলীয় সংঘাত ও বিভেদ বৃদ্ধি পায়। বাস্তবিকভাবেই হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি নষ্ট হয় এবং জাতীয়তাবাদ বিভক্ত হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় মুসলিম লীগের জন্মলাভ ঘটে। আর মুসলিম লীগের মাধ্যমেই পরবর্তীতে ধর্মভিত্তিক স্বাধীন রাষ্ট্র পাকিস্তানের আবির্ভাব ঘটে।

উদ্দীপকেও এ ঘটনার সুস্পষ্ট প্রতিরূপ রয়েছে। 'ক' অঞ্চলে বিদেশি শক্তির ঐক্যবদ্ধ চেতনা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে জাতিগত বিভেদের সংঘাত সৃষ্টি ও ভৌগোলিকভাবে বিভক্তিকরণ আদতে ১৯০৫ সালে ব্রিটিশদের বঙ্গভঙ্গকেই ইঙ্গিত করেছে। আর তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ঘটনাটি হলো বঙ্গভঙ্গ ।

ঘ। উদ্দীপকের অনুরূপ একটি রাজনৈতিক দল তথা মুসলিম লীগ ব্রিটিশ ভারতের মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করেছিল।

উদ্দীপকের বর্ণনায় যে রাজনৈতিক দলের কথা বলা হয়েছে সেটি হলো মুসলিম লীগ। আর উক্ত দলটি ভারতের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মুসলিম লীগ জন্মলগ্ন থেকেই মুসলমানদের স্বার্থরক্ষায় কাজ করতে থাকে। রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় একসময় মুসলিম লীগের মধ্যে এ ধারণা বদ্ধমূল হয় যে, ভারতে অখণ্ডভাবে মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা হতে পারে না। তাই মুসলমানগণ আলাদা দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি থেকেই ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল ।

শুধু আলাদা দলই নয়, আলাদা রাষ্ট্র গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্বিজাতি তত্ত্ব ঘোষণা করেছিলেন। এ তত্ত্বের মূলকথা ছিল, ভারতে মুসলমানরা যেকোনো বিবেচনায় একটা স্বতন্ত্র জাতি এবং তাদের পৃথক জাতিসত্তা রয়েছে। এ পৃথক জাতিসত্তার স্বার্থরক্ষার জন্য ভারতে মুসলমানদের জন্য আলাদা আবাসভূমি প্রয়োজন। পরবর্তীতে মুসলিম লীগ নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের লাহোর প্রস্তাব দ্বিজাতি তত্ত্বের রূপরেখা হিসেবে কাজ করে। একই সাথে ব্রিটিশদের 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতির ফল হিসেবে ভারতে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। মুসলিম লীগ মুসলমানদের স্বার্থরক্ষায় অনড় অবস্থান গ্রহণ করে। এমতাবস্থায় মুসলমানদের স্বার্থরক্ষার জন্য সেই সময় আলাদা রাষ্ট্রের কোনো বিকল্প ছিল না। ফলে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

আলোচনার শেষে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের দলটি তথা মুসলিম লীগ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

প্রশ্ন ১৯। 'এ' রাষ্ট্রটি ২০১০ সালে স্বাধীনতা লাভ করে। উক্ত রাষ্ট্রে ২০১২ সালে কার্যকর হওয়া সংবিধান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার প্রবর্তন করা হয় এবং কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে স্বায়ত্তশাসন ছিল না কিন্তু দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে সংশোধনীর মাধ্যমে কেন্দ্রে দায়িত্বশীল সরকার প্রবর্তন করা হয় এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কার্যকর হয়। প্রদেশের তালিকাভুক্ত বিষয়গুলোর ওপর কেন্দ্রের কোনো প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তবে প্রাদেশিক গভর্নর প্রদেশের নিয়মতান্ত্রিক প্রধান ছিলেন। তিনি আইন প্রণয়ন কিংবা শাসনসংক্রান্ত কাজে হস্তক্ষেপ করতেন না।

ক. মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন কত সালে প্রণয়ন করা হয়?

খ. ১৯৪৬ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের ফলাফল ভারতে হিন্দু- মুসলমান স্বতন্ত্র জাতিসত্তার প্রকাশ- ব্যাখ্যা কর।

গ. 'এ' রাষ্ট্রের ২০১২ সালের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য কোন ভারত শাসন আইনকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উক্ত রাষ্ট্রের ২০১৫ সালের সংশোধিত সংবিধানের সাথে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের তুলনা কর ।

১৯নং প্রশ্নের উত্তর :

ক। মর্লে -মিন্টো সংস্কার আইন ১৯০৯ সালে প্রণয়ন করা হয়।

খ।  ১৯৩৭ সালের দীর্ঘ ৯ বছর পর ১৯৪৬ সালে প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১,৫৮৫টি আসনের মধ্যে হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলে কংগ্রেস সর্বমোট ৯২৩টি এবং মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে মুসলিম লীগ ৪২৫টি আসন লাভ করে।

ফলে মুসলামনদের রাজনৈতিক চেতনার ধারক হিসেবে মুসলিম লীগ একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। আর এর মাধ্যমেই ভারতে হিন্দু-মুসলমান দুটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তার আত্মপ্রকাশ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

গ। উদ্দীপকে 'এ' রাষ্ট্রের ২০১২ সালের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য ভারত শাসন আইন-১৯১৯ কে ইঙ্গিত প্রদান করে ।

ভারতবর্ষের শাসনতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনকল্পে ব্রিটিশ সরকার বিভিন্ন সময়ে যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন বা মন্টেগু-চেমসফোর্ড আইন তন্মাধ্যে অন্যতম। এ আইনে ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। সরকারের বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক দুই ভাগে বিভক্ত করে কেন্দ্রীয় বিষয় সরকারের হাতে এবং প্রাদেশিক বিষয়গুলো প্রাদেশিক সরকারের হাতে ন্যস্ত করা হয়।

উক্ত আইনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল প্রদেশে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন। প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত দুই ভাগে বিভক্ত করে সংরক্ষিত বিষয়গুলো গভর্নর নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা আরোপ করা হয়। যদিও ১৯১৯ সালের আইনে দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা বাধ্যতামূলক করা হয়। তথাপি বাস্তবে দায়িত্বশীল শাসন কায়েম করা সম্ভব হয়নি। প্রদেশে স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা কার্যকর না হওয়ায় কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপে তথা দ্বৈত শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতায় উক্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

উদ্দীপকের 'এ' রাষ্ট্রে ২০১২ সালে কার্যকর আইনের মাধ্যমে ও দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা কায়েম করা হয়, প্রদেশে স্বায়ত্তশাসন না দিয়ে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা আরোপ করা হয় এবং কেন্দ্র ও প্রদেশের ক্ষমতা বণ্টন করা হয়। তবে কেন্দ্রে দায়িত্বশীল সরকার প্রবর্তন না করার কারণে সেদেশে দায়িত্বশীল শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। স্পষ্টত 'এ' রাষ্ট্রের ২০১২ সালের আইন ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের সাথে অভিন্নভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।

আর তাই বলা যায় যে, উক্ত আইনের মাধ্যমে ভারত শাসন আইন ১৯১৯-কেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

ঘ। উদ্দীপকের 'এ' রাষ্ট্রের ২০১৫ সালের আইনের সাথে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের বেশ সাদৃশ্যতা রয়েছে।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে ১৯১৯ সালের আইনের বেশকিছু ধারার পরিবর্তন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করা হয়। ১৯৩৫ সালের আইনে দায়িত্বশীল সরকার গঠনের লক্ষ্যে কেন্দ্রে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। ফলে কেন্দ্রে দায়িত্বশীল সরকারব্যবস্থা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। উদ্দীপকের 'এ' দেশের ২০১৫ সালের আইনেও এরূপ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এদেশেও কেন্দ্রে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন প্রণয়ন করা হয়।

আবার ১৯৩৫ সালের আইনে ভারতের প্রদেশসমূহে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয় এবং এটি এই আইনের কেন্দ্রবিন্দুস্বরূপ। তাছাড়া প্রদেশে দ্বৈতশাসন রদ করা, দায়িত্বশীল সরকার নিশ্চিতকল্পে প্রদেশসমূহের কাছে সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা প্রদান করা হয়। আর উদ্দীপকের 'এ' দেশের ২০১৫ সালের আইনে ও অনুরূপ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কার্যকর করা হয়। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক আইন পরিষদের ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা সীমিত করা হয়। যেমনটি 'এ' দেশের ২০১৫ সালের আইনের ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান।

'এ' দেশেও প্রদেশের তালিকাভুক্ত বিষয়ে কেন্দ্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছিল না। আলোচ্য উভয় আইন এভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ থাকলেও উভয় আইনের বেশ বড় একটি অমিল সুষ্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক গভর্নর জেনারেল ছিলেন ব্রিটিশ রাজ্যের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধি। তিনি কেবল নিয়মতান্ত্রিক প্রধান নন বরং তিনি প্রভূত ক্ষমতার আধার ছিলেন।

তিনি আইন প্রণয়নে আইনসভার অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত এবং নিম্নকক্ষ ভেঙে দিতে পারতেন। শাসন ও আইনসংক্রান্ত কাজে তার অনুমোদনই চূড়ান্ত ছিল। অন্যদিকে 'এ' দেশের ২০১৫ সালের আইনে প্রাদেশিক গভর্নর কেবল নিয়মতান্ত্রিক প্রধান ছিলেন। তিনি 'এ' দেশের আইন প্রণয়ন ও শাসনসংক্রান্ত কাজে হস্তক্ষেপ করতেন না ।

অতএব তুলনামূলক আলোচনা সাপেক্ষে বলা যায় যে, উদ্দীপকের 'এ' রাষ্ট্রের ২০১৫ সালের আইনের সাথে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের যথেষ্ট মিল থাকা সত্ত্বেও উভয় আইনে স্বাতন্ত্র্য্য রয়েছে।

প্রশ্ন ২০। বিশাল আয়তনের রূপনগর অঞ্চলটিতে ঔপনেবিশক শাসনের জন্য অস্থিরতা বিদ্যমান। অঞ্চলটিতে প্রধানত দুটি সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন সম্মোহনী নেতা বিরোধী দলীয় সম্মেলনে রাজনৈতিক সমস্যা নিরসনের জন্য একটি প্রস্তাব পেশ করে। প্রস্তাবে সংখ্যালঘুরা যেসব স্থানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সেসব অঞ্চল নিয়ে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। এ প্রস্তাবটি সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে এবং একদশকের মধ্যেই রূপনগর ভেঙে কয়েকটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয় ।

ক. মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কতজন ব্রিটিশ মন্ত্রী ভারত সফর করেন?

খ. ভাষা আন্দোলন হয়েছিল কেন?

গ. উদ্দীপকে পেশকৃত প্রস্তাবটি তোমার পঠিত কোন ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রস্তাবটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কর্মসূচি উপমহাদেশের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে- বিশ্লেষণ কর।

২০নং প্রশ্নের উত্তর :

ক। মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনজন ব্রিটিশ মন্ত্রী ভারত সফর করেন ।

খ।  ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর শুরুর দিকেই পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে পূর্ব বাংলার বিরোধ সৃষ্টি হয় রাষ্ট্রভাষাকে কেন্দ্র করে। পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আমলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ নানাভাবে উর্দুকে (৩.২৭% লোকের ভাষা) পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার জোর প্রচেষ্টা চালায়। এ অবস্থায় পাকিস্তানের ৫৬% লোকের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়।

গ। উদ্দীপকে পেশকৃত প্রস্তাবটি আমার পঠিত লাহোর প্রস্তাবকে নির্দেশ করে ।

উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে লাহোর প্রস্তাব একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তৎকালীন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে নিজ মাতৃভূমিকে মুক্ত করার জন্য লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন। সমসামরিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাম্প্রদায়িকতাকে উপমহাদেশে বিভাজনের হাতিয়ার বানিয়েছিল ব্রিটিশ শাসকরা।

সর্বোপরি সার্বিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষা থেকে জননেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ লাহোরে বিরোধী দলীয় নেতাদের সম্মেলনে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবটির মূল বক্তব্য ছিল সংখ্যালঘিষ্ঠ মুসলামানদের প্রধান অঞ্চলগুলো নিয়ে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক কারণে কেবল পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়। এরও দীর্ঘদিন পর পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়।

উদ্দীপকে এই ঘটনার সুস্পষ্ট প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। এতে দেখা যায় যে, বিশালায়তন রূপনগর অঞ্চলে ঔপনিবেশিক শাসনের জন্য অস্থিরতা বিরাজমান এবং সেখানে প্রধানত দুটি সম্প্রদায়ের বসবাস। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন নেতার প্রস্তাবে উক্ত অঞ্চলটি এক দশকের মধ্যেই কয়েকটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়। স্পষ্টত রূপকার্থে উদ্দীপকে লাহোর প্রস্তাবের প্রেক্ষাপট, প্রস্তাবকারী এবং এর ফলাফলের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। আর তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে পেশকৃত প্রস্তাবটি হলো লাহোর প্রস্তাব।

ঘ। উদ্দীপকের শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক কর্তৃক উত্থাপিত কর্মসূচি অর্থাৎ ‘লাহোর প্রস্তাব' ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিল।

মুসলমানদের জন্য গ্রহণযোগ্য শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করার কথা মূলত লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে বলা হয়। এলাকাসমূহকে অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিতকরণের কথা বলা হয়। এ প্রস্তাবে পার্শ্ববর্তী ভৌগোলিকভাবে সন্নিহিত ও নির্দিষ্টকৃত অঞ্চলসমূহকে প্রয়োজনমত সীমানা পরিবর্তন করে এমনভাবে গঠন করতে হবে যাতে ভারতবর্ষের উত্তর, পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের যেসব জায়গায় মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ সেসব অঞ্চলে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠন সম্ভব হয়। এছাড়াও স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম অঙ্গরাজ্য গঠন, সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণ, ক্ষমতার নির্দিষ্টকরণ, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা বাতিল ছিল ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের মূল বৈশিষ্ট্য।

ভারতীয় উপমহাদেশে অনেকগুলো স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন ও যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বাতিল, সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণ ইত্যাদি বিষয় লাহোর প্রস্তাবে আলোচিত হয়েছে। শেরে বাংলা এ, কে. ফজলুল হকের এ প্রস্তাবের মাধ্যমে পূর্ব পকিস্তানে প্রথম মুসলিম লীগের পতাকা উত্তোলিত হয় । ব্রিটিশ ভারতের মুসলমানদের রাজনৈতিক ইতিহাসে লাহোর প্রস্তাব তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক অধ্যায়।

এ ঐতিহাসিক প্রস্তাব গ্রহণের পর মুসলমানদের রাজনৈতিক চিন্তাধারায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে তার সার্থক পরিণতির ফলে পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা এবং পরে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। এ প্রস্তাবের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য হলো স্বার্থের দ্বন্দ্ব শুরু, মুসলিম লীগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি, নির্বাচনে ব্যাপক জনসমর্থন, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা ও সম্পর্কের অবনতি এবং পরবর্তীতে নানা ঘটনা প্রতিঘটনার মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ।

সুতরাং বলা যায়, ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে লাহোর প্রস্তাব এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের নাম ।

প্রশ্ন ২৪। নাগরিকের অধিকতর সেবা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টির জন্য ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দু'ভাগে ভাগ করে। 'ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন' ও “ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন' নামে পৃথক দুটি সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরিত করে ।

ক. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় কখন ?

খ. দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝ?

গ. উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. 'উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনার মূলে ছিল জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নস্যাৎ করা'- বিশ্লেষণ কর।

২৪নং প্রশ্নের উত্তর :

ক। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৫ সালে।

খ। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য প্রদেশে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন। প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। যেমন— ক. হস্তান্তরিত বিষয় এবং খ. সংরক্ষিত বিষয়। হস্তান্তরিত বিষয়গুলো গভর্নর ও প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা যৌথভাবে পরিচালনা করতেন। আর সংক্ষিত বিষয় কেবল গভর্নর ও শাসন পরিষদের নেতৃত্বে পরিচালিত হতো। এভাবে প্রাদেশিক শাসন সংক্রান্ত বিষয়কে দুভাগে বিভক্ত করায় একে দ্বৈতশাসন বলে অভিহিত করা হয়।

গ। উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ঐতিহাসিক ঘটনা ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের সাদৃশ্য আছে।

বঙ্গভঙ্গ ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক যুগান্তকারী ঘটনা। এটি ব্রিটিশ সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের পাশাপাশি প্রশাসনিক চাপ হালকা করে। তাছাড়া এটি নবগঠিত পূর্ববঙ্গের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নতুন যুগের সূচনা করে।

ব্রিটিশ ভারতে অবিভক্ত বাংলা প্রদেশ ছিল আয়তনে ও জনসংখ্যায় সবচেয়ে বড়। একজন গভর্নর জেনারেলের পক্ষে এত বড় প্রদেশ শাসন করা খুবই কষ্টকর ছিল। তাই গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জন ভারত সচিবকে লিখেছিলেন যে, একটিমাত্র কেন্দ্র থেকে এত বড় ও জনবহুল এলাকা শাসন করা সম্ভব নয়।

তার এ লিখিত রিপোর্টের আলোকেই ১৯০৫ সালে বাংলাকে ভাগ করে দুটি প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়। নতুন প্রদেশটি গঠিত হয় পার্বত্য ত্রিপুরা, ঢাকা, রাজশাহী (দার্জিলিং বাদে), চট্টগ্রাম ও আসাম নিয়ে। এর নাম হয় 'পূর্ববাংলা ও আসাম' প্রদেশ। ঢাকাকে এ নতুন প্রদেশের রাজধানী করা হয়। অন্যদিকে, পশ্চিম বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ; কলকাতা হয় এর রাজধানী।

উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই, নাগরিকদের অধিকতর সেবা দেওয়ার জন্য সরকার ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দু'ভাগে ভাগ করে। এর একটি হলো ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এবং অন্যটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন; যা ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ঘটনার কথাই মনে করিয়ে দেয়।

ঘ। উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনা অর্থাৎ বঙ্গভঙ্গের মূলে ছিল জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নস্যাৎ করা— উক্তিটি যথার্থ।

১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পেছনে প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণ থাকলেও এর অন্যতম কারণ ছিল রাজনৈতিক তথা ভারতবাসীর জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নস্যাৎ করা। ইংরেজি শিক্ষার প্রসারের ফলে ভারতীয়রা নিজেদের অধিকারের বিষয়ে রাজনৈতিকভাবে সচেতন হলে তাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটে ।

১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে সমগ্র ভারতে বিশেষ করে বাংলা প্রেসিডেন্সিতে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু হয়। ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার জন্য এ সময় বিভিন্ন আন্দোলন সংঘটিত হয়। জাতীয়তাবাদী এ আন্দোলন ও বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কলকাতা। এসব আন্দোলনে ভীত হয়ে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী তাদের শাসন কৌশল 'ভাগ কর এবং শাসন কর নীতি' প্রয়োগ করে। বাংলা তথা বঙ্গপ্রদেশকে বিভক্ত করে ব্রিটিশরা এদেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করে তাদের শাসনকে দীর্ঘায়িত করার কৌশল গ্রহণ করে। এছাড়া ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহও বঙ্গভঙ্গের পক্ষে আন্দোলন শুরু করে জনগণকে বোঝাতে চেষ্টা করেন যে, নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হলে পূর্ব বাংলার মুসলমানরা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের সুযোগ পাবে।

কিন্তু বঙ্গভঙ্গ বাংলার হিন্দু সম্প্রদায় বিশেষ করে বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে । শিক্ষিত হিন্দু সমাজ মনে করে, তাদের দ্রুত বেড়ে ওঠা বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিকে ব্যাহত করা এবং এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পূর্ব বাংলার মুসলিম প্রভাব বাড়ানোকে উৎসাহিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আবার বাংলার অধিকাংশ বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের হাতে, তাই বঙ্গভঙ্গের ফলে তারা আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর এভাবেই বঙ্গভঙ্গের দ্বারা ব্রিটিশ শাসকগণ কৌশলে কলকাতাকেন্দ্রিক সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নস্যাৎ করার সুযোগ লাভ করে ।

সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, প্রশাসনিক কাজ সহজতর করার পাশাপাশি বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে ব্রিটিশরা 'ভাগ কর ও শাসন কর' কৌশল প্রয়োগ করতে চেয়েছিল। এর মাধ্যমে তারা পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের পশ্চিম বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের থেকে আলাদা করে দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করে। এ দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে অনৈক্য ভারতে তাদের শাসনকে আরও শক্তি যুগিয়েছিল।

প্রশ্ন ২৫ । আব্বাস দৈনিক সমকালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ পড়ে ভারতবর্ষের প্রথম রাজনৈতিক দল সম্পর্কে জানতে পারে। ওই দল প্রতিষ্ঠার পটভূমিও সে জানতে পারে। সে আরও জানতে পারে প্রতিষ্ঠালগ্নে দলটির উদ্যোক্তাগণ ঘোষণা করেন যে, ইংরেজ শাসনের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখাই হবে দলটির মূলভিত্তি।

ক. বাংলার প্রথম গভর্নর কে ছিলেন?

খ. দ্বিজাতি তত্ত্ব কী? ব্যাখ্য কর ।

গ. উদ্দীপকের আব্বাস যে দলের কথা জানতে পেরেছে সেটি প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট বর্ণনা কর ।

ঘ. “ইংরেজ শাসনের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখাই হবে দলটির মূলভিত্তি”- দলটির এ ঘোষণা কীভাবে বাস্তবরূপ লাভ করেছিল তা বর্ণনা কর।

২৫নং প্রশ্নের উত্তর :

ক। বাংলার প্রথম গভর্নর ছিলেন ব্যামফিল্ড ফুলার ।

খ।  দ্বিজাতি তত্ত্ব হলো ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন জাতি ও রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে ভারতকে রাজনৈতিকভাবে দ্বিধাবিভক্ত করার নির্ণায়ক ও আদর্শাশ্রয়ী একটি রাজনৈতিক মতবাদ। ভারত থেকে ব্রিটিশ শাসন অবসানের প্রাক্কালে বিশ শতকের চল্লিশের দশকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্বিজাতি তত্ত্বের এ ধারণার উন্মেষ ঘটান। এ তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে।

গ। উদ্দীপকের আব্বাস যে রাজনৈতিক দলের কথা জানতে পেরেছে সেটি হলো ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস যার প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট অত্যন্ত ঘটনাবহুল।

ব্রিটিশ সরকারের অত্যাচার ও শোষণের প্রতিবাদেই এ ভারতীয় রাজনৈতিক দলটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয় এবং ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের ব্যর্থতার ফলে ভারতবর্ষের উচ্চশিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি ক্রমেই ইংরেজবিরোধী হতে থাকে। এছাড়াও ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কালাকানুন এবং "ইলবার্ট বিল পাস হওয়ায় ভারতীয় জনগণের অসন্তোষের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়।

ভারতীয় জনগণের এ বিক্ষোভকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে দমনের জন্য প্রাক্তন আই.সি.এস. কর্মকর্তা অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম ব্রিটিশ অনুগত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। আবার ভারতীয় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত হিন্দু শ্রেণিও এসময় রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল। এর ফলশ্রুতিতে ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস নামের রাজনৈতিক দলটি আত্মপ্রকাশ করে।

উদ্দীপকেও লক্ষণীয় যে, আব্বাস দৈনিক সমকালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ পড়ে ভারতবর্ষের প্রথম রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠার পটভূমি জানতে পেরেছে। অর্থাৎ এটা স্পষ্ট যে, উদ্দীপকের ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস নামের রাজনৈতিক দল সম্বন্ধেই জেনেছে।

ঘ। ইংরেজ শাসনের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখাই হবে উক্ত দলের অর্থাৎ কংগ্রেসের মূলভিত্তি—বক্তব্যটি যথার্থ।

ভারতীয় উপমহাদেশে ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তবে এর প্রতিষ্ঠার পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মূলত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার নেপথ্যের উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনকারী দলের উদ্ভব ঘটানো।

অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউমের পরামর্শ মোতাবেক এবং সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জীর প্রচেষ্টায় ব্রিটিশ সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের উদ্ভব হয়। এটি ছিল ভারতীয় উঠতি ধনিকশ্রেণি ও ব্রিটিশ অনুগত শিক্ষিত শ্রেণির আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রস্বরূপ। প্রথম থেকেই কংগ্রেস সরকারের সমালোচনায় নরমপন্থা অবলম্বন করেছিল। কেননা ইংরেজ শাসনের প্রতি অবিচল আনুগত্যই ছিল এ প্রতিষ্ঠানের মূলভিত্তি।

অর্থাৎ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ছিল ব্রিটিশ সরকারের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান । ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কার্যক্রম প্রধানত যে দুটি নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছিল তা হলো- সরকারি কর্মকাণ্ড ও নীতিমালায় অত্যন্ত সংযত ভাষায় সমালোচনা করা এবং অপরটি হচ্ছে সরকারের নিকট বিভিন্ন সংস্কার দাবি বিনয়ের সাথে উত্থাপন করা। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা শেষে বলা যায়, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস সম্পর্কে প্রশ্নের বক্তব্যটি যথার্থ।

প্রশ্ন ২৬।  X প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য X প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করা হয় যাতে দুটি সম্প্রদায় পরস্পরের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি সম্প্রদায় তাদের আন্দোলন সুসংগঠিত করার জন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে।

ক. সিপাহি বিদ্রোহ সংঘটিত হয় কত সালে?

খ. "ভাগ কর, শাসন কর" নীতি বলতে কী বোঝ?

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের কোন ঐতিহাসিক ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের অনুরূপ একটি রাজনৈতিক দল ব্রিটিশ ভারতের মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করেছে'- বিশ্লেষণ কর।

২৬নং প্রশ্নের উত্তর :

ক। সিপাহি বিদ্রোহ সংঘটিত হয় ১৮৫৭ সালে।

খ। উপনিবেশগুলোতে ব্রিটিশ সরকারের চিরাচরিত একটি প্রশাসনিক নীতি হলো 'ভাগ কর, শাসন কর' নীতি। স্থানীয় জনগণ বা গোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজনের মাধ্যমে তাদের দুর্বল করে রাখার একটি ব্রিটিশ নীতি হলো— ভাগ কর, শাসন কর নীতি। এ কৌশল তারা ভারতেও প্রয়োগ করেছিল।

ক্রমবর্ধমান ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ সরকার উপলব্ধি করে, ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে হলে ভারতীয়দের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে তাদের দুর্বল করতে হবে। এ. কৌশল বাস্তবায়নে তারা ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে। এটিই ব্রিটিশদের কুখ্যাত 'ভাগ কর, শাসন কর' নীতি।

গ। উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতে ঐতিহাসিক ঘটনা বঙ্গভঙ্গের মিল রয়েছে।

অবিভক্ত বাংলার আয়তন ছিল প্রায় দুই লক্ষ বর্গমাইল এবং জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি। এ বিশাল আয়তনের প্রদেশের শাসনকার্য পরিচালনা করা একজন গভর্নরের পক্ষে নিতান্ত দুরূহ ও কষ্টসাধ্য ব্যাপার ছিল। তাছাড়া পূর্ব বাংলার জনগণের স্বার্থরক্ষার্থে মুসলিম নেতৃবৃন্দ পূর্ব বাংলাকে আলাদা প্রদেশরূপে গড়ে তোলার জন্য ব্রিটিশ সরকারের নিকট দাবি উত্থাপন করেন। তাই প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধার কথা চিন্তা করে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গ করেন ।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে 'X' প্রদেশের জনগণ স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন দমনের জন্য 'X' প্রদেশকে এমনভাবে ভাগ করা হয়, যাতে দুটি সম্প্রদায়ের জনগণ পরস্পরের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি সম্প্রদায় তাদের আন্দোলন সুসংগঠিত করার জন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে। এরূপ বর্ণনায় ১৯০৫ সালে সংঘটিত বঙ্গভঙ্গের মিল খুঁজে পাওয়া যায় ।

কেননা, ১৯০৫ সালে সংঘটিত রঙ্গভঙ্গের ফলে ভারতবর্ষের হিন্দু- মুসলমানরা বিভক্ত হয়ে পড়লে বিশেষ করে হিন্দু সমাজ-এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন শুরু করে। এই সময় মুসলমানরা আশান্বিত হয়ে উঠে এবং নিজেদের স্বার্থ ব্রিটিশ সরকারের কাছে তুলে ধরার জন্য ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ গঠন করে।

ঘ। উদ্দীপকের অনুরূপ একটি রাজনৈতিক দল তথা মুসলিম লীগ ব্রিটিশ ভারতের মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করেছিল ।

উদ্দীপকের বর্ণনায় যে রাজনৈতিক দলের কথা বলা হয়েছে সেটি হলো মুসলিম লীগ। আর উক্ত দলটি ভারতের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মুসলিম লীগ জন্মলগ্ন থেকেই মুসলমানদের স্বার্থরক্ষায় কাজ করতে থাকে। রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় একসময় মুসলিম লীগের মধ্যে এ ধারণা বদ্ধমূল হয় যে, ভারতে অখণ্ডভাবে মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা হতে পারে না। তাই মুসলমানগণ আলাদা দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি থেকেই ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল।

শুধু আলাদা দলই নয়, আলাদা রাষ্ট্র গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্বিজাতি তত্ত্ব ঘোষণা করে ছিলেন। এ তত্ত্বের মূলকথা ছিল, ভারতে মুসলমানরা যেকোনো বিবেচনায় একটা স্বতন্ত্র জাতি এবং তাদের পৃথক জাতিসত্তা রয়েছে। এ পৃথক জাতিসত্তার স্বার্থরক্ষার জন্য ভারতে মুসলমানদের জন্য আলাদা আবাসভূমি প্রয়োজন। পরবর্তীতে মুসলিম লীগ নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের লাহোর প্রস্তাব দ্বিজাতি তত্ত্বের রূপরেখা হিসেবে কাজ করে।

একই সাথে ব্রিটিশদের 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতির ফল হিসেবে ভারতে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। মুসলিম লীগ মুসলমানদের স্বার্থরক্ষায় অনড় অবস্থান গ্রহণ করে । এমতাবস্থায় মুসলমানদের স্বার্থরক্ষার জন্য সেই সময় আলাদা রাষ্ট্রের কোনো বিকল্প ছিল না। ফলে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয় ।

আলোচনার শেষে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের দলটি তথা মুসলিম লীগ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

প্রশ্ন ২৮। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ একটি ঐতিহাসিক দিন। এদিনে ভারতের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে 'ক' নামক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব একটি প্রস্তাব পেশ করেন।

ক. পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত সালে?

খ. 'দ্বৈতশাসন' বলতে কী বোঝ?

গ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রস্তাবটির বৈশিষ্ট্য লেখ।

ঘ. “উক্ত প্রস্তাবের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল'— বিশ্লেষণ কর।

২৮নং প্রশ্নের উত্তর :

ক। পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন।

খ। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য প্রদেশে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন। প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। যেমন—

ক. হস্তান্তরিত বিষয় এবং

খ. সংরক্ষিত বিষয় ।

হস্তান্তরিত বিষয়গুলো গভর্নর ও প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা যৌথভাবে পরিচালনা করতেন। আর সংরক্ষিত বিষয় কেবল গভর্নর ও শাসন পরিষদের নেতৃত্বে পরিচালিত হতো। এভাবে প্রাদেশিক শাসন সংক্রান্ত . বিষয়কে দুভাগে বিভক্ত করায় একে দ্বৈতশাসন বলে অভিহিত করা হয়।

গ। উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রস্তাব দ্বারা লাহোর প্রস্তাবের কথা বোঝানো হয়েছে। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে মুসলিম লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে প্রস্তাব গৃহীত হয় তা-ই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব।

উদ্দীপকে উল্লেখ্য যে, ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ ভারতের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে 'ক' নামক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব একটি প্রস্তাব পেশ করেন। এই 'ক' নামক ব্যক্তিই হলেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক। কারণ তিনি সেদিন লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। লাহোর প্রস্তাবের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো—

১. ভারতবর্ষকে বিভক্ত করে এর উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব অন্যদের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠন করতে হবে।

২. উল্লিখিত স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের অধীন ইউনিট বা প্রদেশগুলো স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম হবে।

৩. ভারতের অন্যান্য হিন্দু অঞ্চলগুলোর সমন্বয়ে পৃথক হিন্দু রাষ্ট্র গঠিত হবে।

৪. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাথে পরামর্শের ভিত্তিতে তাদের স্বার্থ ও

অধিকার রক্ষার জন্য সংবিধানে পর্যাপ্ত ক্ষমতা রাখতে হবে। ৫. প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ, ইত্যাদি বিষয়ের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট মঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর ন্যস্ত থাকবে।

এক্ষেত্রে ভারতের মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণকল্পে সুনির্দিষ্ট পন্থা নির্বাচনপূর্বক লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, লাহোর প্রস্তাব প্রথমত ছিল ভারতের হিন্দুদের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ আর ভারতীয় মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের দীপ্ত পদক্ষেপ। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দৃষ্টিতে একধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্যে পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির সুস্পষ্ট আভাস পরিলক্ষিত হয়েছিল।

ঘ।  হ্যাঁ, আমিও মনে করি উক্ত প্রস্তাব অর্থাৎ লাহোর প্রস্তাবের মাঝেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল।

ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ছিল লাহোর প্রস্তাব। এ প্রস্তাবের মাধ্যমে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব সুস্পষ্ট রূপলাভ করে। মুসলমানরা মুসলিম লীগের নেতৃত্বে তাদের জন্য একটি আলাদা আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে লিপ্ত হয়। এর মাঝে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল। সর্বাপেক্ষা গঠনমূলক এ প্রস্তাবের মাধ্যমে মুসলমানদের সকল সমস্যার সুরাহা হয়। পূর্ব পাকিস্তানের যে মুসলমান সম্প্রদায় এতদিন পর্যন্ত নিজেদের আত্মপরিচয়ের সন্ধানে ছিল তারা লাহোর প্রস্তাবে এর সন্ধান পায় ।

এ প্রস্তাব তাদেরকে একটি জাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। ১৯৪৭ সালে পৃথক রাজনৈতিক অস্তিত্ব বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলেও এ জাতীয় চেতনাই পরবর্তীকালে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রেরণা জোগায়। সর্বোপরি লাহোর প্রস্তাব অনুযায়ী পূর্ব বাংলায় স্বায়ত্তশাসন প্রদান না করার কারণে পাকিস্তান জন্মের পর থেকেই সেখানে বিভিন্ন আন্দোলন হতে থাকে। পরবর্তীতে '৭০ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর পূর্ব বাংলাকে তারা ক্ষমতা না দেওয়ার কারণে বাঙালিরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। তাই বলা যায়, লাহোর প্রস্তাবে উপরিউক্ত বিষয় নিহিত থাকার মধ্য দিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন আঁকা ছিল।

প্রশ্ন ২৯। ব্রিটিশ ভারতের X প্রদেশের আয়তন ও জনসংখ্যা বিশাল। একজন প্রশাসকের একার পক্ষে সুষ্ঠুভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করা ছিল অসম্ভব। ফলে কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে উক্ত প্রদেশটিকে দুটি আলাদা প্রদেশে বিভক্ত করে দুজন প্রশাসক নিয়োগ করেন।

ক. সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

খ. স্বদেশি আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে তোমার পঠিত পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কারণ ছাড়া আর কী কী কারণ আছে বলে তুমি মনে কর? বিশ্লেষণ কর।

২৯নং প্রশ্নের উত্তর :

ক। সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

খ। হিন্দু সম্প্রদায় দ্বারা প্রভাবিত কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ সূচনালগ্ন থেকে বিভিন্নভাবে বঙ্গভঙ্গ রদের প্রচেষ্টা চালায়। এরই ধারাক্রমে তারা ব্রিটিশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে স্বদেশি আন্দোলনের আদর্শকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

এ আদর্শ অনুযায়ী তারা ব্রিটিশ পণ্য বর্জন, বিদেশি রীতিনীতি পরিহার এবং স্বদেশি পণ্য ব্যবহার করে দেশীয় সংস্কৃতিতে উজ্জীবিত হতে জনগণকে আহ্বান করে। এটিই ছিল স্বদেশি আন্দোলন।

গ। উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে আমার পঠিত পাঠ্যবইয়ের ১৯০৫ সালে সংঘটিত বঙ্গভঙ্গের মিল রয়েছে -

অবিভক্ত বাংলার আয়তন ছিল প্রায় দুই লক্ষ বর্গমাইল এবং জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি। এ বিশাল আয়তনের প্রদেশের শাসনকার্য পরিচালনা করা একজন গভর্নরের পক্ষে নিতান্ত দুরূহ ও কষ্টসাধ্য ব্যাপার ছিল। তাছাড়া পূর্ব বাংলার জনগণের স্বার্থরক্ষার্থে মুসলিম নেতৃবৃন্দ পূর্ব বাংলাকে আলাদা প্রদেশরূপে গড়ে তোলার জন্য ব্রিটিশ সরকারের নিকট দাবি উত্থাপন করেন। তাই প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধার কথা চিন্তা করে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গ করেন।

উদ্দীপকে উল্লেখ্য যে, ব্রিটিশ ভারতের X প্রদেশের আয়তন ও জনসংখ্যা ছিল বিশাল। একজন প্রশাসকের একার পক্ষে সুষ্ঠুভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না। ফলে কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে উক্ত প্রদেশটিকে দুটি আলাদা প্রদেশে বিভক্ত করে দুইজন প্রশাসক নিয়োগ করেন। উদ্দীপকের এরূপ বর্ণনার মাধ্যমে ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক বঙ্গবঙ্গের মিল পাওয়া যায়। কারণ বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে বিশাল বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে 'পূর্ববঙ্গ' ও আসাম নামে দুটি পৃথক প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়। এর মাধ্যমে সহজেই বোঝা যায়, উদ্দীপকে বঙ্গবঙ্গের কথাই বলা হয়েছে।

ঘ। উদ্দীপকে বঙ্গভঙ্গের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কারণের কথা বলা হয়েছে। এর বাইরেও ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ সংঘটিত হওয়ার পেছনে বহুবিধ কারণ বিদ্যমান।

ব্রিটিশ ভারতে শাসনতান্ত্রিক সংস্কার ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে বঙ্গভঙ্গকে একটি গুরত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মূলত প্রশাসনিক কার্যক্রমের সুবিধার্থে ভারতের তদানীন্তন ভাইসরয় লর্ড কার্জন প্রায় ২ লক্ষ বর্গমাইল আয়তনের বাংলা প্রেসিডেন্সিকে বিভক্ত করে আসাম ও পূর্ববঙ্গ নামে দুটি প্রদেশে বিভক্ত করেন। বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভাগ করার এই বিষয়টিই ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।

উদ্দীপকে বঙ্গভঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণের কথা উল্লেখ ! ভা করা হয়েছে। এছাড়াও বঙ্গভঙ্গের পেছনে আরও বহুবিধ কারণ বিদ্যমান। বঙ্গভঙ্গের পেছনে একটি অন্যতম কারণ ছিল অর্থনৈতিক কারণ। তৎকালীন সময়ে কলকাতার জমিদার শ্রেণিরা বিলাশবহুল জীবনযাপন করতেন যেখানে পূর্ববঙ্গের অধিকাংশ মানুষ ছিল মুসলমান ও কৃষিজীবী। ইংরেজ সরকার কিংবা এই জমিদার শ্রেণি কেউই পূর্ববঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়নি। এরূপ পরিস্থিতিতে পূর্ববঙ্গের মুসলমান প্রতিনিধিরা বঙ্গভঙ্গের দাবি উত্থাপন করেন। এছাড়া তৎকালীন বৃহৎ ভারতের কলকাতা বাংলা প্রেসিডেন্সির কেন্দ্র হওয়ায় সমস্ত উন্নয়ন ছিল কলকাতা কেন্দ্রিক।

এ কারণে ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প ও অর্থনীতিতে পূর্ববঙ্গ অনুন্নত থেকে যায়। এরূপ বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে এ অঞ্চলের অধিবাসীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বঙ্গভঙ্গ ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গভঙ্গের পেছনে সামাজিক কারণের প্রভাবও ছিল ব্যাপক। পূর্ববঙ্গের অধিকাংশ মানুষ ছিল মুসলমান ও কৃষিজীবী। যেখানে এ অঞ্চলের অধিকাংশ জমিদার ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের। তাদের অত্যাচারে মুসলমান সম্প্রদায় ছিল অতিষ্ঠ । অন্যদিকে ইংরেজিসহ আধুনিক শিক্ষাগ্রহণে অনীহা মুসলমানদের সাথে ব্রিটিশদের একটা দূরত্ব সৃষ্টি করেছিল। এমন অবস্থায় হিন্দু জমিদারদের শোষণ নির্যাতন মুসলমানদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করে। আর সে কারণেই লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা দিলে পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা একে স্বাগত জানায়।

আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কারণ ছাড়াও বঙ্গভঙ্গের পেছনে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণও জড়িত ছিল।

প্রশ্ন ৩১। 'ক' নামক রাষ্ট্রটি বিদেশি শাসকগোষ্ঠী দ্বারা প্রায় দুইশত বছর শাসিত হয়েছে। প্রথম থেকে বিদেশি শাসকগোষ্ঠী 'ক' রাষ্ট্রে টিকে থাকার জন্য নানা কূটকৌশল অবলম্বন করে। জনগণকে খুশি করার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আইন তৈরি করে। কিন্তু কোনো আইনই জনগণকে খুশি করতে পারেনি। অবশেষে বিদেশি শাসকগোষ্ঠী একটি আইন তৈরি করে 'ক' রাষ্ট্রটিকে দুটি পৃথক রাষ্ট্রে বিভক্ত করে স্বাধীনতা দিয়ে নিজ দেশে চলে যায়।

ক. কত সালে বঙ্গভঙ্গ সংঘটিত হয়?

খ. ৩ জুন পরিকল্পনা বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের যে ঘটনা বা আইনের মিল রয়েছে, তার বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

ঘ. তোমার পাঠ্যপুস্তকের ওই আইন 'ক' রাষ্ট্রের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কতটুকু সফল হয়েছিল? মূল্যায়ন কর।

৩১নং প্রশ্নের উত্তর :

ক। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ সংঘটিত হয়।

খ।  মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার কারণে ভারতে 'অন্তর্বর্তীকালীন সরকার' গঠন নিয়ে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। এ সময় ভারতের নতুন ভাইসরয় লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে ক্ষমতা হস্তান্তর ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালান। কিন্তু এ প্রচেষ্টায় তিনি ব্যর্থ হয়ে ঘোষণা করেন, “ভারত বিভাগ ছাড়া ভারতে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প উপায় নেই। "

সাম্প্রদায়িকতার ভয়াবহতায় কংগ্রেস ভারত বিভক্তি মেনে নিতে বাধ্য হয়। এমতাবস্থায় ১৯৪৭ সালের ৩ জুন কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে এক ঘরোয়া বৈঠকে লর্ড মাউন্টব্যাটেন যে পরিকল্পনা তুলে ধরেন তা ইতিহাসে ৩ জুন পরিকল্পনা বা মাউন্ট ব্যাটেন পরিকল্পনা নামে খ্যাত।

গ।  উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের যে ঘটনা বা আইনের সাদৃশ্য রয়েছে তা হলো ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন।

কারণ উদ্দীপকে আছে 'ক' নামক রাষ্ট্রটি বিদেশি শাসকগোষ্ঠী দ্বারা দুইশত বছর শাসিত হয়েছে। 'ক' রাষ্ট্রে টিকে থাকার জন্য তারা অনেক আইন প্রণয়ন করলেও তা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়। অবশেষে একটি আইনের মাধ্যমে 'ক' রাষ্ট্রটিকে দুটি পৃথক রাষ্ট্রে বিভক্ত করা হয়। এই 'ক' রাষ্ট্র দ্বারা ভারতীয় উপমহাদেশকে বোঝানো হয়েছে এবং সর্বশেষ আইন দ্বারা ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনকে বোঝানো হয়েছে। নিচে ভারত শাসন আইনের বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করা হলো-

এ আইন ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ভারতের ওপর থেকে ১৯০ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটায়। এ আইন ভারতবর্ষকে বিভক্ত করে ভারতীয় ইউনিয়ন ও পাকিস্তান নামে দুটি ডোমিনিয়ন প্রতিষ্ঠা করে। এর দ্বারা ডোমিনিয়ন দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

৩. সিন্ধু প্রদেশ, সীমান্ত প্রদেশ, বেলুচিস্তান, পাঞ্জাব ও পূর্ব বাংলা নিয়ে গঠিত হবে পাকিস্তান। ভারতবর্ষের অন্যান্য প্রদেশ নিয়ে ভারত রাষ্ট্র গঠিত হবে।

৪. প্রত্যেক রাষ্ট্রের জন্য একজন গভর্নর জেনারেল থাকবেন। তিনি হবেন হেড অব দি স্টেট।

৫. ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনে ভারত সচিবের পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

৬. এ আইনে বলা হয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিসভার পরামর্শে গভর্নর নিয়োগ করবেন। এ আইনে গভর্নর জেনারেল ও গভর্নরের স্বেচ্ছাধীন, বিচারবুদ্ধিজনিত ক্ষমতা ও বিশেষ দায়িত্ব বিলোপ করা হয়।

৮. ১৯৪৮ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে এ আইনের বিভিন্ন ধারা কার্যকর করার কথা বলা হয়।

৯. এ আইনে ব্রিটিশ রাজা 'ভারত সম্রাট' উপাধি পরিত্যাগ করবেন। ১০. পূর্বে ভারতবর্ষের যেকোনো সংবিধান সংস্কার এবং নতুন আইন প্রণীত হতো ব্রিটিশ পার্লামেন্টে।

কিন্তু এ আইনে বলা হয় যে, ১৯৪৭ সালে ১৪ আগস্টের পর থেকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রণীত আইন ভারত ও পাকিস্তানের ওপর প্রযোজ্য হবে না।

ঘ।  আমি মনে করি, আমার পাঠ্যপুস্তকের এ আইনটি অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনটি 'ক' রাষ্ট্রের জনগণের অর্থাৎ ভারতীয় উপমহাদেশের আংশিক জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পুরোপুরি সফল হতে পারেনি।

১৯৪৭ সালের ভারত শাসন আইন ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দলিল। এ আইন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে যার সূচনা হয়। ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে সেই পরাধীনতার সমাপ্তি ঘটে। ব্রিটিশ রাজ্যের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে ভারত এবং পাকিস্তান এ দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।

উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে ভারতবর্ষের ব্রিটিশরাজের নিয়ন্ত্রণের পরিসমাপ্তি ঘটে। ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি নতুন রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের সূচনা ঘটে। দুটি রাষ্ট্রই স্বাধীনভাবে স্ব-স্ব সংবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা লাভ করে। তবে এ আইনের কিছু কিছু ক্ষেত্রে অস্পষ্টতার কারণে দেশীয় রাজ্য বিশেষ করে অঙ্গরাজ্যগুলো কীভাবে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সাথে যুক্ত হবে, সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট বিধান না থাকায় কাশ্মীরসহ অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ আইনে মূল লাহোর প্রস্তাবকে এড়িয়ে যাওয়ার এবং দায়িত্বশীল সরকার গঠন সম্পর্কে স্পষ্ট বিধান না থাকায় পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানে সংকট সৃষ্টি হয় ।

তাছাড়া পূর্ব বাংলা বা পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের দ্বারা নিগৃহীত ও শোষিত হতে থাকে। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, এ আইন ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণের দীর্ঘ আন্দোলনের সোনালি ফসল হলেও তা আংশিক জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পুরোপুরি সফল হতে পারেনি।

প্রশ্ন ৩২। মি. বাটলার বিশাল আয়তনের অঞ্চলের প্রশাসক ছিলেন। তার একার পক্ষে এই বিশাল অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পাদন করা কঠিন ছিল। ফলে মি. বাটলারের কর্তৃপক্ষ এ বিশাল আয়তনের অঞ্চলটিকে 'X' ও 'Y' নামক অঞ্চলে বিভক্ত করে। এ বিভক্তির ফলে 'X' অঞ্চলের জনগণ খুশি হলেও 'Y' অঞ্চলের জনগণ এ বিভক্তির তীব্র বিরোধিতা করে। ফলে 'Y' অঞ্চলের জনগণের প্রচন্ড বিক্ষোভ, অসন্তোষ ও চাপের মুখে কর্তৃপক্ষ দুই অঞ্চলকে পুনরায় একত্রীকরণ করতে বাধ্য হয়। এ সিদ্ধান্তের কারণে 'X' অঞ্চলের জনগণ কর্তৃপক্ষের ওপর অসন্তুষ্ট হয়।

ক. ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

খ. দ্বৈত শাসন বলতে কী বোঝ?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তির ফলে 'X' অঞ্চলের জনগণের জনজীবনে কী ধরনের প্রভাব ফেলেছিল? বিশ্লেষণ কর।
৩২নং প্রশ্নের উত্তর :

ক। ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর ছিলেন লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন ।

খ।  ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য প্রদেশে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন। প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। যেমন-

ক। হস্তান্তরিত বিষয় এবং

খ।  সংরক্ষিত বিষয় হস্তান্তরিত বিষয়গুলো গভর্নর ও প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা যৌথভাবে পরিচালনা করতেন। আর সংক্ষিত বিষয় কেবল গভর্নর ও শাসন পরিষদের নেতৃত্বে পরিচালিত হতো। এভাবে প্রাদেশিক শাসন সংক্রান্ত বিষয়কে দুভাগে বিভক্ত করায় একে দ্বৈতশাসন বলে অভিহিত করা হয়।

গ। উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের মিল রয়েছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক এবং শাসনতান্ত্রিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ একটি অনন্যসাধারণ ঘটনা
বাকে বিভক্ত করার প্রশাসনিক যুক্তি দেখিয়ে ১৯০২ সালে লর্ড কার্জন ভারত সচিবকে লেখেন যে, বঙ্গ প্রদেশের আয়তন ২,০০,000 বর্গমাইল এবং জনসংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৮৫ লক্ষ।

এ বিশাল আয়তন এবং বিপুল জনসংখ্যা অধ্যুষিত বাংলাকে একজন প্রশাসকের পক্ষে সুচারুরূপে শাসন করা সম্ভব নয়। পক্ষান্তরে, প্রতিবেশী আসাম প্রদেশ ছিল অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র এবং জনসংখ্যাও ছিল কম। এজন্য বাংলাকে বিভক্ত করে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম বিভাগ ও আসামকে নিয়ে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' নামে একটি নতুন প্রদেশের সৃষ্টি করা হয়- যার রাজধানী হয় প্রাচীন শহর ঢাকা।

বঙ্গভঙ্গের ফলে ঢাকা নতুন প্রদেশের তথা 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম'-এর রাজধানী হয়। রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। ফলে মুসলমানগণ নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা লাভে সক্ষম হয়। এতে করে পূর্ব বাংলার গণমানুষের ভাগ্যোন্নয়নের দ্বার উন্মোচিত হয় এবং তারা খুশি হন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত হিন্দু সমাজ বঙ্গভঙ্গকে মেনে নিতে পারেনি। তারা এর তীব্র বিরোধিতা করে।

ঘ।  উদ্দীপকে 'X' অঞ্চলের সাথে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' সাদৃশ্যপূর্ণ। বঙ্গভঙ্গের ফলে ঢাকা নতুন প্রদেশের তথা 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম'-এর রাজধানী হয়। রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। ফলে মুসলমানগণ নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা লাভে সক্ষম হয়।

অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বড় বড় সুরম্য অট্টালিকা গড়ে ওঠায় ঢাকার শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। বঙ্গভঙ্গকে মুসলমানগণ তাদের হৃত গৌরব ও মর্যাদা ফিরে পাবার আনন্দে মেতে ওঠে। নবাব স্যার সলিমুল্লাহ বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনাটি কার্যকর করার দিন ঢাকায় এক জনসভায় বলেন, “বঙ্গভঙ্গ আমাদেরকে নিষ্ক্রিয়তার হাত থেকে মুক্তি দিয়েছে। এটা আমাদের উদ্দীপ্ত করেছে কর্মসাধনায় এবং সংগ্রামে।” অর্থাৎ বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলার গণমানুষের ভাগ্যোন্নয়নের দ্বার উন্মোচিত হয় ।

প্রশ্ন ৩৩ । 'ক' মহাদেশের একটি বৃহৎ অঞ্চলের পাশাপাশি দুটি প্রধান সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে। এখানে দীর্ঘদিন যাবৎ বিদেশি ঔপনিবেশিক "শাসন বিদ্যমান থাকায় দুই সম্প্রদায়ের জনগণের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগেই থাকে। সম্প্রদায় দুটির জনগণের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ বারবার উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা সমাধান হয়নি। পরিশেষে কর্তৃপক্ষ দুটি সম্প্রদায়কে আলাদা করার চিন্তা করে পার্লামেন্টে আইন পাস করে। এই আইন অনুযায়ী দুই সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ফলে দীর্ঘদিন প সম্প্রদায় দুটির জনগণের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

ক. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে?

খ. বারাসাত বিদ্রোহ কী?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে তোমার পঠিত কোন আইনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আইনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

৩৩নং প্রশ্নের উত্তর :

ক।  ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

খ। ব্রিটিশ শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে কৃষকরা যখন সর্বস্বান্ত ও দিশেহারা হয়ে পড়ে তখন মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলেন। তিতুমীরের কৃষক আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল নীলকর ও স্থানীয় সামন্ত রাজা-জমিদারদের শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে।

ইংরেজ সরকারকে একাধিকবার নীলকর ও জমিদারদের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করলেও তাদের উদাসীনতায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিতুমীর নিজ বাহিনীকে সংগঠিত করেন। ১৮২৫ সালে তিনি দলবলসহ চব্বিশ পরগণার কিয়দংশ এবং নদীয়া ও ফরিদপুরের কিছু অংশের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হন।

স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংগঠিত প্রায় ৮৩ হাজার কৃষক-সেনাকে নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন, যা ইতিহাসে তিতুমীরের বারাসাত বিদ্রোহ নামে পরিচিত।

গ। ৩২ পৃষ্ঠার ১২-এর (গ) নং প্রশ্নোত্তর দ্রষ্টব্য ।

ঘ। ৩২ পৃষ্ঠার ১২-এর (ঘ) নং প্রশ্নোত্তর দ্রষ্টব্য ।

প্রশ্ন ৩৫। শ্যামনগর একটি বৃহৎ উপজেলা। এটি উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ব্যবসায় বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত অধিকাংশ উত্তরে অবস্থিত। ফলে দক্ষিণের জনপদ বৈষম্যের শিকার। দক্ষিণের একজন শিক্ষিত সচেতন বক্তি বিষয়টি উপলব্ধি করে বৈষম্য থেকে মুক্তিলাভের লক্ষ্যে দক্ষিণে একটি আলাদা উপজেলা করার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান। কর্তৃপক্ষ দাবির যৌক্তিকতা, প্রশাসনিক এবং কৌশলগত কারণে বৃহৎ উপজেলাটিকে ভাগ করে দক্ষিণে একটি আলাদা উপজেলা ঘোষণা করে এবং প্রশাসক নিয়োগ করে। কিন্তু উত্তরের সুবিধাভোগী সচেতন মহল এর বিরোধিতা করে এবং কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য আন্দোলন অব্যাহত রাখে। কর্তৃপক্ষ একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে সিদ্ধান্তটি বাতিল করে।

ক. মুসলীম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?

খ. স্বদেশি আন্দোলন কী? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের কোন ঐতিহাসিক ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতিতে ঘটনাটির প্রতিক্রিয়া কি যথার্থ ছিল? তোমার মতামত দাও।

৩৫নং প্রশ্নের উত্তর :

ক। মুসলিম লীগ গঠিত হয় ১৯০৬ সালে।

খ।  হিন্দু সম্প্রদায় দ্বারা প্রভাবিত কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ সূচনালগ্ন থেকে বিভিন্নভাবে বঙ্গভঙ্গ রদের প্রচেষ্টা চালায়। এরই ধারাক্রমে তারা ব্রিটিশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে স্বদেশি আন্দোলনের আদর্শকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। এ আদর্শ অনুযায়ী তারা ব্রিটিশ দ্রব্য বর্জন, বিদেশি রীতিনীতি পরিহার এবং স্বদেশি পণ্য ব্যবহার করে দেশীয় সংস্কৃতিতে উজ্জীবিত হতে জনগণকে আহ্বান করে। এটিই ছিল স্বদেশী আন্দোলন।

গ।  উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের যে ঘটনার সাথে সাদৃশ্য লক্ষ করা যায় সেটি হলো বঙ্গভঙ্গ ।

বঙ্গ বিভাগের পূর্বে বাংলা প্রেসিডেন্সি নামে যে বৃহৎ আয়তনবিশিষ্ট বৃঙ্গ প্রদেশ ছিল তার পূর্বাঞ্চলের ৩টি বিভাগ ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম ছিল পশ্চিমাঞ্চলের পশ্চাদভূমি। পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সমাজ বহুদিন ধরে এর বিভক্তি কামনা করে আসছিল। লর্ড কার্জনের নিকট নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ভারতের মুসলিম নেতাদের নিয়ে এর বিভক্তি দাবি করেন। তদানীন্তন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুচতুর ইংরেজ সরকার এ দাবি বাস্তবায়নে মনোযোগ দেয়। কেননা বাংলা প্রেসিডেন্সির আয়তন ছিল প্রায় দুই লাখ বর্গমাইল।

এছাড়াও জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৮০ লক্ষ। যে কারণে একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর' দ্বারা এ বিশাল প্রদেশ শাসন করা অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার ছিল। এ কারণেই ইংরেজ সরকার মুসলমানদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নিয়ে বঙ্গভঙ্গ সম্পাদন করে। উদ্দীপকে শ্যামনগর একটি বৃহৎ উপজেলার উত্তর অংশে ব্যবসায় বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অফিস-আদালত অবস্থিত।

ফলে দক্ষিণের জনপদ বৈষম্যের শিকার। এ বৈষম্য থেকে মুক্তিলাভের লক্ষ্যে দক্ষিণে একটি আলাদা উপজেলা করার জন্য কর্তৃপক্ষের একটি দাবি জানান। অবশেষে কর্তৃপক্ষ উপজেলাটিকে ভাগ করে প্রশাসক নিয়োগ করে। আর এই বিষয়টিই উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয় অর্থাৎ বঙ্গভঙ্গের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ। আমি মনে করি, ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতিতে ঘটনাটির প্রতিক্রিয়া যথার্থ ছিল না।

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা হলে ভারতবর্ষের হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সম্পূর্ণ বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বঙ্গভঙ্গের ফলে মুসলমান সম্প্রদায় এক নবজীবন লাভ করে। হতাশার গহ্বর থেকে বেরিয়ে এসে তারা নবচেতনায় উদ্দীপ্ত হয় এবং শপথ গ্রহণ করে তাদের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার করে। পুরাতন ঢাকা ঝলমলিয়ে ওঠে নতুনভাবে।

অফিস, আদালত, স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট, চিকিৎসা ভবন প্রভৃতি নতুন করে গড়ে উঠতে শুরু করে। ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প কলকারখানা ঢাকার জীবনে গতি সঞ্চার করে। পূর্ববঙ্গের মুসলমান সম্প্রদায় ঢাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয় এক শাশ্বত জীবনবোধ। পূর্ব বাংলা নামক নতুন প্রদেশ হওয়ায় মুসলমানরা তাদের স্বতন্ত্র, কৃষ্টি ও সভ্যতা বিকাশের এক পৃথক ক্ষেত্র খুঁজে পায়।

মধ্যবিত্ত মুসলমানগণ এ ব্যবস্থাকে হিন্দু আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে চরম বিজয় বলে উল্লাসে ফেটে পড়ে। অন্যদিকে বঙ্গভঙ্গের প্রতিক্রিয়াস্বরূপ কংগ্রেস ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা বঙ্গভঙ্গের ঘটনাকে বাঙালি জাতির বিকাশমান সংহতি ও চেতনার ওপর সুনিশ্চিত আঘাত বলে বর্ণনা করে। এছাড়াও বঙ্গভঙ্গের প্রতিক্রিয়ায় লক্ষ করা যায়, পূর্ব বাংলার মুসলমানদের শাশ্বত জীবনবোধ এবং এর বিপরীতে কলকাতার মাড়োয়ারী, হিন্দু ধনিক ও বণিক সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক জীবনব্যবস্থার বিপর্যয়।

সর্বোপরি বঙ্গভঙ্গের প্রতিক্রিয়া কলকাতাকেন্দ্রিক সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন নস্যাৎ করার সুযোগ তৈরি করে দেয় এবং মুসলিম জাতীয়তাবাদের প্রসার ঘটাতে সচেষ্ট হয়। যদিও হিন্দু সম্প্রদায়ের চরম আন্দোলনের মুখে ১৯১১ সালে এই বঙ্গভঙ্গ রহিত হয়ে যায়।

প্রশ্ন ৩৭।  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী একটি রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী এশিয়া মহাদেশের একটি অঞ্চলের জনগণের দাবি পূরণের লক্ষ্যে ক্যাবিনেটের তিন সদস্যকে দায়িত্ব দিলেন। ক্যাবিনেট সদস্যগণ উক্ত অঞ্চলের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সাথে আলাপ-আলোচনায় ঐকমত্যে পৌছাতে না পেরে নিজস্ব বিবেচনায় একটি পরিকল্পনা পেশ করলেন। পরিকল্পনায় জনগণের দাবি পূরণের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাব ঘোষণা করলেন ।

ক. ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক কী ছিল?

খ. ৩ জুন পরিকল্পনা বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন পরিকল্পনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনাটির গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে তোমার মতামত দাও ।

৩৭নং প্রশ্নের উত্তর :

ক।  ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিল নৌকা।

খ।  মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার কারণে ভারতে 'অন্তর্বর্তীকালীন সরকার' গঠন নিয়ে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে।

এ সময় ভারতের নতুন ভাইসরয় লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে ক্ষমতা হস্তান্তর ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালান। কিন্তু এ প্রচেষ্টায় তিনি ব্যর্থ হয়ে ঘোষণা করেন, “ভারত বিভাগ ছাড়া ভারতে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প উপায় নেই।”

পরবর্তীতে সাম্প্রদায়িকতার ভয়াবহতায় কংগ্রেস ভারত বিভক্তি মেনে নিতে বাধ্য হয় । এমতাবস্থায় ১৯৪৭ সালের ৩ জুন কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে এক ঘরোয়া বৈঠকে লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন যে পরিকল্পনা তুলে ধরেন তা ইতিহাসে ৩ জুন পরিকল্পনা বা মাউন্ট ব্যাটেন পরিকল্পনা নামে খ্যাত।

গ। উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা, ১৯৪৬-এর মিল রয়েছে।

ভারতে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা ও হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে সকল প্রকারের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সমস্যার সমাধান করাই ছিল মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার লক্ষ্য। তাই ১৯৪৬ সালের মার্চ মাসে ব্রিটিশ সরকার স্ট্যাফোর্ড ক্লিপস, লর্ড পেথিক লরেন্স ও এ. ভি আলেকজান্ডার এ তিন জন মন্ত্রীর সমন্বয়ে একটি মিশন ভারতে পাঠায়। মিশনটি ভারতের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় মতৈক্যে পৌঁছাতে না পারায় ১৯৪৬ সালের মে মাসে ভারতীয় সংবিধান প্রতিষ্ঠায় তার নিজস্ব পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যা মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা নামে খ্যাত।

এ মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা ব্রিটিশ-ভারত এবং দেশীয় রাজ্যগুলোকে নিয়ে একটি ভারত ইউনিয়ন গঠন করা হবে। এ ইউনিয়নের হাতে পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয় অর্পিত হবে।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী একটি রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী এশিয়া মহাদেশের একটি অঞ্চলের জনগণের দাবি পূরণের লক্ষ্যে ক্যাবিনেটের তিন সদস্যকে দায়িত্ব দিলেন। তারা ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সাথে আলাপ-আলোচনায় ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পেরে নিজস্ব বিবেচনায় একটি পরিকল্পনা পেশ করলেন। এ পরিকল্পনায় জনগণের দাবি পূরণের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাব ঘোষণা করলেন। অর্থাৎ উদ্দীপকের এরূপ বর্ণনার মাধ্যমে ১৯৪৬ সালের মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

ঘ। আমার মতে, ১৯৪৬ সালের মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনাটি নানা কারণে এর গ্রহণযোগ্যতা হারায়।

ভারতের শাসনতান্ত্রিক সমস্যার সমাধান ব্রিটিশ শাসকদের অতীতের উদ্যোগগুলোর মতোই ১৯৪৬ সালের মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনাও ব্যর্থ হয় । দুই প্রধান দল জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ একে ভারতীয়দের স্বাধীনতা প্রদানের একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা হিসেবে অভিহিত করেছিল। কিন্তু এটি কার্যত অনেকটা ১৯৪২ সালের ক্রিপস মিশন প্রস্তাবেরই পুনরাবৃত্তি ছিল। যেকারণে এটি এর কার্যকারিতা হারিয়ে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৪৬ সালের মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনাটি নানা কারণে এর কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। যেমন- মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার মাধ্যমে ভারতের ভবিষ্যৎ সংবিধান রচনার দায়িত্ব গণপরিষদকে দেওয়া হলেও এর সদস্যরা সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত ছিলেন না। মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনায় কেন্দ্রীয় রাজ্যগুলোর সামন্ততন্ত্রকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। দেশীয় রাজ্যগুলোতে গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতি অনুপস্থিত ছিল। মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনায় ভারতকে দুটি মুসলিম প্রধান অঞ্চল, একটি হিন্দু প্রধান অঞ্চল ও অন্যটি দেশীয় রাজ্যসমূহ নিয়ে গঠিত অঞ্চল-এ চারটি অঞ্চলে বিভক্ত করার কথা বলা হয়।

কিন্তু এটি ছিল অবাস্তব ও জটিল। ভারতের রাজনৈতিক জটিলতা এড়ানোর জন্য যেখানে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার দরকার ছিল সেখানে এ পরিকল্পনায় একটি দুর্বল কেন্দ্রীয় সরকার গঠনের চেষ্টা করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন পরিস্থিতিতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো ব্যবস্থা মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনায় উল্লেখ ছিল না। এ পরিকল্পনায় গণপরিষদকে সার্বভৌম ক্ষমতাও দেওয়া হয়নি। জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ উভয়ই মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনাকে অসহযোগিতা করে। তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে ভেবে শেষ পর্যন্ত উভয় রাজনৈতিক দলই এ পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করে।

আলোচনা শেষে বলা যায়, বিভিন্ন পদ্ধতিগত ত্রুটি এবং কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের প্রত্যাখ্যানের কারণে ১৯৪৬ সালের মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা তার কার্যকারিতা হারিয়ে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

প্রশ্ন ৩৮। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের জনসংখ্যা ও পরিধি বৃদ্ধির কারণে সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উক্ত এলাকাকে উত্তর ও দক্ষিণ' নামে দুই ভাগে ভাগ করে। সুশীল সমাজের কিছু অংশ সরকারকে সাধুবাদ জানালেও আবার অনেকে এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

ক. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?

খ. দ্বিজাতি তত্ত্ব কী?

গ. উদ্দীপকে বিবৃত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের কোন ঘটনার মিল পাওয়া যায়? তার কারণগুলো ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার ফলাফল বিশ্লেষণ কর।

৩৮নং প্রশ্নের উত্তর :

ক।  ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

খ।  দ্বিজাতি তত্ত্ব হলো ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন জাতি ও রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে ভারতকে রাজনৈতিকভাবে দ্বিধাবিভক্ত করার নির্ণায়ক ও আদর্শাশ্রয়ী একটি রাজনৈতিক মতবাদ। ভারত থেকে ব্রিটিশ শাসন অবসানের প্রাক্কালে বিশ শতকের চল্লিশের দশকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্বিজাতি তত্ত্বের এ ধারণার উন্মেষ ঘটান। এ তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে।

গ।  উদ্দীপকে বিবৃত ঘটনার সাথে ব্রিটিশ ভারতের ঐতিহাসিক ঘটনা বঙ্গভঙ্গের মিল পাওয়া যায়। ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাসে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। বঙ্গভঙ্গের পিছনে বেশকিছু কারণ বিদ্যমান রয়েছে। সেগুলো হলো-

১. প্রশাসনিক কারণ : বঙ্গভঙ্গের পিছনে প্রশাসনিক কারণই ছিল মুখ্য। এ বিশাল আয়তন প্রদেশের শাসনভার একজন গভর্নরের ওপর ন্যস্ত ছিল। ফলে প্রশাসনিক কাজের সুবিধার কথা বিবেচনা করে লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ করে দুটি প্রদেশ সৃষ্টি করে ।

২. রাজনৈতিক কারণ : বঙ্গভঙ্গের একটি অন্যতম প্রধান কারণ হলো রাজনৈতিক কারণ। জাতীয়তাবাদী আন্দোলন নস্যাৎ করার লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ করার পরিকল্পনা করে।

৩. অর্থনৈতিক কারণ : পূর্ববাংলার জনগণ অর্থনৈতিক উন্নতির আশায় বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন জানায়। বাংলা বিভক্ত হলে এ অঞ্চলে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, সরকারি চাকরি ও নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এ প্রত্যাশাই পূর্ববাংলার নেতৃবর্গ বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন করে।

৪. সামাজিক ও ধর্মীয় কারণ : ব্রিটিশ সরকারের বিমাতাসুলভ
আচরণের কারণে মুসলমানরা পর্যুদস্ত হতে থাকে অন্যদিকে সবকিছুতে হিন্দু সম্প্রদায় বিভিন্ন দিক থেকে লাভবান হতে থাকে ফলে মুসলমান সম্প্রদায় তাদের গৌরব পুনরুদ্ধারের আশায় বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন করে।

ঘ।  উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার অর্থাৎ বঙ্গভঙ্গের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। বঙ্গভঙ্গের ফলে অবিভক্ত বাংলার হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে দুই ধরনের বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সরকারি সিদ্ধান্ত মুসলমান জনগণের মধ্যে আনন্দ-উল্লাসের সৃষ্টি করে। 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' নামক নতুন প্রদেশকে পূর্ব বাংলার মুসলমান সম্প্রদায় আশীর্বাদ বলে স্বাগত জানায়।

কেননা নতুন প্রদেশে তারাই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। উৎফুল্ল মুসলমান জনগণ এ স্বপ্ন দেখতে লাগলেন যে, নতুন প্রদেশে তারা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নতি সাধন এবং নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে সক্ষম হবে এবং চাকরি, শিক্ষাদীক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য সব ক্ষেত্রেই তারা প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলার মুসলমান জনগণ গর্ব ও মর্যাদাবোধ অনুভব করে।

এর ফলে পূর্ব বাংলা তথা সমগ্র ভারতের মুসলমানদের মধ্যে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনার সৃষ্টি হয়। হিন্দুদের বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলনকে মোকাবিলা করার জন্য মুসলমান বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক নেতারা ১৯০৬ সালে 'মুসলিম লীগ' নামক একটি রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে।

ফলে মুসলমানদের মধ্যে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটতে থাকে। অন্যদিকে, বঙ্গভঙ্গ বাংলার হিন্দু জনগণ বিশেষ করে বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ভীষণ ক্ষোভের সৃষ্টি করে। তারা প্রচার করেন যে, বঙ্গভঙ্গ "বঙ্গমাতার অঙ্গচ্ছেদের সমতুল্য'। জাতীয়তাবাদী চিন্তাচেতনায় বিকশিত হিন্দু জনসমাজ মনে করে, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বাঙালি মধ্যবিত্ত জাতির বিকাশমান ধারাকে নস্যাৎ করার গভীর ষড়যন্ত্র বলে প্রচার করে।

ব্রিটিশ সরকারের এ "বিভেদ ও শাসন' নীতির বিরুদ্ধে তারা প্রচণ্ড গণআন্দোলন গড়ে তোলে। এর ফলে ব্রিটিশ পণ্য বর্জনের জন্য স্বদেশি আন্দোলন ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে । পরিশেষে বলা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ভারতের রাজনীতিতে উপরিউক্তভাবে প্রভাব ফেলেছিল।

প্রশ্ন ৩৯। ১৯৪৬ সালে ভারতবর্ষে ভয়াবহ দাঙ্গা দেখা দেয়। লর্ড মাউন্টব্যাটন ভারতের গভর্নর জেনারেল হয়ে আসেন। তিনি হিন্দু, মুসলিম ও শিখ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে বুঝতে সক্ষম হন যে, ভারতবর্ষে আর ব্রিটিশ শাসন সম্ভব নয়। সেই লক্ষ্যে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি আইন পাস করা হয়।

ক. 'ভাগ কর, শাসন কর' নীতি কী?

খ. মওলানা ভাসানীকে মজলুম জননেতা বলা হয় কেন?

গ. উদ্দীপকে যে আইনের কথা বলা হয়েছে, তার তিনটি বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর ।

৩৯নং প্রশ্নের উত্তর :

ক।  ভারতবাসী ব্রিটিশ শাসন ও শোষণ নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করলে ব্রিটিশরা বাংলাকে বিভক্ত করে একটি সম্প্রদায়কে নিজেদের অনুকূলে রেখে অপর সম্প্রদায়কে শাসন করার যে পরিকল্পনা গ্রহণ করে তাই 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতি।

খ।  মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে তার মহান ভূমিকার জন্য মজলুম জননেতা বলা হয়। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে জমিদার, মহাজন, সুদখোর, দালাল, নায়েব-গোমস্তাদের অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে সদা সর্বদা সোচ্চার হয়ে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কৃষক, শ্রমিক ও মজুরদের পাশে থেকেছেন।

নির্ভীকভাবে তাদের কথা অকপটে বলেছেন। সারাজীবন সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। তাই মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে মজলুম জননেতা বলা হয় ।

গ। উদ্দীপকে ১৯৪৭ সালের ভারত শাসন আইনের কথা বলা হয়েছে। ব্রিটিশদের বহুদিনের শোষণ ও নিপীড়নের প্রতিবাদে ভারতীয়রা অনেকদিন ধরেই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় ভারতে 'অন্তর্বর্তীকালীন সরকার' গঠন নিয়ে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে চলে যায়।

এ পরিস্থিতিতে ১৯৪৭ সালের ৪ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারত স্বাধীনতা আইনের খসড়া বিল পেশ করা হয় এবং পার্লামেন্ট কর্তৃক গৃহীত ১৮ জুলাই আইনটি পাস হয়। এ আইনের বদৌলতে ভারতবর্ষের ওপর থেকে 5 দীর্ঘ ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ১৯৪৬ সালে ভারতবর্ষে ভয়াবহ দাঙ্গা দেখা দেয়। লর্ড মাউন্টব্যাটন ভারতের গভর্নর জেনারেল হয়ে আসেন। তিনি হিন্দু, মুসলিম ও শিখ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে বুঝতে সক্ষম হন যে, ভারতবর্ষে আর ব্রিটিশ শাসন সম্ভব নয়। সেই লক্ষ্যে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি আইন পাশ করা হয়। এরূপ বর্ণনায় ১৯৪৭ সালের ভারত শাসন আইনের কথা প্রকাশ পেয়েছে। এ আইনের সবচেয়ে প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ধারা হলো এ আইনে ভারতবর্ষকে বিভক্ত করে ভারতীয় ইউনিয়ন ও পাকিস্তান নামে দুটি 'ডোমিনিয়ন' প্রতিষ্ঠিত হয়, যেগুলো কার্যত স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র।

ফলে ভারত সচিব পদটির কার্যকারিতা বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং এ আইনে উক্ত পদটির অবসান ঘটানো হয়। একই সাথে এ আইনে রাজকীয় মর্যাদা ও উপাধি থেকে ব্রিটিশরাজের 'ভারত সম্রাট' উপাধি বিলুপ্ত করা হয়। এছাড়া এ আইনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এতে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের কিছু সংশোধনী আনা হয়। তন্মধ্যে ভারত- পাকিস্তানের মন্ত্রিসভার পরামর্শ অনুযায়ী ব্রিটিশরাজ কর্তৃক গভর্নর জেনারেল নিয়োগ, স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা ও বিশেষ ক্ষমতা বিলোপ, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ক্ষমতা হ্রাস প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

ঘ। ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন রাজনীতিতে উদ্দীপকের সাথে সংগতিপূর্ণ আইনের অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের তাৎপর্য/গুরুত্ব অত্যধিক।

১৯৪৭ সালের 'ভারত স্বাধীনতা আইন ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এ আইন ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সমস্যা সমাধানের পথে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ আইনের মাধ্যমে উপমহাদেশে দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সীমানা নির্ধারণ করা হয় এবং গণপরিষদ গঠন করা হয়।

এ আইনের দ্বারা গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতার অবসান হয় এবং রাষ্ট্র দুটিতে সংসদীয় ও দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। ভারত সম্রাটের উপাধি বিলোপ করা হয় এবং ভারত সচিবের পদের বিলুপ্তি ঘটে। ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের দ্বারা ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণের রাজনৈতিক, চিন্তাধারায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক
১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে যে সমস্যা তৈরি হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান হয় অর্থাৎ পরাধীনতার বিলুণ্ডি ঘটে।

এ আইনের মাধ্যমে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটে। ভারতের গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন লর্ড মাউন্টব্যাটেন আর পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের যাত্রা সূচিত হয়। দুটি রাষ্ট্রই স্ব-স্ব সংবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা লাভ করে। উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দলিল। এ আইন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ