সম্রাট শাহজাহান প্রবর্তিত আইনসমূহ বর্ণনা কর
![]() |
| সম্রাট শাহজাহান প্রবর্তিত আইনসমূহ বর্ণনা কর |
সম্রাট শাহজাহান প্রবর্তিত আইনসমূহ বর্ণনা কর
- অথবা, শাহজাহান কি কি আইন প্রবর্তন করেন? বর্ণনা কর।
উত্তর : ভূমিকা : মুঘল সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকাল ভারতের স্থাপত্যের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায়। শিল্প, সাহিত্য ও স্থাপত্যের ক্ষেত্রে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে তিনি অদ্বিতীয় স্থান অধিকার করে আছেন। তার রাজত্বকালে মুঘল সাম্রাজ্য শিল্প, সাহিত্য ও স্থাপত্যের ক্ষেত্রে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছেছিল।
→ শাহজাহানের প্রবর্তিত আইনসমূহ : শাহজাহানের সিংহাসনে আরোহণের পর ইসলামের ভিত্তিকে দৃঢ় করার জন্যে কয়েকটি আইন প্রবর্তন করেন।
জাহাঙ্গীরের আমল থেকেই এক শ্রেণির মুসলিম মৌলবাদী ধর্মনেতা আকবর ও সম্রাট জাহাঙ্গীরের ধর্মসহিষ্ণুতা নীতির তীব্র বিরোধিতা করেন।
নিম্নে শাহজাহানের আইন প্রবর্তনসমূহ আলোচনা করা হলো :
১. মন্দির নির্মাণ নিষিদ্ধকরণ : সম্রাট শাহজাহান ১৬৩৩ সালে মন্দির নির্মাণ সম্পর্কিত কিছু বিধি-বিধান চালু করেন। তিনি বারানসিতে কয়েকটি মন্দির নির্মাণ নিষিদ্ধ করেন।
২. মহানবি (সা.) এর জন্মদিন পালন : সম্রাট শাহজাহান হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে পালনের ব্যবস্থা করেন।
৩. ইসলামি সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ : সম্রাট শাহজাহান | ইসলামি সাহিত্য সংস্কৃতির প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। সিজদা প্রথা শরিয়ত বিরোধী বলে তা রদ করা হয়।
৪. হিজরি সাল পুনঃপ্রবর্তন : আকবর সৌর বছর গণনায় প্রবর্তক ছিলেন। কিন্তু শাহজাহান তা রদ করে পুনরায় ইসলামি প্রথা অনুসারে চন্দ্র মাস ও চন্দ্র বর্ষ গণনা আরম্ভ করেন। ফলে দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর প্রবর্তিত হিজরি সাল পুনঃপ্রবর্তিত হয়।
৫. মুদ্রায় নাম অঙ্কন : সম্রাট শাহজাহান মুদ্রার একপিঠে প্রথম চার খলিফার নাম (হযরত আবু বকর, হযরত ওমর, হযরত ওসমান এবং হযরত আলী (রা.) এবং অপরপিঠে সম্রাটের নাম ছাপার ব্যবস্থা করেন।
৬. আল্লাহর দিদার লাভের ব্যবস্থা : সম্রাট শাহজাহানের প্রিয় পত্নী মমতাজমহল ১৬৩১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। আগ্রায় তার সমাধির উপর তাজমহল নির্মিত হয়।
ইসলাম অনুসারে বলা হয় কিয়ামতের দিন মৃত ব্যক্তির আত্মা বিচারের জন্য আল্লাহর দরবারে হাজির হবে। এ তত্ত্ব অনুসারে শাহজাহান তাজমহলের মূল সৌধটিকে আল্লাহর বিচার আসন “Judgement throne” এর আদলে নির্মাণ করেন।
মুহাম্মদ (সা.) তার তিরোধানের পর যে, দরওয়াজা দিয়ে স্বর্গে প্রবেশ করেন তারই প্রতীক হিসেবে শাহজাহান তাজমহলের অঙ্গনে প্রবেশের দরওয়াজা নির্মাণ করেন।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, মুঘল সম্রাটদের মধ্যে একমাত্র শাহজাহানের আমলেই শিল্পকলা ও স্থাপত্যশিল্পে চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়। শুধু স্থাপত্যশিল্পেই নয় সাম্রাজ্য বিস্তার ও শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায়ও তার অবদান ছিল অপরিসীম।
তার ন্যায় আর কোনো সম্রাটের সময় মুঘল সাম্রাজ্য এত সমৃদ্ধ ও বিকশিত হয়নি। অনেক ঐতিহাসিক সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালকে ‘স্বর্ণযুগ' বলে অভিহিত করেছেন।
