গনিমতের মাল বলতে কি বুঝায়
গনিমতের মাল বলতে কি বুঝায়
![]() |
| গনিমতের মাল বলতে কি বুঝায় |
উত্তরঃ যুদ্ধলব্ধ সম্পদকে আনফাল বা গণিমত বলা হয়। মহান আল্লাহ এ সম্পদকে মুসলমানদের জন্য হালাল করে দিয়েছেন এবং সূরা আনফালে এর বণ্টন পদ্ধতি সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
আনফাল/নফল/ গণিমতের কটন পদ্ধতি: আনফাল বা নফল বা গণিমতের মালের বণ্টন পদ্ধতি সম্পর্কে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন- وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُوْلِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَنى وَالْمَسْكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ
আনফাল বন্টনের পদ্ধতি :
আবু উবাইদাহ (রা.) বলেন, চারটি পদ্ধতিতে আনফাল বা নফল বণ্টিত হয়ে থাকে। তা হলো-
১. নিহত ব্যক্তির লুট করা মাল ও আসবাবপত্র। এটা হতে এক পঞ্চমাংশ বের করা হয় না।
২. ঐ নফল, যা পঞ্চামাংশ পৃথক করার পর দেয়া হয়ে থাকে। যেমন- নেতা কোনো ক্ষুদ্র সেনাবাহিনীকে শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করলেন, তার গণিমতের মাল নিয়ে ফিরে আসলো তখন নেতা ঐ সেনাদলকে এর থেকে চতুর্থাংশ বা তৃতীয়াংশ বণ্টন করে দিলেন।
৩. এক পঞ্চমাংশ বের করার পর বাকীটা বণ্টন করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে থেকে নেতা কাউকে তার কর্মতৎপরতা বিবেচনা করে যা দেয়া সমীচীন মনে করেন, তা দিয়ে দেন। তারপর বাকীটা বণ্টন করে দেন।
৪. এক-পঞ্চামাংশ বের করার পূর্বেই সমস্ত গণিমত থেকে অতিরিক্ত প্রদান করা হয়ে থাকে। আর এটা হচ্ছে পানি বহনকারী, রাখাল মহিষ ও অন্যান্য মজুরদের হক। রাসুল (সা.) কর্তৃক গণিমতের বণ্টন পদ্ধতি:
(ক) আবুল আলিয়া রাবাহী (রহ.) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) যুদ্ধলব্ধ সম্পদকে পাঁচ ভাগে ভাগ করতেন। চারভাগ তিনি মুজাহিদদের মাঝে বণ্টন করে দিতেন। তারপর এক পঞ্চমাংশ হতে মুষ্টিভরে বের করতেন এবং তা কাবাঘরে দাখিল করে দিতেন অতঃপর অবশিষ্ট অংশকে আবার পাঁচ ভাগে ভাগ করতেন। আর তা হলো:
১. একভাগ তার নিজের।
২. দ্বিতীয় ভাগ আত্মীয়দের।
৩. তৃতীয় ভাগ ইয়াতিমদের।
৪. চতুর্থ ভাগ মিসকিনদের।
৫. পঞ্চম ভাগ মুসাফিরদের।
উপসংহার পরিশেষে বলা যায়, মহানবি করীম (সা.) উল্লিখিত আয়াতের আলোকে গণিমতের মালকে পাঁচভাগে ভাগ করে তার হকদের মাঝে বণ্টন করে দিতেন। আর এটাই হলো মালে গণিমতের বণ্টনের সুস্পষ্ট বিধান।
