খুজে না পেলে সার্চ করো

ফাতেমীয় খিলাফতের পতনের জন্য খলিফা আল আজিজ দায়ী কি না আলোচনা কর


ফাতেমীয় খিলাফতের পতনের জন্য খলিফা আল আজিজ দায়ী কি না আলোচনা কর
ফাতেমীয় খিলাফতের পতনের জন্য খলিফা আল আজিজ দায়ী কি না আলোচনা কর

ফাতেমীয় খিলাফতের পতনের জন্য খলিফা আল আজিজ দায়ী কি না আলোচনা কর

উত্তর : ভূমিকা : আল আজিজের রাজত্বকাল মিশরের ফাতেমীয় খিলাফতের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ফাতেমীয় খলিফা আল মুইজের মৃত্যুর পর তার পুত্র আল আজিজ ৯৭৫ সালে ফাতেমীয় সিংহাসনে আরোহণ করেন। 

তিনি যখন সিংহাসনে বসেন তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৪ বছর। আল আজিজ ফাতেমীয় খিলাফতের ৫ম খলিফা ছিলেন। তিনি ফাতেমীয় খিলাফতের শ্রেষ্ঠ খলিফা ছিলেন। 

তবে ফাতেমীয় খলিফা আল আজিজ যেমন ফাতেমীয় খিলাফতকে শক্তিশালী করেছিল, তেমনি আবার তিনিই এ খিলাফতের পতনের ক্ষেত্রে দায়ী বলে মনে করতেন অনেক ঐতিহাসিকেরা।

আল আজিজের পরিচয় : ফাতেমীয় খলিফা আল আজিজের মূল নাম, “আবু মনসুর নিজার আল আজিজ বিল্লাহ। তিনি ৯৫৫ খ্রিস্টাব্দের ১০ মে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আল মুইজ এবং মাতার নাম ডুরজান। 

আল মুইজের মৃত্যুর পর তিনি ৯৭৫ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ডিসেম্বর ফাতেমীয় খিলাফতের খলিফা হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাসন ক্ষমতায় থেকে ৯৯৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

→ ফাতেমীয় লিাফতের পতনের জন্য খলিফা আল আজিজ দায়ী কিনা : ফাতেমীয় খলিফা আব্দুল আজিজ বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কার, রাজ্যবিস্তার, জ্ঞান-বিজ্ঞানের উদার পৃষ্ঠপোষকতা করা সত্ত্বেও তিনি ফাতেমীয় খিলাফতের পতনের জন্য অনেকটা দায়ী ছিলেন। ফাতেমীয় খিলাফতের পতনের জন্য আল আজিজ যেসব | কারণে দায়ী নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো :

১. ধর্মীয় সহিঞ্চুতা : খলিফা আল আজিজ পর ধর্ম সহিষ্ণু ব্যক্তি ছিলেন। তিনি প্রশাসনে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের প্রাধান্য দেন। আল আজিজ এক একজন খ্রিস্টান মহিলাকে বিবাহ করেন। 

তিনি ইয়াকুব ইবনে কিল্লিস নামের এক ইহুদিকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। যার ফলে মিশরের সুন্নি মুসলমানগণ খলিফার উপর অসন্তুষ্ট হন। তারা ফাতেমীয়দের পতন কামনা করে।

২. অর্থনৈতিক কারণ : ফাতেমীয় খলিফা আল আজিজ অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন করতেন। খলিফা আল আজিজ ও তার উজিরগণ বিলাসী জীবনযাপন করতেন। 

ইয়াকুব বিন কিসি সবচেয়ে বেশি বেতন পেতেন। এছাড়া অসংখ্য দাস-দাসী, চাকর- চাকরানির জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হতো। 

খলিফা আল আজিজের মিতব্যয়িতা ও বিলাসিতার ফলে সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রাজকোষের শূন্যতা দেখা দেয়। এজন্য ফাতেমীয় খিলাফতের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।

৩. হেরেমের প্রতি দুর্বলতা : ফাতেমীয় খলিফা আল আজিজ সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন। তিনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও হেরেমের প্রভাবে খুবই দুর্বল হয়ে পড়েন। 

ফলে মিশরবাসীর অকুন্ঠ ভালোবাসার ঘাটতি দেখা দেয়। হেরেমের প্রভাবের কারণে আল আজিজের সময় ফাতেমীয় খিলাফত পতনের দিকে ধাপিত হয়।

৪. তুর্কি সেনাবাহিনী গঠন : খলিফা আব্দুল আজিজ তুর্কি দেহরক্ষী বাহিনী গঠন করেন। তার রাজত্বকালে তুর্কি সেনাবাহিনী অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠে। 

তুর্কি সেনাবহিনী এতো বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠে যা খলিফা আব্দুল আজিজের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল না। যার ফলে তুর্কি সৈন্যরা খলিফা আল আজিজকে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে । এটি সাম্রাজ্যের ভিত্তিকে দুর্বল করে ফেলে।

৫. মুসলমানদের ক্ষোভ : খলিফা আল আজিজ ইহুদি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকদেরকে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন পদে নিযুক্ত করেন। যার ফলে মুসলমানগণ আল আজিজের উপর অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হয়ে তার পতন কামনা করে।

৬. সরলতা : ফাতেমীয় খলিফা আল আজিজ একজন দয়ালু মহানুভব মানুষ ছিলেন। তার অতিরিক্ত সরলতার কারণে বিদ্রোহীরা আন্দোলনের পথ প্রশস্ত করতে থাকে। যার জন্য ফাতেমীয় খিলাফত পতনের দিকে ধাবিত হয়।

৭. নিয়ন্ত্রণহীন বিচার বিভাগ : ফাতেমীয় খলিফা আল আজিজের সময়ে বিচার ও দাওয়া বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করতেন কাজি নোমানের পরিবার। নোমানের মৃত্যুর পর তার পুত্র আলী বিল নোমান কাজির পদ অলংকৃত করেন। 

মূলত একই পরিবারের উপর বিচার বিভাগের দায়িত্ব থাকায় এর উপর খলিফা আল আজিজের নিয়ন্ত্রণ ছিল না। ফলে বিচারকার্যে স্বেচ্চারিতা দেখা দেয়। যা ফাতেমীয় খিলাফতকে পতনের দিকে ধাবিত করে।

৮. উচ্চাবিলাসীতা : খলিফা আল আজিজ ছিলেন উচ্চ বিলাসী শাসক । তিনি এবং তার রাজপরিবারের সদস্যরা মূল্যবান জিনিসপত্র ও পোশাক পরিচ্ছেদ ব্যবহার করতেন। ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অনেক অর্থ খরচ করতে হয়। যার জন্য পরবর্তীতে ফাতেমীয় খিলাফত দুর্বল হয়ে পড়ে।

৯. সহনশীলতা নীতি : খলিফা আল আজিজের সহনশীলতা নীতিও ফাতেমীয় খিলাফতের পতনের জন্য দায়ী। তিনি তার শাসনামলে অনেক খ্রিস্টান ও ইহুদীদেরকে উচ্চ রাজকার্যে নিযুক করেন। ফলে অনেক মুসলিম ক্ষোভ প্রকাশ করে ফলে প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় ।

১০. দুর্বল রাজনৈতিক সম্পর্ক : আল আজিজ প্রথমদিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দেন। 

কিন্তু তার শাসনকালের শেষের দিকে এ কূটনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা ভেঙ্গে পড়ে। যা ফাতেমীয় খিলাফতকে পতনের দিকে ধাবিত করে।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ফাতেমীয় খিলাফতে আল আজিজ একজন দক্ষ শাসক ছিলেন। তিনি অত্যন্ত যোগ্যতার সাথে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। 

আল আজিজ অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপন করে বহির্বিশ্বে নিজের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। খলিফা আল আজিজের কতিপয় নীতির কারণে সুন্নি মুসলমানগণ অসন্তুষ্ট হন। 

এ কারণে মিশরে ফাতেমীয় খিলাফতের পতন ত্বরান্বিত হয়। আর এক সময় ১১৭১ খ্রিস্টাব্দে আইয়ুবী বংশের হাতে এ ফাতেমীয় খিলাফতের পতন ঘটে। 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ