মৌখরি রাজাদের সাথে শশাঙ্কের শত্রুতার কারণ সম্পর্কে আলোচনা কর
![]() |
| মৌখরি রাজাদের সাথে শশাঙ্কের শত্রুতার কারণ সম্পর্কে আলোচনা কর |
মৌখরি রাজাদের সাথে শশাঙ্কের শত্রুতার কারণ সম্পর্কে আলোচনা কর
- অথবা, শশাঙ্কের চিরশত্রু কাদেরকে বলা হয় ও কেন বলা হয় ?
উত্তর : ভূমিকা : সপ্তম শতাব্দীতে বাংলার ইতিহাসে শশাঙ্ক একটি বিশিষ্ট নাম। তার সম্পর্কে যদিও আমরা খুব অল্পই জানতে পারি তবুও প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ নরপতি হিসেবে শশাঙ্কের অবস্থান প্রথমই।
গৌড়ে রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর তিনি বাংলার বাইরে রাজ্য জয় করে বিশাল এক সাম্রাজ্য গড়ে তোলাও ছিল তার অসামান্য কৃতিত্ব। এ কারণে প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে তাকে গুরুত্বপূর্ণ নৃপতি বলা হয় ।
→ শশাঙ্কের চিরশত্রু : শশাঙ্কের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই কনৌজের মৌখরি রাজাদের সাথে একটা বংশানুক্রমিক শত্রুতা ছিল। শশাঙ্কের সময় এ শত্রুতা আরা বৃদ্ধি পায়। যে কারণে শত্রুতা বৃদ্ধি পায় তা নিচে দেওয়া হলো :
১. কনৌজের থানেশ্বর জোট : কনৌজের মৌখরিরাজ গ্রহবর্মার সাথে থানেশ্বরের রাজা প্রভাকর বর্ধনের মেয়ে রাজ্যশ্রীকে বিয়ে দেন রাজা প্রভাকর বর্ধন। ফলে কনৌজ এবং থানেশ্বর জোট সৃষ্টি হয়। যা শশাঙ্ককে শঙ্কিত করে তোলে।
২. গৌড় মাদব জোট : শশাঙ্ক নিজ রাজ্যের নিরাপত্তা বিধান এবং উক্ত জোটের বিরুদ্ধে নিজেকে রক্ষা করার জন্য মালবরাজ দেবগুপ্তের সাথে মৈত্রী চুক্ত সম্পাদন করেন। ফলে উভয় জোটের মধ্যে দ্বন্দ ব্যাপক আকার ধারণ করে।
৩. চিরশত্রু বলার কারণ : শশাঙ্কের পূর্বপুরুষের সময় থেকে কনৌজের মৌখরি রাজাদের সাথে একটা বংশানুক্রমিক শত্রুতা ছিল। এছাড়া মৌখরি রাজাগণের সাথে মালব রাজাদের শত্রুতা ছিল।
শশাঙ্ক যখন মালবরাজ দেবগুপ্তের সাথে সন্ধি স্থাপন করেন তখন মৌখরি রাজবংশ এবং থানেশ্বরের পুষ্যভূতি রাজবংশের সাথে শশাঙ্কের শত্রুতা আরো বৃদ্ধি পায়।
শশাঙ্ক মালব রাজার সাথে সন্ধি স্থাপন করে শত্রুর শত্রু বন্ধু নীতি গ্রহণ করেন যাহা ছিল শত্রুতার অন্যতম কারণ।
ফলে উত্তর ভারতের শক্তির বিরুদ্ধে শশাঙ্ক শত্রুতার নীতি গ্রহণ করেছিলেন নিজ রাজ্য রক্ষা এবং শত্রুকে আক্রমণ করে প্রতিহত করার জন্য ।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, দুই পুরুষ ধরে বংশানুক্রমিক শত্রুতার জের ধরেই শশাঙ্ক উত্তর ভারতের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছিলেন।
চিরশত্রুর সমূলউৎপাটন করাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। তার আগে আর কোনো বাঙালি রাজা এ কাজ করতে পারেনি।
তাই প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে শশাঙ্কের শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক, কূটনৈতিক প্রজ্ঞা আসলেই প্রশংসার দাবি রাখে ।
