ফলমূলের বাজারের চিত্র বর্ণনা কর
ফলমূলের বাজারের চিত্র বর্ণনা কর।ফলমূলের বাজারের চিত্র বর্ণনা কর।
![]() |
ফলমূলের বাজারের চিত্র বর্ণনা কর।
উত্তর : রূপের বাজার ছেড়ে বিদ্যার বাজারে গেলাম। দেখলাম, এখানে ফলমূল বিক্রয় হয়। এক স্থানে দেখলাম, কতকগুলো ফোঁটা কাটা টিকিওয়ালা ব্রাহ্মণ তসর গরদ পরিয়া নামাবলি গায়ে, ঝুনা নারকেলের দোকান খুলে বসে খরিদ্দার ডাকছেন “বেচি আমরা ঘটত্বপটত্বত্বণত্ব ঘরে চাল থাকলেই স্ব-ত্ব, নইলে ন-ত্ব। দ্রব্যত্ব জাতিত্ব গুণত্ব পদার্থে বাপের শ্রাদ্ধ বিদায় না দিইে তুই বেটা অপদার্থ। পদার্থতত্ত্ব নামে ঝুনা নারকেল খেতে বড় কঠিন তাহার ঘরে ধন আছে, আমার ঘরে নাই, এটা অন্যোন্যাভাব। যতক্ষণ না পাই, ততক্ষণ প্রাগভাগ, খরচ হয়ে গেলেই ধ্বংসাভাব; আর আমাদের ঘরে সর্বদাই অত্যন্ত অভাব।
অভাব নিত্য, কিন অনিত্য, যদি সংশয় থাকে, তবে আমাদের ভাণ্ডারে উকি মার দেখবে, নিত্যই অভাব। অতএব আমাদের ঝুনা নারকেল কেন। ব্যাপা ব্যাপক, ব্যাপ্ত এ নারকেলের শাঁস, ব্রাহ্মণের হস্ত হলো ব্যাপ্য, রজত হলো ব্যাপক, আর তুমি দিলেই ঘটল ব্যাপ্তি; এ ঝুনা নারকেল কেন, এখনই বুঝবে। দেখ বাপু, কার্য কারণ সম্বন্ধ বড় গুরুতর কথা, টাকা দাও, এখনই একটা কার্য হইবে, কম দিলেই অকার্য। আর কারণ বুঝাব কি, এ যে দুই প্রহর রৌদ্রে ঝুনা নারকেল বেচতে এসেছে, ব্রাহ্মণীই তাহার কারণ কিছু যদি না কেন, তবে নারকেল বহা অকারণ। নারকেল কেন, 'নহিলে এ ঝুনা নারকেল মাথায় ঠুকিয়া মরিব।'
ব্রাহ্মণদের সে প্রখর তপনতপ্ত ঘর্মাক্ত ললাট এবং বাগবিতণ্ডাজনিত অধরসুধাবৃষ্টি দেখে দয়া হলো জিজ্ঞাসা করলাম, ভট্টাচার্য মহাশয়, ঝুনা নারকেল কিনতে আপত্তি নেই, কিন্তু দোকানে দা আছে? ভুলবে কি প্রকারে? না বাপু, দা রাখি না।
তবে নারকেল ছোল কিসে? আমরা ছুলি না আমরা কামড়িয়ে ছোবড়া খাই। শুনে, কমলাকান্ত ব্রাহ্মণদের নমস্কার করে পাশের দোকানে গেলেন। এদের সামনেই এক্সপেরিমেন্টোল সায়েন্সের দোকান। কতকগুলো সাহেব দোকানদার, ঝুনা নারকেল, বাদাম, পেস্তা, সুপারি প্রভৃতি ফল বিক্রয় করছেন।
