পাঠান্তর কাকে বলে
পাঠান্তর কাকে বলে
![]() |
| পাঠান্তর বলতে কী বুঝ |
উত্তর : যে মূলপাঠ বা আদিপাঠের বাইরে তা পাওয়া যায় তাকে পাঠান্তর বলে। এভাবে একজন সম্পাদক মূলপাঠ নির্ধারণ এক পাঠান্তর তৈরি করে থাকেন। বস্তুত পাঠান্তরের মূলকথা হলো আগের একটি ছড়া পরের একটি ছড়ার প্রভাবে কেমন করে বিবর্তিত হয় তার উল্লেখ।
একে এক প্রকার সংশ্লেষ বলা যেতে পারে। এ পাঠ থেকে পাঠান্তর অনুধাবনের জন্য আমরা "আগডুম বাগডুম' ছড়াটির চরণ পরীক্ষা করব। এ ছড়াটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যোগীন্দ্রনাথ, লালারায়, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, আশুতোষ ভট্টাচার্যের সংগৃহীত বিভিন্ন পাঠ পাওয়া যায়। বিশ্লেষণটি নিম্নরূপ :
প্রথম চরণ :
আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুম সাজে
আগডম বাগডম ঘোড়াডম সাজে
আগডোম বাগডোম ঘোড়ার ডিম সাজে
দ্বিতীয় চরণ :
ঢাক মৃদং ঝাঁঝর বাজে
চাই মিরগেল ঘাঘর বাজে
লাল সেরা ঘাগর বাজে
লোকসাহিত্য সংগ্রহকারীর নিকট যেসব উপকরণ থাকে তার মধ্যে একই কাহিনির বিভিন্ন পাঠ দেখা যেতে পারে। উপভাষার প্রভাব কিংবা অন্য যেকোনো কারণে এ পাঠভেদ ঘটে থাকে। এক্ষেত্রে সম্পাদকের করণীয় হলো-
১. কোনো প্রক্ষিপ্ত অংশ থাকলে তা বাদ দিতে হবে।
২. কোনো চরণ বা অংশ পাঠের মধ্যে সাধারণতা নির্ধারণ করতে হবে।
3. এক্ষেত্রে সংগ্রহকারী তার ব্যক্তিগত বিবেচনায় সেটাকে মূলপাঠ বলে মনে করেন সেটাকে আলাদা করে রেখে মূলপাঠ নির্ধারণ করবেন।
