তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম | তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত বাংলা উচ্চারণ

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় বন্ধুরা কেমন আছো তোমরা? নিশ্চয় ভালো আছো। আমাদের আজকের ব্লগ পোস্টের বিষয় হলো তাহাজ্জুদ নামাজের হাদিস, তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত কি, তাহাজ্জুদ নামাজের সময়, তাহাজ্জুদ নামাজ মোট কত রাকাত, তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম ও তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত বাংলা উচ্চারণ এবং নবীজী (স) যেভাবে তাহাজ্জুদ নামায আদায় করতেন।
তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম  তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত বাংলা উচ্চারণ
তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম  তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত বাংলা উচ্চারণ
তোমরা যদি তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম ও তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত এবং তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত বাংলা উচ্চারণ জানতে চাও তাহলে আমাদের পোস্ট টি পুরোটা পড়ে নিবে কারন আমরা আপনাদের এসব বিষয় জানাতে চলেছি আজকের এই পোস্টে। তো বন্ধুরা বেশি কথা না বাড়িয়ে আমরা আমাদের মুল টপিকে চলে যায়। যাওয়ার আগে এক নজরে সুচিপত্র টি দেখে নিয় কি কিথাকবে আজকের পোস্টে।

সুচিপত্রঃ তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম | তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত বাংলা উচ্চারণ

তাহাজ্জুদ নামাজের হাদিস

তাহাজ্জুদ নামায প্রকাশ্যে না পড়ে নির্জনে আদায় করলে অধিক সওয়াব হয়। রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই নামাযকে ফরয নামাযের মত গুরুত্ব সহকারে আদায় করতেন। কোন দিন তরক করেন নি। ওযরবশতঃ কোন দিন পড়া না হলে ফরয নামাযের মত তিনি তার কাযা আদায় করতেন।

ওলামায়ে কেরামের মতে, তাহাজ্জুদ নামায রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর একটি ব্যক্তিগত খাস ফরয ছিল । কাজেই তিনি এই নামাযের প্রতি এ রকম গুরুত্ব দিতেন। অবশ্য রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতগণের প্রতি তা ফরয ওয়াজিব নয়। এই কথার দলীলস্বরূপ কোরআন পাকের নিম্নোক্ত আয়াত উল্লেখ করা যায়। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে লক্ষ্য করে এরশাদ করেছেন ?

উচ্চারণ: ফাতাহাজ্জাদ বিহী নাফিলাতাল লাকা।
অর্থঃ হে নবী (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনি রাত থাকতে উঠে তেলাওয়াতের দ্বারা তাহাজ্জুদ আদায় করুন। ইহা আপনার জন্যই অতিরিক্ত করা হয়েছে।

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত কি | Tahajjud Namaz Fazilat Bangla

তাহাজ্জুদ নামাযকে সিরাজুল কুবুর নামেও আখ্যায়িত করা হয়। সিরাজুল কুবুর অর্থ কবরের বাতি। এই নামকরণের কারণ, হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, তাহাজ্জুদ নামায আদায়কারীদের কবর ৭০ গজ প্রশস্ত এবং সর্বদা আলােকিত থাকে। 
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, তােমরা রাতের নামায অর্থাৎ তাহাজ্জুদ নামায আদায় কর। কেননা, ইহা নেককার বান্দার। তরীকা।
রসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, ফরয নামাযের পর রাতের মধ্যভাগে তাহাজ্জুদ নামাযই হল ফযীলতের নামায। অর্থাৎ, রাতে ফরয নামাযের পরে অন্যান্য যাবতীয় নামাযের মধ্যে ফযীলতের দিক হতে তাহাজ্জুদ নামাযই শ্রেষ্ঠ।

তাহাজ্জুদ নামাজের সময় ২০২২ | তাহাজ্জুদ নামাজের সময় ২০২২

তাহাজ্জুদ নামাযের ওয়াক্ত রাত দ্বিপ্রহরের পর-হতেই শুরু হয় এবং সুবহে। সাদেকের পূর্ব পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।

তাহাজ্জুদ নামাজ মোট কত রাকাত | Tahajjud Namaz Koto Rakat Bangla

ওলামায়ে কেরামগণ এ নামাযের রাকআতের ব্যাপারে একমত নন। এর কারণ রেওয়ায়েতের বিভিন্নতা। কোন কোন রেওয়ায়েতে এ নামায চার রাকআত, কোন কোন রেওয়ায়েতে আট রাকআত, কোন কোন রেওয়ায়েতে বার রাকআত পর্যন্ত দেখা যায়।

হাদীস শরীফের মর্মে জানা যায়, কখনাে কখনাে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই নামায ৪ রাকআত কখনাে ৮ রাকআত কখনাে ১২ রাকআত পর্যন্ত আদায় করতেন।

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম | Tahajjud Namaz Porar Niom Jante Chai Bangla

দুই দুই রাকআতে নিয়ত করাই উত্তম। ইহাতে সূরা কেরাআত পড়া সম্পর্কে কয়েক রকম অভিমত আছে। কোন কোন বুযুর্গ এর প্রথম রাকআতে সূরা ফাতেহার পর সূরা এখলাস ১২ বার, পরবর্তীতে প্রতি রাকআতে ঐ সংখ্যা কমাতে কমাতে একেবারে শেষ রাকআতে মাত্র একবার পাঠ করতেন। কারও কারও মতে এ নামাযের প্রতি রাকআতে সূরা ফাতেহার সাথে তিনবার সূরা এখলাস পড়ে আলাম নাশরাহলাকা, কেউ কেউ একবার করে আয়াতুল কুরসী পাঠ করা উত্তম মনে করেন। আবার কেউ কেউ এ নামাযের প্রতি রাকআতে সূরা ফাতেহার সাথে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত অর্থাৎ আমানার রাসূলু হতে আ’লাল কাওমিল। কাফিরীন পর্যন্ত পড়ে থাকেন।

বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত আছে যে, পূর্ববর্তী বুযুর্গ ও মাশায়েখগণ এই নামাযের প্রতি রাকআতে সূরা মুযযাম্মিল পাঠ করতেন। ওলামায়ে কেরামের কেউ কেউ। এরূপ মত প্রকাশ করেন যে, তাহাজ্জুদের বার রাকআত নামাযে অন্ন একশত হতে দুই শত আয়াত কোরআন তেলাওয়াত করা উচিত।

উপরােক্ত নিয়মসমূহ যেহেতু সাধারণ লােকের পক্ষে পালন করা সম্ভব নয়, সুতরাং যে সব সূরা তাদের পক্ষে সহজ তারা সে সব সূরা দ্বারাই এ নামায আদায় করবেন। যারা এই নামায নিয়মিত আদায় করেন তারা এশার নামাযের সাথে বিতর। নামায আদায় না করে তাহাজ্জুদ নামাযের পরে তা আদায় করে নিবেন। কারণ, রাতের যে কোন নামাযের মধ্যে বিতর নামায হল সর্বশেষ নামায । এর পরে আর কোন নামায নেই। সুতরাং যত ধরনের সুন্নত ও নফল নামায আছে তা বিতর নামাযের পূর্বেই পড়া উত্তম।অবশ্য রমযান মাসে এ নিয়ম প্রযােজ্য নয়। কারণ, তখন তারাবীর নামাযের সাথে বিতর নামাযও জামাআতের সাথে আদায় করতে হয়।

যারা নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামায আদায় করেন না, তারা এশার সাথে সাথে বিতর আদায় করবেন। কারণ, তাহাজ্জুদ নামায পরে আদায় করবে বলে ন্দ্রিা গেলে হয়ত দ্রিা ভঙ্গ হল না, তখন তাহাজ্জুদ নামায তরক হলেও তেমন ক্ষতি হয় না, কিন্তু সে সাথে বিতরের ওয়াজিব তরক হয়ে গেলে ভয়ানক গােনাহের কারণ হয়ে দাড়ায়।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত বাংলা উচ্চারণ | তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত কিভাবে করতে হয়

توی آن اصلی لله تعلی رکعتی صلوة التهجد سنة رسول الله تعالی متوجها الى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر *
বাংলা নিয়ত: আমি আল্লাহর ওয়াস্তে কেবলামূখী হইয়া দুই রাকাআত তাহাজ্জুদের সুন্নাত নামায আদায়ের নিয়ত করিলাম আল্লাহু আকবার।

নবীজী (স) যেভাবে তাহাজ্জুদ নামায আদায় করতেন

রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিম্মােক্ত নিয়মে তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। রাতে জাগরিত হয়ে অযু করত প্রথমে নিম্নের দোআটি পাঠ করতেন ।
দোয়াটি এই ও
اللهم رب جبرائيل وميكائيل واشرافيل قاطر السموات والأرض عالم الغيب والشهادت آنت تحكم بين عبادك فيما كانوا فيه يختلفون اهدني بما اختلفت فيه من الحق بعزك انك تهدي من تشاء إلى صراط مستقیم *
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা রাব্বা জিব্রাঈল ওয়া মীকাঈলা ওয়া ইস্রাফীলা ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা আলিমাল গাইবি ওয়াশ শাহাদাতি আনতা তাহকুমু বাইনা ইবাদিকা ফীমা কান ফীহি ইয়াখতালিফন ইহদিনী বিমা ইখলাফত ফীহি মিনাল। হাককি বিইযযিকা ইন্নাকা তাহদী মান তাশাউ ইলা সিরাতিম মুসতাকীম।
উল্লিখিত দোআ পাঠ করে নিম্নোক্ত কালেমাসমূহ প্রত্যেকটি দশবার করে। পড়তেন। 
১। (আল্লাহু আকবার) ১০ বার।
২। (আলহামদুলিল্লাহ) ১০ বার। 
৩। (সােবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী) ১০ বার। 
৪। ( আসতাগফিরুল্লাহ) ১০ বার।
৫। (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ) ১০ বার।
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিন দাইকিদ দুনইয়া ওয়া মিন দাইকি ইয়াওমিল কিয়ামাহ।

হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা (রাঃ) বলেন, হযরত নবী-করীম (সাঃ) রাত্রিতে। জাগিয়া (তাহাজ্জুদ নামায উপলক্ষে) এই দোয়া পড়িতেন ৷
لا اله الا انت سبحانك اللهم وبحمدك استغفرك ينبی وأسألك رحمتك اللهم زدنی علا ولاتزغ قلبي بعد اذه بتنی و هب لي من لدنك رحمه انك انت الوهاب . (رواه ابو
উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা, সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়াবিহাদিকা, আস্তাগফিরুকা লিজাবী ওয়া আসয়ালুকা রাহমাতাকা; আল্লাহুমা যিদুনী ইলমাও ওয়ালা তুযিগ কাবী বা'দা ইম্ হাদাইতানী, ওয়াহাবুলী মিল্লাদুনকা রাহমাতান, ইন্নাকা আন্তাল্ ওয়াহহাব।

অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া কোন মাবুদ নাই । তুমি অতি পবিত্র ; তােমাকে তােমার প্রশংসার সহিত স্মরণ করিতেছি ; তােমার দরবারে আমার গুনাহের জন্য ক্ষমা চাহিতেছি ; তােমার নিকট তােমার রহমত প্রার্থনা করিতেছি । হে আল্লাহ্ ! তুমি আমার জ্ঞান বাড়াইয়া দাও, আর আমার অন্তরকে তুমি সৎপথে। চালিত করার পর পুনরায় বাঁকা করিয়া দিও না (অর্থাৎ হেদায়াতের পথ হইতে ফিরাইয়া গােমরাহীর দিকে চালিত করিও না), আর আমাকে তােমার খাস রহমত বখশিশ কর ; তুমি নিশ্চয়ই সর্বশ্রেষ্ঠ বখশিশ দাতা।মহান আল্লাহ রাব্বল আলামীন যখন আকাশ-পৃথিবী, রাত-দিন তথা সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেন তখনই সবকিছুর নাম, সংখ্যা ইত্যাদি সুনির্দিষ্ট করে দেন। 

মূলতঃ মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষ ও জ্বিনজাতিকে একমাত্র তাঁর এবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর এ মানুষ ও জ্বিন জাতির কল্যাণ অর্থাৎ এবাদত বন্দেগীর জন্য সৃষ্টি করেছেন বছর, মাস, সপ্তাহ, দিন, ঘন্টা, মিনিট, সেকেণ্ড ইত্যাদি এবং কোন সময়, কোন দিনে, কোন মাসে কি ধরনের ইবাদত করতে হবে তাও নির্ধারিত করে দিয়েছেন। কখন আমল করতে হবে তা তাঁর প্রিয় হাবীব মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে আমল করিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।

আর্টিকেলের শেকথাঃ তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম | তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত বাংলা উচ্চারণ
বন্ধুরা আমরা এতক্ষন জেনে নিলাম তাহাজ্জুদ নামাজের হাদিস, তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত কি, তাহাজ্জুদ নামাজের সময়, তাহাজ্জুদ নামাজ মোট কত রাকাত, তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম ও তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত বাংলা উচ্চারণ এবং নবীজী (স) যেভাবে তাহাজ্জুদ নামায আদায় করতেন। যদি তোমাদের আজকের এই পোস্ট টি ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের মাঝে শেয়ার ও কমেন্ট করতে বুল্বেন না। আর এই রকম নিত্য নতুন পোস্ট পেতে আমাদের আর কে রায়হান ওয়েবসাইট টি ভিজিট করুন নিয়মিত।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url