লেখালেখি করে মাসে ৬ হাজার টাকা ইনকাম

ফেসবুকে লিংক শেয়ার করে ১০০০ টাকা আয়

সাহু সিজদার নিয়ম কি | কি কি ভুলের কারণে সাহু সিজদা দিতে হয়

হ্যালো বন্ধুরা। কেমন আছেন আপনারা। আশা করি ভালো আছেন। আমাদের আজকের বিষয় হলো সাহু সিজদার নিয়ম কি ও কি কি ভুলের কারণে সাহু সিজদা দিতে হয়

সাহু সিজদার নিয়ম কি  কি কি ভুলের কারণে সাহু সিজদা দিতে হয়
সাহু সিজদার নিয়ম কি  কি কি ভুলের কারণে সাহু সিজদা দিতে হয়

অনেক সময় ভুলবশত নামাজ ভুল হয়ে থাকে। তখন আমরা সাহু সিজদার মাধ্যমে সেই নামাজকে সংশোধন করে থাকি। নামাজ অনেক জায়গায় ভুল হতে পারে। সেটা হয়তো কোন সুরা বলতে গিয়ে ভুল বা সুরা ফাতিহার জায়গায় অন্য কোনো সুরা বলা বিভিন্ন ভুল হতে পারে। সেই জন্য আমরা আজকে আমাদের সাহু সিজদার নিয়ম কি ও কি কি ভুলের কারণে সাহু সিজদা দিতে হয় সেসব বিসয়ে জানবো। 

কারন আমরা পাচ ওয়াক্ত নামাজ যেনো সঠিক ভাবে পড়তে পারি এবং ভুল হলে সংশোধন করতে পারি সেই জন্য আমাদের আজকের এই সাহু সিজদার নিয়ম কি ও কি কি ভুলের কারণে সাহু সিজদা দিতে হয়।

সুচিপত্রঃ সাহু সিজদার নিয়ম কি | কি কি ভুলের কারণে সাহু সিজদা দিতে হয়

সাহু সিজদা কি

সাহু অর্থ ভুলে যাওয়া। নামাযের মধ্যে যে সব কাজ করা ওয়াজিব ঐগুলাের কোন একটি বা একাধিক ভুলে তরক হলে নামাযের যে ত্রুটি হয় তা সংশােনের জন্য নামাযের শেষ বৈঠকে ডান দিকে সালাম ফেরানাের পর অতিরিক্ত দুটি সেজদা আদায় করাকে সাহু সিজদা বলা হয়।

সাহু সিজদার নিয়ম কি | সাহু সিজদা করার নিয়ম

নামাজের শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু ...... আবদুহু ওয়ারাসূলুহু’ পর্যন্ত পড়িয়া। কেবলমাত্র ডান দিকে সালাম ফিরাইয়া অতঃপর আরও দুইটি সেজদা করিয়া পুনরায় শুরু হইতে আত্তাহিয়্যাতু পড়িবে এবং তৎসঙ্গে দুরূদসহ দোয়া মাছুরা মিলাইবে, তাহারপর যথারীতি দুই দিকে সালাম ফিরাইয়া নামাজ শেষ করিবে। এই নিয়মে সহু-সেজদা আদায় করিতে হয়। 

শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু'...আবদুহু ওয়া রাসূলুহ’ পর্যন্ত পড়ার পর যদি সহু-সেজদা করিতে মনে না থাকে এবং সালাম ফিরাইয়া নামাজ শেষ করিয়া থাকে, তাহা হইলেও যদি সালাম ফিরানাের পর ঐ স্থানেই বসা থাকে এবং শরীর কেলার দিক হইতে অন্য দিকে না ঘুরিয়া থাকে এবং কোনরূপ বাক্যালাপ না করিয়া থাকে, তবে তখনই সহু-সেজদা করিয়া লইবে। ইহাতেও নামাজ শুদ্ধ হইয়া যাইবে। আর যদি সহু-সেজদার কথা তখনও মনে না পড়িয়া থাকে, তবে নামাজ দোহরাইতে হইবে।—(আলমগিরী)

কি কি ভুলের কারণে সাহু সিজদা দিতে হয়

নামাযের ভিতর যত ওয়াজিব রয়েছে তার যে কোন একটি বা একাধিক ভুলবশতঃ যদি ছুটে যায়, তবে তার জন্য ছহু সেজদা দেয়া ওয়াজিব। এতে নামায জায়েয হয়ে যাবে। যদি ছহু সেজদা না দেয়, তবে পুনরায় নামায আদায় করতে হবে।

নামাযের কোন ফরয যদি ভুলে ছুটে যায় বা কোন ওয়াজিব ইচ্ছা কৃতভাবে। ছেড়ে দেয়, তবে তার ক্ষতিপূরণের কোন পন্থা নেই। অর্থাৎ এ অবস্থায় ছহু সেজদা দ্বারা নামায হবে না। তার পুনরায় নামায আদায় করতে হবে। 

০১. কেউ যদি ভুলে ডানে সালাম না ফিরিয়ে শুধু তাশাহহুদ পাঠ করে এমন কি, দুরূদ ও দোয়া প্রভৃতি পাঠ করে, ছহু সেজদা দেয় তথাপি ছহু সেজদা আদায় হবে এবং নামাযও জায়েয হবে।

০২. ভুলবশতঃ কেউ যদি দু’রু দিয়ে ফেলে কিংবা তিন সেজদা দিয়ে ফেলে, তবে তার ওপর ছহু সেজদা ওয়াজিব হবে।

০৩. ভুলবশতঃ কেউ যদি সূরা ফাতেহা পাঠ না করে কেবল অন্য সূরা পাঠ করে বা আগে অন্য সূরা পাঠ করে পরে সূরা ফাতেহা পাঠ করে, তাহলে ছহু সেজদা। ওয়াজিব হবে।

০৪. ফরয নামাযের প্রথম দু'রাক'আতে যদি সূরা মিলিয়ে পড়তে ভুলে যায়, তবে শেষের দু'রাক'আতে সূরা মিলায়ে পড়বে এবং ছহু সেজদা করবে। যদি প্রথম দু'রাক'আতের কোন এক রাক'আতে সূরা মিলিয়ে পড়তে ভুলে যায়, তবে তৃতীয় বা চতুর্থ রাক'আতে সূরা মিলিয়ে পড়বে এবং ছহু সেজদা করবে। যদি প্রথম দু'রাক'আতে সূরা মিলিয়ে পড়তে ভুলে গিয়ে থাকে এবং শেষের দু'রাক'আতেও মনে না হয় তাশাহহুদ পড়ার সময় মনে হয়, তবে তাশাহহুদ পড়ে ছহু সেজদা করবে, তাতেই নামায জায়েয হবে। 

০৫. বেতের, সুন্নত, নফল ইত্যাদি নামাযের সকল রাক'আতে সূরা মিলিয়ে পড়া। ওয়াজিব। কেউ যদি ভুলবশতঃ কোন রাক'আতে সূরা না মিলায়, তাহলে তার ছহু। সেজদা করতে হবে। 

০৬. কোন লােক যদি সূরা ফাতেহা পাঠ করার পর চিন্তা করতে শুরু করে যে, এর পর কোন সূরা বা কোন আয়াত পাঠ করবে। এমন চিন্তা করতে করতে যদি তিন বার “সুবহানাল্লাহ”পড়ার পরিমাণ সময় বিনা পড়ায় পার হয়ে যায়, তবে তার ওপর ছহু সেজদা করা ওয়াজিব হয়ে যাবে।

০৭. কোন লােক শেষ রাক'আতে তাশাহহুদ পড়ে সন্দেহবশতঃ চুপ থেকে চিন্তা। করতে থাকে যে, এটা তার তৃতীয় না চতুর্থ রাকআত ? অল্পক্ষণ চিন্তা করে স্ত্রীর করল যে, এটা তার চতুর্থ রাকআত। তারপর সালাম ফিরাল বা ততীয় রাকআত স্থির করে দাঁড়িয়ে আরাে এক রাক'আত আদায় করে নিতে প্রস্তুত হল, কিন্তু এ চিন্তা করার জন্য সে এত পরিমাণ সময় চুপ ছিল যে, ততক্ষণে তিনবার “সুবহানাল্লাহ” পাঠ করা যেত, এ জন্য তার ছহু সেজদা করতে হবে। 

০৮. কোন লােক যদি সূরা ফাতেহা পাঠ করে অন্য সূরা মিলিয়ে ভুলক্রমে কিছু চিন্তা করতে থাকে এবং সে ফাঁকে তিন বার “সুবহানাল্লাহ্” পাঠ করা যায় অথবা কারাে যদি রুকূতে গিয়ে মনে পড়ে যে, সূরা মিলিয়ে পড়তে ভুলে গেছে, তারপর রুকু হতে ওঠে সূরা মিলায়, তবে তার আবার রুকূ করতে হবে এবং এ উভয় অবস্থায় ছহু সেজদা করা ওয়াজিব। 

০৯. তদ্রুপ যদি কেউ কোন সূরা পাঠ করতে করতে আটকে যায় এবং চুপ করে দাঁড়িয়ে তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় চিন্তা করে বা দ্বিতীয় অথবা চতুর্থ রাক'আতে তাশাহহুদ পাঠ করতে বসে তা পাঠ না করে চিন্তা করে তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় বিলম্ব করে, কিংবা রুকু থেকে ওঠে দাঁড়িয়ে ভাবতে থাকে এবং এজন্য তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় দেরী হয় অথবা প্রথম সেজদা থেকে ওঠে চিন্তা করতে থাকে এবং তজ্জন্য দ্বিতীয় সেজদায় যেতে তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, তাহলে এ সব অবস্থায় ছহু সেজদা করা ওয়াজিব হবে। মােট কথা, ওয়াজিব ছুটে গেলে যেমন ছহু সেজদা ওয়াজিব হয়, অনুরূপ ভুলে বা চিন্তা করার। কারণে কোন ফরয বা ওয়াজিব আদায় করতে তিন তাসবীহ্ পরিমাণ সময়। অতিবাহিত হয়ে গেলে, তাতেও ছহু সেজদা ওয়াজিব হয়ে যাবে। 

১০. তিন বা চার রাকআত বিশিষ্ট ফরয নামাযের দ্বিতীয় রাক'আতে তাশাহহুদ পাঠ করতে বসে কেউ যদি ভুলবশতঃ তাশাহহুদ দু'বার পাঠ করে ফেলে, অথবা আত্তাহিয়্যাতু শেষ করে LLbjj পর্যন্ত বা আরাে বেশি দুরূদ শরীফ পাঠ করে ফেলে, অতঃপর মনে হওয়ার সাথে সাথে দাঁড়িয়ে যায়, তাতেও ছহু সেজদা ওয়াজিব হবে। এর কম পাঠ করলে ওয়াজিব হবে না।

১১. সুন্নাত ও নফল নামাযে দ্বিতীয় রাক'আতে আত্তাহিয়াতুর পর দুরূদ শরীফ পাঠ করাও দুরস্ত আছে। কাজেই নফল নামাযে দুরূদ শরীফ পাঠ করলে ছহু সেজদা করতে হবে না। কিন্তু নফল নামাযে তাশাহহুদ দু’বার পাঠ করে ফেললে ছহু সেজদা করতে হবে এবং এটা ওয়াজিব।

১২. তাশাহহুদ পাঠ করতে বসে যদি ভুলবশতঃ অন্য কিছু পাঠ করে, তাতেও ছহু। সেজদা ওয়াজিব হবে।

১৩. নামাযের নিয়্যত করে কেউ ভুলে সূরা ফাতেহা পাঠের বদলে দোয়া কুনূত বা তাশাহহুদ পাঠ করলে ছহু সেজদা ওয়াজিব হবে না। অনুরূপ যদি কেউ ফরয নামাযের তৃতীয় বা চতুর্থ রাক'আতে সূরা ফাতেহার স্থলে তাশাহহুদ বা সুবহানাকা অথবা যেমন (ফাতেহার পর সূরা) অন্য কিছু পাঠ করে, তাতেও ছহু সেজদা ওয়াজিব হবে না। 

১৪. তিন বা চার রাক'আত বিশিষ্ট ফরয নামাযের দ্বিতীয় রাকআতে বসা ওয়াজিব, কিন্তু যদি কেউ বসতে ভুলে গিয়ে তৃতীয় রাক'আতের জন্য দাঁড়াতে উদ্যত হয় এবং শরীরের নিম্নার্ধ সােজা হবার আগেই বসে যায়, তবে ছহু সেজদা করতে হবে না, কিন্তু যদি দেহের নিম্নার্ধ সােজা হয়ে যায়, তবে আর বসবে না, দাঁড়িয়ে তৃতীয় বা চতুর্থ রাকআত আদায় করবে এবং শেষ বৈঠকে ছহু সেজদা করবে। সােজা হয়ে দাঁড়ানাের পর বসে আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করলে গুনাহ হবে, কিন্তু নামায হয়ে যাবে এবং ছহু সেজদা ওয়াজিব হবে।

১৫. কোন লােক চতুর্থ রাকআতের পর বসতে ভুলে গিয়ে দাড়াতে উদ্যত হয়, সে দেহের নিম্নার্ধ সােজা হওয়ার আগে মনে হলে বসে যাবে এবং তাশাহহুদ, দুরূদ পাঠ করে সালাম ফেরাবে, ছহু সেজদা করতে হবে না। আর যদি সম্পূর্ণ দাড়িয়ে যাওয়ার পর মনে হয়, তথাপি বসে তাশাহহুদ পড়তে হবে, এমন কি সূরা ফাতেহার পর কিংবা রুকু করার পরও যদি মনে হয়, তবুও বসে তাশাহহুদ পড়তে হবে এবং ছই। সেজদা করতে হবে, কিন্তু যদি সেজদা করার পর মনে পড়ে, তবে আর বসবে না, পঞ্চম রাক'আত পূর্ণ করবে এবং আরাে এক রাক'আত আদায় করে ছয় রাক'আত পর্ণ করে সালাম ফেরাবে, কিন্তু এ অবস্থায় ফরয পুনরায় আদায় করতে হবে, এ নামায নফল হয়ে যাবে, ছহু সেজদা করতে হবে না। আর যদি ষষ্ঠ রাকআত না মিলিয়ে পঞ্চম রাক'আতে বসে সালাম ফিরায়, তাহলে এক রাকআত বাতিল হবে এবং অবশিষ্ট চার রাক'আত নফল হবে ; ফরয আবার আদায় করতে হবে।

১৬. যদি চতুর্থ রাক'আতে বসে তাশাহহুদ পড়ার পর ভুলে দাড়িয়ে যায় এবং পঞ্চম রাক'আতের সেজদা করার পূর্বে মনে হয়, তাহলে সাথে সাথে বসে তাশাহহুদ না পড়ে ডানে সালাম ফিরিয়ে ছহু সেজদা করবে, এরপর তাশাহহুদ পাঠ করে নামায শেষ করবে। আর যদি পঞ্চম রাক'আতের সেজদা করার পর স্মরণ হয়, তাহলে আরও এক রাকআত আদায় করে ছয় রাকআত পূর্ণ করবে ; এতে চার রাকআত ফরয এবং দু'রাক'আত নফল হবে এবং ছহু সেজদা করতে হবে। আর যদি পঞ্চম রাক'আতের সাথে ষষ্ঠ রাকআত না মিলিয়ে পঞ্চম রাকআতেই সালাম ফিরায় এবং ছহু সেজদা করে তাতেও নামায হয়ে যাবে, কিন্তু অন্যায় হবে। চার রাকআত ফরয হবে এবং এক রাকআত বাতিল হয়ে যাবে। 

১৭. কেউ চার রাক'আত নফল বা সুন্নত নামায আদায় করতে গিয়ে দু'রাক'আতের সময় বসতে ভুলে গেলে যে আর তৃতীয় রাক'আতের সেজদা করার পর মনে আসলে না বসে চার রাক'আত পূর্ণ করে বসবে। এ উভয় অবস্থায় নামায হয়ে যাবে, কিন্তু ছহু সেজদা করতে হবে।

১৮. যদি কোন লােকের নামাযের মধ্যে সন্দেহ হয় যে, চার রাক'আত কি তিন। রাক'আত আদায় করেছে, তাহলে দেখতে হবে যে, যদি কদাচ এরূপ সন্দেহ হয়, তাহলে নতুন নিয়্যত করে নামায পুনরায় আদায় করবে। আর যদি প্রায়ই তার এ ধরনের সন্দেহ হয়, তাহলে তার চিন্তা করে দেখতে হবে যে, তার মন তিন বা চার। এ দু’দিকের কোন দিকে বেশি ঝুঁকে কি না ? যদি এক দিকে বেশি ঝুঁকে, তাহলে তিন রাকআতের দিকে ঝুঁকলে তিন রাকআত ধরে আরও এক রাকআত নামায আদায় করে শেষ করবে। আর যদি চার রাকআতের দিকে ঝুঁকে, তাহলে চার রাকআত ধরে নামায শেষ করবে। এ ধরনের সন্দেহের কারণে ছহু সেজদা করতে হবে না। আর যদি দু' দিকেই সমান হয়, কোন দিকে মন না যায় এবং তিন বা চার রাকা'আত কোনটাই ঠিক করতে না পারে, তবে তিন রাকায়াত অর্থাৎ কমটাই ধরতে হবে, কিন্তু এ তৃতীয় রাকআতেও বসে তাশাহহুদ পাঠ করতে হবে। (কারণ হয়ত তা চতুর্থ রাক'আত হতে পারে) এরপর চতুর্থ রাক'আতেও বসে আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করে ছহু সেজদা করতে হবে। 

১৯. সন্দেহ যদি এরূপ হয় যে, প্রথম রাক'আত কি দ্বিতীয় রাক'আত ? তার হুকুম এরূপ হবে যে, কদাচ যদি এধরনের সন্দেহ হয়, তাহলে নতুন নিয়্যত করে পুনরায় নামায আদায় করতে হবে, অধিকাংশ সময়ে যদি এমন সন্দেহ হয়, তাহলে যে দিকে মন বেশী ঝুঁকবে, সেদিকটাকেই গ্রহণ করবে। যদি কোন দিকে মন না। | ঝুকে, উভয় দিকে সমান হয়, তাহলে এক রাক'আতই অর্থাৎ কমটাই ধর্তব্য। কিন্তু এ প্রথম রাক'আতে বসে তাশাহহুদ পড়বে, কারণ হয়তাে এটা দ্বিতীয়। রাক'আত হতে পারে এবং দ্বিতীয় রাক'আতের পরও বসে তাশাহহুদ পাঠ করবে। এবং এ রাক'আতে সূরাও মিলিয়ে পড়বে, কারণ এটাকে দ্বিতীয় রাক'আত সাব্যস্ত করা হয়েছে। অতঃপর ততীয় রাক'আতেও বসে তাশাহহুদ পাঠ করবে, কারণ এটা। হয়ত চতুর্থ রাক'আত হতে পারে। তারপর চতুর্থ রাক'আত আদায় করে বসবে। এবং তাশাহহুদ পড়বে ও ছহু সেজদাও করবে।

২০. দ্বিতীয় কি ততীয় রাক'আত হওয়ার ভেতর যদি সন্দেহ হয়, তাহলে তারও হুকুম এরূপ। যদি উভয় দিকের ধারণা সমান হয় তাহলে এ দ্বিতীয় রাকআতেও বসবে; কেননা, হয়ত এটা চতুর্থ রাক'আত হতে পারে, তারপর চতুর্থ রাক'আত আদায় করে ছহু সেজদা করে নামায শেষ করবে।

২১. নামায শেষ করার পর যদি এমন সন্দেহ হয় যে, তিন রাক'আত হয়েছে না কি চার রাক'আত ? তাহলে এ সন্দেহের কোন মূল্য নেই, নামায হয়ে গিয়েছে। অবশ্য যদি নির্ভুলভাবে স্মরণ থাকে যে, তিন রাক'আতই হয়েছে। তাহলে সাথে সাথে ওঠে আরও এক রাক'আত আদায় করবে এবং ছহু সেজদা করবে। এরপর সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করবে, এতেই নামায হয়ে যাবে, কিন্তু সালাম ফিরানাের পর যদি কথা বলে থাকে বা এমন কাজ করে থাকে, যাতে নামায ভঙ্গ হয়ে যায়, যেমন ঃ বেলা হতে ঘুরে বসা, তাহলে নতুন নিয়্যত করে সম্পূর্ণ নামায পুনরায় আদায় করতে হবে। দ্রুপ যদি শেষ আত্তাহিয়্যাতু পড়ার পর সন্দেহ হয়, তাহলে তারও হুকুম হল, সঠিকভাবে স্মরণ না হলে সে সন্দেহের কোন মূল্য নেই। অবশ্য যদি সঠিকভাবে স্মরণ হয় যে, এক রাক'আত কম হয়েছে। তাহলে আর এক রাক'আত আদায় করে ছহু সেজদা করে নামায শেষ করবে। যে সব অবস্থায় সন্দেহের কোন মূল্য নেই বলা হয়েছে, সে সকল অবস্থায়ও যদি কেউ উক্ত নামায শেষ করে মনের সন্দেহ দূর করার জন্য নতুন নিয়্যত বেঁধে নামায পুনরায় আদায়। করে, তবে তাে অতি উত্তম।

২২. এক নামাযে একবার মাত্র ছহু সেজদা করতে হবে। দু' কিংবা ততধিক ভুল হলেও একবার ছহু সেজদা করতে হবে। এক নামাযে দু'বার ছহু সেজদার দরকার হয় না।

২৩. এমন কি ছহু সেজদা করার পরও যদি ভুল হয়, তবুও পুনর্বার ছহু সেজদা করতে হবে না, ওই সেজদাই যথেষ্ট হবে।

২৪. কারাের হয়ত নামাযের মধ্যে এমন ভুল হয়েছিল, যার জন্য ছহু সেজদা ওয়াজিব হয়েছিল কিন্তু তা আদায় করতে ভুলে গিয়েছে, উভয় দিকে সালাম ফিরিয়ে ফেলেছে তবে যতক্ষণ সে কথা না বলবে বা বুক ক্বেবলা হতে না ঘুরাবে অথবা নামায ভঙ্গ হবার অন্য কোন কারণ পাওয়া না যাবে, ততক্ষণ ছহু সেজদা করতে। পারবে, এমন কি কেবলা মুখী হয়ে জায়নামাযের ওপর বসে অনেক্ষণ পর্যন্ত অজিফা পড়তে থাকে, তারপর ছহু সেজদার কথা স্মরণে আসে, তাহলে সাথে সাথে আল্লাহু আকবার বলে দু'টি সেজদা করে তাশাহহুদ, দুরূদ ও দোয়া পড়ে সালাম ফিরালে নামায হয়ে যাবে। এতে কোন দোষ হবে না। আর যদি নামায বিরুদ্ধ কোন কাজ বা কথার পর স্মরণ হয়, তাহলে নামায পুনরায় আদায় করতে হবে। | 

২৫. ছহু সেজদা ওয়াজিব হওয়ার পর যদি ইচ্ছা করে উভয় দিকে সালাম ফিরায়ে এ নিয়্যত করল যে, ছহু সেজদা করব না, তবুও যতক্ষণ পর্যন্ত নামায বিরুদ্ধ কোন কর্ম না পাওয়া যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত ছহু সেজদা করার এখতিয়ার থাকবে।

২৬. চার রাক'আত বা তিন রাক'আত বিশিষ্ট নামাযে যদি কেউ দু'রাক'আত আদায় করেই ভুলবশতঃ সালাম ফিরায়, তবে মনে হওয়া মাত্রই দাড়িয়ে নামায পূর্ণ করতে পারবে এবং ছহু সেজদা করবে, অবশ্য যদি সালাম ফেরানাের পর নামায বিরুদ্ধ কোন কাজ হওয়ার কথা মনে হয়, তবে নামায পুনরায় আদায় করতে হবে। 

২৭. বেতের নামাযের প্রথম বা দ্বিতীয় রাক'আতে কেউ ভুলে দোয়া কুনূত পাঠ করলে, এ পাঠের কোন মূল্য নেই, তৃতীয় রাক'আতে পুনরায় পাঠ করতে হবে। এবং ছহু সেজদা করতে হবে। 

২৮. বেতের নামাযে কোন ব্যক্তির যদি এমন সন্দেহ হয় যে, এটা কি দ্বিতীয় না ততীয় রাক'আত, আবার মনও কোন একদিকে বেশী ঝুঁকে না, উভয় দিকে সমান থাকে, তাহলে দু'রাক'আতই ধরতে হবে কিন্তু ওই দ্বিতীয় রাক'আতেও দোয়া। কুনূত পড়তে হবে, বসে তাশাহহুদ পাঠ করবে এবং এরপর যে আরও এক রাকআত আদায় করবে, সে রাকআতেও দোয়া কুনুত পাঠ করবে এবং শেষে ছহু সেজদা করবে।

২৯. বেতের নামাযে কেউ ভুলে দোয়া কুনুতের পরিবর্তে “সুবাহানাকা” পড়ল, অতঃপর মনে আসার পর পুনরায় দোয়া কুনূত পাঠ করল, তাহলে তাতে ছহু সেজদা করতে হবে না।

৩০. বেতের নামাযে যদি কেউ ভুলে দোয়া কুনূত পড়ে সূরা পড়ে রুকূতে চলে যায়, তাহলে রুকু থেকে ওঠে দাড়ায়ে আর দোয়া কুনূত পড়তে হবে না। রুকু সেজদা করে নামায শেষ করার পূর্বে ছহু সেজদা করবে।

৩১. নফল নামাযে সূরা ফাতেহার পর দু' বা দুয়ের অধিক সূরা পড়ায় কোন দোষ নেই। কিন্তু ফরয নামাযে সূরা ফাতেহার পর দু' বা তার অধিক সূরা পড়া ভাল নয়, কিন্তু যদি কেউ পড়েই ফেলে, তাহলে ছহু সেজদা করা ওয়াজিব হবে না। অথবা কেউ যদি পাঠ করতে করতে আটকিয়ে যায় এবং মুক্তাদীর লােকমা নিয়ে সমানে পড়ে যায় বা চলতে না পারায় অন্য সূরা পড়ে, তাহলেও ছহু সেজদা ওয়াজিব হবে না।

৩২. ফরয নামাযের শেষার্ধে অর্থাৎ তৃতীয় বা চতুর্থ রাক'আতে সূরা মিলিয়ে পড়ার। বিধান নেই, কিন্তু কেউ যদি মিলায়ে, তাতে নামাযের কোন ক্ষতি হবে না, ছহু। সেজদাও ওয়াজিব হবে না।

৩৩. ফরয নামাযের শেষার্ধে অর্থাৎ তৃতীয় ও চতুর্থ রাক'আতে সূরা ফাতেহা পড়া ওয়াজিব নয়, সুন্নাত। কাজেই কেউ যদি ভুলবশতঃ সূরা ফাতেহা পাঠ না করে কিছু সময় চুপ করে দাড়িয়ে থেকে রুকু সেজদা দিয়ে নামায শেষ করে, তাহলে তাতে ছহু সেজদা ওয়াজিব হবে না।

৩৪. ভুলবশতঃ ওয়াজিব ছুটে গেলে ছহু সেজদা ওয়াজিব হয়। যদি কেহ ইচ্ছাপূর্বক এরূপ করে, তবে তাতে ছহু সেজদা ওয়াজিব হবে না, যদি ছহু সেজদা করে, তবুও নামায হবে না, নামায পুনরায় আদায় করতে হবে। যে সকল কাজ নামাযের মধ্যে ফরয বা ওয়াজিব নয়, তা ভুলক্রমে তরক করলে ছহু সেজদা ওয়াজিব হবে না এবং নামায পুনরায় আদায় করার আবশ্যকতা নেই। এভাবে ভুলে কোন ফরয ছুট গেলে ছহু সেজদা ওয়াজিব হবে না, বরং নামায পুনরায় আদায় করতে হবে।

৩৫. যে সব নামাযে ক্রাে'আত মনে মনে পড়া ওয়াজিব, যেমন ঃ যুহর, আসর ও দিনের নফল ও সুন্নাত ইত্যাদি নামাযে কেউ যদি ভুলক্রমে উচ্চৈঃস্বরে কেরায়াত পাঠ করে, তবে ছহু সেজদা ওয়াজিব হবে। কিছু দু’এক শব্দ যদি কিছুটা উচ্চৈঃস্বরে বের হয়ে যায়, তাতে ছহু সেজদা ওয়াজিব হবে না। এভাবে যে সব নামাযে ইমামের উচ্চৈঃস্বরে কেরায়াত, পড়া ওয়াজিব, যেমন ঃ ফজর, মাগরীব ও এশার প্রভৃতি নামাযে যদি ভুলবশতঃ মনে মনে কেরাআত পাঠ করে তাহলে ছহু সেজদা ওয়াজিব হবে, কিন্তু দু'এক শব্দ যদি অনুচ্ছ কণ্ঠে পাঠ করে বা একাকী নামাযী যদি সমস্ত নামাযেই কেরাত আস্তে আস্তে পাঠ করে, তাতে ছহু সেজদা ওয়াজিব হবে না।

নামাযের শেষে মুনাজাত করা 

মুনাজাত নামাযের অংশ নয়। সালাম ফিরানাের সাথে সাথে নামায শেষ হয়ে যায়। এরপর ইচ্ছে করলে মুনাজাত না করেই বাকী নামায আদায় করা যায় (যদি কোন নামায বাকী থাকে)। আর ইচ্ছে করলে সালাম ফিরানাের পর নিজ কাজে বের হয়ে যাওয়া যায়।

মুনাজাতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়া হয়। আল্লাহ তায়ালার নিকট বান্দা যত চাবে মহান আল্লাহ বান্দার উপর ততই খুশী হন। মুনাজাতের মাধ্যমে একথাই প্রকাশ করা হয় যে, মহান আল্লাহ পাক হলেন মানুষের প্রভু আর মানুষ হলাে তার গােলাম । মানুষের কিছুই করার ক্ষমতা নেই মহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত । 

মানুষ অক্ষম, অপারগ, ক্ষমতাহীন। সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হলেন একমাত্র আল্লাহ পাক। পবিত্র কুরআনে কারীমে মহান আল্লাহ পাক সূরা ফাতিহার ভিতরেই শিক্ষা দিয়েছেন “ইয়্যাকা না'বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন।” অর্থাৎ (হে আল্লাহ !) আমি একমাত্র তােমারই ইবাদত করি, আর একমাত্র তােমারই নিকট সাহায্য চাই। তুমি ব্যতীত আমাকে সাহায্য করার কেউ নেই। 

সুতরাং নামাযের পর বা অন্য কোন ইবাদত করার পর কেউ যদি নামায কবুল হওয়ার জন্য কিংবা মহাপ্রভুর শাহী দরবারে নিজের আশা-আকাঙ্খা, চাওয়া ও পাওয়া নিয়ে দু'আ ও মুনাজাত করে তাহলে তাতে কোন দোষ নেই। তবে নামাযের সালাম ফিরানাের পর মুনাজাত করতেই হবে এমন ধারণা করা ঠিক নয়। 

আবার কেউ যদি মুনাজাত করতে চান তাহলে এটাকে বিদআত বলে আখ্যায়িত করে মুসলমানদের মধ্যে ফেতনা-ফাসাদ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাও অনুচিত। তবে ইমাম হলে মুনাজাতের সময় মুক্তাদিদের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত যে, দীর্ঘ মুনাজাত যেন মুক্তাদিদের মধ্যে বিরক্তি কিংবা কষ্টের কারণ না হয়। কেননা মুক্তাদিদের মধ্যে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন সমস্যা বা ওযর থাকতে পারে। 

এছাড়া জামাআত শেষে দীর্ঘ স্বরে ইমামের মুনাজাত করা উচিত নয়। কারণ এতে মাসবুকের নামাযে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। তাই ইমামের চুপে চুপে এবং সংক্ষিপ্তভাবে মুনাজাত করা উচিত। লম্বা মুনাজাত করতে হলে অন্যকে কষ্ট না দিয়ে একাকী করাই উত্তম। মহানবী (সঃ) ফরয নামায শেষে এভাবে হাত তুলে মুনাজাত করেছেন বলে কোন সহীহ। হাদীসে পাওয়া যায় না। তবে অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম এটাকে জায়েয বলে। মনে করেছেন।

আর্টিকেলের শেষকথাঃ সাহু সিজদার নিয়ম কি | কি কি ভুলের কারণে সাহু সিজদা দিতে হয়

আমরা আজকে জানলাম সাহু সিজদার নিয়ম কি ও কি কি ভুলের কারণে সাহু সিজদা দিতে হয়। আশা করি আমাদের আজকের এই আরটিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। যদি ভালো লাগে তাহলে নিচে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। আর এই রকম নিত্য নতুন টপিক পেতে আমাদের আরকে রায়হান ওয়েবসাইট টি ভিজিট করুন। ধন্যবাদ।

সাহু সিজদার নিয়ম, সাহু সিজদার নিয়ম কি, সাহু সিজদা করার নিয়ম, সাহু সিজদা দিতে ভুলে গেলে, সাহু সিজদা, সাহু সিজদার নিয়ম কয়টি, সাহু সিজদা কেন দিতে হয়, কি কি কারনে সাহু সিজদা দিতে হয়, সাহু সিজদা কি, সাহু সিজদা কিভাবে করতে হয়, সাহু সিজদা কখন করব কিভাবে করব, সাহু সিজদা কখন ওয়াজিব হয়, কি কি ভুলের কারণে সাহু সিজদা দিতে হয়, সাহু সিজদা pdf, সাহু সিজদা কয়টা দিতে হয়, নামাজে সাহু সিজদা দিতে হয় কেন, সাহু সিজদা দেওয়ার নিয়ম, সাহু সিজদা কাকে বলে, সাহু সিজদা অর্থ কি, সাহু সিজদা করার সঠিক নিয়ম, সাহু সিজদার সঠিক পদ্ধতি, কখন সাহু সিজদা দিতে হয, সাহু সিজদা কখন দিতে হয়, সাহু সিজদা কয়টি, নামাজে সাহু সিজদার নিয়ম, সুন্নত নামাজে সাহু সিজদা, সাহু সিজদার সহিহ নিয়ম, সাহু সিজদার সঠিক নিয়ম, সাহু সিজদা কিভাবে দিতে হয়, নামাজে কখন সাহু সিজদা দিতে হয়, সাহু সিজদার নিয়ম, সাহু সিজদাহ, নামাজে সাহু সিজদা কখন ওয়াজিব হয়, সাহু সিজদার মাসআলা, সাহু সিজদার সঠিক নিয়ম কি, নামাজে সাহু সিজদা, ঈদের নামাজে সাহু সিজদা, সাহু সিজদা কখন করতে হয়, সাহু সিজদার হাদিস, নামাজে কি কি ভুল হলে সাহু সিজদা দিতে হয়, নামাজে ভুল হলে সাহু সিজদা, কি কি কারণে সাহু সিজদা দিতে হয়, sahu sijdar niyom, 

Next Post Previous Post