প্রবাদ কাকে বলে উদাহরণসহ লিখ
প্রবাদ কাকে বলে? উদাহরণসহ লিখ
![]() |
| প্রবাদ কাকে বলে উদাহরণসহ লিখ |
উত্তর : প্রবাদ লোকসাহিত্যের অন্যতম বিশিষ্ট শাখা। লোকসাহিত্যের শাখাগুলোর মধ্যে প্রবাদ সমকালকে সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করে আছে। 'proverb' শব্দটির অনুকরণে ধ্বনিগত সাদৃশ্য রেখে বাংলা প্রবাদের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রবাস বলতে বোঝায় মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার একটি সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি। কোন প্রাচীন কালের অভিজ্ঞাতার মাধ্যমে যে প্রবাদের ব্যবহার যুগ যুগ ধরে আবেদন ও উপযোগীতার প্রমাণ করে চলেছে। আধুনিক যুগে সব ধরনের রচনায়-
যেমন কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস, নাটক, সংবাদপত্র, বিজ্ঞাপন এবং মৌখিক সংলাপে, আলোচনা, বক্তৃতা, দৈনন্দিন কথাবার্তা প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রবাদের অহরহ-নানামাত্রিকতায় ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
ফরাসি পণ্ডিত প্রবাদের সংজ্ঞায় বলেন, “প্রবাদ অভিজ্ঞতার স্ফটিকীকৃত রূপায়ণ।”
এ্যারিস্টটল এর মতে, "সমাজের প্রবীণ মানুষের বুদ্ধির সার-সংক্ষেপ হলো প্রবা
দার্শনিক বেকন প্রবাদ সম্পর্কে বলেন, “প্রবাদ হলো একটি জাতির মেধা, বুদ্ধি ও চৈতন্যের প্রতিফলন।”
আর্চার টেলর প্রবাদের সংজ্ঞায় বলেন, “প্রবাদ হলো ঐতিহ্যাশ্রিত নীতিশিক্ষামূলক নিটোল উক্তি, এত একের বুদ্ধি ও বছর জ্ঞান নিহিত আছে।”
ডবলিউ. সি হ্যাজলিট-এর মতে, “প্রবাদ হলো লোকমনে ব্যাপ্ত সত্যের প্রকাশ।” - প্রবাদ লোকসাহিত্যের ক্ষুদ্রতম রচনা। প্রবাদ বলতে বুঝায় মানুষের দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতার একটি সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি। প্রবাদে আছে জ্ঞান ও সত্য প্রচারের চেষ্টা, আছে বক্তব্যকে রসাত্মক করে প্রকাশ করার জন্য সংযত শব্দবিন্যাস।
একটি সংক্ষিপ্ত বাক্য থেকে ছন্দোবদ্ধ দুই চরণ পর্যন্ত প্রবাদের অবয়বগত ব্যাপ্তি। বাংলা সাহিত্যে রয়েছে প্রবাদের সুবিশাল ভাণ্ডার। ১৮৭২ সালে জেমস লঙ-২৩৫৮টি প্রবাদ সংগ্রহ করেন। এরপর আশুতোষ ভট্টাচার্য 'বাংলার লোকসাহিত্য' গ্রন্থে ৬ষ্ঠ খণ্ডে ১২৫০৭টি প্রবাদ সংগ্রহ করেন।
এছাড়াও ড. ওয়াকিল আহমেদ ১৯৯৪ সালে অজস্র প্রবাদ প্রবচন উদ্ধার করেন। এগুলো বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে। কয়েকটি নমুনা এখানে তুলে ধরা হলো :
১.গরু মেরে জুতা দান ।
২.পরের মাথায় কাঁঠাল ভাঙা।
৩. অতি চালাকের গলায় দড়ি।
৪. পরের পিঠে বড় মিঠে।
৫. চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।
৬. জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ ।
৭. এ চিড়া বল পিঠা বল ভাতের মত না,
খালা বল ফুফু বল মায়ের মত না।
আসলে প্রবাদ হলো সংক্ষিপ্ত বাক্যে প্রকাশক একটি জাতির ঐতিহ্যাশ্রিত দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ফসল, পরিণত বুদ্ধি, নিটোল নীতিবাক্য এবং লোকমনে অলিখিত সত্যকথন। লোকসাহিত্য বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণ আসন লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। লোকসাহিত্য বাংলা ভাষাকে করেছে বৈচিত্র্যমণ্ডিত। তাই এর সযত্ন সংরক্ষণ ও লালনপালন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জন্য অপরিহার্য।
