গীতিকা কাকে বলে

গীতিকা কাকে বলে

গীতিকা কাকে বলে
গীতিকা কাকে বলে

উত্তর : গীতিকা বাংলা লোকসাহিত্যের একটি প্রধান ও জনপ্রিয় শাখা। যে গাথার মধ্যে একটি দীর্ঘ পর্যায়ক্রমিক জটিল কাহিনী থাকে তাকে সাধারণত গীতিকা বলা হয়ে থাকে। গ্রাম্য জীবনের পটভূমিতে লালিত বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ যেমন জমিদার, দেওয়ান, কাজি, মোড়ল, বণিক, কুটনি, বেদে, জেলে, পীর, ডাকাত, গোয়ালিনি প্রভৃতি শ্রেণি-পেশার মানুষদের নিয়ে গীতিকাগুলো রচিত হয়েছে । গীতিকা তাই মানবজীবনাশ্রিত একটি লোকসাহিত্য শাখা ।

গীতিকার বিষয়বস্তুর মধ্যে যে বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সেটা হলো আঞ্চলিকতার প্রাধান্য। গীতিকাগুলোর শ্রেণিবিভাগের মধ্যে মৌলিকতার প্রভেদ নেই-এর পরিণতি বিয়োগান্তক। পুরো মধ্যযুগে বিয়োগান্তক গীতিকা রচিত হয়েছে ।

গীতিকার কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো— গীতিকায় ঘটনা মুখ্য কাহিনী থাকবে, কাহিনী সংকটপূর্ণ হতে হবে, ঘটনাও সংলাপের ভিতর দিয়া কাহিনি অগ্রসর হবে, গীতিকা রচনাকালে লেখককে সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত থাকতে হবে। গীতিকার চরিত্রগুলো সাধারণত নাটকের মতো স্বতন্ত্রপূর্ণ না হয়ে বিশেষ আদর্শ অনুযায়ী রূপায়িত হয়। তবে ক্রিয়া বা action গীতিকার মূল আকর্ষণ । 

গীতিকাগুলো গান হিসেবে গাওয়ার জন্যই রচিত। কিন্তু এতে গানের সুরের চেয়ে কাহিনীই প্রাধান্য পায়  বাংলায় যে সমস্ত গীতিকা পাওয়া যায় তা হলো :

১. নাম গীতিকা-শূন্যপুরাণ গৌরাঙ্গ বিজয়।

২. মৈমনসিংহ গীতিকা ও পূর্ববঙ্গ গীতিকা সবচেয়ে জনপ্রিয় আমাদের দেশে দুটি ধারাতে গীতিকার প্রভাব : 

ক. রোমান্স-অনেকে মনে করেন গীতিকাগুলো রোমান্সের ভগ্নাংশ।

খ. উপন্যাস-বাংলা উপন্যাসগুলোতে গীতিকার প্রভাব আছে। 

উদাহরণ : নাম গীতিকা :

                                                  না যাইও না যাইও রাজা দূর দেশান্তর। 

                                               কার লাগিয়া বান্ধিলাম শীতলমন্দির ঘর ॥”

 মৈমনসিংহ গীতিকা :

                                                 “জল ভর সুন্দরী কইন্যা জলে দিছ ঢেউ

                                                     হাসি মুখে কওনা কথা সঙ্গে নাই মোর কেউ। 

                                                            “নাহি আমার পিতামাতা গর্ভসুদর ভাই /

                                                                    সুতের শেওলা অইয়া ভাইসা বেড়াই

পূর্ববঙ্গ গীতিকা :

                                                               আমির সাধুর কথা শুনি ভেরুয়া সুন্দরী

                                                                কাঁদিতে লাগিল সাধুর দো পায়েতে ধরি

মানবিক আবেদন, সত্য ভাষণ, প্রণয়ের অমর মহিমা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, অপূর্ব সৌন্দর্য ও কাব্যমূল্য প্রভৃতির দিক থেকে মৈয়মনসিংহ গীতিকা'গুলো বাংলা সাহিত্যে এক উজ্জ্বল সংযোজন। 

সামন্তরূপ এক স্থবির অচঞ্চল ও গতিহীন সমাজ কাঠামোর সীমাবদ্ধ গণ্ডির মধ্যে আবর্তিত মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, ব্যথা-বেদনার বাস্তবতা এবং মননমুক্তির প্রবল আকাঙ্ক্ষাই গীতিকাগুলোতে পরম আন্তরিকভাবে বিধৃত হয়েছে।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ