ভ্রমরকে কমলাকান্ত তালপাখা দিয়ে তাড়িয়ে দিলেন কেন?
ভ্রমরকে কমলাকান্ত তালপাখা দিয়ে তাড়িয়ে দিলেন কেন?
![]() |
| ভ্রমরকে কমলাকান্ত তালপাখা দিয়ে তাড়িয়ে দিলেন কেন? |
উত্তর : ফুল ফুটল তারা হাসল। কমলাকান্ত কিছু মনে করতে না করতে, ফুটন্ত ফুল দেখে তোমরের দল, লাখে লাখে ঝাকে ঝাকে, ভোমরা বোলতা মৌমাছি বহুবিধ রসক্ষেপা রসিকের দল, এসে তার দ্বারে উপস্থিত হলেন। তখন গুন গুন ন ভন ঝন ঝন ঘ্যান ঘ্যান করে হাড় জ্বালাতে আরম্ভ করলেন।
তাদেরকে অনেক বুঝিয়ে বললেন যে, “হে মহাশয়গণ। এ মতা নহে, সমাজ নহে, এসোসিয়েশন, লীগ সোসাইটি, ক্লাব প্রভৃতি কিছুই নহে কমলাকান্তের পর্ণকুটীর মাত্র, আপনাদিগের ঘ্যান ঘ্যান করতে হয়, অন্যত্র গমন করুন আমি কেনা রিজলিউশ্যনই দ্বিতীয় করতে প্রস্তুত নহি; আপনারা স্থানান্তরে প্রস্থান করুন। ধন গুনের দল, তাহাতে কোন মতে সম্মত নহে বরং ফুলগাছ ছেড়ে আমার কুটিরের ভিতর হয়া করতে আরম্ভ করেছে।
এ মাত্র আপনাকে এক পত্র লিখতে প্রবৃত্ত হতেছিলাম সময়ে এক ভ্রমর কুচকুচে কালো আসল বৃন্দাবনী কালচাদ, ভোঁ করে ঘরের ভিতর উড়ে আসিয়া কানের কাছে ঘ্যান ঘ্যান আরম্ভ করলেন লিখিব কি, মহাশয়?” ভ্রমর বাবাজি নিশ্চিত মনে করেন, তিনি বড় সুরসিক বড় সম্বক্তা তাঁহার ঘ্যান ঘ্যানাতিতে আমার সর্বাঙ্গ জুড়িয়ে যাবে। আমারই ফুলগাছের পাপড়ি ছিঁড়ে এসে আমারই কানের কাছে ঘ্যান ঘ্যান? আমার রাগ অসহ্য হয়ে উঠল; আমি তালবৃতান্ত তালবৃত্ত হস্তে ভ্রমরের সাথে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হলাম।
তখন আমি ঘূর্ণন, বিঘূর্ণন, সুঘূর্ণন প্রভৃতি বহুবিধ বক্রগতিতে সঞ্চালন করতে লাগলাম । ভ্রমরও ডীন, উড্ডীন, প্রঙীন, সমাডীন প্রভৃতি বহুবিধ কৌশল দেখাতে লাগল।
