নীল দর্পণ নাটক ট্র্যাজেডি হিসেবে কতটা সফল আলোচনা কর

নীল দর্পণ' নাটক ট্র্যাজেডি হিসেবে কতটা সফল।” –আলোচনা কর 



গ্রিক ট্র্যাজেডি ও শেক্পীয়রের ট্র্যাজেডি উভয় ক্ষেত্রে নিয়তির সাথে যে মহৎ নায়কের সংঘাতের ফলে নাটকের পরিণতিতে নায়কের হাহাকার বা মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ট্র্যাজেডি নেমে আসে, কিন্তু 'নীল দর্পণ' নাটকে তেমন নায়কের দেখা মেলে না।   এখানে আছে মানুষে-মানুষে অর্থাৎ দুটি অসমশক্তি সম্পন্ন শিবির এ সংঘর্ষে লিপ্ত। যে ব্যক্তি চরিত্রের ট্র্যাজেডি নাটককে ট্রাজিক করে তা এখানে অনুপস্থিত। নবীন মাধবকে যদি এ নাটকের নায়ক বলা হয়, তবে স্পষ্ট যে ট্র্যাজিক হিরোর স্বরূপ তার মধ্য দিয়ে উদঘাটিত হয় না। কারণ নাট্যকার নবীন মাধবকে রক্তমাংসের জীবন্ত চরিত্র করে তুলতে পারেন নি ।

উত্তর: গ্রিক ট্র্যাজেডি ও শেক্পীয়রের ট্র্যাজেডি উভয় ক্ষেত্রে নিয়তির সাথে যে মহৎ নায়কের সংঘাতের ফলে নাটকের পরিণতিতে নায়কের হাহাকার বা মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ট্র্যাজেডি নেমে আসে, কিন্তু 'নীল দর্পণ' নাটকে তেমন নায়কের দেখা মেলে না।

 এখানে আছে মানুষে-মানুষে অর্থাৎ দুটি অসমশক্তি সম্পন্ন শিবির এ সংঘর্ষে লিপ্ত। যে ব্যক্তি চরিত্রের ট্র্যাজেডি নাটককে ট্রাজিক করে তা এখানে অনুপস্থিত। নবীন মাধবকে যদি এ নাটকের নায়ক বলা হয়, তবে স্পষ্ট যে ট্র্যাজিক হিরোর স্বরূপ তার মধ্য দিয়ে উদঘাটিত হয় না। কারণ নাট্যকার নবীন মাধবকে রক্তমাংসের জীবন্ত চরিত্র করে তুলতে পারেন নি । 


গ্রিক ট্র্যাজেডি ও শেক্পীয়রের ট্র্যাজেডি উভয় ক্ষেত্রে নিয়তির সাথে যে মহৎ নায়কের সংঘাতের ফলে নাটকের পরিণতিতে নায়কের হাহাকার বা মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ট্র্যাজেডি নেমে আসে, কিন্তু 'নীল দর্পণ' নাটকে তেমন নায়কের দেখা মেলে না।

 এখানে আছে মানুষে-মানুষে অর্থাৎ দুটি অসমশক্তি সম্পন্ন শিবির এ সংঘর্ষে লিপ্ত। যে ব্যক্তি চরিত্রের ট্র্যাজেডি নাটককে ট্রাজিক করে তা এখানে অনুপস্থিত। নবীন মাধবকে যদি এ নাটকের নায়ক বলা হয়, তবে স্পষ্ট যে ট্র্যাজিক হিরোর স্বরূপ তার মধ্য দিয়ে উদঘাটিত হয় না। কারণ নাট্যকার নবীন মাধবকে রক্তমাংসের জীবন্ত চরিত্র করে তুলতে পারেন নি । 

তাই অসম শক্তির মধ্যে সংঘাতের সৃষ্টি হওয়ায় অত্যাচারীর প্রতি অত্যাচারিতের প্রতিরোধ যথেষ্ট তীব্র নয়। তদুপরি মৃত্যুর ঘনঘটা নাটকের ট্রাজিক রসকে খর্ব করেছে। নাট্যকারের একটি বিশেষ উদ্দেশ্য সিদ্ধির কারণেই 'নীল দর্পণ' নাটকে অনেকগুলো মৃত্যু সংঘটিত হয়েছে। কারণ নাট্যকারের প্রধান উদ্দেশ্য নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা। 

তাই তিনি নাটকে নীলকরদের অত্যাচার, উপদ্রুত কৃষক সমাজের দুঃখ-দুর্দশা এবং কয়েকটি শোকাবহ মৃত্যুর দৃশ্যকে সুস্পষ্ট রেখায় চিত্রিত করেছেন। ফলে ট্র্যাজেডির গভীর ও সূক্ষ্মরস বিঘ্নিত হয়েছে। গোলকবসুর আত্মহনন, নবীন মাধব, সাবিত্রী, সরলতা ও ক্ষেত্রমণির মৃত্যু দর্শক ও পাঠকের সূক্ষ্ম রসবোধকে ব্যাহত করে মনকে ভীতগ্রস্ত করে তোলে। 

এতে ট্র্যাজেডির রসসৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটেছে। তাছাড়া ট্র্যাজেডি হচ্ছে এক ধরনের রসসৃষ্টি যা দর্শকের মনে করুণা ও ভয় উদ্রেক করে দর্শকমনে ভাবমোক্ষণে সহায়তা করে। এই ভাবমোক্ষণই নাটকের আনন্দ। তাই ট্র্যাজেডির স্থায়ী ভাব করুণা ও ভয়। 'নীল দর্পণ' নাটকে কেবল ভীতির সৃষ্টি হয়েছে, ফলে এ নাটক সার্থক ট্র্যাজেডির মর্যাদা পায় নি ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ