নবীন মাধবের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও

 



নবীন মাধবের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও 

নবীন মাধবের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও
নবীন মাধবের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও 

উত্তর: স্বরপুর গ্রামের বর্ধিষ্ণু কৃষক গোলকবসুর জ্যেষ্ঠ পুত্র নবীন মাধব। সে পরোপকারী, ন্যায়বান, পিতৃভক্ত, দরিদ্র কৃষকদের রক্ষায় তার জীবন উৎসর্গীকৃত। পরদুঃখকাতরতা ও তেজস্বিতা নবীন মাধবের অন্যতম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। নীলকরগণ কৃষকদেরকে জোর করে দাদন দিয়ে ভাল ভাল জমিতে নীল চাষের সব রকম চেষ্টা চালাত। নবীন মাধব কৃষকদের উপরে নীলকরদের এই অন্যায় অবিচারের প্রতিবাদ করেছে, এমনকি অসহযোগিতার কথাও ঘোষণা করেছে।

 কৃষকের প্রতি সহমর্মিতার সাথে সাথে তাদের কল্যাণার্থে নবীনমাধবের বুকে সাহসেরও কমতি নেই। সাধুচরণের কথায় আমরা তার সাহসিকতার বিষয়টি জানতে পাই- “বড়বাবুর কিন্তু ভ্যালা সাহস। সে সাহেবকে স্পষ্ট বলেছে- আমার গত সনের ৫০ বিঘা নীলের দাম চুকাইয়া না দিলে এ বৎসর এক বিঘাও নীল করিব না, এতে প্রাণ পর্যন্ত পণ, বাড়ী কি ছার।”


নবীন মাধব কুঠিয়ালদের থোরাই কেয়ার করে। ক্ষেত্রমণির মায়ের কাছে যখন সে শুনতে পায় যে তাকে নীলকরদের কুঠিতে ধরে নিয়ে গেছে, তখন সে বলেছে, “পিতার স্বরপুর বৃকোদর জীবিত থাকিতে কুলকামিনী অপহরণ। এই মুহূর্তেই যাইব— কেমন দুঃশাসন দেখিব, সতীত্ব শ্বেত উৎপল নীল মণ্ডূক কখনই বসিতে পারিবে না।” এবং শেষ পর্যন্ত তোরাপের সহায়তায় সে রোগ সাহেবের কক্ষ থেকে নির্যাতিতা ক্ষেত্রমণিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। 

শুধু নিজের স্বার্থ সংরক্ষণে নয় গ্রামবাসীর স্বার্থের বিষয়েও সে সাহেবদের কাছে অনুনয়ও করেছে, “আমি আপনাকে ৫০ টাকা সেলামি দিতেছি, এ বৎসর এ স্থানটায় নীল করবেন না।” কিন্তু কুঠিয়াল সাহেব তার পায়ের জুতা নবীন মাধবের হাটুতে ঠেকালে নবীন মাধবের চক্ষু রক্তবর্ণ হল, অঙ্গ থরথর করে কাঁপতে লাগল, দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়াতে লাগল এবং সজোরে সাহেবের বুকে এমন একটি পদাঘাত করল যাতে সাহেব চিৎ হয়ে পড়ল ।


উড উঠেই জমাদারের হাত থেকে লাঠি নিয়ে নবীন মাধবের মাথায় আঘাত করে। নবীন মাধব চেতনা হারিয়ে ফেলে। তোরাপ তাকে সেখান থেকে নিয়ে আসে, অতঃপর সে মারা যায়। নবীন মাধব লেখকের প্রীতি প্রতিকা। ফলে সে মায়ের দুলাল, পিতার নয়নমণি, পত্নীর কণ্ঠহার গ্রামবাসীর প্রিয়। গণনাটক হিসেবে 'নীল দর্পণ' নাটকের নায়ক একটি দল, নবীন মাধব ছিল সেই দলের দলপতি।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ