জালালাবাদের ফল ও ফলের দোকান সম্বন্ধে সংক্ষেপে বর্ণনা কর
জালালাবাদের ফল ও ফলের দোকান সম্বন্ধে সংক্ষেপে বর্ণনা কর ।
![]() |
| জালালাবাদের ফল ও ফলের দোকান সম্বন্ধে সংক্ষেপে বর্ণনা কর |
উত্তর : জালালাবাদ আফগানিস্তানের শীতকালের রাজধানী। তাই এখানে রাজপ্রাসাদ আছে, সরকারি কর্মচারীদের জন্য খাস পান্থনিবাস আছে।
বেতারবাণী যখন বলেছেন, তখন নিশ্চয়ই আছে, কিন্তু উপস্থিত জালালাবাদের বাজার দেখে আফগানিস্তানের অন্যতম প্রধান নগর সম্বন্ধে উচ্ছ্বসিত হওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। সেই নোংরা মাটির দেওয়াল, অত্যন্ত গরিব দোকানপাট সস্তা জাপানি মালে ভর্তি বিস্তর চায়ের দোকান, আর অসংখ্য মাছি। হিমালয়ের চট্টিতে মানুষ যে রকম মাছি সম্বন্ধে নির্বিকার, এখানেও ঠিক তাই।
হঠাৎ আখ দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল। চৌকো চৌকো করে কেটে দোকানের সামনে সাজিয়ে রেখেছে এবং তার উপরে দুনিয়ার সব মাছি বসাতে চেহারাটা চালে তিলের মতো হয়ে গিয়েছে। ঘৃণা ঝেড়ে ফেলে লেখক সেই আখ কিনলেন এবং খেয়ে দেখলেন, দেশের আখের চেয়েও মিষ্টি।
সাধে কি বাবুর বাদশা এ আখ খেয়ে খুশি হয়ে তার নমুনা বদখশনা বুখরায় পাঠিয়েছিলেন। তারপর দেখতে পান, নোনা ফুটি শসা তরমুজ। ঘন সবুজ আর সোনালি হলদেতে ফলের দোকানে রঙের অপূর্ব খোলতাই হয়েছে— খুশবাই চতুর্দিকে মাত করে রেখেছে।
দরদস্তুর না করে কিনলেও ঠকবার ভয় নেই। রপ্তানি করার সুবিধে নেই বলে সব ফলই বেজায় সস্তা। বেতারকর্তা জ্ঞান বিতরণ করে বললেন, ‘যারা সত্যিকার ফলের রসিক তারা এখানে সমস্ত গ্রীষ্মকালটা ফল খেয়েই কাটায় আর যারা পাড় মেওয়া-খোর তারা শীতকালেও কিসমিস আখরোট পেস্তা বাদামের উপর নির্ভর করে মাঝে মাঝে রুটি পনির আর কচিৎ কখনো এক টুকরো মাংস। এরাই সব চাইতে দীর্ঘজীবী হয়।'
