ড্রাইভার হিসেবে সর্দারজীর দক্ষতার পরিচয় দাও

ড্রাইভার হিসেবে সর্দারজীর দক্ষতার পরিচয় দাও

ড্রাইভার হিসেবে সর্দারজীর দক্ষতার পরিচয় দাও ।
ড্রাইভার হিসেবে সর্দারজীর দক্ষতার পরিচয় দাও ।

উত্তর : সেই দুর্গম গিরিসংকটে সর্দারজীর গাড়িচালনা রীতিমতো রোমহর্ষক। কাবুল পৌঁছনোর পূর্বেই সূর্যাস্ত হলো। বাসটির একটিমাত্র হেডলাইট। 

সেটিও অকেজো। রাতকানা ড্রাইভারের জন্যে আলো নিষ্প্রয়োজন। পথচারীদের হিতার্থে একটি লণ্ঠন জোগাড় করে 'হ্যান্ডিম্যান সেইটে নিয়ে একটা মাডগার্ডের উপর বসল' এবং হারিকেনের ক্ষীণ আলো গাড়ি চালনায় অসুবিধে সৃষ্টি করছে কি না- এ প্রশ্নে সর্দারজীর নির্লিপ্ত উত্তর হচ্ছে বই কি, আলোটা চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। 

ওটা না থাকলে গাড়ি জোরে চালাতে পারতুম। এমতাবস্থায় পথের প্রাণঘাতী বাক-অতিক্রম প্রসঙ্গে মুজতবা আলী : ‘সেসব মোড় নেবার সময় আমি ভয়ে চোখ বন্ধ করছিলুম এবং সেই খবরটি সর্দারজীকে দেওয়াতে তিনি যা বললেন, তাতে আমার সব ডর ভয় কেটে গেল।

তিনি বললেন, চোখ বন্ধ করি।' শুনে আমি যা চোখ বন্ধ করলাম তার সঙ্গে গান্ধারীর চোখ বন্ধ করার তুলনা করা যায়। শুধু গাড়ি চালনাই নয়, টুকটাক মেকানিকের কাজও তিনি জানেন। যেমন- তিন-তিনবার চাকা ফাটল, আর এঞ্জিন সর্দারজীর উপর গোসা করে দুবার গুম হলেন। ঢাকা সারাল হ্যান্ডিম্যান তদারক করলেন সর্দারজী। 

প্রচুর মেহদি প্রলেপের সলুশন লাগিয়ে বিবিজানের কদম মবারক মেরামত করা হলো, কিন্তু তাঁর মুখ ফোটাবার জন্য স্বয়ং সর্দারজীকে ওড়না তুলে অনেক কাকুতি মিনতি করতে হলো। একবার চটে গিয়ে তিনি হ্যান্ডিল মারার ভয়ও দেখিয়েছিলেন। সুতরাং ড্রাইভার হিসেবে সর্দারজী ছিলেন ব্যতিক্রমধর্মী।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ