ইংল্যান্ডের সংসারী নারীদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের বিবরণ দাও

 ইংল্যান্ডের সংসারী নারীদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের বিবরণ দাও ।
ইংল্যান্ডের সংসারী নারীদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের বিবরণ দাও ।
 ইংল্যান্ডের সংসারী নারীদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের বিবরণ দাও ।

উত্তর :  ইংল্যান্ডের সংসারী নারীদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের বিবরণ দাও ।ড়া বিলেতে আরো অনেক রকম মেয়ে আছে, নইলে সংসার চলত না। এখানে নারীদের দৈনন্দিন নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। মধ্যবিত্ত গৃহস্থ মেয়েদেরঅনেকটা মেহনত করতে হয়, বাবুয়ানা করলে চলে না। 

সকালে উঠে একবার রান্নাঘর তদারক করতে হয়, সে ঘর পরিষ্কার আছে কি না, জিনিসপত্র যথাপরিমিত আনা হয়েছে কি না, যথাস্থানে রাখা হয়েছে কি না ইত্যাদি দেখাশুনা করতে হয়। রান্না ও খাবার জিনিস আনতে হুকুম দেয়া, পয়সা বাঁচাবার জন্যে নানাপ্রকার গিন্নিপনার চাতুরী খেলা, কালকের মাংসের হাড়গোড় কিছু যদি অবশিষ্ট থাকে তাহলে বন্দোবস্ত করে তার থেকে আজকের সূপ চালিয়ে নেয়া, পরশু দিনের বাসি রান্না করা মাংস যদি খাওয়াদাওয়ার পর খানিকটা বাকি থাকে তাহলে সেটাকে রূপান্তর করে আজকের টেবিলে আনবার সুবিধে করে দেয়া, এরকম নানাপ্রকার গৃহিণীপনা। 

তারপর ছেলেদের জন্য মোজা কাপড়-চোপড়, এমনকি নিজেরও অনেক কাপড় নিজে তৈরি করেন। এদের সকলের ভাগ্যে নভেল পড়া ঘটে উঠে না, বড়জোর খবরের কাগজ পড়েন, তাও সকলে পড়েন না। অনেকের পড়াশুনোর মধ্যে কেবল চিঠি পড়া ও চিঠি লেখা, দোকানদারদের বিল পড়া ও হিসাব লেখা। তাঁরা বলেন, “পলিটিক্স এবং অন্যান্য গম্ভীর বিষয় নিয়ে পুরুষেরা নাড়াচাড়া করুন আমাদের কর্তব্য কাজ স্বতন্ত্র।" ইংল্যান্ডে দুর্বলতা মেয়েদের একটা গর্বের বিষয়। 

তাই অনেক মেয়ে শ্রান্ত না হলেও এলিয়ে পড়েন। বুদ্ধিবিদ্যার বিষয়েও এরকম মেয়েরা জাঁক করে বলেন, আমরা বাপু ও-সব বুঝিসুঝি নে।” এখানে বিদ্যার অভাব বুদ্ধির খর্বতা একটা প্রকাশ্য জাঁকের বিষয়। এখানকার মধ্যবিত্ত শ্রেণির মেয়েরা বিদ্যাচর্চার দিকে ততটা মনোযোগ দেয় না। তাদের স্বামীরাও তার জন্যে বড়ো দুঃখিত নন। তাদের জীবন হচ্ছে কতকগুলো ছোটখাট কাজের সমষ্টি। সন্ধ্যাবেলায় স্বামী কর্মক্ষেত্র থেকে এলে একটি আদরের চুম্বন উপার্জন করেন। 

ঘরে তার জন্য আগুন জ্বালানো, খাবার সাজানো থাকে। সন্ধ্যাবেলায় স্ত্রী হয়তো একটা সেলাই নিয়ে বসেন। স্বামী তাকে একটি নভেল চেঁচিয়ে পড়ে শোনায়, সামনে আগুন জ্বলে, ঘরটি বেশ গরম কিন্তু বাইরে পড়ছে বৃষ্টি, জানালা-দরজাগুলো বন্ধ। হয়তো স্ত্রী পিয়ানো বাজিয়ে স্বামীকে খানিকটা গান শোনালেন। এখানকার মধ্যবিত্ত শ্রেণির গিন্নিরা সাদাসিধে। 

যদিও তারা ভালো করে লেখাপড়া শেখেন নি, তবু তারা অনেক বিষয় জানে। তাদের বুদ্ধি যথেষ্ট পরিষ্কার। এ দেশে কথায় বার্তায় জ্ঞানলাভ করা যায়। তারা অন্তঃপুরে বন্ধ নন, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আলাপ করেন, আত্মীয় সভায় একটা কোন উচ্চ বিষয় নিয়ে চর্চা হলে তারা শোনেন ও নিজের বক্তব্য বলতে পারেন। বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা একটা বিষয়ের কত দিক দেখেন ও কি রকম চোখে দেখেন তা বুঝতে পারেন। 

মেয়েরা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে খুব সহজভাবে গল্পসল্প করতে পারেন, নিমন্ত্রণসভায় মুখ ভার করে বা লজ্জায় অবসন্ন হয়ে থাকেন না। পরিচিতদের সঙ্গে অন্যায় ঘেঁষাঘেঁষি নেই, কিংবা তাদের কাছ থেকে নিতান্ত অসামাজিকভাবে দূরেও থাকেন না। লোকসমাজে মুখটি খুব হাসিখুশি, প্রসন্ন, যদিও নিজে খুব রসিকা , কিন্তু হাসিতামাশা বেশ উপভোগ করতে পারেন, একটা কিছু ভালো লাগলে মন খুলে প্রশংসা করেন, একটা কিছু মজার কথা শুনলে প্রাণ খুলে হাস্য করেন। 

দৈনন্দিন এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে ইংল্যান্ডের নারীরা নিজেকে আবদ্ধ রাখেন। ইংল্যান্ডের সাংসারিক জীবনকে সরস ও প্রাণবন্ত করে তোলার ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা অগ্রগণ্য ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ