টন ব্রিজ ওয়েলসের বর্ণনা দাও

 টনব্রিজ ওয়েলসের বর্ণনা দাও।

টনব্রিজ ওয়েলসের বর্ণনা দাও।
 টনব্রিজ ওয়েলসের বর্ণনা দাও।

উত্তর : টনব্রিজ ওয়েলস আধা-পাড়াগেঁয়ে জায়গা। এখানের বাতাসে লন্ডনের মতো কার্বন ডাইঅক্সাইড নেই। হাজার হাজার চিমনি থেকে অবিশ্রান্ত পাথুরে কয়লার ধোঁয়া ও কয়লার গুঁড়া উড়ে উড়ে লন্ডনের হাড়ে হাড়ে প্রবেশ করেছে। 

রাস্তায় বেরিয়ে এসে হাত ধুলে সে হাত ধোয়া জলে যেন কালির কাজ করা যায়। নিশ্বাসের সঙ্গে অবিশ্রান্ত কয়লার গুঁড়ো টেনে মগজটা বোধ হয় অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ হয়ে দাঁড়ায়। টনব্রিজ ওয়েলস সে দিক থেকে নিরাপদ। টনব্রিজ ওয়েলস অনেক দিন থেকে তার লৌহপদার্থ মিশ্রিত উৎসের জন্য বিখ্যাত। এ উৎসের জল খাবার জন্য এখানে অনেক যাত্রীর সমাগম হয়। 

উৎস শুনেই লোকে কল্পনা করে থাকেন না জানি কি সুন্দর দৃশ্য হবে। চারিদিকে পাহাড়-পর্বত, গাছপালা, সারসমরালকুল-কূজিত, কমলকুসুম বিকশিত সরোবর। কোকিল কূজন মলয় বীজন, ভ্রমর গুঞ্জন ও অবশেষে এ মনোরম স্থানে পঞ্চশরের প্রহার ও এক ঘটি জল খেয়ে বাড়ি ফিরে আসা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একটা হাটের মধ্যে একটা ছোটো গর্ত পাথর দিয়ে বাঁধানো, সেখানে একটু একটু করে জল উঠছে, একটা বুড়ি কাচের গেলাস হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। 

এক এক পেনি নিয়ে এক এক গেলাস জল বিতরণ করছে ও অবসরমতো একটা খবরের কাগজে গতরাত্রের পার্লামেন্টের সংবাদ পড়ছে। চারদিকে দোকানবাজার; গাছপালার কোন সম্পর্ক নেই। কসাইয়ের দোকানে ডানা ছাড়ানো মৃতদেহ দড়িতে ঝুলছে। এ দৃশ্য দেখলে অনেকের গা শিউরে উঠে। এখানকার নোংরা জল পান করে কোনমতে বিশ্বাস হয় না যে, এ জলে কোনপ্রকার রোগ নিবারণ বা শরীরের উন্নতি হতে পারে।

টনব্রিজ ওয়েলস শহরটা খুব ছোট। একটু এগোলেই গাছপালা মাঠ দেখতে পাওয়া যায়। বাড়িগুলো লন্ডনের মতো থামবারান্দাশূন্য, ঢালু ছাদওয়ালা সারি সারি একঘেয়ে ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। অত্যন্ত শ্রীহীন দেখতে। দোকানগুলো তেমনি সুসজ্জিত, পরিপাটি, কাচের জানালা দেয়া। কাচের ভিতর থেকে সাজানো পণ্যদ্রব্য দেখা যাচ্ছে। 

কসাইয়ের দোকানে কোনপ্রকার কাচের আবরণ নেই, চতুষ্পদের আস্ত আস্ত পা ঝুলছে। ভেড়া, গরু, শূকর, বাছুরের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নানাপ্রকার ভাবে চোখের সামনে টাঙিয়ে রাখা আছে। হাঁস প্রভৃতি নানাপ্রকার মরা পাখি লম্বা লম্বা গলাগুলো নিচের দিকে ঝুলে আছে, খুব জোয়ান পেটমোটা এক ব্যক্তি হাতে একটা প্রকাণ্ড ছুরি নিয়ে কোমরে একটা আঁচলা ঝুলিয়ে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে।

চারিদিক খোলা জায়গা। বড় গাছ খুব অল্প। ছোট ছোট গুল্মের ঝোপ এবং তা ঘাসে পূর্ণ। চারিদিক সবুজ, বিচিত্র গাছপালা নেই বলে কেমন ধু ধু করছে। কেমন বিধবার মতো চেহারা। উঁচুনিচু জমি, কাঁটাগাছের ঝোপঝাপ, জায়গাটা সকলের খুব আকর্ষণীয়। মাঝে মাঝে এরকম কাঁটা-খোচা এবড়ো-থেবড়োর মধ্যে এক এক জায়গায় ব্লু-বেলস নামক ছোট ছোট ফুল ঘেঁষাঘেঁষি ফুটে সবুজের মধ্যে স্তূপাকার নীল রঙ ছড়িয়ে রেখেছে। 

কোথাও বা ঘাসের মধ্যে রাশ রাশ সাদা ডেজি ও হলদে বাটার কাপ অজস্র সৌন্দর্যে প্রকাশিত। ঝোপঝাপের মাঝে মাঝে এবং গাছের তলায় এক একটা বেঞ্চি পাতা। এটা সাধারণের বেড়াবার জায়গা। এখানে মানুষ এত অল্প ও জায়গা এত বেশি যে ঘেঁষাঘেঁষি নেই। সব মিলিয়ে টনব্রিজ শহরের দৃশ্য মোটামুটি আকর্ষণীয় । .

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ