মৌলানা জিয়াউদ্দিন কে তার পরিচয়

মৌলানা জিয়াউদ্দিন কে তার পরিচয়

মৌলানা জিয়াউদ্দিন কে আলোচনা কর ।
মৌলানা জিয়াউদ্দিন কে তার পরিচয়

 উত্তর : জিয়াউদ্দীন অমৃতসরের লোক। হেমন্তের গোড়ার দিকে শান্তিনিকেতন থেকে মৌলানা জিয়াউদ্দীন এসে কাবুলে পৌঁছালেন । বগদানফ, বেনওয়া, মৌলানা জিয়াউদ্দীন ও সৈয়দ মুজতবা আলী মিলে 'চারইয়ারী' জমে উঠেছিল।

 মৌলানা জিয়াউদ্দীন ১৯২১ সালের খিলাফত আন্দোলনে যোগ দেন। এ কারণে তিনি কলেজ ছাড়েন এবং ১৯২২ সালে শান্তিনিকেতনে এসে রবীন্দ্রনাথের শিষ্য হন। পরে তিনি ভালো বাংলা শিখেছিলেন। বেশ গান গাইতে পারতেন আর রবীন্দ্রনাথের অনেক গান পাঞ্জাবিতে অনুবাদ করে মূল সুরে গেয়ে শান্তিনিকেতনের সাহিত্যসভায় আসর জমাতেন। 

কাবুলে এসে সেসব গান খুব কাজে লেগেছিল, তাই কাবুলের পাঞ্জাবি সমাজ তাঁকে লুফে নিল। মৌলানা ভালো ফারসি জানতেন বলে কাবুলীরাও তাঁকে খুব সম্মান করতো। লেখক এই মৌলানার নিকট থেকে কাবুলের শাসন ও মানুষের জীবন সম্বন্ধে অনেক কিছু জানতে পেরেছিলেন। বিশেষ করে বাদশাহ আমানউল্লার উদ্ভট সংস্কার সম্বন্ধে সম্যক ধারণা পেয়েছিলেন মৌলানা জিয়াউদ্দীনের কাছে। 

লেখক একবার মৌলানা জিয়াউদ্দীনের কাছে আমানউল্লা প্রবর্তিত শুক্রবারের পরিবর্তে বৃহস্পতিবারের ছুটি সম্পর্কে জানতে চান। উত্তরে মৌলানা বলেন : “শুক্রবার ছুটির দিন করলে জুম্মার নামাজের হিড়িকে সমস্ত দিনটা কেটে যায়, ফলতো কাজকর্ম করার ফুরসত পাওয়া যায় না। 

তাই আমানউল্লা দিয়েছেন সমস্ত বৃহস্পতিবার দিন ছুটি, আর শুক্রবারের জুম্মার নামাজের জন্য আধ ঘন্টার বদলে এক ঘন্টার ছুটি। কিন্তু জানো, আমি আরেকটা কারণ বের করেছি। এই দেখ না অ্যারোপ্লেনে করে যদি তুমি শান্তিনিকেতনের ছুটির দিন বুধবার বেরোও এখানে পৌঁছবে ছুটির দিন বৃহস্পতিবারে, তারপর ইরাক পৌঁছবে শুক্রবারে সেও ছুটির দিন, তারপরের দিন প্যালেস্টাইনে-সেখানে ইহুদিদের জন্য শনিবারে ছুটি, তারপরের দিন রবিবারে ইয়োরোপে, তারপরের দিন সাউথ-সী আয়লেন্ডে, সেখানে তো তামাম হপ্তা ছুটি ।”

বাচ্চায়ে সকাও যখন আমানউল্লার রাজ্য আক্রমণ করেন তখন মৌলানার সংস্পর্শ লেখককে অনেক সাহস যুগিয়েছিল। একবার লেখক জনমানবহীন রাস্তা দিয়ে যাবার সময় এক রাইফেলধারী এসে তাঁকে ঘিরে ধরে। কিন্তু লেখককে হাতিয়ারহীন দেখে তাঁকে ছেড়ে দেন। সে সময় সৈয়দ মুজতবা আলী গলির ভিতর অবস্থিত মৌলানার বাড়িতে প্রবেশ করেন।

 সেই দুর্দিনে মৌলানা জিয়াউদ্দীন লেখককে সতর্ক করে দিয়ে বলেন: সায়েব বড় বেঁচে গেছেন, গাঁয়ের লোক যে আপনার গলা কেটে ‘গাজী' হবার লোভ সম্বরণ করতে পেরেছে, সেই আমাদের পরম সৌভাগ্য।”

সেইসব দুর্দিনে ফরাসি, জার্মান, রুশ, তুর্কি, ইরানি, ইতালি এরা সবাই আপন লিগেশনে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল, কিন্তু মৌলানা জিয়াউদ্দীনেরই কোথাও যাবার জায়গা ছিল না। বেনওয়া সাহেবের দেওয়া তরকারি খেয়ে লেখক ও মৌলানা সপ্তাহখানেক অসুখে ভুগেছিলেন। সৈয়দ মুজতবা আলী মৌলানা জিয়াউদ্দীনের সংস্পর্শে এসে তাঁর কাবুলের জীবন খুবই উপভোগ্য হয়েছি।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ