মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার বাংলার প্রবাদপুরুষ-বিশ্লেষণ করে দেখাও
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার বাংলার প্রবাদপুরুষ-বিশ্লেষণ করে দেখাও
অথবা, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের পরিচয় দাও।
অথবা, “মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ গোষ্ঠীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষাশিল্পী ও প্রধান গ্রন্থাকার”- এ কথার সত্যাসত্য যাচাই কর।
![]() |
| মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার বাংলার প্রবাদপুরুষ-বিশ্লেষণ করে দেখাও |
উত্তর : রচনাকালের বিচারে রামরাম বসুর পরেই ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের শিক্ষক হিসেবে উল্লেখযোগ্য পণ্ডিত । বিদ্যালঙ্কার। তিনি ছিলেন নিঃসন্দেহে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ গোষ্ঠীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষাশিল্পী ও প্রধান গ্রন্থকার ।
মৃত্যুঞ্জয় আনুমানিক ১৭৬২ খ্রিষ্টাব্দে ভদ্রক- এ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের জন্ম। ভদ্রক ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের অন্তর্গত। সেই সময় ভদ্রক ছিল পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায়। নাটোরের রাজপণ্ডিতের কাছে তিনি শিক্ষিত হয়েছিলেন। ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দে
মৃত্যুঞ্জয় মাসিক ২০০ টাকা বেতনে ফোর্ট উইলিয়ামের প্রধান বাংলা পণ্ডিত হিসেবে নিযুক্ত হন। এ প্রসঙ্গে মনে করা যেতে পারে- শিক্ষক হিসেবে একই বিদ্যায়তনে রামরাম বসুর মাইনে ছিল মাসে ৪০ টাকা।
মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ পদাধিকার এবং অধিকতর পারিশ্রমিক তার যোগ্যতর পাণ্ডিত্যের দ্বারাই কেবল সমর্থিত হয় না, শিক্ষক ও ভাষা রচয়িতা হিসেবেও তার দায়িত্ববোধ ছিল অসাধারণ। মৃত্যুঞ্জয় কখনো ভোলেননি যে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে নিজের মাতৃভাষার গদ্যরূপ, সাহিত্য ও জ্ঞানভাণ্ডারকে বরণীয় করে তোলার ব্রতেই তিনি নিযুক্ত হয়েছিলেন।
তাই একদিকে একাধারে পাণ্ডিত্য ও রসপূর্ণ নানা বিষয়ে গ্রন্থ রচনা যেমন করে গেছেন, তেমনি প্রতিটি রচনার ভাষাকে যথাসম্ভব রীতি বিশুদ্ধ এবং সুগঠিত করে তোলাতেও তিনি সচেতনভাবে প্রয়াসী হয়েছিলেন।
