১০টি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
![]() |
| ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর |
১০টি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন-০১। ইমতিয়াজ আহমদ সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় বাস করেন। আরো অনেকের মতো সমুদ্রপাড়ের পতিত জমিতে লবণ চাষ করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রাকৃতিক ঝড়ে প্রায়ই তার জীবন ও জীবিকা হুমকির সম্মুখীন হয়'। কিন্তু তিনি মাথা নোয়ানোর - মানুষ নন। জীবনের তাগিদে তিনি আবার সবকিছু নতুন করে সাজিয়ে নেন ।
ক. সারাসিনি শব্দের অর্থ কী?
খ. সভ্যতার উন্মেষের মূল কারণগুলো সম্পর্কে লেখ।
গ. উদ্দীপকের ইমতিয়াজ আহমদের সাথে মরুবাসী বেদুইনদের কোন কোন বৈশিষ্ট্যের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের সাথে প্রাচীন আরবের ভৌগোলিক পরিবেশের মিল নেই- বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
ক. মরুভূমি।
খ. মানবসভ্যতার ইতিহাস উত্থান ও পতনের মধ্য দিয়ে বিকাশ লাভ করেছে। সভ্যতার ইতিহাস কখন থেকে শুরু হয়েছিল একথা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, সভ্যতার চাকা স্থির থাকেনি। সভ্যতার উন্মেষের প্রধান কারণগুলো ছিল ক্রমবর্ধমান মানবসমাজের নাগরিকীকরণ, লোকসংখ্যা বৃদ্ধি, বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যকলাপ যেমন— কৃষিকাজ, যানবাহনের উন্নতি, রাষ্ট্রীয় বিধান ও ধর্মীয় অনুশাসন প্রবর্তন, শিল্প, স্থাপত্য, শিক্ষা ও বিজ্ঞানের উৎকর্ষ প্রভৃতি। একথা সত্য যে, আধুনিক সভ্যতাসহ পূর্ববর্তী প্রতিটি সভ্যতা তার পূর্বের সভ্যতার কাছে ঋণী।
মূলকথা : সভ্যতার উন্মেষের প্রধান কারণ ছিল ক্রমবর্ধমান মানবসমাজের নাগরিকীকরণ, লোকসংখ্যা বৃদ্ধি, বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যকলাপ ইত্যাদি ।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ইমতিয়াজ আহমদের সাথে মরুবাসী বেদুঈনদের জীবনরীতির বৈশিষ্ট্যের মিল পাওয়া যায়। নিচে তা আলোচনা করা হলো- ইমতিয়াজ আহমদ সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় বাস করেন। আরও অনেকের মতো সমুদ্রপাড়ের পতিত জমিতে লবণ চাষ করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রাকৃতিক ঝড়ে প্রায়ই তার জীবন ও জীবিকা হুমকির সম্মুখীন হয় কিন্তু তিনি মাথা নোয়ানোর মানুষ নন। জীবনের তাগিদে তিনি আবার সবকিছু নতুন করে সাজিয়ে নেন ।
এর মিল পাওয়া যায় আরব মরুবাসী বেদুঈনদের জীবনরীতির সাথে। দুরন্ত যাযাবর বেদুঈনদের নিকট মরুভূমিই প্রধান বাসস্থান। সমজের ধরাবাঁধা শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে শহরে বসবাস করার পরিবর্তে বেদুঈনগণ জীবনধারণের জন্য মরুভূমিতে সর্বত্র ঘুরে বেড়াত। ইমতিয়াজ আহমেদ যেমন সমুদ্রপাড়ে লবণ চাষ করেন তেমনি মরুবাসী বেদুঈনরা তৃণের সন্ধানে এক পশুচারণ ভূমি থেকে অন্য পশুচারণ ভূমিতে গমন করত। তাদের গৃহ হচ্ছে তাঁবু, আহার্য উটের মাংস, পানীয় উট ও ছাগলের দুগ্ধ। প্রধান জীবিকা লুটতরাজ। ইতিহাসের গতিধারা, রাজ্যের উত্থান-পতন যাযাবর বেদুঈনদের সাবলীল ও স্বাধীন জীবন পদ্ধতিকে ব্যাহত করতে পারেনি।
পরিশেষে বলা যায়, মরুভূমির নিরবচ্ছিন্ন শুষ্কতা ও একঘেয়েমি দুরন্ত আরব বেদুঈনদের পরাজিত করতে পারেনি।
মূলকথা : মরুবাসী বেদুঈনদের লুণ্ঠনবৃত্তির জন্য তাদের স্থলদস্যু বলা হতো।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত ভৌগোলিক পরিবেশের সাথে প্রাচীন আরবের ভৌগোলিক পরিবেশের মিল নেই। কারণ :
আরব ভূখণ্ড এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এ ভূখণ্ড পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উপদ্বীপ। তিন দিকে সমুদ্র ও এক দিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত আরব ভূখণ্ডের পূর্বদিকে পারস্য উপসাগর, পশ্চিমে লোহিত সাগর, উত্তরে সিরিয়া মরুভূমি এবং দক্ষিণ দিকে ভারত মহাসাগর অবস্থিত। এজন্য এ ভূখণ্ডকে ‘জাজিরাতুল আরব' বা আরব উপদ্বীপ বলা হয়।
ভৌগোলিক পরিবেশের দৃষ্টিকোণ থেকে আরবদেশকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। গ্রিক ভূগোলবিদদের মতে, এ ভাগগুলো হলো- মরু অঞ্চল, পার্বত্য অঞ্চল ও উর্বর অঞ্চল। মরু ও পার্বত্য অঞ্চল ব্যতীত আরবের উর্বর তৃর্ণ অঞ্চল হেজাজ, নজদ, ইয়ামেন, হাজরামাউত এবং ওমান এ কয়েকটি প্রদেশে বিভক্ত ছিল।
ইসলামের জন্মভূমি হেজাজ আরবদেশের মধ্যভাগে অবস্থিত এবং মক্কা, মদিনা ও তায়েফ এর তিনটি প্রধান শহর। দক্ষিণ আরবে অবস্থিত হাজরামাউত, ওমান ও ইয়ামেন অত্যন্ত
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং ব্যবসায়-বাণিজ্য ও কৃষিকাজের জন্য খুবই বিখ্যাত। অপরদিকে, মরু অঞ্চল ছিল খরতাপে বিদগ্ধ ও গুলুশূন্য, বাসের অনুপযোগী উত্তপ্ত এলাকা । কখনো কখনো মরু অঞ্চলে বিষাক্ত লু-হাওয়া প্রবাহিত হয়।
অত্যন্ত শুষ্ক ও গ্রীষ্মপ্রধান দেশগুলোর মধ্যে আরব উপদ্বীপটি অন্যতম। পূর্ব ও পশ্চিমে সমুদ্রবেষ্টিত হলেও সেই জলরাশি এখানকার ভূমি সিক্ত করতে পারেনি। কারণ, আরবভূমির অধিকাংশই আফ্রিকা ও এশিয়ার বৃষ্টিহীন বিপুল প্রান্তর। তাই বলা যায়, ইমতিয়াজ আহমদ যে ভূখণ্ডে বসবাস করেন অর্থাৎ সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা, এ ভূখণ্ডের সাথে আরব মরুভূমির ভৌগোলিক পরিবেশের কোনো মিল নেই।
মূলকথা : প্রাচীন আরবের ভৌগালিক অবস্থার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।
সৃজনশীল প্রশ্ন-০২। রায়হান একাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগের ছাত্র। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির বিষয়ে পাঠদানকালে শিক্ষক ক্লাসে মেসোপটেমীয় সভ্যতা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। রায়হান মেসোপটেমীয় অঞ্চল সম্পর্কে জানতে চাইলে শিক্ষক টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলটি মানচিত্রে দেখিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতার অবদান সম্পর্কেও ধারণা দিয়েছেন।
ক. মিশরের রাজাদের উপাধি কী ছিল?
খ. কোন প্রাণীকে এবং কেন 'মরুভূমির জাহাজ' বলা হয়?
গ. কিউনিফরম পদ্ধতিতে কীভাবে মনের ভাব প্রকাশ করা হতো?
ঘ. বিশ্বের সর্বপ্রাচীন সভ্যতা বিশ্বসভ্যতায় অবদান রেখেছে— কথাটি মূল্যায়ন কর।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
ক. ফারাও বা ফেরাউন।
খ. মানুষের বিজয় অভিযানে ঘোড়া যদি হয় অগ্রগতির দূত, তাহলে যাযাবরদের চোখে উট নিশ্চিতভাবেই সবচেয়ে প্রয়োজনীয়। উটের সাহায্য ছাড়া মরু অঞ্চল কখনোই মানুষের বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারত না। উট ছিল যাযাবরদের ধাত্রীসম। উত্তপ্ত মরুভূমিতে উট ছিল আরবদের একমাত্র যাতায়াতের বাহন । তাই উটকে ‘মরুভূমির জাহাজ' বলা হয় । মূলকথা : উটই প্রথম দিকের বিজয় অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের তুলনায় মুসলমানদের অনেক বেগবান করে তুলেছিল।
গ. সুমেরীয় সভ্যতা ছিল মেসোপটেমীয় সভ্যতার সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা। এ সভ্যতার ধারক ও বাহক ছিল অসেমেটিক সুমেরীয়গণ। তাদের নামানুসারে এ সভ্যতাকে ‘সুমেরীয় সভ্যতা' বলা হয়। তারা ছিল মূলত টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যস্থিত অববাহিকা অঞ্চলের অধিবাসী। লিখন পদ্ধতি, আইনকানুন, ধর্মীয় অনুভূতি, ব্যবসায়-বাণিজ্য, জ্ঞান- বিজ্ঞানের চর্চা সুমেরীয় যুগে প্রথম শুরু হয়।
সুমেরীয়দের উদ্ভাবিত লিখন পদ্ধতিকে বলা হতো কিউনিফরম স্টাইলাস (নলখাগড়ার তৈরি এক প্রকার কলম) দ্বারা নরম মাটিতে চাপ সৃষ্টি করে চিত্রাঙ্কন দ্বারা মনের ভাব ও অনুভূতি প্রকাশের প্রচেষ্টা সম্ভবত এটিই প্রথম। এ লিপি বাম দিক থেকে ডান দিকে লেখা হতো।
পরিশেষে বলা যায়, মানবসভ্যতার ইতিহাসে সুমেরীয়দের অনেক অবদান রয়েছে। কিউনিফর্ম পদ্ধতি আবিষ্কার তাই সুমেরীয়দের একটি উল্লেখযোগ্য অবদান।
মূলকথা : কিউনিফর্ম সুমেরীয়দের আবিষ্কৃত গুরুত্বপূর্ণ লিখন পদ্ধতির।
ঘ. বিশ্বের সর্বপ্রাচীন সভ্যতা হলো মিশরীয় সভ্যতা; এ সভ্যতা পৃথিবীর ইতিহাসে সুসমৃদ্ধ সভ্যতা। মিশরীয় সভ্যতা বিশ্ব সভ্যতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। নিচে তা মূল্যায়ন করা হলো— মিশরীয় সভ্যতার উন্মেষ হয় মিশরের নীলনদের অববাহিকায়। সভ্যতার ইতিহাসে মিশরীয়গণ যে অবদান রেখেছে সত অন্য কোনো জাতি এরূপ অবদান রাখতে সক্ষম হয়নি। প্রাচীন মিশরই ছিল বিশ্বের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার অগ্রদূত। মিশরকে নীলনদের দান বলা হয়। কারণ মরুভূমিতে পরিণত হওয়া মিশর নীলনদের প্রভাবেই জুন থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়। এ সময়ের মধ্যে নদের উভয় তীর প্লাবিত হয় এবং প্লাবন শেষে পলিমাটির গুণে উভয় ভূ-ভাগ অত্যন্ত উর্বর হয়। ফলে শস্য, তুলা প্রভৃতি প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়।
প্রাচীন মিশরীয়দের সবচেয়ে বড় অবদান জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায়। মিশরীয়রা প্রাসাদ নির্মাণ, হিসাবপত্র, ধাতবপাত্র ও দ্রব্যাদি নির্মাণে, বস্ত্র বয়নে, মৃৎপাত্র নির্মাণে মিশরীয় প্রভাব অন্যান্য জাতির উপর পড়েছে। বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিশেষত অঙ্কশাস্ত্র ও জ্যোতির্বিদ্যায়, জ্যামিতিশাস্ত্রে প্রথম কৌণিক, আয়তক্ষেত্র ও ষড়ভুজ; অঙ্কশাস্ত্রে যোগ, বিয়োগ, ভাগ, দশমিক প্রথা, ৩৬৫ দিনের এক বর্ষপঞ্জী প্রণয়ন; চিকিৎসায়- যেমন : দন্ত চিকিৎসায়, অস্ত্রোপচারে, পাকস্থলীর পীড়ায় তাদের অবদান কৃতিত্বের দাবি রাখে। তাদের লেখনীতে দার্শনিক প্রভাব বিদ্যমান ছিল। প্রাচীন মিশরীয়রা সর্বপ্রথম লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করে এবং তাদের লিখন পদ্ধতিতে ২৪টি চিহ্ন ছিল। তারা সাহিত্যচর্চায় পারদর্শী ছিল। প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম আকর্ষণ পিরামিড নির্মাণ। মিশরীয় ভাস্কর্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন দেখা যায় স্ফিংস মূর্তি তৈরিতে ।
মূলকথা : বিশ্বসভ্যতায় মিশরীয়দের অবদান প্রশংসাযোগ্য।
সৃজনশীল প্রশ্ন-০৩। ইব্রাহিমের বাবা একজন আইনজীবী। সেদিন বাসায় এসে তিনি একটি আলোচিত মামলার বিষয়ে গল্প করছিলেন। তিনি বলছিলেন, আইনের শাসন না থাকলে কোনো দেশে সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটা সম্ভব নয়। ইব্রাহিম সভ্যতা ও আইন বিষয়ে জানার আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি বলেন, বহুকাল আগে থেকে সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সময় সময় কিছু নিয়মনীতি চালু হয়, যা পরবর্তীকালে আইনে পরিণত হয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের | প্রয়োজনে আইনের পরিবর্তন পরিমার্জন হয় কিংবা নতুন আইন তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে তিনি প্রাচীন রোমানদের আইনের উদাহরণ দেন ।
ক, কার নামে রোম নগরীর নামকরণ করা হয়?
খ. ইসলামপূর্ব যুগকে ‘আইয়াম-ই জাহেলিয়া' বলা হয় কেন?
গ. ইব্রাহিমের বাবার মত অনুযায়ী সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে আইনের প্রয়োজন- ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে আইন ও রাষ্ট্রের বিকাশে প্রাচীন রোমানদের উদাহরণ বিশ্লেষণ কর।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
ক. রাজপুত্র রোমুলাসের নামানুসারে ।
খ. ইসলামপূর্ব যুগকে আইয়াম-ই-জাহেলিয়া বলা হয়। আইয়াম শব্দের অর্থ যুগ আর জাহেলিয়া শব্দের অর্থ অজ্ঞতা বা তমসা । ইসলামপূর্ব যুগে আরবের সর্বত্র অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং আরব জীবনের সর্বক্ষেত্রে অজ্ঞতা বিরাজমান ছিল। সামাজিক ও নৈতিক অবস্থা ছিল ভয়াবহ ও জঘন্য, নারীর অবস্থা ছিল
সীমাহীন অবমাননাকর ও হৃদয়বিদারক। হাটে-বাজারে পণ্যের মতো ক্রীতদাস হিসেবে মানুষ বেচাকেনা হতো, মদ্যপান, জুয়াখেলা, হত্যা, ব্যভিচার ইত্যাদিতে ছেয়ে গিয়েছিল ইসলামপূর্ব যুগ । তাই এ যুগকে আইয়ামে জাহেলিয়া বলা হয়। মূলকথা : ইসলাম ধর্মের আবির্ভাবের পূর্ববর্তী সময়কে আইয়ামে জাহেলিয়া বলা হয়।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ইব্রাহিমের বাবার মত অনুযায়ী সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে আইনের প্রয়োজন- এ কথাটি সত্য। এক্ষেত্রে রোমানদের আইনে অবদানের কথাটি উপস্থাপন করতে হয়। বিশ্বসভ্যতায় রোমানদের অবদান অপরিসীম। সভ্যতার বিকাশে গ্রিকদের পরেই রোমানদের নাম স্মরণীয়। রোমান সাম্রাজ্যের বিস্তার এবং রোমান আইনের সংকলন ও প্রকাশনা ছিল তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি। ঐতিহাসিক মায়ার্স বলেন, 'এ আইন বিশ্বের নিকট রোমের প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ সম্পদ। পরবর্তী প্রসিদ্ধ রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস মহানবি (স.) কর্তৃক প্রেরিত দূতকে সসম্মানে অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করেন। রোমান সম্রাটদের মধ্যে অগাস্টাস ছিলেন আরেকজন উল্লেখযোগ্য সম্রাট।
রোমান সাম্রাজ্যের বিস্তার ও সংস্কৃতির অগ্রগতির জন্য রোমান আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রোমান সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল প্রাচীন রোম নগরীকে কেন্দ্র করে। রোমান সাম্রাজ্যের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন, স্বয়ং সম্রাট। যেহেতু; সম্রাটই সকল রোমান আইনের সংকলন ও প্রকাশনা করেছেন, সেহেতুে আইনকে সামনে রেখে নিয়ম অনুযায়ী সভ্যতা বিকাশের পথে এগিয়ে গিয়েছিল। পরিশেষে বলা যায়, রোমান সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে রোমান আইন কৃতিত্বের দাবিদার ।
মূলকথা : রোমান আইন রোমের শ্রেষ্ঠ সম্পদ ।
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে আইন ও রাষ্ট্রের বিকাশে প্রাচীন রোমানদের অবদান নিচে আলোচনা করা হলো :
বিশ্বসভ্যতায় রোমানদের অবদান অপরিসীম। সভ্যতার ইতিহাসে গ্রিকদের পরেই রোমানদের নাম স্মরণীয়। রোমান সাম্রাজ্যের বিস্তার এবং রোমান আইনের সংকলন ও প্রকাশনা ছিল রোমান সম্রাট জাসটিনিয়নের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি। ঐতিহাসিক মায়ার্স বলেন, “এ আইন বিশ্বের নিকট রোমের প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ সম্পদ।” মানবসভ্যতার বিকাশে রোমান আইন ও রাষ্ট্রদর্শনের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী। অধ্যাপক মনরা সত্যই বলেছেন, “সভ্য মানুষ প্রাচ্য থেকে তার ধর্মীয় অনুপ্রেরণা, মিশর থেকে বর্ণমালা, মুরদের কাছ থেকে বীজগণিত, গ্রিসের কাছ থেকে ভাস্কর্য, রোমের কাছ থেকে আইন এবং রাষ্ট্র সংগঠনে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইংরেজদের ধ্যান-ধারণা গ্রহণ করেছে।” এতদসত্ত্বেও রাষ্ট্র গঠনকাজে রোমানদের বিশ্ব সাম্রাজ্যের ধারণা বহুকাল যাবৎ বলবৎ থাকে। হুটনের মতে, আইন, শাসন ও সরকারের ক্ষেত্রে রোমানদের প্রতিভা পোপতন্ত্রের জন্মদান করে। জনগণের ইচ্ছাই যে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণের চালিকাশক্তি সে ধারণাও রোমানগণ পরবর্তী সভ্যজগৎকে প্রদান করে। রোমানদের আদর্শ আইন বিশ্বের ভাবী বংশধরদের জন্য ছিল অত্যন্ত মূল্যবান অবদান। তাই, আইন ও রাষ্ট্রের বিকাশে রোমানদের অবদান অবিস্মরণীয়।
মূলকথা : আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা রোমানদের।
সৃজনশীল প্রশ্ন-০৪। আমেরিকায় দাসব্যবস্থার প্রচলন ছিল। কৃষিকাজের জন্য তাদের লোকের প্রয়োজন হওয়ায় আফ্রিকার দরিদ্র অশিক্ষিত লোকদের এনে কৃষিকাজে নিয়োজিত করে। এদের অক্লান্ত পরিশ্রমের দ্বারা আমেরিকানরা কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। তবে ঐ সকল দাসদের কোনো ব্যক্তিস্বাধীনতা ছিল না। বরং তাদের উপর নির্যাতন করা হয়। তাদের প্রভুর কথাই মেনে চলতে হয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না থাকায় তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এটাকে কেন্দ্র করে আমেরিকার জনগণ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এ গৃহযুদ্ধের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য আমেরিকার সরকার একটি সংবিধান প্রণয়ন করে দাসদের স্বাধীনতা প্রদান করে। এ পদক্ষেপের ফলে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
ক. মালা কী?
খ. আইয়ামে জাহেলিয়া বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকে প্রাক-ইসলামি আরবের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর ।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যা সমাধানে গৃহীত পদক্ষেপ ইসলামের ইতিহাসের অনুরূপ বিশ্লেষণ কর।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
ক. প্রাক-ইসলামি আরবের একটি রাজনৈতিক সংগঠন বা মন্ত্রণাসভা ।
খ. ইসলামের আবির্ভাবের পূর্ববর্তী সময়কে আইয়ামে জাহেলিয়া বলা হয়ে থাকে। আইয়াম শব্দের অর্থ যুগ আর জাহেলিয়া শব্দের অর্থ অজ্ঞতা বা তমসা। তাই শব্দগত দিক দিয়ে আইয়ামে জাহেলিয়া বলতে অন্ধকার যুগ, বা তমসার যুগ বলে আখ্যায়িত করা হয়। কারণ, এ সময়ই আরব দেশে দুর্নীতি, কুসংস্কার প্রচলনের পাশাপাশি এ যুগেরই রাজনৈতিক, সামাজিক, নৈতিক, ধর্মীয়জীবন অধঃপতনের শেষ পর্যায়ে নেমে এসেছিল বলে এ যুগকে আইয়ামে জাহেলিয়া যুগ বলে ।
মূলকথা : ইসলাম-পূর্ব যুগকে আইয়ামে জাহেলিয়া বলে।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রাক ইসলামি আরবের দাসদাসীর করুণ অবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে।
অতি প্রাচীনকাল থেকেই আরব সমাজে ক্রীতদাস প্রথা প্রচলিত ছিল। ক্রীতদাস প্রথা আরব সমাজকে কলঙ্কিত ও কলুষিত করেছিল। কারণ, সমাজে তাদের কোন মর্যাদা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা .. ছিল না; পণ্যের মতো তারা হাটে-বাজারে কেনাবেচা হতো। মনিবের কাছে তাদের মূল্য ছিল পশু সমতুল্য। প্রভুর মর্জির উপর তাদের সুখ-দুঃখ, জীবন-মরণ নির্ভর করত; অমানবিক নির্যাতন সহ্য করে জীবনযাপন করতে হতো তাদের। প্রভুর অনুমতি ছাড়া তারা বিবাহও করতে পারত না; কেউ এ নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হতো। অনেক সময় দাসীরা প্রভুদের উপপত্নী হিসেবে ব্যবহৃত হতো। দাস- দাসীর সন্তানসন্ততির উপর প্রভুর মালিকানা প্রতিষ্ঠিত ছিল । পরবর্তীতে মহানবী (স.) সমাজ সংস্কারের মাধ্যমে দাস- দাসীদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে যান।
অনুরূপভাবে, উদ্দীপকে বর্ণিত আমেরিকায় দাস প্রথা বিদ্যমান, ছিল, যেখানে তারা ছিল অবহেলিত, উপেক্ষিত ও নির্যাতিত। পরবর্তী সময়ে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে আমেরিকা সরকার এ প্রথা রহিত করেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে প্রাক ইসলামি আরবের দাসব্যবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে। মূলকথা : প্রাক ইসলামি আরবে দাসব্যবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপকে গৃহীত পদক্ষেপ উক্ত ব্যবস্থা বিলুপ্তির ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। ইসলামের ইতিহাসে এর গুরুত্ব সর্বাধিক। নিচে তা আলোচনা করা হলো :
ইসলামপূর্ব আরব দেশের সামাজিক, নৈতিক, অর্থনৈতিক অবস্থা মোটেও ভালো ছিল না। পাপাচার, কুসংস্কার, অন্যায়- অবিচার আরব সমাজকে কলুষিত করে।
ক্রীতদাস প্রথা আরব সমাজকে কলঙ্কিত ও কলুষিত করেছিল। ক্রীতদাসগণ ছিল পশুর সমতুল্য। হাটে-বাজারে অবাধে কেনা- বেচা হতো। তাদের কোনো প্রকার স্বাধীনতা ছিল না। মনিবের মর্জির উপর তাদের জীবন পরিচালিত হতো। অমানবিক নির্যাতন সহ্য করে তাদের জীবনযাপন করতে হতো।
ইসলামপূর্ব আরবে দাস ও কৃষকরা ছিল সমাজের সর্বনিম্ন স্তরে। তৎকালীন আরবে কোনো অর্থকরী ফসল ছিল না। প্রাকৃতিক সম্পদও ছিল না। ফলে তাদের বা কৃষকদের জীবনযাত্রার মান ছিল অত্যন্ত করুণ। কঠোর দরিদ্রতার সঙ্গে সংগ্রাম করে তাদের বেঁচে থাকতে হতো। এতো কিছু উপেক্ষা করে কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। এসব অনৈতিকতার কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
সমাজের সাধারণের অবস্থা এমন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছালে মহানবি (স.)-এর আবির্ভাব জনমনে স্বস্তির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। মহানবি (স.) মদিনা সনদ বা মুসলমানদের সংবিধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে সকল স্তরের লোকদের সমান শান্তি-শৃঙ্খলা, অধিকার-মর্যাদার বিধান আছে। ফলে মদিনা সনদের মাধ্যমে সকল অনৈতিকতা ও বিশৃঙ্খলার অবসান হয়।
মূলকথা : প্রাক-ইসলামি যুগ ছিল অনৈতিকতার কেন্দ্রস্থল।
সৃজনশীল প্রশ্ন-০৫। পারস্য সম্রাট সাইরাস সুষ্ঠুভাবে শাসনকাজ পরিচালনার জন্য জনগণের অধিকার সংবলিত একটি সংবিধান রচনা করেন। উক্ত সংবিধানে নাগরিক জীবনের সকল দিক তুলে ধরা হয়েছে। সম্রাট কৃষি ও শিক্ষাব্যবস্থার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। অবাধ্য কৃষকদের শাস্তির ব্যবস্থা রেখে তিনি কৃষি উৎপাদনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন । জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতির জন্য তিনি সাম্রাজ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। এ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্ণমালা শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চতর গবেষণার বিভিন্ন পর্যায় শিক্ষা দেয়া হতো।
ক. জ্যাকোবের অপর নাম কী?
খ. রোমান আইন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা দাও।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত কৃষিব্যবস্থার সাথে মিশরীয় কৃষিব্যবস্থার কী মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের শিক্ষাব্যবস্থার সাথে মিশরীয় শিক্ষাব্যবস্থার তুলনামূলক পর্যালোচনা কর।
সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
ক. ইয়াকুব (আ.)।
খ. সভ্যতার ইতিহাসে রোমানদের গৌরবজনক অবদান ছিল আইনের ক্ষেত্রে। যুক্তি ও প্রথার সম্মেলনেই রোমান আইনের সৃষ্টি। প্রাথমিক যুগে, মৌলিক আইন দ্বারাই রোমানরা তাদের সমস্যা মিটাত। ৪৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ১২টি ব্রোঞ্জ পাতে সংকলিত আইনের দৃষ্টিতে সাম্যের স্বীকৃতি ছিল। বেসামরিক আইন, জনগণের আইন ও প্রাকৃতিক আইনের আওতায় সমগ্র রাজ্য শাসিত হতো।
মূলকথা : রোমানদের সবচেয়ে গৌরবজনক অবদান আইনের ক্ষেত্রে।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত কৃষিব্যবস্থার সাথে মিশরীয় কৃষিব্যবস্থার অগ্রগতিতে বেশ কিছুটা মিল আছে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো : প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতাকে গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস “নীলনদের দান" বলে আখ্যা দিয়েছেন। এর কারণ নীলনদ ছিল এই সভ্যতার প্রাণ।
উত্তর-দক্ষিণে প্রবহমান নদের বয়ে আনা পলিমাটি দিয়ে মিশরে কৃষিভিত্তিক সমাজ গড়ে উঠে। মিশরের উর্বর ভূমিতে পর্যাপ্ত ফসল জন্মাত, তাই মিশরের অর্থনৈতিক কাঠামো কৃষির উপর নির্ভর করেই গড়ে উঠেছিল।
খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩০০ অব্দে মিশরীয়রা লাঙলের ব্যবহার শুরু করলে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। জলসেচ, জলাশয় সৃষ্টি এবং কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন কলাকৌশল উদ্ভাবনে তারা অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে।
মিশরে কৃষকরা ছিল সর্বনিম্ন স্তরে। প্রতিবছর নীলনদের বন্যা বয়ে আনত পলিমাটি। বন্যাপ্লাবিত এ পলিমাটি পাহাড় থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন মূল্যবান ধাতু মিশরবাসীকে শিল্প নির্মাণে সহায়তা করেছে। শুকনো মৌসুমে নীলনদের পানি ধরে রেখে সেচব্যবস্থা প্রচলন এবং বন্যার সময় নীলনদের তীরে বাঁধ নির্মাণ করে মিশরের কৃষির উন্নতি সম্ভব হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত কৃষক ও কৃষিব্যবস্থার অগ্রগতির সাথে কৃষক ও কৃষিব্যবস্থার যথেষ্ট মিল আছে। কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক । পরিবর্তনের ফলেই সভ্যতার বিকাশ সাধিত হয়।
মূলকথা : প্রাক-ইসলামি আরবের অর্থনীতি কৃষির উপর নির্ভর করেই গড়ে উঠে।
ঘ. নিচে উদ্দীপকের শিক্ষাব্যবস্থার উপর মিশরীয় শিক্ষাব্যবস্থার তুলনামূলক আলোচনা করা হলো :
. উদ্দীপকের শিক্ষাব্যবস্থায় জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতির জন্য পারস্য সম্রাট সাম্রাজ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু-শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চতর গবেষণার বিভিন্ন পর্যায় শিক্ষা দেওয়া হতো।
অপরপক্ষে, মিশরীয়দের মাঝে মুক্তবুদ্ধির চর্চা ছিল। দার্শনিক ও মুনি-ঋষিগণ অনন্ত, বিশ্বচরাচরে বিশ্বাসী ছিলেন। দর্শন ও জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চায় মিশরীয়দের অবদান অতুলনীয় । অঙ্কশাস্ত্র ও জ্যোতির্বিদ্যায় তাদের অগ্রগতি বিস্ময়কর। তারাই সর্বপ্রথম অঙ্ক ও জ্যামিতিশাস্ত্রের উদ্ভাবন করেন। জ্যামিতিশাস্ত্রে তারাই প্রথম কৌণিক, আয়তক্ষেত্র ও ষড়ভুজের আবিষ্কার করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে সে সময় মিশরে চোখ, দাঁত, প্লীহা রোগের সুচিকিৎসা ছিল। নাড়ি ও হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন ও কার্যাবলি সম্বন্ধে তাদের জ্ঞান ছিল। জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, আইন, শাসন ও সরকারপদ্ধতির উদ্ভাবন ও বিন্যাস সাধন যুগোপযোগী কর্মধারার সূচনা করে ছিল। এ প্রসঙ্গে প্রফেসর সেইসের মন্তব্যটি প্রণিধানযোগ্য, তিনি বলেন, "We are the heirs of the civilize past and a goodly position of civilize that past was the creation of ancient Egypt."
সুতরাং উদ্দীপকের শিক্ষাব্যবস্থার সাথে মিশরীয় শিক্ষাব্যবস্থার পার্থক্য হলো পারস্য সাম্রাজ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্ণমালা শিক্ষা দেওয়া হতো। অপরদিকে, মিশরীয় শিক্ষাব্যবস্থায় জ্ঞান-বিজ্ঞান যেমন চিকিৎসাশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা, অঙ্ক ও জ্যামিতি, দর্শনচর্চা তথা নতুন তথ্য বা সূত্র প্রদানে অবদান রাখে।
মূলকথা : মিশরীয়দের জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখায় অবদান অপরিসীম।
সৃজনশীল প্রশ্ন-০৬। সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন বিশৃঙ্খলাপূর্ণ এবং হতাশাব্যঞ্জক। দেশটিতে শান্তি ও নিরাপত্তার লেশমাত্র নেই বললেই চলে। খুনের বদলে খুন, রক্তের বিনিময়ে রক্ত এসব প্রথা এখানে প্রচলিত। বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় এখানে প্রতিনিয়ত জানমালের বিপুল ক্ষতি সাধিত হয়। সিরিয়ার বিদ্রোহী গ্রুপ "ফ্রি সিরিয়ান আর্মির' প্রতিষ্ঠাতা কর্নেল রিয়াদ আল-আসাদ গত মার্চ মাসে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে পা হারিয়েছেন। সিরিয়ার জনগণ জানে না এ যুদ্ধের অবসান হবে কবে?
ক. আরব উপদ্বীপের আয়তন কত?
খ. আরব দেশের জলবায়ু কোন প্রকৃতির? ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে প্রাক-ইসলাম যুগের কোন দিকটির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উক্ত দিকটি কি সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ? তোমার মতামত দাও।
সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
ক. আরব উপদ্বীপের আয়তন ১০,২৭,০০০ বর্গমাইল ।
খ. পৃথিবীর অত্যন্ত শুষ্ক ও গ্রীষ্মপ্রধান দেশগুলোর মধ্যে আরব উপদ্বীপ অন্যতম। উপদ্বীপটির তিন দিকে জলরাশি থাকলেও তা ভূমিকে সিক্ত করতে পারেনি। কারণ আরব ভূমির অধিকাংশই 'আফ্রো-এশিয়ার বৃষ্টিহীন বিশাল প্রান্তর। দক্ষিণের মহাসমুদ্র থেকে প্রাকৃতিক কারণে মেঘ উঠলেও তা মরুর বালুঝড় শুষে নেয় বলে বাতাসে আর জলীয়বাষ্প অবশিষ্ট থাকে না। তবে ইয়েমেন, ওমান, হাজরামাউত, হেজাজ প্রভৃতি অঞ্চলে এবং পানিবিধৌত উপত্যকায় যৎসামান্য বৃষ্টিপাত হয় ।
মূলকথা : আরবদেশে মূলত শুষ্ক ও গ্রীষ্মপ্রধান জলবায়ু বিরাজ করে।
গ. উদ্দীপকে প্রাক-ইসলাম যুগে, আরবের যে কলুষিত রাজনৈতিক অবস্থা বিদ্যমান ছিল তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল খুবই নৈরাজ্যজনক ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ। সে সময় আরবে আইন-কানুনের কোনো বালাই ছিল না। কেন্দ্রীয় শাসনের অভাবে গোত্রপ্রধান স্ব-স্ব গোত্রকে
শাসন করত, মরুবাসী আরব বেদুইন যাযাবরদের মধ্যে গোত্রশাসন প্রাধান্য লাভ করেছিল। গোত্রের দলপতিকে শেখ বলা হতো। সাহস, বিচারবুদ্ধি, বয়স, পদমর্যাদা, আর্থিক সচ্ছলতা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শেখ নির্বাচিত হতো। গোত্রপ্রীতি ছিল তাদের চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, গোত্রের সদস্যদের মধ্যকার কলহ বৈঠকে নিষ্পত্তি | করা হতো। স্বাধীনচেতা ও গোত্রপ্রীতি আরবদের জন্য শুধু শান্তি ও নিরাপত্তাই বিধান করেনি বরং দীর্ঘকালব্যাপী আন্তঃগোত্রীয় কলহের সূচনাও করেছে। অতি সামান্য কারণেই গোত্রীয়কলহ সংঘটিত হতো। গোত্রকলহ বিভীষিকা ও অরাজকতার সৃষ্টি করলেও এ ঘটনাকে উপলক্ষ করে প্রাক- ইসলামি যুগে কবিতার আসর বসতো। দীর্ঘকালব্যাপী এসব কলহ-বিবাদ আইয়াম-আল-আরব নামে পরিচিতি লাভ করে। সুতরাং বলা যায় যে, প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের রাজনৈতিক না অবস্থা ছিল খুবই শোচনীয় ।
মূলকথা : আরবের রাজনৈতিক অবস্থা খুবই অস্থির ও অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল।
ঘ. ইসলাম পূর্ব যুগে আরবের রাজনৈতিক অবস্থার সাথে সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির সম্পূর্ণ মিল রয়েছে বলে আমি মনে করি । এ সম্পর্কে আমার মতামত নিচে দেওয়া হলো-
ইসলাম পূর্ব যুগে কতিপয় অঞ্চল ছাড়া প্রায় সমগ্র আরব দেশই স্বাধীন ছিল। কেন্দ্রীয় কোনো শাসন না থাকায় আরবগণ বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত ছিল। তবে তারা নিজ নিজ গোত্রের নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও অনুগত ছিল এবং গোত্রীয় নিয়মেই তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো ।
আরবে কেন্দ্রীয় কোনো শাসকের অভাবের কারণেই গোত্রকলহ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পানির নহর, তৃণভূমি, গবাদি পশু, ঘোড়দৌড়ের মতো সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলহপ্রিয় আরব গোত্রগুলোর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতো। কোনো কোনো সংঘর্ষ দীর্ঘদিন ধরে চলতো। এসব গোত্রকলই সাধারণত 'আইয়াম-আল-আরব বা আরবদের দিন নামে। পরিচিত। এ সময়ের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধগুলোর মধ্যে মদিনার আউস ও খাজরাজ গোত্রের মধ্যে সংঘটিত 'বুয়াস'-এর যুদ্ধ, কুরাইশ ও হাওয়াযিন গোত্রের মধ্যে সংঘটিত 'আল-ফিজার'- এর যুদ্ধ এবং বানু বকর ও বানু তাঘলিব গোত্রের মধ্যে সংঘটিত দীর্ঘ চল্লিশ বছরব্যাপী 'হারব- আল বসুস'-এর যুদ্ধ অন্যতম। ঐতিহাসিক গিবন বলেন, “ইসলামপূর্ব যুগে আরবে প্রায় ১,৭০০টি যুদ্ধ সংঘটিত হয়।”
উদ্দীপক অনুসারে সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রাক-ইসলাম যুগের বিশৃঙ্খল ও কলুষিত দিকটি ফুটে উঠেছে।
মূলকথা : বক্তব্যটি যথার্থ ও সঠিক।
সৃজনশীল প্রশ্ন-০৭। সিফাত একটি ছোট শহরে বাস করে। ওর শহরের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটগুলো সুপরিকল্পিত। যদিও নদীর প্লাবনে ফসলের ক্ষতি হয় এবং শহর প্লাবিত হয়; কিন্তু শহরবাসী বসে না থেকে সরকারের সাহায্য নিয়ে নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করে এবং এ পানির দ্বারা সেচ দিয়ে প্রচুর ফসল ফলায় এবং নদীপথে বাণিজ্য করে আর্থিক উন্নতি লাভ করে। তাদের বসতবাড়িগুলো তারা খুব যত্নসহকারে তৈরি করে। তবে মসজিদ ও মন্দির নির্মাণে তারা তেমন যত্নশীল ছিল না। তাদের শহর ধর্মীয় কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত।
ক. সুমেরীয়দের ধর্মমন্দিরকে কী বলা হতো?
খ. মিশরীয়দের লিখন পদ্ধতি ব্যাখ্যা কর।
গ. সিফাতের শহরে কোন সভ্যতার মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর ।
ঘ. উদ্দীপকের শহরের সাথে উক্ত সভ্যতার ধর্ম ও স্থাপত্য শিল্পের তুলনামূলক আলোচনা কর।
সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
ক. সুমেরীয়দের ধর্মমন্দিরকে জিগুরাত বলা হতো।
খ. বিশ্বসভ্যতায় মিশরীয়দের গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার; যা তারা সম্ভবত মনের ভাব প্রকাশের প্রয়োজনেই করেছিল। এই পদ্ধতিতে ২৪টি চিহ্ন ছিল, এবং প্রত্যেকটি চিহ্ন বিশেষ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করত। চিত্রের সাহায্যে তারা লেখার কাজ পরিচালনা করত এং চিত্রগুলো এমনভাবে আঁকা হতো যাতে মনের ভাব ঠিকভাবে প্রকাশিত হয়। কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে মিশরে তিন ধরনের লিখন পদ্ধতির নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়; যথা- চিত্র লিখন, হিরাটিক (বা দ্রুত লিখন পদ্ধতি) এবং ডেমোটিক যা জনসাধারণ ব্যবহার করত। তারা 'পেপিরাস' নামক এক প্রকার ঘাস হতে কাগজ প্রস্তুত করত এবং শাক-সবজির রস দ্বারা: কালি প্রস্তুত করে তীক্ষ্ম শলাকাকে কলমরূপে ব্যবহার করত। তারা ডান হতে বাম দিকে লিখত ।
মূলকথা : মিশরীয়রাই সর্বপ্রথম লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করে।
গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত সিফাতের শহরের সাথে মিশরীয় সভ্যতার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। কারণ, শহরের ঘরবাড়ি, --> রাস্তাঘাটগুলো যদিও সুপরিকল্পিত তথাপি নদীর প্লাবনে Firy ফসলের ক্ষতি হয় এবং শহর প্লাবিত হয়; কিন্তু শহরবাসী কী বসে না থেকে সরকারের সাহায্য নিয়ে নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করে। এ পানির দ্বারা সেচ দিয়ে প্রচুর ফসল ফলায় এবং নদীপথে বাণিজ্য করে আর্থিক উন্নতি লাভ করে। তাদের বসতবাড়িগুলো তারা খুব যত্নসহকারে তৈরি করে। তবে মসজিদ ও মন্দির নির্মাণে তারা তেমন যত্নশীল নয়। তাদের শহর ধর্মীয় কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত। অনুরূপভাবে, মিশরও প্রত্যেক বছর জুন থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে নীলনদের উভয় তীর দ্বারা প্লাবিত হয়। প্রাচীন মিশরীয়রা এ সময় বসে না থেকে নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করে। পরবর্তীকালে এ পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করত। তাছাড়া প্লাবন শেষে পলিমাটিতে উভয় তীর দৈর্ঘ্যে ৬০০ মাইল এবং প্রস্থ ১০ মাইল পর্যন্ত ভরে যেত। এতে জমি অত্যন্ত উর্বর হয় এবং প্রচুর শস্য, তুলা প্রভৃতি উৎপন্ন হওয়ায় মিশর একটি সমৃদ্ধিশালী দেশে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া মিশর নামক অঞ্চলটি এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা এ তিনটি মহাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকায় এবং ভূমধ্যসাগরের উপকূলে বিদ্যমান হওয়ার ফলে মিশরের ভৌগোলিক অবস্থানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নীলনদের তীরে সিনাই পাহাড় ও অন্য পর্বতমালা এবং চুনাপাথর বিদ্যমান থাকায় শিল্পদ্রব্য ও অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করার জন্য মিশরবাসীকে বিভিন্ন প্রকার ধাতু সরবরাহ করেছে। এককথায়, গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ও নীলনদের দানের ফলে মিশরেই বিশ্বের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন সভ্যতার উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটে।
সুতরাং বলা যায যে, উদ্দীপকে উল্লেখিত সিফাতের শহরের সাথে মিশরীয় সভ্যতার সাদৃশ্য রয়েছে।
মূলকথা : মিশরীয় সভ্যতার সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত সিফাতের শহরের অধিবাসীদের সাথে মিশরীয় সভ্যতার ধর্ম ও স্থাপত্য শিল্পের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান। নিচে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
উদ্দীপকের শহরবাসী ধর্মীয় ব্যাপারে কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত। এ কারণে মসজিদ ও মন্দির নির্মাণে তারা তেমন যত্নশীল নয়। কিন্তু প্রাচীন মিশরীয়গণের জীবনে ধর্মের প্রভাব ছিল খুবই প্রকট। মিশরীয়গণ তাদের মানবজাতির মধ্যে সর্বাপেক্ষা ধর্মপ্রাণ বলে অভিহিত করেন। ঐশ্বরিক শক্তির প্রতি বিশ্বাস অন্য ধর্মাবলম্বী হতে তাদের পৃথক করেছে। শুধু ধর্মীয় শাসন বা পুরোহিততন্ত্রেই নয় সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বিশেষ করে সাংস্কৃতিক জীবনেও ধর্মের অনুশাসনের প্ৰতিফলন দেখা যায় ।
• স্থাপত্য শিল্পেও মিশরীয়দের ধর্মীয় প্রভাব লক্ষ করা যায়। তারা * মৃত্যু পরবর্তী জীবনে বিশ্বাসী ছিল। এ বিশ্বাস থেকেই তারা ফারাওদের মৃতদেহকে দীর্ঘস্থায়ী করে রাখার জন্য মমি তৈরি করত এবং সমাধির উপর সৌধ নির্মাণ করত। বস্তুত, আধ্যাত্মিকতার অনুপ্রেরণাই তাদের স্থাপত্য শিল্পের বিকাশে সহায়তা করেছিল। এ কারণে তারা অসংখ্য স্মৃতিসৌধ, প্রাসাদ, মন্দির ও পিরামিড স্থাপত্যে অসামান্য কৃতিত্বের ছাপ রাখে। এসব স্থাপত্য তাদের ধর্মীয় প্রগাঢ়তাই প্রকাশ করে বৈকী ।
সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লেখিত শহরবাসী ধর্মের ক্ষেত্রে কুসংস্কারমুক্ত ও কিছুটা উদাসীন থাকলেও ধর্মের প্রতি প্রগাঢ়তার কারণে মিশরীয়দের কর্মকাণ্ডের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই ধর্মীয় অনুভূতি পরিলক্ষিত হয়। এ কারণে তারা অনেক সময় কুসংস্কারাচ্ছন্নও হয়ে উঠে ।
সৃজনশীল প্রশ্ন-০৮। আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নে দুটি বংশ বাস করে। তাদের একটি ‘মোল্লা’ বংশ অন্যটি ‘চৌধুরী' বংশ। তারা চলাফেরা আচার-আচরণ ও আনুষ্ঠানিকতায় একে অপরের বিপরীত চৌধুরী বংশের লোকেরা নিজেদের অভিজাত বলে শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করেন। তবে সবকিছুর মাঝেও একজনকে তারা সর্বেসর্বা হিসেবে মান্য করেন । যিনি সব কিছুর সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
ক. অবস্থান ও বসবাসগত দিক থেকে আরবদেরকে কয়ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
খ. আরব আল-মুস্তারিবা সম্পর্কে ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে চৌধুরী বংশের লোকদের প্রাক-আরব জনগোষ্ঠীর কোনটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে তুমি মনে কর তা বর্ণনা কর ।
ঘ. উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৎকালীন আরবের রাজনৈতিক অবস্থার বর্ণনা দাও।
সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
ক. অবস্থান ও বসবাসগত দিক থেকে আরবদের দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে।
খ. প্রাচীন আরবকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়; এদের মধ্যে মুস্তারব একটি। মূলত, বহিরাগতরা ইতিহাসে মুস্তারব নামে অভিহিত হতো। এদের আরবিকৃত আরবও বলা হয়। তারা বাবেলের (সিরিয়ার নিকটবর্তী স্থানের) অধিবাসী হজরত ইব্রাহিম (আ)-এর পুত্র ইসমাইল (আ)-এর অধঃস্তন আদনান এর বংশধর ছিলেন। হেজাজ, নেজদ, পেত্রা, পালমিরা অঞ্চলে বসবাসকারী মুস্তারিবা গোত্রের নিযারী (Nizari) হতে হজরত মুহম্মদ (স) এর কুরাইশ বংশের উদ্ভব হয়।
মূলকথা : মুস্তারিবগণ ছিলেন বহিরাগত আরব
গ. উদ্দীপকে চৌধুরী বংশের লোকদের সাথে প্রাক ইসলামি আরবের শহুরে জনগোষ্ঠীর সাদৃশ্য রয়েছে বলে আমার মনে হয়।
কারণ, ভূপ্রকৃতির তারতম্য অনুসারে আরবের অধিবাসীদের দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা- শহরের স্থায়ী বাসিন্দা ও যাযাবর বেদুঈন। এই দুই শ্রেণির আচার-ব্যবহার, জীবনযাত্রা প্রণালি, ধ্যান-ধারণা, আশা-আকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। উর্বর তৃণ-অঞ্চলগুলো স্থায়ীভাবে বসবাসের উপযোগী বলে অসংখ্য জনপদ গড়ে উঠেছে। স্থায়ী বাসিন্দাদের কৃষিকাজ, ব্যবসায়- বণিজ্য প্রভৃতি ছিল প্রধান জীবিকা। বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের ফলে এরা মরুবাসী বেদুঈনদের তুলনায় অধিকতর রুচিসম্পন্ন ও মার্জিত। এ কারণে তারা অনেক সভ্য জীবন যাপন করত। উদ্দীপকের আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নে বসবাসকারী মোল্লা বংশ ও চৌধুরী বংশের মধ্যেও অনুরূপ পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। প্রাচীন আরবের শহরবাসীর ন্যায় উদ্দীপকের চৌধুরী বংশ নিজেদের অভিজাত মনে করত। কারণ, তারা চলাফেরা, আচার- আচরণ ও আনুষ্ঠানিকতায় শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে চৌধুরী বংশের সাথে আরবের শাহরবাসীর সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
মূলকথা : প্রাক-ইসলামি আরবের শহরে জনগোষ্ঠীর চিত্র ফুটে উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপকের “জোর যার মুলুক তার”- নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৎকালীন আরবের রাজনৈতিক অবস্থার বর্ণনা দাও।
রাজনৈতিক অবস্থা : তমসার যুগে আরবের রাজনৈতিক অবস্থা অতীব শোচনীয় এবং নৈরাজ্যজনক ছিল। শহরবাসী অরবগণের রাজনৈতিক অবস্থা তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো থাকলেও মরুবাসী আরবগণের রাজনৈতিক আকাশ মেঘাচ্ছন্ন নৈরাজ্যজনক ছিল, আরবে তখন আইন-কানুনের কোনো বালাই ছিল না। সর্বত্র "জোর যার মুলুক তার"- নীতি বিদ্যমান ছিল। কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা সম্বন্ধে তারা ছিল সম্পূর্ণ অজ্ঞ। সমগ্র আরব শত-সহস্র গোত্রে বিভক্ত ছিল। গোত্র-শাসনই ছিল আরবের রাষ্ট্রীয় জীবনের মূল ভিত্তি এবং প্রত্যেক গোত্রের একজন করে দলপতি (শেখ) থাকত। সাহস, বুদ্ধি, আর্থিক অবস্থা, পদ মর্যাদা এবং অভিজ্ঞতা বিচার করে তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দলপতি নির্বাচন করত। শেখের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করলেও তারা ব্যক্তি স্বাধীনতাকে বিসর্জন দিতে রাজি ছিল না। কাজেই শেখ তার দলের লোকদেরকে শাসনের পরিবর্তে প্রশ্রয়ই দিতেন বেশি। একই গোত্রের লোকদের পরস্পরের মধ্যে মিল-মহব্বত ছিল; কিন্তু ভিন্ন গোত্রের লোকদের মধ্যে পরস্পর শত্রুতা ছিল। দলের বা গোত্রের স্বার্থরক্ষার জন্য তারা জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দিতে কুণ্ঠিত ছিল না; সামান্য কোনো অজুহাতেই গোত্রে গোত্রে . ভয়াবহ যুদ্ধের সূচনা হতো। 'খুনকা বদলা খুন' এটাই ছিল গোত্রযুদ্ধের মূল কারণ।
জাহা বিভিন্ন গোত্রের চারণ কবিরা বীর ও ব্যঙ্গরসাত্মক কবিতা দ্বারা এবং রণরঙ্গিনী নারীরা বীররসাত্মক সঙ্গীত গেয়ে সংগ্রামরত যোদ্ধাদেরকে উত্তেজিত এবং উৎসাহিত করত, ফলে যুদ্ধ ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী হতো। এরূপে মদিনার আউস ও খাজরাজ গোত্রের মধ্যে 'বুয়াসের যুদ্ধ' এবং মক্কার কুরাইশ রানা এবং হাওয়াজিন গোত্রদ্বয়ের মধ্যে 'হারব আল-ফিজর' বা 'ফিজরের যুদ্ধ' ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ীভাবে সংঘটিত হয়েছিল। ঐতিহাসিক জীবনের মতে, ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরবে প্রায় ১৭০০ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। আরবের এ তমসা যুগে কোনো রাষ্ট্র পরিচালক না থাকায় আরববাসিগণ অকারণে ঐসব রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ব্যাপৃত থাকত; দীর্ঘকালব্যাপী এসব কলহ-বিবাদ 'আইয়াম আল-আরব' বা আরবের দিন নামে পরিচিত। মূলকথা : প্রাচীন আরবের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল খুবই শোচনীয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন-০৯। সোমা ও সোহানা একটি অঞ্চলের প্রাচীন অধিবাসীদের নিয়ে আলোচনা করছে। সোমা বলল, 'এ অঞ্চলের প্রাচীন অধিবাসীদের শহরবাসী ও মরুবাসী— এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।” সোহানা বলল, 'মরুবাসীদের স্থায়ী কোনো ঠিকানা ছিল না। এ অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে গোত্রপ্রথা ছিল প্রধান ।
ক. আরব উপদ্বীপের আয়তন কত?
খ. ঘোড়ার প্রতি আরবদের বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে কেন? গ. সোমা ও সোহানার আলোচিত অধিবাসীদের পরিচয় কোন অধিবাসীদের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ? নিরূপণ কর।
ঘ. সোহানার উল্লিখিত জাতি-গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে মতামত দাও।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
ক. আরব উপদ্বীপের আয়তন প্রায় ১০,২৭,০০০ বর্গমাইল ।
খ. ঘোড়ার প্রতি আরবদের বিশেষ দুর্বলতা ছিল। কারণ; আরব জানা দেশে সাধারণত শিকার, খেলাধুলা, যুদ্ধবিগ্রহ প্রভৃতি কাজে ঘোড়া ব্যবহার করা হয় ।
আরবদের কালো ঘোড়া খুব শক্তিশালী দুর্ধর্ষ প্রকৃতির, তাই যুদ্ধের জন্য বিশ্বজুড়ে আরবদের ঘোড়ার কদর রয়েছে। । বেদুইন শেখের ঐশ্বর্য পরিমাপক হিসেবে উটের পরেই ঘোড়ার স্থান ছিল। তাই অন্যান্য গৃহপালিত জন্তুর ন্যায় ঘোড়াও গৃহপালিত জন্তুতে পরিণত হয়।
মূলকথা : ঘোড়া আরবদের অন্যতম প্রিয় গৃহপালিত পশু।
গ. সোমা ও সোহানার আলোচিত অধিবাসীদের পরিচয় আরবের অধিবাসীদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ভূপ্রকৃতির তারতম্য অনুসারে আরবের অধিবাসীরা শহরের স্থায়ী বাসিন্দা এবং যাযাবর বেদুইন- এই দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। এই দুই শ্রেণির আচার-ব্যবহার, জীবনযাত্রা প্রণালি, ধ্যান-ধারণা, আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রভৃতি পুরোপুরি ভিন্ন প্রকৃতির । দক্ষিণ আরবে সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছে। উর্বর তৃণ অঞ্চলগুলো স্থায়ীভাবে বসবাসের উপযোগী বলে অসংখ্য জনপদ সেখানে গড়ে উঠেছে এবং স্থায়ী বাসিন্দাদের কৃষিকাজ, ব্যবসায়- বাণিজ্য প্রভৃতি ছিল, প্রধান জীবিকা। বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগের ফলে তারা মরুবাসী বেদুইনদের তুলনায় অধিকতর রুচিসম্পন্ন ও মার্জিত। তবে স্থায়ী শহরবাসী ও যাযাবর বেদুইনদের মধ্যে একটি সীমারেখা টেনে দেওয়া অসম্ভব। কারণ, অনেক মরুবাসী আরব বেদুইন জীবন ত্যাগ করে শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করে। অপরদিকে দারিদ্র্যের কশাঘাত সহ্য করতে না পেরে অনেক স্থায়ী বাসিন্দা বাধ্য হয়ে যাযাবর বৃত্তি গ্রহণ করে। তবে শহরবাসী ও যাযাবর বেদুইনদের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো বেদুইনরা ভাষা ও রক্ত পবিত্রতার রক্ষক। ইতিহাসের গতিধারা, রাজ্যের উত্থান-পতন তাদের সাবলীল ও স্বাধীন জীবনপদ্ধতিকে ব্যাহত করতে পারেনি। বেদুইন সমাজের মূল ভিত্তিই ছিল গোত্রপ্রথা।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে সোমা ও সোহানার আলোচনায় আরব অধিবাসীদের জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে।
মূলকথা : আরব অধিবাসীদের জীবনপ্রণালি ফুটে উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপকে সোহানার উল্লেখিত জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে আরব যাযাবরদের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। বেদুইনদের মধ্যে হিংস্রতা ও মহত্ত্বের সুকুমার গুণাবলির সংমিশ্রণ পরিলক্ষিত হয়। শত্রু বা শত্রুর প্রতিবেশীকে আক্রমণ করাই তাদের স্বভাব। লুটতরাজ, জিঘাংসা, পরদ্রব্য অপহরণ, যুদ্ধবিগ্রহ ছিল তাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। অপরদিকে, যাযাবর বেদুইনদের স্বজনপ্রীতি ও গণতন্ত্রপ্রীতি সর্বজনবিদিত। গোত্রপ্রথা ছিল সমাজের মূল ভিত্তি এবং তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য ছিল আসাবিয়া বা কৌম চেতনা। গোত্রপ্রীতি ও রত্ত্ব সম্পর্কের উপর ভিত্তি করেই এই কৌম চেতনা ।
আঞ্চলিকতা, হীনম্মন্যতা বা জাতীয়তাবোধ তাদের স্পর্শ করত না। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য গোত্র-মানসিকতা, অতিথিপরায়ণতা, সহিষ্ণুতা, পৌরুষ প্রভৃতি তাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। রক্তের পবিত্রতা, পূর্বপুরুষদের আভিজাত্য ও বীরত্ব, প্রাচীন আরবি কবিতা ও বাগ্মিতা, আরবি অশ্ব ও তরবারি তাদের গর্বের বস্তু ছিল। কেবল পানি ও পশুচারণের জন্য উপযুক্ত তৃণভূমিকে উপলক্ষ করে তারা নির্মম ও হৃদয়হীন হয়ে উঠে। আরব বেদুইনদের অতিথিপরায়ণতা সর্বজনস্বীকৃত, অতিথি-শত্রুকেও তারা আদর-আপ্যায়ন করতে দ্বিধাবোধ করত না। বেদুইন নারীদের স্বাধীনতা ছিল তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। শহরবাসী মহিলাদের তুলনায় বেদুইন নারী অপেক্ষাকৃত স্বাধীন ছিল। দুর্ব্যবহারের কারণে স্বামীকে পরিত্যাগ করার অধিকার তাদের ছিল।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে আরব বেদুইনদের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন-১০। ফেনীর জেলা প্রশাসক জনাব সাকিল মাহমুদ অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ করলেন, জুন থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে ফেনী নদীর উভয় তীর প্লাবিত হয়। প্লাবনের ফলে উভয় তীরের ভূভাগ অত্যন্ত উর্বর হলেও বন্যায় উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ. সংকট কাটিয়ে উঠতে তিনি ফেনী নদীর তীরে বাঁধ দেওয়ার উদ্যোগ নেন এবং খাল কেটে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করেন। ফলে কৃষিক্ষেত্রে উন্মোচিত হয় এক নতুন দিগন্ত। তবে শিল্প- বাণিজ্য ও সংস্কৃতিতে ফেনী থাকে অবহেলিত।
ক. আরবের আদিম অধিবাসীরা কী নামে পরিচিত?
খ. প্যাপিরাস বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর ।
গ. জনাব সাকিল মাহমুদের কার্যক্রমের সাথে তোমার পঠিত কোন সভ্যতার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. জনাব সাকিল মাহমুদের জেলার তুলনায় তোমার পঠিত সভ্যতাটি কোন অর্থে অধিক সমৃদ্ধ? যুক্তি দাও ।
islamer itihas 1st paper 1st chapter srijonshil question answer
ক. আরবের আদিম অধিবাসীরা সেমেটিক জাতি নামে পরিচিত
খ. 'প্যাপিরাস' নলখাগড়া জাতীয় এক প্রকার গাছের বাকল দিয়ে তৈরি কাগজ। এ ঘাস হতে প্রাচীন মিশরীয়রা সর্বপ্রথম কাগজ প্রস্তুত করেছিল। প্যাপিরাস থেকে তৈরি বলেই কাগজের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘পেপার'। মানবসভ্যতার বিকাশে প্রাচীন মিশরীয়দের অমূল্য অবদান এই পেপার বা কাগজের উদ্ভাবন।
মূলকথা : প্যাপিরাস একপ্রকার ঘাস।
গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত জনাব সাকিল মাহমুদের কার্যক্রমের সাথে আমার পঠিত মিশরীয় সভ্যতার সাদৃশ্য রয়েছে, নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো':
নীলনদের অববাহিকা মিশর ও এর সন্নিকটবর্তী এলাকায় উন্নত ও এক বৈভবময় সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল। প্রাচীন মিশরীয় এ সভ্যতাকে গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস 'নীলনদের দান' আখ্যা দিয়েছিলেন। এর কারণ নীলনদ ছিল এ সভ্যতার প্রাণ।
দক্ষিণ-উত্তরে প্রবহমান এ নদের বয়ে আনা পলিমাটি দিয়ে মিশরে কৃষিভিত্তিক সমাজ গড়ে উঠে। আজ থেকে আনুমানিক সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে সেখানে বিকশিত হয় মিশরীয় সভ্যতা। শুধু কৃষিই নয়, নীলনদকে কেন্দ্র করে মিশরীয় সভ্যতার পুরো অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠেছিল। ।
মূলত মিশরীয় অর্থনৈতিক কাঠামো কৃষির উপর নির্ভর করেই গড়ে উঠেছিল। মিশরের উর্বর ভূমিতে পর্যাপ্ত ফসল জন্মাত। খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩০০ অব্দে মিশরীয়রা লাঙলের ব্যবহার শুরু করলে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। জলসেচ, জলাশয় সৃষ্টি এবং কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন কলাকৌশল উদ্ভাবনে তারা অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে। যব, তুলা,
পেঁয়াজ ইত্যাদি ছিল তাদের অন্যতম কৃষিজাত পণ্য। মিশরীয় অর্থনীতির অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বাণিজ্য। ঈজিয়ান দ্বীপ, ক্রীট, ফিনিশিয়, প্যালেস্টাইন ও সিরিয়ার সাথে মিশরের বাণিজ্য প্রসারিত ছিল। ৩০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে জনসাধারণের একটা বড় অংশের শিল্প-কলকারখানায় কর্মসংস্থান হয় এবং ধীরে ধীরে মিশরে শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিকাশ ঘটতে থাকে।
মূলকথা : মিশরীয় সভ্যতায় কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয় এবং পরবর্তীতে শিল্প-বাণিজ্যও প্রসারিত হয়।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত জনাব সাকিল মাহমুদের জেলার তুলনায় আমার পঠিত সভ্যতাটি অর্থাৎ, মিশরীয় সভ্যতা, সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতিগত দিক থেকে সমৃদ্ধ। নিচে আমার মতের সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো-
বর্ণভিত্তিক চিত্র লিপির উদ্ভাবন মিশরীয়দের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এ ধারার লিখন পদ্ধতিতে এক একটি চিত্র অক্ষরের বিকল্প হিসেবে মনের ভাব প্রকাশ করত।
হায়ারোগ্লিফিক নামে পরিচিত এ পদ্ধতিতে ২৪টি চিহ্ন ছিল এবং প্রতিটা চিহ্ন একটি বিশেষ অর্থ নির্দেশ করত। বিস্ময় উদ্রেককারী তাদের লিখন পদ্ধতি তিন ভাগে বিভক্ত ছিল, যথা— চিত্রভিত্তিক, অক্ষরভিত্তিক এবং বর্ণভিত্তিক। ব্যঞ্জনধ্বনিমুক্ত এক ধরনের লেখাকে হায়ারেটিক বলা হতো।
মিশরীয় সভ্যতার বিস্ময়কর প্রকৌশল জ্ঞানের যথার্থ প্রয়োগ দেখা যায় তাদের স্মৃতিসৌধ ও ধর্মমন্দিরে। স্মৃতিসৌধের অনন্য উদাহরণ হলো পিরামিড, যার ভিত্তি সমচতুর্ভুজ; এর উপরের দিকে চারপাশ ছোট হতে হতে ত্রিভুজ আকারের হয়ে এক বিন্দুতে মিশেছে।
পিরামিড ছাড়া প্রাচীন মিশরের আরো যে দুটি জিনিস অমর কীর্তির সাক্ষর হিসেবে টিকে আছে, সেগুলো হলো স্ফিংকস ও মমি। বহু পাথরের গায়ে খোদাই করা স্ফিংকস-এর দেহ সিংহের মতো আর মস্তক ফারাও এর মতো এবং এগুলো ছিল মর্যাদা ও শক্তির প্রতীক।
চিত্রকর্ম ও কারুশিল্পে মিশরীয়দের অবদান অনস্বীকার্য। সমাধিসৌধ ও মন্দির সজ্জায় লতাপাতা ও জ্যামিতি নকশার মনোহরা পরিবেশনা দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে; প্রযুক্তি জ্ঞানের প্রয়োগ পেশাগত দিক থেকে কারুশিল্পে মিশরীয়দের জুড়ি ছিল না।
প্রাচীন মিশরীয়দের মাঝে মুক্তবুদ্ধির চর্চা ছিল এবং তাদের সমুদয় চিন্তা-চেতনা ধর্মের পরিসীমায় আবদ্ধ ছিল না। দার্শনিক ও মুনি-ঋষিগণ অনন্ত বিশ্বচরাচরে বিশ্বাসী ছিলেন।
সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে বর্ণিত জেলার তুলনায় মিশরীয় সভ্যতা শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্প প্রভৃতি দিক থেকে উন্নত ছিল। দর্শন ও জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় মিশরীয়দের অবদান অতুলনীয়।
সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে বর্ণিত জেলার তুলনায় মিশরীয় সভ্যতা শিক্ষা-সংস্কৃতি, শিল্প, বাণিজ্য প্রভৃতি দিক থেকে উন্নত ছিল
