ধৰ্ম্ম কি ব্যাচার জিনিস কোন প্রসঙ্গে কে এ কথা বলেছে
ধৰ্ম্ম কি ব্যাচার জিনিস কোন প্রসঙ্গে কে এ কথা বলেছে
![]() |
| ধৰ্ম্ম কি ব্যাচার জিনিস কোন প্রসঙ্গে কে এ কথা বলেছে |
উত্তর :লাভজনক ব্যবসা বলে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে নীলকরেরা নীলকুঠি স্থাপন করে বাংলার কৃষকদের ক্ষমতাবলে দাদন নিতে এবং নীলচাষে বাধ্য করেছে। স্বরপুর গ্রামে নীলকরেরা অবর্ণনীয় অত্যাচার শুরু করেছে। নীল চাষে অসম্মত কৃষককে ধরে নিয়ে চাবুক মেরে গুদাম ঘরে আটকে রাখে।
সাধুচরণ ও রাইচরণ দু'ভাই। তারা নীল চাষে অস্বীকৃত হলে তাদের ধরে আনে নীলকর রোগ তাদের বাড়িতে যায়। লম্পট রোগের নজরে পড়ে সাধুচরণের সদ্য বিবাহিতা ও অন্তঃসত্ত্বা কন্যা ক্ষেত্রমণি। নীলকর লম্পট রোগের লাম্পট্যের সহযোগী পদী ময়রানী ক্ষেত্রকে রোগের কাছে নিয়ে যেতে প্রলোভন দেখিয়েছে। ক্ষেত্রমণির মা বিষয়টি নিয়ে বিচলিত ও কুণ্ঠিত।
সে তারই প্রতিবেশী গোলকবসুর স্ত্রীর কাছে সমস্যাটি জানিয়েছে। পদী ময়রানী ক্ষেত্রমণির মাকে জানিয়েছে যে ক্ষেত্র যদি নীলকরের কুঠিতে স্বেচ্ছায় যায় তবে সাহেব খুশি হয়ে টাকা দেবে, ধানের জমি ছেড়ে দেবে, ক্ষেত্রমণির স্বামীকে চাকরি দেবে। ধর্মপ্রাণ বাঙালি নারীর কাছে টাকা পয়সা ধন- দৌলতের চেয়ে ইজ্জত, সম্মান এবং সতীধর্ম অনেক বড়ধর্ম নিয়ে কোন সওদা হয় না।
সতীধর্ম বিক্রিযোগ্য পণ্য নয়। ক্ষেত্রমণি এ কথা শোনার পর ভয়ে মাঝে মাঝে চমকে উঠছে। রেবতী নবীনমাধবের মার কাছে এসে এই ভয়ঙ্কর বিষয়টি আলোচনা করেছে, এর মধ্য দিয়ে নারীর সতীত্বের বিষয়টি যেমন স্পষ্ট হয়েছে, তেমনি নীলকরদের অত্যাচারের সর্বৈব মাত্রাও চিত্রিত হয়েছে।
