রমজান কে? তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধর
রমজান কে? তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধর।
![]() |
| রমজান কে? তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধর |
উত্তর : শহীদুল্লা কায়সার রচিত 'সংশপ্তক' উপন্যাসে রমজান চরিত্রের মধ্যে দিয়ে আমরা কোন ইতিবাচক তার সন্ধান পাই না। ঔপন্যাসিক রমজান চরিত্রকে নীতিহীন, জটিল, কুটিল চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
রমজান বাকুলিয়ার নিঃস্ব-রিক্ত শ্রমিক শ্রেণির কোন একপ্রকার বংশ মর্যাদাহীন একজন প্রজাসাধারণ মাত্র ছিল। প্রথমত রেঙ্গুনে কুলির সর্দার, লেকুর সাথে বখরা নিয়ে মতান্তরের সূত্রপাতে কুলি বিদ্রোহ তথা ভিন্ন কুলি সর্দারের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ঘটনা চকে জোড়া খুনের দায়ে আসামি ফেরার (রমজান); দ্বিতীয়ত ফেলু মিঞার ক্ষয়িষ্ণু জমিদারি নায়েব, অত্যাচারী, শঠ, প্রবঞ্চ প্রতারক, হিংস্র, লোভী, কামুক, লম্পট, মূর্ত, খল, ষড়যন্ত্রকারী, দালাল, তোষামোদী, কৃতঘ্ন, বেঈমান, পরস্বপহারক, কালোবাজারি, লুটেরা, দাঙ্গাবাজ, সাম্প্রদায়িক, মদগর্বিত, উচ্চাভিলাষী, ঈর্ষাকাতর, প্রতিহিংসাপরায়ণ ইত্যাদি অগণিত বহুবিধ ইতর বিশেষণে নিঃসন্দেহে ভূষিত করা চলে রমজানকে।
রমজান, পোড়ো অট্টালিকার অবক্ষয়ে গজিয়ে উঠা পর্ণ আগাছা, আশ্রয়ের অস্তিত্ব-বিনাশী আশ্রিত, একটা অবক্ষয়ীকালের সাক্ষী, যুগের ফসল, ভারত স্বাধীনতা ও বিভাগোত্তর, ২য় বিশ্বযুদ্ধ সমসাময়িক আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত্রে পাকিস্তানি (পূর্ব) সমাজ-বাস্তবতা এ চরিত্রটির মধ্যে সমধিক বিস্তৃত এবং মূলত রমজান চরিত্রটিতে একটি তৎকালীন বিবর্তনিক জাতীয় (পাকিস্তানি) চরিত্রের রূপরেখা সুস্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।
একদিনে কোন রূপ বংশ ও পেশাগত মর্যাদাহীন কুলির সর্দার মিঞা নায়ের রমজান রূপজীবী হুরমতিকে বৈবাহিক সূত্রে একেবারে নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে পাবার সুতীব্র বাসনা আপনে ধিকৃত অসম্মানিত, অপমানিত প্রত্যাখ্যাত এবং মিঞা-মর্জির অবাধ্যতা হেতু ঘন ঘন সাবডিভিশনে যাতায়াত তথা রোজকামাইয়ে লেকুকে নিয়ে খিল এঁটে শুয়ে থাকার প্রতিশোধে হুরমতি জারজ সন্তান প্রসব দায়ের সুযোগে রমজানের চক্রান্তে ফেলু মিঞার সাহায্যে হুরমতির চরম বিচার ও শান্তি এবং সুচির স্থায়ী কলঙ্কের বদলা নিতে একদা প্রতিশোধস্পৃহ দীর্ঘ অপেক্ষিতা হুরমতির বেদিল নাফরমানিতে এক বর্ণাঢ্য নাটকীয় অভিনব কৌশলে হুরমতির হাতে অভিধাপ্রাপ্ত হয় 'কানকাটা রমজানে।
এরপর যুদ্ধের বাজারে গলিত, পচা শবভুক শ্বাপদের মতো ফুলে-ফেঁপে-উঠা, দাঙ্গাবাজ, লুটেরা, কালোবাজারি, রমজান অলঙ্কৃত হয় মিঞা রমজানে। অবশেষে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর স্বাধীনতা ও দেশ বিভাগ পর ক্ষয়িষ্ণু জমিদার ফেলু মিঞা যখন সর্বস্বান্ত কুমিল্লায় ঘরজামাই এবং রামদয়াল দত্ত যাদের পরিত্যক্ত সাকুল্য সম্পত্তি সমূলে গ্রাস করে রূপায়িত হয়েছে অঞ্চল প্রধান কাজী রমজানে।
ফলশ্রুতিতে তালতলির শ্যামচরণ দত্ত উচ্চ ইংরেজি স্কুলের নাম কাজী রমজানের নামে পরিবর্তন না করলে গ্রান্ট বন্ধ, টাকা বন্ধ: সেকান্দর মাস্টার সৈয়ন বাড়িতে রাবুর নতুন স্কুলে জয়েন করবে বলে কথা দেয়। রমজানের অদৃশ্য অঙ্গুলি হেলনে পথের কাঁটা মুক্ত করতে নাটকীয়ভাবে বন্দি হয়, স্বাধীনতা উত্তর-পূর্ব পাকিস্তানে দীর্ঘদিন থেকে তনু তন্ন করে খোঁজা পলাতক, শ্রেণিসংগ্রামে বিশ্বাসী, বিপ্লবী, স্বদেশী ফেরারি জাহেদ।
