আফগানিস্তানে মৌর্য সাম্রাজ্যের বিস্তার বর্ণনা কর
আফগানিস্তানে মৌর্য সাম্রাজ্যের বিস্তার বর্ণনা কর।
![]() |
| আফগানিস্তানে মৌর্য সাম্রাজ্যের বিস্তার বর্ণনা কর। |
উত্তর : সিকন্দর শাহের মৃত্যুর কয়েক বৎসরের মধ্যে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য সমস্ত উত্তর-ভারতবর্ষ দখল করে গ্রিকদের মুখোমুখি হন।
ফলে হিন্দুকুশের উত্তরের বালহিক প্রদেশ ছাড়া সমস্ত আফগানিস্তান তাঁর অধীনে আসে। মৌর্যবংশের পতন ও শুঙ্গবংশের অভ্যুদয় পর্যন্ত আফগানিস্তান ভারতবর্ষের অংশ হয়ে থাকে। ভারতীয় আর্যদের চতুর্বেদ ও ইরানি আর্যদের আবেস্তা একই সভ্যতার বিকাশ।
কিন্তু মৌর্যযুগে এক দিকে যেমন বেদবিরোধী বৌদ্ধধর্মের প্রসার হয় অন্যদিকে ইরানি ও গ্রিক ভাস্কর শিল্প ভারতীয় কলাকে প্রায় সম্পূর্ণ অভিভূত করে ফেলে। অশোকের বিজয়স্তম্ভের মসৃণতা ইরানি ও তার রসবস্তু গ্রিক।
সে-যুগের বিশুদ্ধ ভারতীয় কলার যে নিদর্শন পাওয়া গিয়াছে তার আকার রূঢ়, গতি পঙ্কিল কিন্তু সে ভবিষ্যৎ বিকাশের আশায় পূর্ণগর্ভ। অশোক বৌদ্ধধর্ম প্রচারের জন্য মাধ্যন্তিক নামক শ্রমণকে আফগানিস্তান পাঠান।
সমস্ত দেশ বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেছিল কি না বলবার উপায় নেই কিন্তু মনে হয় আফগানিস্তানের অনুর্বরতা বর্ণাশ্রম ধর্মের অন্তরায় ছিল বলে আফগান জনসাধারণের পক্ষে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ হয়েছিল।
দুই শতাব্দীর ভিতরেই আফগানিস্তান বহু গ্রিক সিথিয়ান ও তুর্কি বুদ্ধের শরণ নিয়ে ভারতীয় সভ্যতা-সংস্কৃতির সঙ্গে সম্মিলিত হয়ে বেদ-আবেস্তার ঐতিহ্য বৌদ্ধধর্মের ভিতর দিয়ে কিছুটা বাঁচিয়ে রাখে।
উত্তর- আফগানিস্তানের বলখ প্রদেশ মৌর্য সম্রাটদের যুগের গ্রিক সাম্রাজ্যের অংশীভূত ছিল। মৌর্যবংশের পতনের সঙ্গে সঙ্গে বলখ অঞ্চলের গ্রিকদের ভিতর অন্তঃকলহ সৃষ্টি হয় ও বলখের গ্রিকগণ হিন্দুকুশ অতিক্রম করে কাবুল উপত্যকা দখল করে।
