চায়না থেকে কি কি পণ্য আমদানি করা যায় (পণ্য তালিকা)
বর্তমান বিশ্বে চীন বা China কে বলা হয় বিশ্বের কারখানা। কম দামে আধুনিক প্রযুক্তি ও ওনেক উৎপাদন ক্ষমতার কারণে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের প্রায় সকল দেশই China থেকে পণ্য আমদানি করে থাকে। বিশেষ করে যারা নতুন ব্যবসা (Business) শুরু করতে চান শুধুমাত্র তাদের জন্য চায়না থেকে পণ্য আমদানি করে ব্যবসা করা খুবই লাভজনক হবে ।
![]() |
| চায়না থেকে কি কি পণ্য আমদানি করা যায় (পণ্য তালিকা) |
এই ব্লগ পোস্টে আমরা বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করব চায়না থেকে কি কি পণ্য আমদানি করা যায় এবং কোন পণ্য গুলোতে বেশি লাভ হবে এবং নতুন ব্যবসায়ীদের (Trader) জন্য গুরুত্ব পূর্ণ দিক নির্দেশনা বলে দেওয়া হবে। চলুন বন্ধুরা জেনে নেওয়া যাক চায়না থেকে আমদানি পণ্য তালিকা সম্পর্কে ।
চায়না থেকে কি কি পণ্য আমদানি করা যায় | চায়না থেকে আমদানি পণ্য তালিকা
১. ইলেকট্রনিক পণ্য (Electronic Products)
২. মোবাইল এক্সেসরিজ (Mobile Accessories)
৩. গার্মেন্টস ও ফ্যাশন পণ্য (Garments and Fashion Items)
৪. কসমেটিকস ও বিউটি প্রোডাক্টস (Cosmetics and Beauty Products)
৫. হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও কিচেন আইটেম (Home Appliance and kitchen Items)
৬. প্লাস্টিক ও গৃহস্থালি সামগ্রী (Plastics Items)
৭. খেলনা (Toys)
৮. স্টেশনারি ও অফিস সামগ্রী (Stationary Items)
৯. মেশিনারি ও শিল্প যন্ত্রপাতি (Machinery Items)
১০. অটো পার্টস ও বাইক এক্সেসরিজ (Auto Parts)
আমরা এতক্ষন মেইন পন্য গুলো সম্পর্কে জেনে নিলাম। আমরা এখন এই পন্যের ক্যাটেগরি গুলোর কী কী পন্য আছে সেসব পন্য সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিবো।
১. ইলেকট্রনিক পণ্য (Electronic Products)
ইলেকট্রনিক পণ্য চায়নার সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত। আপনারা যারা চাইনা থেকে পন্য এনে ব্যবসা করতে চাচ্ছেন তারা এই ইলেক্ট্রকিক্স পন্য গুলো দেখতে পারেন। কারণ এসব পন্য গুলো আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয়তা আছে। এসব পন্যের চাহিদা সব সময় থেকে। চায়না থেকে কি কি পণ্য আমদানি করা যায় এর মধ্যে একটি জনপ্রিয় ইলেকট্রনিক পণ্য:
- স্মার্টফোন
- পাওয়ার ব্যাংক
- ইয়ারফোন ও হেডফোন
- ব্লুটুথ স্পিকার
- চার্জার ও ডাটা ক্যাবল
- স্মার্ট ওয়াচ
- LED লাইট
- CCTV ক্যামেরা
২. মোবাইল এক্সেসরিজ (Mobile Accessories)
আমাদের বাংলাদেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই পন্য গুলো সাইজে অনেক ছোট হওয়ায় আমদানি করতে অনেক খরচ কম হবে। তাই আপনাদের ব্যবসার জন্য আমার মনে হয় মোবাইল এক্সেসরিজের পন্য নিয়ে কাজ করা উচিত। এই পন্যের গ্রাহক অনেক বাংলাদেশে। আমদানিযোগ্য মোবাইল এক্সেসরিজ:
- মোবাইল কভার
- স্ক্রিন প্রটেক্টর
- ফোন স্ট্যান্ড
- কার চার্জার
- ওয়্যারলেস চার্জার
৩. গার্মেন্টস ও ফ্যাশন পণ্য Garments and Fashion products
চাইনা ফ্যাশন পণ্যের জন্য বিশ্বব্যাপী খুবই পরিচিত। আমাদের দেশে ছেলে মেয়েরা চাইয়না পন্য খুবই পছন্দ করে থাকে। দামে কম মানে ভালো হওয়ায় এসব পন্য জনপিয়তা সেসরম। অনলাইনে বিক্রির জন্য এই পন্য টি যতেস্ট ভাল। ফ্যাশন পণ্যের তালিকা:
- রেডিমেড পোশাক
- জিন্স, টি-শার্ট
- জ্যাকেট ও হুডি
- ফ্যাশন ব্যাগ
- বেল্ট, ওয়ালেট
- সানগ্লাস
৪. কসমেটিকস ও বিউটি প্রোডাক্টস
চায়নার কসমেটিক পণ্য তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় আমাদের দেশে এই পন্য টি সবাই কিনতে পারে। তাই এই চায়না কস্মেটিক্স নিয়ে ব্যবসা সফল ভাবে করা যাবে। তবে কিছু সমস্যার সম্মুখীণ হতে পারেন এই পন্য নিয়ে ব্যবসার ক্ষত্রে কারণ BSTI ও আমদানি অনুমোদনের ক্ষেত্রে। জনপ্রিয় কসমেটিকস:
- ফেস ক্রিম
- লিপস্টিক
- ফেস পাউডার
- মেকআপ ব্রাশ
- স্কিন কেয়ার সেট
৫. হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও কিচেন আইটেম
আমরা কখনো কল্পনাও করিনি তাইনা বাংলাদেশের ঘরোয়া ব্যবহারের পণ্যের বড় একটি অংশ চায়না থেকে আসে। যাইহোক এই পন্য নিয়ে যদি আপনি ট্রেড করেন তাহলে খুব দ্রুত সফলতা পাবেন। এই পন্য গুলো গ্রাম কিংবা শহরে দুই বাজারেই চাহিদা আছে। হোম ও কিচেন পণ্য:
- রাইস কুকার
- ইলেকট্রিক কেটলি
- ব্লেন্ডার
- ফ্যান
- কিচেন টুলস
৬. প্লাস্টিক ও গৃহস্থালি সামগ্রী
এই পন্য টি পাইকারি ব্যবসার জন্য খুব ভালো একটি প্রডাক্ট। আপনারা যারা চায়না থেকে পন্য আমদানি করে ব্যবসা করতে চান তাদের জন্য এই পন্য গুলো বেস্ট হবে। চায়না প্লাস্টিক পণ্যের জন্য বিখ্যাত। চায়না থেকে আমদানি পণ্য তালিকাR মধ্যে প্লাস্টিক পণ্যের তালিকাগুলো:
- বালতি
- ঝুড়ি
- ডাস্টবিন
- স্টোরেজ বক্স
- চেয়ার ও টেবিল
৭. খেলনা (Toys)
বাংলাদেশের খেলনার বাজারের বড় অংশ চায়না নির্ভরশিল আমরা। কারন চায়না বরাবর প্লাস্টিক জিনিস নিয়ে বেশী কাজ করে থাকে। সেই জন্য চায়নাই খেলনা বেশী বানায়। আমাদের বাচ্চারা প্রতিদিন কোনো না কোন খেলনা কিনে সেই খেলনা তারাতারি নস্ট হয়ে যায় তাই এই পন্যের চাহিদা সেইরকম।খেলনার ধরন:
- ব্যাটারি চালিত খেলনা
- শিক্ষামূলক খেলনা
- রিমোট কন্ট্রোল কার
- পুতুল
৮. স্টেশনারি ও অফিস সামগ্রী
আপনারা যারা ব্যবসা করতে চান কিন্তু ঝুকি নিতে চান না তাদের জন্য স্টেশনারি পণ্যের ব্যবসা ভালো হবে। স্টেশনারি পণ্যের চাহিদা সারাবছর থাকে। ব্যবসা করার আগে এই পন্য টির কথা ভেবে দেখবেন আপনারা। স্টেশনারি আইটেম:
- কলম
- খাতা
- ফাইল
- স্ট্যাপলার
- ক্যালকুলেটর
৯. মেশিনারি ও শিল্প যন্ত্রপাতি
আমাদের দেশের শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য উপযোগী একটা ব্যবসা । চায়না থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে মেশিন আমদানি করা যায়। কম দামে আমদানি করার ফলে এই ব্যবসায় অনেক লাভ। মেশিনারির উদাহরণ:
- প্যাকেজিং মেশিন
- ফুড প্রসেসিং মেশিন
- সেলাই মেশিন
- CNC মেশিন
১০. অটো পার্টস ও বাইক এক্সেসরিজ
অটো সেক্টর দ্রুত বাড়ছে কারণ আমাদের দেশে বাইক ও কার এত পরিমানে বেড়ে গেছে যে এই পন্য গুলোর চাহিদা অনেক। চায়না থেকে আমদানি পণ্য তালিকা গুলোর মধ্যে অটো পার্টস আইটেম গুলো আমদানি করে বাংলাদেশে সফল ব্যবসা করতে পারেন। অটো পণ্য:
- বাইকের লাইট
- হেলমেট
- ব্রেক প্যাড
- কার এক্সেসরি
চায়না থেকে আমদানি পণ্যের তালিকা অনুযায়ী সঠিক পণ্য বাছাই করলে বাংলাদেশে ব্যবসা করে ভালো লাভ করা সম্ভব বলে মনে হচ্ছে। ইলেকট্রনিক্স, মোবাইল এক্সেসরিজ, ফ্যাশন, কসমেটিকস ও মেশিনারি সবখানেই সুযোগ রয়েছে গ্রাম কিংবা শহরের বাজারে। পরিকল্পনা ও বাজার বিশ্লেষণই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তাই বাংলাদেশে পন্য আমদানি করে ব্যবসা করতে চাইলে আপনদের পন্য বাছাই করা ব্যবসার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চায়না থেকে কি কি পণ্য আমদানি করা যায় এসব বিসয়ে আমরা জেনে নিলাম। যদি কোনো বিসয়ে আপনাদের প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।
.png)