বগদানফ কে? তাঁর সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত আলোচনা কর

 বগদানফ কে? তাঁর সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত আলোচনা কর।
বগদানফ কে তাঁর সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত আলোচনা কর
 বগদানফ কে? তাঁর সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত আলোচনা কর

উত্তর : বগদানফ জাতে রুশ, মস্কোর বাসিন্দা ও কট্টর জারপন্থি। ১৯১৭ সালে বিপ্লবের সময় মস্কো থেকে পালিয়ে আজরবাইজান হয়ে তেহরান পৌঁছান। 

সেখান থেকে বসরা হয়ে বোম্বাই এসে বাসা বাঁধেন। ভালো পেহলেভী বা পহলবী জানতেন বলে বোম্বাইয়ের জরথুস্ত্রী কামা প্রতিষ্ঠান তাঁকে দিয়ে সেখানে অনেক পুঁথিপত্রের অনুবাদ করিয়ে নিয়েছিলেন। 

রবীন্দ্রনাথ সে সময়ে রুশ পণ্ডিতদের দুরবস্থায় সাহায্য করবার জন্য এক আন্তর্জাতিক আহ্বানে ভারতবর্ষের পক্ষ থেকে সাড়া দেন এবং বোম্বাইয়ে বগদানফের সঙ্গে দেখা হলে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বেই তাঁকে ফারসির অধ্যাপকরূপে শান্তিনিকেতনে নিয়ে আসেন। 

শান্তিনিকেতনে তিনি লেখকের ফারসির অধ্যাপক ছিলেন ও তখন ফরাসি রাজদূতাবাসের কর্ম করতেন।রাতের বেলাই বগদানফ সায়েবের সঙ্গে আলাপ করার সুবিধা হয়েছিল। কারণ সমস্ত রাত ধরে তিনি পড়াশোনা করেন, আর দিনের বেলা যতটা পারেন ঘুমিয়ে নেন। 

সেই কারণেই বোধ হয় তিনি ভারতবর্ষের সব পাখির মধ্যে পেঁচাকে পছন্দ করতেন বেশি। শান্তিনিকেতনে তিনি যে ঘরটায় ক্লাশ নিতেন, নন্দবাবু তারই দেওয়ালে একটা পেঁচা এঁকে দিয়েছিলেন। বগদানফ সায়েব তাতে ভারি খুশী হয়ে নন্দবাবুর অনেক তারিফ করেছিলেন।

১৯১৭ সালের পূর্বে বগদানফ রুশের পররাষ্ট্রবিভাগে কাজ করতেন ও সেই উপলক্ষে তেহরানে আট বৎসর কাটিয়ে অতি উৎকৃষ্ট ফারসি শিখেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ যখন পরবর্তীকালে ইরান যান, তখন সেখানে ফারসির জন্য অধ্যাপক অনুসন্ধান করলে পণ্ডিতেরা বলেন যে, ফারসি পড়াবার জন্য বগদানফের চেয়ে শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত পাওয়া অসম্ভব। 

কাবুলের জন্য জহুরিদের মুখেও শোনা যায় যে, আধুনিক ফারসি সাহিত্যে বাগদানফের লিখনীশৈলী আপন বৈশিষ্ট্য দেখিয়ে বিদগ্ধজনেরশ্রদ্ধাভাজন হয়েছেন ।ইউরোপীয় বহু ভাষা তো জানতেনই-তাছাড়া জগতাই, উসমানলী প্রভৃতি কতকগুলো অজানা অচেনা তুর্কি ভাষার উপভাষায় জবরদস্ত মৌলবিও ছিলেন। 

কাবুলের মহা জগাখিচুড়ি শহরের দেশি বিদেশি সকলের সঙ্গেই তিনি তাঁদের মাতৃভাষায় দিব্যি স্বচ্ছন্দে কথা বলতে পারতেন।একদিকে অগাধ পাণ্ডিত্য, অন্যদিকে কুসংস্কারে ভর্তি। বাঁ দিকে ঘাড় ফিরিয়ে পিছনের চাঁদ দেখতে পেয়েছেন না তো গোখরোর ফণায় যেন পা দিয়েছেন। 

সেই 'দুর্ঘটনা'র তিন মাস পরেও যদি তাঁর পেয়ারা বেরাল বমি করে, তবে ঐ বাঁ কাঁধের উপর দিয়ে অপয়া চাঁদ দেখাই তার জন্য দায়ী। মইয়ের তলা দিয়ে গিয়েছ, হাত থেকে পড়ে আরশি ভেঙে গিয়েছে, চাবির গোছা ভুলে মেজের উপর রেখেছিলে আর যাবে কোথায়, সে রাত্রে বগদানফ সাহেব তোমার জন্য এক ঘণ্টা ধরে আইকনের সামনে বিড়বিড় করে নানা মন্ত্র পড়বেন, গ্রিক অর্থডক্স চার্চের তাবৎ সেন্টদের কাছে কান্নাকাটি করে ধন্না ধরে অপেক্ষা করবেন তোমার কাছে কোনো দুঃসংবাদ পাবার জন্য। 

বগদানফের পাল্লায় পড়লে তিন দিনে দুনিয়ার কুল্লে কুসংস্কারের সম্পূর্ণ তালিকা আপনার মুখস্ত হয়ে যাবে, এক মাসের ভিতর সেগুলো মানতে আরম্ভ করবেন, দু'মাসের ভিতর দেখতে পাবেন, বগদানফ-কাঠের গুঁড়িতে আপনি একা নন, আপনার এবং সায়েবের পরিচিতি প্রায় সবাই তার উপর বসে বসে ঝিমোচ্ছেন। কাবুলের বিদেশি দুনিয়ার কেন্দ্রস্থলে ছিলেন বগদানফ সায়ের একটি আস্ত প্রতিষ্ঠান বললেও অত্যুক্তি হয় না।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ