আফগানিস্তানের ইতিহাসে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব আলোচনা কর

আফগানিস্তানের ইতিহাসে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব আলোচনা কর ।
আফগানিস্তানের ইতিহাসে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব আলোচনা কর
আফগানিস্তানের ইতিহাসে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব আলোচনা কর 

উত্তর : সম্রাট অশোক বৌদ্ধধর্ম প্রচারের জন্য মাধ্যন্তিক নামক শ্রমণকে আফগানিস্তানে পাঠান। সমস্ত দেশ বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেছিল কি না বলবার উপায় নেই কিন্তু মনে হয় আফগানিস্তানের অনুর্বরতা বর্ণাশ্রম ধর্মের অন্তরায় ছিল 

বলে আফগান জনসাধারণের পক্ষে বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ হয়েছিল। দুই শতাব্দীর ভিতরেই আফগানিস্তানের বহু গ্রিক সিথিয়ান ও তুর্কি বুদ্ধের শরণ নিয়ে ভারতীয় সভ্যতা-সংস্কৃতির সঙ্গে সম্মিলিত হয়ে বেদ আবেস্তার ঐতিহ্য বৌদ্ধধর্মের ভিতর দিয়ে কিছুটা বাঁচিয়ে রাখে। 

গান্ধার কান্দাহার থেকে এসেছিলেন। পাঠান মেয়ের দৈর্ঘ্য প্রস্থ দেখেই বোধ করি মহাভারতকার তাকে শতপুত্রবতীরূপে কল্পনা করেছিলেন।বৌদ্ধধর্ম-অভ্যুদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উত্তর-ভারতবর্ষ ও আফগানিস্তানের ইতিহাস স্পষ্টতর রূপ নিতে আরম্ভ করে। 

উত্তর-ভারতের ষোলোটি রাজ্যের নির্ঘণ্টে গান্ধার ও কাম্বোজের উল্লেখ পাই। তাদের বিস্তৃতি প্রসার সম্বন্ধে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলে পণ্ডিতেরা সেই রামদা দেখান। যে-স্তূপে কনিঙ্ক শেষ বৌদ্ধ অধিবেশনের প্রতিবেদন তাম্রফলকে খোদাই করে রেখেছিলেন তার সন্ধান এখনো পাওয়া যায় নি। জালালাবাদের যে অসংখ্য স্তূপ এখনো খোলা হয় নি তারই একটার ভিতরে সে প্রতিবেদন পাওয়া যায়। 

ধর্মের কথা এখানে অবান্তর-কনিষ্ক বৌদ্ধ হওয়ার বহুপূর্বেই আফগানিস্তান তথাগতের শরণ নিয়েছিল।ভারতবর্ষে কুষণ-রাজ্য পতনের পরও আফগানিস্তানে কিদার কুষণগণ দু'শ বছর রাজত্ব করেন।এ যুগের সবচেয়ে মহৎ বাণী গান্ধার শিল্পে প্রকাশ পায়। ভারতীয় ও গ্রিক শিল্পীর যুগ্ম প্রচেষ্টায় যে কলা বৌদ্ধধর্মকে রূপায়িত করে তার শেষ নিদর্শন দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ভারতবর্ষে পাওয়া যায়। 

তার যৌবনমধ্যাহ্ন আফগানিস্তান ও পূর্ব- তুর্কিস্তানের ষষ্ঠ শতকের শিল্পে স্বপ্রকাশ। গুপ্তযুগের শিল্পপ্রচেষ্টা গান্ধারের কাছে কতটা ঋণী তার ইতিহাস এখনো লেখা হয়। নি। ভারতবর্ষের সংকীর্ণ জাতীয়তাবোধ কখনো কখনো গান্ধার শিল্পের নিন্দা করেছে-যেদিন বৃহত্তর দৃষ্টি দিয়ে দেখতে শিখব সেদিন জানব যে, ভারতবর্ষ ও আফগানিস্তানকে পৃথক করে দেখা পরবর্তী যুগের কুসংস্কার। 

বৌদ্ধধর্মের অনুপ্রেরণায় ভারত অনুভূতির ক্ষেত্রে যে সার্বভৌমত্ব লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল পরবর্তী যুগে তা আর কখনো সম্ভবপর হয় নি।ভারতবর্ষে যখন গুপ্ত-সম্রাটদের সুশাসনে সনাতনধর্ম বৈষ্ণব রূপ নিয়ে প্রকাশ পেল, আফগানিস্তান তখনো বৌদ্ধধর্ম ত্যাগ করে নি। 

সপ্তম শতকে হিউয়েন-সাঙ তাশখন্দ সমরকন্দ হয়ে, আমুদরিয়া অতিক্রম করে কাবুল পৌঁছান। কাবুলে তখন কিছু হিন্দু, কিছু বৌদ্ধ । ততদিন ভারতবর্ষে হিন্দুধর্মের নবজীবন লাভের স্পন্দন পর্যন্ত পৌঁছেছিল। 

শান্ত ভারতবাসীই যখন বেশিদিন বৌদ্ধধর্ম সইতে পারল না তখন দুর্ধর্ষ আফগানের পক্ষে যে জীবে দয়ার বাণী মেনে চলতে কষ্ট হয়েছিল তাতে বিশেষ সন্দেহ করার কারণ নেই।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ