কমলাকান্তের দপ্তর বঙ্কিমচন্দ্রের কোন ধরনের রচনা

 কমলাকান্তের দপ্তর' কোন শ্রেণির রচনা 

কমলাকান্তের দপ্তর' কোন শ্রেণির রচনা
 কমলাকান্তের দপ্তর' কোন শ্রেণির রচনা 

 কমলাকান্তের দপ্তর বঙ্কিমচন্দ্রের কোন ধরনের রচনা

উত্তর : ‘কমলাকান্তের দপ্তর' কোন শ্রেণির রচনা এমন কৌতূহল অনেক পাঠকের। কেউ বলেছেন প্রবন্ধ সাহিত্য, কেউ বলেছেন রম্য রচনা, কেউ বলেছেন রস রচনা আবার কেউ বলেছেন ব্যক্তিগত প্রবন্ধ।

সমালোচকগণের মন্তব্য অনুসারে আমরা বলতে পারি 'কমলাকান্তের দপ্তর' নতুন ধরনের সৃষ্টি। ব্যক্তি কমলাকান্তের মতোই ‘কমলাকান্ত' ছন্নছাড়া এবং শ্রেণিহারা তাতে কিছু এসে যায় না। সংজ্ঞা বা জাতধর্ম, নাম দিয়ে সব সাহিত্যকে চিহ্নিত করা যায় না।

 আসলে ‘কমলাকান্ত' নিজেই নিজের তুলনা। ভালোমন্দ মিশিয়ে ‘কমলাকান্ত’ এক এবং অনন্য ।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়80কমলাকান্তের ভাবনা, জীবনদর্শন, দেশপ্রেম, মনুষ্যপ্রীতি ও সৌন্দর্যপ্রেম, তার বেদনাবোধ সব তার নিজস্ব। কমলাকান্তের সব চেতনাবোধের উৎস এবং ভিত্তি বাংলাদেশের চিরকালীন সামাজিক পরিবেশ। ভীষ্মদেব খোশনবীস চরিত্র পরিকল্পনায়ও স্কটের প্রভাবের কথা বলা হয়ে থাকে এখানেও সাদৃশ্য বাহ্যিক ।

বাংলা গদ্যের শুরুতেই ব্যঙ্গরচনার সূত্রপাত। এ প্রসঙ্গে ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যঙ্গ রচনাগুলোর কথা স্মরণ করছি; এমনকি আরো পরে কালীপ্রসন্ন সিংহের 'হুতোম প্যাঁচার নক্সা'র (১৮৬১) কথাও আসতে পারে।

 এগুলোকে ‘কমলাকান্ত'-এর পূর্বরূপ বলতে বাধা নেই। কিন্তু পার্থক্য এই, ভবানীচরণ বা কালীপ্রসন্ন সিংহের ব্যঙ্গ রচনা বাহ্য বর্ণনাতেই নিঃশেষিত এদের মূল্য ব্যঙ্গাত্মক বর্ণনার সাফল্যেই সীমিত। কোন গভীর জীবনদর্শন, সৌন্দর্য চেতনা, বেদনাবোধ এগুলোতে অকল্পনীয়। সে অর্থে 'কমলাকান্ত' রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র কারো উত্তরাধিকার বহন করেননি।

বঙ্কিমচন্দ্র যে রচনাভঙ্গি দিয়ে 'লোকরহস্য' এবং 'মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত' রচনা করেছিলেন, সে রচনাভঙ্গিই ‘কমলাকান্ত' এ পরিপুষ্ট হয়ে উঠেছে। বিষয়বস্তুর রূপান্তরের সঙ্গে রচনারীতির রূপান্তর সাধন শিল্পী বঙ্কিমের প্রধান বৈশিষ্ট্য ।

অনুমান করি বঙ্কিমচন্দ্রের উৎসাহেই তাঁর সমকালীন লেখক রাজকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এবং অক্ষয়চন্দ্র সরকার যথাক্রমে ‘স্ত্রীলোকের রূপ' ও ‘চন্দ্রালোকে' প্রবন্ধ দুটি রচনা করেন। চন্দ্রশেখর মুখোপাধ্যায় 'একা' প্রবন্ধের অনুসরণে ‘উদভ্রান্ত প্রেম' রচনা করেছিলেন এ কথা নিশ্চিত করে বলা যায়। এছাড়া ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ও কমলাকান্ত দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন।

 পরবর্তীকালে পরশুরামের কোন কোন রচনায় কমলাকান্তের বাগ্‌বৈদগ্ধ্য অস্পষ্ট থাকেনি। পরিশেষে বলা যায় 'কমলাকান্তের দপ্তরকে এককভাবে কোনো নামে চিহ্নিত করা যাবে না। এটি উল্লিখিত বিবিধ বৈশিষ্ট্যের সমাহার।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ