কে গায় ওই প্রবন্ধের নিঃসঙ্গতার চিত্র অঙ্কন কর
কে গায় ওই’ প্রবন্ধ অবলম্বনে নিঃসঙ্গতার চিত্র অঙ্কন কর।
প্রীতিই আমার কর্ণে এখানকার সংসার সংগীত। অন্তকাল সে মহাসংগীত সহিত মনুষ্য হৃদয়তন্ত্রী বাজিতে থাকুক। মনুষ্য জাতির উপর যদি আমার প্রীতি থাকে তবে অন্যসুখ চাই না।” ধ্রুববাদকেই এখানে অধিকতর গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করা হয়েছে।
এ রচনায় লেখক চমৎকারভাবে একাকিত্বের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। একা থাকার ফলে বহুকাল বিস্মৃত সুখস্বপ্নের স্মৃতির ন্যায় মধুর গীতি কর্ণরন্ধ্রে প্রবেশ করে। সংগীতের যে অতি সুন্দর, মনোরমতা আছে তা সহজে উপলব্ধ হয় এ নিঃসঙ্গতার কারণে ।
জ্যোৎস্নাময়ী রাত দেখে মানবমন আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়। মধুমাসে আপনার মনের সুখে মাধুর্য বিকীর্ণ করতে করতে যায়। বহুতন্ত্রীবিশিষ্ট বাদ্যের তন্ত্রীতে অঙ্গুলিস্পর্শের ন্যায়, ঐ গীতিধ্বনি মানব হৃদয়কে আলোড়িত করে তোলে।
লেখক তাঁর একাকিত্বের ফল বর্ণনা করেছেন এভাবে :“রাত্রি জ্যোৎস্নাময়ী-নদী-সৈকতে কৌমুদী হাসিতেছে। অদ্ধাবৃতা সুন্দরীর নীল বসনের ন্যায় শীর্ণ-শরীর নীল-সলিল তরঙ্গিনী, সৈকত বেষ্টিত করিয়া চলিয়াছেন; রাজপথে কেবল আনন্দ-বালক, বালিকা, যুবক, যুবতী, প্রৌঢ়া, বৃদ্ধা, বিমল চন্দ্রকিরণে স্নাত হইয়া আনন্দ করিতেছে।
আমিই কেবল নিরানন্দ তাই ঐ সংগীতে আমার হৃদয়যন্ত্র বাজিয়া উঠিল ।”লেখক বলেন, আমি একা তাই এ সংগীতে আমার শরীর কণ্টকিত হইল। এ বহুজনাকীর্ণ নগরীর মধ্যে, এ আনন্দময়, অনন্ত জনস্রোতো মধ্যে, আমি একা। আমিও কেন ঐ অনন্ত জনস্রোতোমধ্যে মিশিয়া, এ বিশাল আনন্দতরঙ্গ- তাড়িত জলবুদ্বুদসমূহের মধ্যে আর একটি বুদ্বুদ না হই। একাকিত্বের কারণে মানুষ এ সহজ সত্যটি উপলব্ধি করতে পারেন। তাই জীবনকে পরিপূর্ণতা দান করতে মাঝে মাঝে একাকিত্ব প্রয়োজন ।
