বঙ্কিমচন্দ্রের হাস্যরসাত্মক প্রবন্ধের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর

 বঙ্কিমচন্দ্রের হাস্যরসাত্মক প্রবন্ধের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর 

বঙ্কিমচন্দ্রের হাস্যরসাত্মক প্রবন্ধের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর
বঙ্কিমচন্দ্রের হাস্যরসাত্মক প্রবন্ধের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর 
উত্তর : বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যে নতুন আঙ্গিক নির্মাণের কৃতিত্ব একা বঙ্কিমচন্দ্রের। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক স্থানীয় নয়; বরং ঐতিহ্যকে শ্রদ্ধার সঙ্গে আত্মস্থ করেই কার্যত তিনি নতুন একটি আঙ্গিক নির্মাণ করেছেন।

মূলত অক্ষর কুমার দত্ত, ভুদেব মুখোপাধ্যায়ের বিভিন্ন রচনা এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অন্তিম, বেনামি রচনাবলির সঙ্গে নকশা ধারার সংযোগ সাধনে বঙ্কিমচন্দ্র নবতর ও সৃজনশীল প্রবন্ধ রচনার মাধ্যমে আত্মপ্রতিষ্ঠার প্রয়াস পান। সুতরাং শুধু হাস্যরস নয়, সৃজনশীলতা ও ব্যঞ্জনাময়তা তাঁর প্রবন্ধের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। সাহিত্যের বস্তুধর্মিতাকে তিনি নতুনত্ব দান করেছেন।

বস্তুধর্মে তাঁর এ প্রয়াস স্বাতন্ত্র্যের দাবিদার। প্রচলিত হাস্যরসিকের মানস প্রবণতায় বিদ্যমান সংশোধন স্পৃহা নকশা সাহিত্যের সর্বত্র অনুপস্থিত এবং শৈল্পিক উৎকর্ষের অভাবে তা সচরাচর প্রচার সর্বস্বতায় পর্যবসিত। পক্ষান্তরে বঙ্কিমচন্দ্রের হাস্যরসাত্মক রচনাবলি উচ্চাঙ্গের শিল্প মহিমায় সমুন্নত। 

বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পাণ্ডিত্যের অভিমানাশ্রিত উইটের কশাঘাতেই সীমিত, বঙ্কিমচন্দ্র সেখানে উইটের মৃদুমন্দ স্মিত হাস্য কৌতুক থেকে অট্টহাসি পর্যন্ত বহুমাত্রিক হাস্যরসের স্রষ্টা বলেই আমাদের ধারণা। 

অন্যদিকে সমকালীন বিজ্ঞান, দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তার অসংগতি, জীবনাচরণের চরমাবস্থা, বিশ্বরাজনীতির গতিধারায় ভারতবাসীর অনগ্রসরতা কোথাও তাদের অবজ্ঞা প্রসূত অনীহা এবং যুগ মানসের দ্বান্দ্বিকতা যার উৎস যুগপৎ অবক্ষয়িত সমাজতন্ত্রের ছিন্নসূত্র ও ইউরোপীয় ধনতন্ত্রের প্রবল আকর্ষণ।

 এ টানাপোড়নের অসংগতি বঙ্কিমচন্দ্রের হাস্যরসাত্মক রচনার বিষয়বস্তুর মর্যাদা লাভ করেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাতে নীতি শিক্ষা ও সংস্কার সাধনের প্রয়াস সদা উন্মুক্ত এবং অশৈল্পিক নয়। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলতে পারি বিষয়ের বৈচিত্র্য, পরিকল্পনার অভিনবত্ব, জীবনভাবনার গভীরত্ব ও প্রকাশভঙ্গির নতুনত্ব বঙ্কিমচন্দ্রের হাস্যরসাত্মক প্রবন্ধের মূল বৈশিষ্ট্য

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ