কমন কাকে বলে? রবীন্দ্রনাথের কমন বেড়ানোর অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর।
কমন কাকে বলে? রবীন্দ্রনাথের কমন বেড়ানোর অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর।
![]() |
কমন কাকে বলে? রবীন্দ্রনাথের কমন বেড়ানোর অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর।
উত্তর : বিলেতে সরকারি জায়গাকে কমন বলে। লেখক বিলেতের টনব্রিজ ওয়েলস এ বেড়াতে গিয়েছিলেন। লেখক যে বাড়িতে থাকতেন, সে বাড়ির কাছে একটা খোলা পাহাড়ে জায়গা আছে। সেটা কমন অর্থাৎ সরকারি জায়গা।
চারিদিক খোলা। বড়গাছ খুব অল্প। সে জায়গা ছোট ছোট গুল্মের ঝোপ ও ঘাসে পূর্ণ। চারিদিক সবুজ, বিচিত্র গাছপালা নেই বলে কেমন ধু ধু করছে। কেমন বিধবার মতো চেহারা। উঁচুনিচু জমি, কাঁটাগাছের ঝোপঝাপ, জায়গাটা খুব আকর্ষণীয়। মাঝে মাঝে এরকম কাঁটা-খোচা এবড়ো-থেবড়োর মধ্যে এক এক জায়গায় ব্লু-বেলস নামক ছোট ছোট ফুল ঘেঁষাঘেঁষি ফুটে সবুজের মধ্যে স্তূপাকার নীল রঙ ছড়িয়ে রেখেছে।
কোথাও বা ঘাসের মধ্যে রাশ রাশ সাদা ডেজি ও হলদে বাটার কাপ অজস্র সৌন্দর্যে প্রকাশিত। ঝোপঝাপের মাঝে মাঝে এবং গাছের তলায় এক একটা বেঞ্চি পাতা। এটা সাধারণের বেড়াবার জায়গা। এখানে মানুষ এত অল্প ও জায়গা এত বেশি যে ঘেঁষাঘেঁষি নেই। লন্ডনের বড় বড় বেড়াবার বাগানের মতো অজস্র ভিড়ের আনাগোনা নেই। দূর-দূর বেঞ্চির মধ্যে নিরালা যুগলমূর্তি। এক ছাতার ছায়ায় আসীন জোড়ায় জোড়ায় নারী পুরুষ।
তারা হাত ধরাধরি করে নিরিবিলি বেড়াচ্ছে। সবসুদ্ধ জড়িয়ে জায়গাটা উপভোগ্য। এখানের গরমকাল সকাল ও সন্ধ্যা অত্যন্ত সুন্দর। গরমের পূর্ণযৌবনের সময় রাত দুটা-তিনটার পরে আলো দেখা দিতে আরম্ভ করে। চারটার সময় রোদ ঝাঁ ঝাঁ করতে থাকে।
রাত্রি ন-টা দশটার আগে দিনের আলো নেভে না। কমনের পাহাড়ের উপর একটা গাছের তলায় বসলে দেখা যায় দূরে ছবির মতো ঘুমন্ত শহর, একটুও কুয়াশা নেই। নির্জন রাস্তাগুলো গির্জার উন্নত চূড়া, রৌদ্ররঞ্জিত বাড়িগুলো নীল আকাশের পটে যেন একটি কাচে খোদাই করা ছবির মতো আঁকা।
