পর্তুগিজদের সমস্যাগুলো সংক্ষেপে আলোচনা কর
![]() |
| পর্তুগিজদের সমস্যাগুলো সংক্ষেপে আলোচনা কর |
পর্তুগিজদের সমস্যাগুলো সংক্ষেপে আলোচনা কর
- অথবা, পর্তুগিজ শক্তির সীমাবদ্ধতা কি ছিল?
উত্তর : ভূমিকা : মুঘল রাজত্বে ইউরোপীয় বণিকদের ভারতবর্ষে আগমন উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি নব অধ্যায়ের সূচনা করে। আগমনের এ ধারায় পর্তুগিজরা সর্বপ্রথম এসেছিল ভারতবর্ষে।
তারা এখানে দীর্ঘদিন ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার মাধ্যমে নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করেছিল। তবে তাদের কিছু সীমাবদ্ধতার দরুন ইউরোপের অপর তিনটি প্রতিদ্বন্দ্বী বণিক রাজ্য ওলন্দাজ, ফরাসি ও ইংরেজরা এখানে আধিপত্য বিস্তার করে এবং পর্তুগিজদের বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়।
→ পর্তুগিজ শক্তির সীমাবদ্ধতা : নিম্নে ভারতবর্ষে পর্তুগিজদের শক্তির সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরা হলো :
১. ভারতবর্ষে পর্তুগিজদের প্রাধান্য কিছুদিনের জন্য স্থাপিত হলেও তার কোনো ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছিল
না। যে কারণে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পর্তুগিজ শক্তি ভারতে তাদের গুরুত্ব হারায় ।
২. পর্তুগিজরা ভারতের উপকূলেই তাদের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ রাখে ।
৩. পর্তুগিজ যুদ্ধ জাহাজের কামানের পাল্লার বাইরে তারা ক্ষমতা বিস্তারের চেষ্টা না করায় স্থানীয় ভারতীয় শক্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
৪. বিভিন্ন পর্তুগিজ শাসনকর্তা বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করায় পর্তুগিজ শক্তি স্থায়ী হয়নি।
৫. পর্তুগিজ শাসনকর্তারা ছিলেন মূলত আত্মকেন্দ্রিক দুর্নীতিগ্রস্ত এবং নেতৃত্বদানে অক্ষম ।
৬. ভারতের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশের কোনো চেষ্টা না করায় তাদের প্রভাব প্রতিপত্তি সমগ্র ভারতে ছিল অকিঞ্চিৎকর ৷
উপসংহার : উপরের আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, পর্তুগিজরা তাদের সীমাবদ্ধতাকে কাটিয়ে উঠতে কোনোভাবেই সক্ষম হয়নি' যার দরুন অন্য নতুন ইউরোপীয় শক্তি তাদের অবস্থান দখল করে নেয়।
