সম্রাট শাহজাহানকে the prince of builders বলা হয় কেন

সম্রাট শাহজাহানকে the prince of builders king বলা হয় কেন
সম্রাট শাহজাহানকে the prince of builders king বলা হয় কেন

সম্রাট শাহজাহানকে the prince of builders king বলা হয় কেন

  • অথবা, স্থাপত্যশিল্পের নির্মাতা হিসেবে শাহজাহানকে মূল্যায়ন কর ।

উত্তর : ভূমিকা : মুঘল সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকাল ভারতের স্থাপত্য শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শিল্প, সাহিত্য, ও স্থাপত্যের ক্ষেত্রে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে তিনি অদ্বিতীয় স্থান অধিকার করে আছেন। 

বহু বিদেশি পর্যটক সম্রাট শাহজাহানের স্থাপত্য শিল্পের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাকে স্থাপত্য শিল্পের নির্মাতা বলে আখ্যায়িত করেন।

→ স্থাপত্যশিল্পের নির্মাতা : সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে মুঘল সাম্রাজ্য স্থাপত্য শিল্পে, সবচেয়ে বেশি উন্নতি হয়। নিম্নে সম্রাট শাহজাহানকে স্থাপত্যশিল্পের নির্মাতা বলার কারণ আলোচনা করা হলো-

১. তাজমহল : পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সমাধি সৌধ তাজমহল সম্রাট শাহজাহানের অবিস্মরণীয় কীর্তি। প্রিয়তমা পত্নী মমতাজের স্মৃতিকে চির অম্লান করে রাখার উদ্দেশ্যে তিনি আগ্রায় যমুনা নদীর তীরে এ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন। 

যা পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম হিসেবে আজও দর্শকদের মনে বিস্ময় সৃষ্টি করে। এ তাজমহল নির্মাণ করতে ২০ হাজার শ্রমিকের ২২ বছর সময় লাগে এবং এতে ব্যয় হয় প্রায় তিন কোটি স্বর্ণমুদ্রা। 

ওস্তাদ ঈসা খান নামক ইস্তাম্বুলের জনৈক স্থপতির তত্ত্বাবধানে স্থাপত্যশিল্পের অনন্য নিদর্শন তাজমহলের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। 

এ স্মৃতিসৌধের সৌন্দর্য আকৃষ্ট হয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেন, “একবিন্দু নয়নের জল, শুভ্র সমুজ্জল শাহজাহানের এ তাজমহল।"

২. শাহজাহানাবাদ : সম্রাট শাহজাহান ১৬৩৯ সালে আঘা থেকে দিল্লিতে রাজধানী স্থানান্তর করেন। স্বীয় নামানুসারে তিনি এর নামকরণ করেন শাহজাহানাবাদ। 

সাম্রাজ্যের এ নতুন শহর নির্মাণের ব্যাপারে তিনি দেশ-বিদেশ থেকে শ্রেষ্ঠ শিল্পী এবং স্থপতির আহ্বান করেন। ১৬৪৮ সালে শাহজাহান মহাসমারোহে নতুন রাজধানী শাহজাহানাবাদের উদ্বোধন করেন।

৩. ময়ূর সিংহাসন : সম্রাট শাহজাহানের শিল্পানুরাগের অপর একটি নিদর্শন হলো ময়ূর সিংহাসন। এটি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রাজকীয় সিংহাসন নামে খ্যাত। 

১৬৬৪ সালে বেবাদল খানের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৭ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে আট কোটি মুদ্রা ব্যয় করে এর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়। এর দৈর্ঘ্য ২.১৩ মিটার, গ্রন্থ ২.৪১ মিটার এবং উচ্চতা ৪.৮১ মিটার। 

এ সিংহাসনের স্বর্ণ নির্মিত ৪টি পা এবং মারকত মণির স্তম্ভের উপর চন্দ্রাতপ হাদ বসানো ছিল। প্রত্যেকটি জয়ের মাথায় মণিমানিক্য খচিত একজোড়া ময়ূর মুখোমুখি বসানো ছিল।

৪. লালকেল্লা : নতুন রাজধানী দিল্লিতে লালকেল্লা অবস্থিত। লালকেল্লার অভ্যন্তরে দেওয়ান-ই-আম, দেওয়ান-ই- খাস এবং মমতাজমহল নামক প্রাসাদ অবস্থিত। 

শাহজাহান নির্মিত যেকোনো প্রাসাদ অপেক্ষা দেওয়ান-ই-খাস অধিক, সৌন্দর্যমণ্ডিত। এর প্রবেশ পথে ফারসি ভাষায় লেখা ছিল, “স্বর্গ যদি ধরা মাঝে থাকে কোনোখানে তা এখানে, এখানে, এখানে।"

৫. মতি মসজিদ : মতি মসজিদ সম্রাট শাহজাহানের অপর একটি শ্রেষ্ঠ কীর্তি। এটি দেওয়ান-ই- আমের উত্তরে অবস্থিত শ্বেত পাথরে নির্মিত স্থাপত্যশিল্পের অপূর্ব নিদর্শন। 

১৬৪৫ সালে এর নির্মাণ কাজ আরম্ভ হয় এবং শেষ হয় ১৬৫২ সালে । সম্রাট শাহজাহানের নির্মিত মতি মসজিদের মতো পৃথিবীর আর | কোথাও মসজিদ নেই।

৬. শালিমার উদ্যান : কাশ্মীর, লাহোর এবং দিল্লি সম্রাট শাহজাহান অপূর্ব সুন্দর সুন্দর বাগান প্রতিষ্ঠা করেন। ১৬৩৭ সালে নির্মিত লাহোরে শালিমার উদ্যান আজো দর্শকদের পুলকিত করে। 

এ উদ্যান রাজকীয় প্রমোদ কেন্দ্র হিসেবে নির্মিত হয়। বাদশাহ লাহোরে অবস্থানকালে এখানে ভ্রমণ করতেন।

৭. নাহরি বেহেশত আলী : মর্দান খানের প্রচেষ্টায় সম্রাট শাহজাহান প্রায় ১৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খনন করে লাহোরে পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। 

তাছাড়া পুরাতন, ফিরোজ খান পুনরায় খনন করে এর শোভাবর্ধন করেন এবং এর নতুন নামকরণ করেন নাহরি বেহেশত। এ মহান কীর্তি তাকে বিশ্ব ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে তাজমহল, ময়ূর সিংহাসন, মতি মসজিদ, লালকেল্লা, শালিমার উদ্যান প্রভৃতি নির্মাণের জন্য তাকে স্থাপত্যশিল্পের রাজা বলা হতো। 

কারণ শাহজাহানের আগে বা পরে কোনো সম্রাট এমন সুন্দর সুন্দর স্থাপত্য নির্মাণ করেননি। এটি একটি শাহজাহানের অপূর্ব নিদর্শন ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ