ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর (গুরুত্বপূর্ণ)

 ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর 

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর 

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর 

সৃজনশীল  প্রশ্ন-১৫। 

শিক্ষাই বদলে দিতে পারে জীবন। এ কথাটি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন অনীল। আর তাই ৩৬ বছর বয়সী এ ভারতীয় পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পেশায় নিয়োজিত থাকার পরও চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা; অর্জন করেছেন চারটি ডিগ্রি। তবে এত পড়াশোনা করেও নিজের ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করতে পারেননি অনীল। চাকরিতে তার কোনো পদোন্নতিও হচ্ছে না। কারণ তিনি দলিত বর্ণের এক হিন্দু। তাদের ছুঁয়ে দেখাও পাপ বলে মনে করেন অনেকে।

ক. 'কিতাবুল হিন্দ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?

খ. ভারতবর্ষের ভৌগোলিক অবস্থান ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের ঘটনাটি মুসলিম বিজয়ের আগে ভারতবর্ষের সমাজব্যবস্থার কোন দিকটি তুলে ধরে ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. অনীলের ভাগ্যোন্নয়নে সিন্ধু বিজয়ের ধর্মীয় ফলাফল থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা কতটুকু কার্যকর বলে তুমি মনে কর? 

সৃজনশীল  উত্তরঃ

ক. আল-বিরুনি কিতাবুল হিন্দ গ্রন্থের রচয়িতা।

খ.এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণাংশের সর্ববৃহৎ উপদ্বীপটিই হলো ভারতবর্ষ। মোট আয়তনের দিক দিয়ে রাশিয়া বাদে দেশটি ইউরোপ মহাদেশের সমান। 

এর উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বে। অবস্থিত হিমালয় পর্বত ভারতবর্ষকে সুরক্ষা দান করেছে। এই দিক থেকে ভারতবর্ষকে 'হিমালয়ের দান' বললেও অত্যুক্তি হবে না। এছাড়া দক্ষিণ ভাগে ভারত মহাসাগর ও পূর্বে ব্রহ্মদেশ (মিয়ানমার) এবং পশ্চিমে পারস্য দেশ ও ইরান।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি আরব মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতবর্ষের সামাজিক ব্যবস্থায় বর্ণভেদ প্রথা, জাতিভেদ প্রথা কিংবা বর্ণপ্রথাকে তুলে ধরে। নিচে এ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হলো-

উদ্দীপকে বর্ণিত অনীল পেশায় একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। অর্থাৎ, অনীলের পেশা প্রাক মুসলিম ভারতের সনাতন ধর্মের সামাজিক স্তরবিন্যাসে বিন্যস্ত সবচেয়ে নিচু জাত অস্পৃশ্য, . ম্লেচ্ছ বা অপবিত্র জাতিকে নির্দেশ করে। অনীল তার সমাজের সবচেয়ে নিচু স্তরের জাত হলেও উচ্চশিক্ষিত। 

তবে নিচু জাত বা বর্ণের লোক বলে তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে পদোন্নতি পাননি। এমন ঘটনা প্রাচীন ভারতীয় হিন্দুসমাজে অর্থাৎ আরবদের বিজয়ের প্রাক্কালেও দেখা যায়। ঐ সময় ভারতবর্ষে জাতিভেদ ও বর্ণভেদ প্রথা প্রকট আকার ধারণ করে হিন্দুসমাজের ঐক্য ও সংহতির মূলে কুঠারাঘাত হানে। 

অষ্টম শতাব্দীর প্রারম্ভে হিন্দুসমাজ মূলত চারটি বর্ণে বিভক্ত হয়ে পড়ে; যথা- ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও বর্ণভুক্ত ছাড়া অবশিষ্ট সকলকে ম্লেচ্ছ বা অপবিত্র মনে করত, শূদ্র। হিন্দুরা এ চারহিন্দুসমাজের বর্ণবৈষম্য বা শ্রেণিভেদ তাদের দুর্বল করে রেখেছিল। প্রকৃত প্রস্তাবে, এ সামাজিক অসাম্যই জাতীয় চেতনার উন্মেষের পরিপন্থী হয়ে দাঁড়াল এবং দেশগত কল্যাণসাধনে একান্ত অন্তরায় হয়ে দেখা দিল। 

সমাজে ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়দের প্রবল প্রতাপ ছিল। পার্থিব সব সুখ-সম্পদ ভোগের অধিকারী ব্রাহ্মণগণ ধর্ম-কর্ম, যাগযজ্ঞ ও আচার- অনুষ্ঠানে নিয়োজিত থাকত, আইনকানুন প্রণয়ন ও শাসন দণ্ড পরিচালনায় তারা অত্যধিক কার্যকর ভূমিকা পালন করত। ক্ষত্রিয়গণ যুদ্ধবিগ্রহ, বৈশ্যরা ব্যবসায়-বাণিজ্য এবং শূদ্রগণ কৃষিকাজ ও সাধারণ কাজকর্ম করত ।

নিম্নস্তরের হিন্দুদের সর্বাপেক্ষা অবহেলিত ও অসহায় অবস্থায় কাল যাপন করতে হতো। আইনের বিচারে একই অপরাধের জন্য উঁচু ও নিচু শ্রেণির মধ্যে শাস্তির তারতম্য ছিল। 

নিম্নশ্রেণির হিন্দুদের দেব-গীতা পাঠেরও অধিকার ছিল না; বৈশ্য ও শূদ্রদের বেদবাক্য পাঠ শুনলেও তাদের কর্ণকুহরে উত্তপ্ত গলিত সিসা ঢেলে শাস্তি প্রদানের বিধান ছিল। তাদের ছায়া মাড়ালে ব্রাহ্মণদের দেহ অপবিত্র হয়ে পড়ত এবং স্নান ছাড়া তা থেকে পরিশুদ্ধ হওয়ার অন্য কোনো উপায় ছিল না। প্রকৃতপক্ষে তাদের সাথে সর্বপ্রকার সামাজিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা হয়। 

জাতিভেদ প্রথার কঠোর নিষেধাজ্ঞার ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নিচু জাতের লোকেরা কোনো ভালো মানের কাজ বা চাকরি পেত না। এ কারণে নিম্নশ্রেণির হিন্দুদের সহযোগিতায় আরবরা সহজেই ভারত জয় করতে সক্ষম হয়।পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকের ঘটনাটি সিন্ধু ও মুলতান বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতের সমাজব্যবস্থার কঠোর জাতিভেদ প্রথাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

মূলকথা : বর্ণভেদ প্রথার কারণে হিন্দুসমাজের নিচু বর্ণের মানুষ তাদের ভাগ্যোন্নয়ন করতে পারত না ।

ঘ. আরবদের সিন্ধু বিজয়ের রাজনৈতিক ফলাফল নিষ্ফল হলেও এ বিজয়ের ধর্মীয় ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। সিন্ধু বিজয়ের ধর্মীয় ফলাফল থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা উদ্দীপকের অনীলের ভাগ্যোন্নয়নে শতভাগ কার্যকর। নিচে উত্তরের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো-

ভারতবর্ষে ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে সিন্ধু বিজয় ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কেননা, বহু আগে থেকেই আরব বণিক ও ধর্মপ্রচারকগণ ভারতবর্ষে আগমন করলেও প্রকৃতপক্ষে মুহাম্মদ বিন কাসিমের অভিযানই ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রকে সুদূরপ্রসারী করে। 

বহু পীর, দরবেশ, আউলিয়া এ দেশে আগমন করে ইসলামের শাশ্বত বাণী ছড়িয়ে দেন। তাদের প্রচারিত সাম্য, মৈত্রী, সহিষ্ণুতা ও উদারতার নীতি এ দেশের নিম্নশ্রেণির হিন্দুকে আকৃষ্ট করে। ফলে তারা দলে দলে ইসলামে দীক্ষিত হয় এবং ভারতবর্ষে ইসলাম প্রতিষ্ঠা লাভ করে। 

ঐতিহাসিক আরনল্ড বলেন, “ধর্মপ্রচারক ও বণিকের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় ভারতবর্ষে ইসলামের প্রসার ঘটে। তারা বিশ্বের সর্বত্র ইসলামকে ছড়িয়ে দেন।” 

ফলে নির্যাতিত, নিপীড়িত, অবহেলিত ও মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত ভারতবর্ষের নিচু জাত-বর্ণের হিন্দুরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সমান অধিকার লাভ করেছে। ফলে তাদের ভাগ্যেরও উন্নয়ন ঘটেছে। 

ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ধর্মান্তরিত মুসলমান ও সব বর্ণের হিন্দুরা যোগ্যতাবলে সরকারি চাকরি লাভ করেছিল।সুতরাং এ কথা অনস্বীকার্য যে সিন্ধু বিজয়ের ধর্মীয় ফলাফল কালিদাস তার মতো অধিকারবঞ্চিতদের ভাগ্যের উন্নয়নে শতভাগ কার্যকর ছিল।

সৃজনশীল  প্রশ্ন-১৬। 

মাওলানা আবদুস সালাম মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাসের একজন শিক্ষক। তিনি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, একদল বিদ্রোহী 'ক' রাজার অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পার্শ্ববর্তী 'খ' রাজার দ্বারস্থ হন। 'ক' রাজা 'খ' রাজাকে এ ব্যাপারে সতর্ক করেন। কিন্তু 'খ' রাজা এতে কর্ণপাত করলেন না। পরক্ষণে 'ক' রাজা 'খ' রাজার রাজ্য দখল করার জন্য অভিযান প্রেরণ করেন ।

ক. গজনি কোথায় অবস্থিত?

খ. তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত খ্রিষ্টাব্দে কাদের মধ্যে সংঘটিত হয়?

গ. উদ্দীপকে আরবদের সিন্ধু ও মুলতান বিজয়ের পরোক্ষ যে কারণটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত অভিযানটি ভারতীয় উপমহাদেশে সুদূরপ্রসারী কী প্রভাব ফেলেছিল? আলোচনা কর।

সৃজনশীল  উত্তর ১৬ 

ক. বর্তমান আফগানিস্তানের কাবুল এবং কান্দাহার প্রদেশের মধ্যবর্তী স্থানে গজনি অবস্থিত।

খ. তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয় ঘুর অধিপতি মুহাম্মদ ঘুরি এবং দিল্লি ও আজমিরের চৌহানরাজ পৃথ্বীরাজের মধ্যে। তরাইনের প্রথম যুদ্ধের পরাজয়ের গ্লানি মুছে ফেলার জন্য মুহাম্মদ ঘুরি দ্বিতীয়বারের মতো পৃথ্বীরাজের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। 

১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত এ যুদ্ধ ঘুরি ১,২০,০০০ সুসজ্জিত ও প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী নিয়ে পৃথ্বীরাজকে আক্রমণ করেন। পৃথ্বীরাজের পক্ষে ছিল ৩,০০,০০০ সৈন্য। যুদ্ধে পৃথ্বীরাজের পরাজয় ঘটে এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নের সময় সরস্বতী নদীর তীরে ধৃত ও নিহত হন।

মূলকথা : তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয় মুহাম্মদ ঘুরি ও পৃথ্বীরাজের মধ্যে।

গ. উদ্দীপকে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মাওলানাআবদুস সালামের বর্ণনায় আরবদের সিন্ধু ও মুলতান বিজয়ের অন্যতম পরোক্ষ কারণ সিন্ধুরাজা কর্তৃক আরব বিদ্রোহীদের আশ্রয়দানের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

উদ্দীপকে শিক্ষক আবদুস সালামের বর্ণনা মতে, কতিপয় ব্যক্তি জনৈক রাজার অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অন্য একটি দেশের খলিফার দ্বারস্থ হন। উক্ত খলিফা অত্যাচারী রাজাকে এ ব্যাপারে সতর্ক করেন। 

কিন্তু রাজা এতে কর্ণপাত করলেন না; বরং পরক্ষণে তিনি অভিযোগকারীদের দমন করার জন্য উক্ত খলিফার বিরুদ্ধে অভিযান প্রেরণ করেন। একই ঘটনা ঘটে প্রাক-ইসলামি ভারতে। সে সময় খলিফা আল ওয়ালিদের পূর্বাঞ্চলের শাসনকর্তা ছিলেন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। 

তিনি ছিলেন অনেক কঠোর প্রকৃতির। তার কঠোর শাসনের প্রতিবাদে বিদ্রোহী হয়ে কতিপয় ব্যক্তি আরব সীমান্ত অতিক্রম করে সিন্ধুরাজ দাহিরের নিকট আশ্রয় নেয়। হাজ্জাজ তাদের ফেরত পাঠানোর দাবি জানালে দাহির তা প্রত্যাখ্যান করেন। 

এতে হাজ্জাজ রাজা দাহিরকে সমুচিত শাস্তিদানের লক্ষ্যে সিন্ধু ও মুলতান অভিযান পরিচালনা করেন ।সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে একথা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, উদ্দীপকে রাজা দাহির কর্তৃক আরব বিদ্রোহীদের আশ্রয়দানকেন্দ্রিক কারণটি ফুটে উঠেছে।

মূলকথা : কতিপয় আরব বিদ্রোহী রাজা দাহিরের নিকট আশ্রয় লাভ করলে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ রাজা দাহিরের উপর অসন্তুষ্ট হন।

ঘ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত অভিযানটি হলো মুহাম্মদ বিন কাসিমকর্তৃক আরবদের সিন্ধু বিজয়।৭১২ খ্রিষ্টাব্দে রাজা দাহিরকে পরাজিত করে মুহাম্মদ বিন কাসিম নিরুন, সিহওয়ান, সিসাম, মুলতান, ব্রাহ্মণাবাদ ওআলোর দখল করেন। অতঃপর তিনি সিন্ধু অঞ্চলে আরবশাসন প্রতিষ্ঠা করেন। 

কিন্তু আরবদের এ শাসন দীর্ঘস্থায়ীহয়নি। এ কারণে ঐতিহাসিক স্ট্যানলি লেনপুল একে নিষ্ফলবিজয় বলেছেন। তবে সিন্ধু, বিজয়ে আরবদের শাসন দীর্ঘ স্থায়ীনা হলেও এর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। যেমন-সিন্ধু বিজয়ের ফলে ভারতের সাথে আরবীয়দেরবাণিজ্যিকসম্পর্কআরওপ্রসারিত হয়। 

বাণিজ্যিক যোগাযোগ প্রসারিত হওয়ার কারণে অর্থনৈতিক কাঠামো আরও সুদৃঢ় হয়। সিন্ধুবিজয় ধর্মীয় ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বিস্তার করে। ভারতে মুসলিম স্থাপত্যের ইতিহাস থেকে জানা যায় যে সিন্ধু বিজয়ের পর মুসলমানরা দেবল বন্দরের নিকটে ভাম্বোর নামক স্থানে সর্বপ্রথম মসজিদ নির্মাণ করে। 

তাছাড়া বহু সুফি, পীর দরবেশ, আউলিয়া এদেশে আগমন করে ইসলামের শাশ্বতবাণী প্রচার করে বর্ণবৈষম্যের শিকার নিম্ন শ্রেণির সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আকৃষ্ট করেন। ফলে ঐসব বিজিত স্থানে ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত হয় সিন্ধু বিজয় সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে।সমাজে হিন্দু-মুসলমান মিলেমিশে বসবাস করার ফলে মুসলমানরা হিন্দু রমনীদের বিয়ে করে। 

ফলে সেখানে একটি নতুন একটি সমাজ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। অন্যদিকে আরবরা ভারতে আগমনের ফলে স্থানীয়দের ধর্ম, দর্শন, শিল্পকলা, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত, সংগীত সম্পর্কে জানতে পারে। আরবরা ভারতে এসব সংস্কৃতি রপ্ত করে আরবিতে অনুবাদ করেছে। 

ফলে ভারতের সংস্কৃতি ও জ্ঞান আরবদের মাধ্যমে ইউরোপেও পৌঁছে যায়। অতএব একথা বলা অনুচিত হবে না যে সিন্ধু বিজয়ের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।

মূলকথা: সিন্ধু বিজয়ের দ্বারা ভারতে মুসলমানরা রাজনৈতিক অপেক্ষা সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রভাব বেশি বিস্তার করেছিল।

সৃজনশীল  প্রশ্ন ১৯। 

মোহাইমিন একজন টগবগে তরুণ। তাঁর মেধা ও সামরিক প্রতিভা সবাইকে মুগ্ধ করে। তাঁর একজন নিকটাত্মীয় হাসনাবাদ সাম্রাজ্যের একটি অঞ্চলের শাসনকর্তা। তিনি ছিলেন সাম্রাজ্যবাদী ও উচ্চাভিলাষী । নতুন দেশ, রাজ্য ও জনপদ জয় করে তিনি আনন্দ পেতেন। সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তাই তিনি উক্ত দেশের শাসককে শাস্তি প্রদানের জন্য একাধিক অভিযান পাঠান। কিন্তু এগুলো ব্যর্থ হয়। অবশেষে মোহাইমিন তাকে পরাজিত ও নিহত করে দেশটিকে হাসনাবাদ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।

ক. মুহাম্মদ ঘুরির বিশ্বস্ত সেনাপতি কে ছিলেন?

খ. সুলতান মাহমুদের বংশকে ইয়ামিনি রাজবংশ বলা হয় কেন?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি ভারতবর্ষে কোন বিজয়াভিযানের • সাথে সংগতিপূর্ণ ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উক্ত অভিযানকে কি 'নিষ্ফল বিজয় উপাখ্যান' বলে অভিহিত করা যায়? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

সৃজনশীল  উত্তর ১৯

ক. মুহাম্মদ ঘুরির বিশ্বস্ত সেনাপতি ছিলেন কুতুবউদ্দিন আইবেক ।

খ. পিতা সবুক্তগীনের মৃত্যুর পর স্বীয় ভ্রাতা ইসমাইলকে পরাজিত - ও কারারুদ্ধ করে ৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে ২৬ বছর বয়সে মাহমুদ গজনির সিংহাসনে আরোহণ করেন। প্রথম দুই বছর তিনি বিদ্রোহী গোত্র প্রধানদেরকে দমন করে সাম্রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। 

অতঃপর সামানিদ শাসককে পরাজিত করে খোরাসানে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মাহমুদ নিজেকে স্বাধীন নরপতি বলে ঘোষণা করে ‘সুলতান' উপাধি গ্রহণ করেন। সিংহাসন সুরক্ষিত করার উদ্দেশ্যে মাহমুদ বাগদাদের খলিফা আল কাদির বিল্লাহ্র (১৯৯১-১০৩১ খ্রিষ্টাব্দ) নিকট প্রচুর উপঢৌকন পাঠিয়ে তার সমর্থন লাভ করেন। 

খলিফা মাহমুদকে ‘ইয়ামিন-উদ্- দৌলাহ' (সাম্রাজ্যের দক্ষিণ হস্ত) এবং আমিন-উল-মিল্লাত' (ধর্মের রক্ষক) উপাধিতে ভূষিত করেন। এজন্য ইতিহাসে তার বংশ ‘ইয়ামিনী' বংশ নামে অভিহিত হয়ে থাকে।

মূলকথা : সুলতান মাহমুদ ইয়ামিন-উদ্-দৌলাহ' উপাধি ধারণ করেছিলেন বলে তার বংশ ‘ইয়ামিনি' বংশ নামে পরিচিত।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি ভারতবর্ষে আরবদের সিন্ধু বিজয়াভিযানের সাথে সংগতিপূর্ণ ।হাসনাবাদ অঞ্চলের সাম্রাজ্যবাদী ও উচ্চাভিলাষী শাসনকর্তা সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী দেশ জয়ের চেষ্টা করেন। তার প্রথম দুটি অভিযান ব্যর্থ হলে তৃতীয় অভিযানে নিকটাত্মীয় মোহাইমিনকে প্রেরণ করেন এবং মোহাইমিনের সামরিক প্রতিভা দ্বারা জয়লাভ করেন।

অনুরূপভাবে, হাজ্জাজ খলিফার অনুমোদনক্রমে ৭১০ খ্রিষ্টাব্দে প্রথমে ওবায়দুল্লাহ ও পরে বুদাইলের নেতৃত্বে রাজা দাহিরের বিরুদ্ধে দুইটি অভিযান প্রেরণ করেন কিন্তু দুভার্গ্যবশত দুইটি অভিযানই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ব্যর্থতার গ্লানি মুছে ফেলার জন্য হাজ্জাজ ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে স্বীয় ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা ১৭ বছরের যুবক মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে সিন্ধুতে তৃতীয় অভিযান পাঠান। 

এই প্রতিশ্রুতিশীল সাহসী তরুণ ৬০০০ সুদক্ষ সৈন্য, ৬০০০ উষ্ট্রারোহী ও ৩০০০ রসদবাহী উষ্ট্র নিয়ে সিন্ধু অভিযানের উদ্দেশ্যে মাকরানের মধ্য দিয়ে সিন্ধুর দিকে অগ্রসর হন। পথিমধ্যে রাজা দাহিরের দুঃশাসনে অতিষ্ঠ জাঠ ও মেঠদের অনেকে সপক্ষ ত্যাগ করে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সৈন্যদলে যোগদান করেন। 

৭১২ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিম 'দেবল' এসে উপস্থিত হন, যা ব্রাহ্মণ ও রাজপুতদের দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। তিনি দুর্গটি অবরোধ করলেন এবং মানজানিকের সাহায্যে বৃহদাকার প্রস্তর নিক্ষেপ করে শত্রুবাহিনীকে পরাজিত করে দেবল অধিকার করলেন।

এরপর মুহাম্মদ বিন কাসিম নিরুন, সিওয়ান, সিসান জয় করে রাজা দাহিরের মুখোমুখি হন। সিন্ধুরাজ মুসলমানদের অগ্রগতি প্রতিরোধের জন্য বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে রাওয়ারে গমন করেন এবং মুহাম্মদ বিন কাসিমের পথরোধ করে দাঁড়ালেন। 

বীর বিক্রমে যুদ্ধ করেও রাজা দাহির পরাজিত ও নিহত হলেন। অতঃপর তিনি ব্রাহ্মণাবাদ এবং সিন্ধুর রাজধানী আলোর অধিকার করে ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধশালী শহর মুলতান অবরোধ ও দখল করেন। মুলতান বিজয়ের মধ্য দিয়ে রাজা দাহিরের সমগ্র রাজ্যের উপর আরবদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। 

মূলকথা : মুহাম্মদ বিন কাসিমের সামরিক প্রতিভা ও অদম্য স্পৃহার কারণে আরবরা সিন্ধু অভিযানে সফল হন।

ঘ.  না, আরবদের সিন্ধু অভিযানকে 'নিষ্ফল বিজয় উপাখ্যান' বলে অভিহিত করা যায় না।ঐতিহাসিক লেনপুল, ঈশ্বরী প্রসাদ, ড. এ.বি.এম হবিবুল্লাহ প্রমুখ আরবদের সিন্ধু অভিযানকে নেতিবাচক ও নিষ্ফল বলে অভিহিত করেছেন।

রাজনৈতিক পটভূমিতে বিচার করলে উল্লিখিত ঐতিহাসিকগণের মন্তব্যগুলোকে অস্বীকার করা যয় না। কারণ-সিন্ধু ও মুলতান বিজয়ের কোনো সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ফলাফল ছিল না। 

মুহাম্মদ বিন কাসিমের স্বল্পকালীন শাসনামল, ক্ষমতা ও অধিকার উপমহাদেশের ক্ষুদ্র ও সীমাবদ্ধ এলাকায় বিরাজমান ছিল এবং আরব কর্তৃত্ব ভারতের ব্যাপক মানুষের মনে অনুভূত হয়নি। এতদ্‌সত্ত্বেও সিন্ধু বিজয়ের রাজনৈতিক ফলাফলকে শুধু উপাখ্যান বলা যথাযথ হবে না। 

কারণ মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যুর পর সিন্ধু ও মুলতানে আরব শাসন দেড়শ বছর স্থায়ী হয়েছিল। তাছাড়া তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেই সুলতান মাহমুদ ও মুহাম্মদ ঘুরি ভারতে তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন। 

আরব সৈন্যদের মধ্যে অনেকেই স্থায়ীভাবে ভারতে বসতি স্থাপন করেন এবং বিজিত অঞ্চলে বহু রাস্তাঘাট নির্মাণ করেছিলেন, তাদের কীর্তি আজও বিদ্যমান। 

ঐতিহাসিক 'টড' তার প্রণীত 'রাজস্থানের ইতিহাস' গ্রন্থে আরবদের সিন্ধু বিজয়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন। কাজেই রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আরবদের সিন্ধু বিজয়ের গুরুত্বকে একেবারেই অস্বীকার করা যায় না।

সিন্ধু বিজয়ের রাজনৈতিক ফলাফল নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এর ধর্মীয় ফলাফল ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এ বিজয়ের ফলে অসংখ্য পীর-দরবেশ ভারত উপমহাদেশে ধর্ম প্রচারের জন্য।

সৃজনশীল প্রশ্ন-২০। 
সুলতান মাহমুদের পূর্বে মধ্য এশিয়ার অন্য কোনো আরব
বা তুর্কি শাসক কাবুল ও গজনির বেশি অগ্রসর হতে পারেনি।
মুসলিম শাসকদের মধ্যে উত্তর-পশ্চিম সীমান্তপথে তিনিই প্রথম
ভারতে অভিযান চালিয়েছিলেন। মুহাম্মদ ঘুরি তারই প্রদর্শিত পথে
এদেশে এসে মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থায়ীভাবে রচনা করেন।

ক. মুহাম্মদ ঘুরির ভারত আক্রমণকালে পাঞ্জাব কোন সাম্রাজ্যের অধীন ছিল?

খ. তরাইনের ১ম যুদ্ধ কার কার মধ্য হয়েছিল এবং এ যুদ্ধের ফল কী ছিল?

গ. তরাইনের ২য় যুদ্ধকে মুহাম্মদ ঘুরির চূড়ান্ত সাফল্য কেন বলাহয়েছে?

ঘ. উত্তর ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠায় মুহাম্মদ ঘুরির সাফল্যেরকারণ ব্যাখ্যা কর।

ক. মুহাম্মদ ঘুরি ভারত আক্রমণকালে পাঞ্জাব গজনি সাম্রাজ্যেরঅধীন ছিল।

খ. তরাইনের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল মুহাম্মদ ঘুরি ও চৌহান বংশীয় রাজা পৃথ্বীরাজের মধ্যে। পাঞ্জাব ও সিন্ধুতে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে মুহাম্মদ ঘুরি রাজপুত রাজাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধপ্রস্তুতি গ্রহণ করেন। 

ঘুরির সমরপ্রস্তুতির সংবাদে শঙ্কিত হয়ে দিল্লি ও আজমিরের চৌহান বংশীয় রাজা পৃথ্বীরাজ রাজপুত রাজাদের নিয়ে মৈত্রী জোট গঠন করেন। ১১৯১ খ্রিষ্টাব্দেতরাইনের প্রান্তরে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হয়। 

যুদ্ধে মুহাম্মদ ঘুরি রাজপুত শক্তির কাছে পরাজিত হয়ে গজনিতে ফিরে আসেন, ঐতিহাসিক ফিরিশতার মতে, আফগান খিলজি ও খোরাসানি সৈন্যদের অবহেলা ও নির্লিপ্ততাই তরাইনের প্রথম যুদ্ধে মুহাম্মদ ঘুরির পরাজয়ের কারণ।

মূলকথা : ঘুরি ও পৃথ্বীরাজের মধ্যে তরাইনের ১ম যুদ্ধ হয়েছিল।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মুহাম্মদ ঘুরির ভারত বিজয় একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আর তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে পৃথ্বীরাজকে পরাজিত করার ফলে তার সাফল্য পূর্ণতা পায়। নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

মুহাম্মদ ঘুরি একজন সুদক্ষ সেনাপতি ছিলেন। তার ভারত বিজয়ের প্রবল স্পৃহা ছিল। তিনি নিজ অঞ্চলে ব্যর্থ হয়ে ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় মনোযোগ দেন। এ লক্ষ্যে তিনি বিশাল সেনাবাহিনী গঠন করে ভারতের দিকে অগ্রসর হন। 

১১৭৫ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ ঘুরি কারমাতিয়ানদের কাছ থেকে মুলতান অধিকার করেন। এরপর ভাট্টিরাজাদের রাজ্য উঁচ দখল করেন। ১১৭৯ খ্রিষ্টাব্দে ঘুরি পেশোয়ার অধিকার করেন এবং ১১৮২ খ্রিষ্টাব্দে সমুদ্র উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত সমগ্র সিন্ধু ও পাঞ্জাব তার করতলগত হয়। 

এরপর মুহাম্মদ ঘুরি রাজপুতদের বিরুদ্ধে যুদ্ধপ্রস্তুতি গ্রহণ করেন। ঘুরির সমরপ্রস্তুতির সংবাদে দিল্লি ও আজমিরের চৌহান বংশীয় রাজা পৃথ্বীরাজ শঙ্কিত হয়ে উত্তর ভারতের রাজপুতদের নিয়ে মৈত্রীজেটি গঠন করেন। 

১১৯১ খ্রিষ্টাব্দে তরাইনের প্রান্তরেউভয় পক্ষ যুদ্ধের মুখোমুখি হয়। যুদ্ধে মুহাম্মদ ঘুরি পরাজিত হয়ে গজনিতে ফিরে যান। কিন্তু তিনি সৈন্য সংগ্রহ করে পুনরায় রাজপুতদের আক্রমণ করেন। 

১১৯২ খ্রিস্টাব্দে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে মুহাম্মদ ঘুরি পৃথ্বীরাজকে পরাজিত করেন। এভাবে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধের পৃথ্বীরাজকে পরাজিত করার মাধ্যমে মুহাম্মদ ঘুরির চূড়ান্ত সাফল্য অর্জিত হয়।

পরিশেষে বলা যায়, তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে পৃথ্বীরাজকে পরাজিত করার মাধ্যমে ভারতে মুসলিম শাসনের স্থায়ী ভিত্তি রচিত হয়।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মুহাম্মদ ঘুরি একজন অনন্যসাধারণ ব্যক্তি। নিজ অঞ্চলে সফলতা লাভে ব্যর্থ হয়ে মুহাম্মদ ঘুরি ভারতের দিকে নজর দেন সফল হন।

পাঞ্জাব ও সিন্ধুতে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে মুহাম্মদ ঘুরি রাজপুতদের বিরুদ্ধে যুদ্ধপ্রস্তুতি গ্রহণ করেন। ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে চৌহানরাজ পৃথ্বীরাজকে পরাজিত করে উত্তর ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। উত্তর ভারতে মুহাম্মদ ঘুরির সফলতা লাভের অনেক কারণ ছিল। নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

প্রথমত এ সময় ভারতে চরম রাজনৈতিক অনৈক্য এবং রাজন্যদের মধ্যে পরস্পর দ্বন্দ্ব ও কলহ বিরাজমান ছিল, যা নিঃসন্দেহে মুসলিম বাহিনীর সাফল্য ও হিন্দুদের ব্যর্থতার কারণ ছিল।

দ্বিতীয়ত : মুসলমানদের উন্নত সামরিক সংগঠন, আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র, শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা এবং ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন অশ্বারোহী বাহিনী তাদের সাফল্যের অন্যতম কারণ। 

রাজপুতদের মন্থরগতির হস্তীবাহিনী ক্ষিপ্রগতির অশ্বারোহী বাহিনীর মোকাবিলায় অকার্যকর প্রমাণিত হয়। মুসলমানদের আগ্রাসী নীতি এবং হিন্দুদের আত্মরক্ষামূলক রণনীতি তাদের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ বলে ঐতিহাসিকগণ মনে করেন ।

তৃতীয়ত : মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় প্রেরণা ও উদ্দীপনা তাদের সাফল্যের বিশেষ কারণ। মুসলিম যোদ্ধাদের কাছে হিন্দু ভারতীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ছিল ধর্মযুদ্ধস্বরূপ। এতে মৃত্যু হলে শহিদ, বিজয়ী হলে গাজির মর্যাদাপ্রাপ্তির আশা তাদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে। তদুপরি ধনৈশ্বর্যে পরিপূর্ণ ভারতে বিপুল গনিমত প্রাপ্তির প্রলোভন মুসলিম বাহিনীকে দুর্জেয় করে তুলেছিল।

চতুর্থত : ঈশ্বরী প্রসাদ রাজপুত ও মুসলমানদের মধ্যকার যুদ্ধকে দুটি বিপরীতধর্মী শক্তির মধ্যকার সংঘাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যার একটি হচ্ছে পুরনো অবক্ষয়ী এবং অন্যটি তারুণ্যে উদ্দীপ্ত তেজস্বী ও উদ্যোগী।

পঞ্চমত : জাতিভেদ ও বর্ণভেদ প্রথা ভারতীয় হিন্দুদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করেছিল। অন্যদিকে ইসলামের সাম্য, মৈত্রী ও আতৃত্বের বন্ধন মুসলমানদের বিজয় নিশ্চিত করে।

পরিশেষে বলা যায়, মুহাম্মদ ঘুরির অসাধারণ সামরিক দক্ষতা, ধৈর্য ও বিজয়ের স্পৃহা তার সফলতার নিয়ামক।
মূলকথা : মুহাম্মদ মুবির বিজয়স্পৃহা ও রাজপুতদের দুর্বলতা মুসলিম বিজয়ের প্রধান কারণ।

সৃজনশীল প্রশ্ন-২১। 

অদম্য সাহসী মুহাম্মদ আলী পাশা তুর্কি বাহিনীর সামান্য সৈনিক পদে কয়েকবার ব্যর্থতার পর যোগদান করতে সক্ষম হন। তিনি মিশরের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে দেখতে পান যে মিশরের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে চরম অরাজকতা চলছে। ইংরেজ, ফরাসি, মামলুক ও তুর্কিদের মধ্যে বিরাজিত অরাজকতার সুযোগে মুহাম্মদ আলী তুর্কি বাহিনীর সেনাপতিত্ব গ্রহণ | করেন এবং অতর্কিত আক্রমণ করে মিশর নিজের দখলে নেন।ক্ষমতাসীন শাসকবর্গ মিশর ছেড়ে পালিয়ে যায়। মুহাম্মদ আলী পাশা প্রথমে তুর্কি সুলতানের গভর্নর হিসেবে মিশরে নিয়োগ পেলেও পরবর্তীতে মিশর স্বাধীন রাজ্যের মর্যাদা লাভ করে।

ক. বাংলার সেন বংশের শেষ রাজা কে ছিলেন?

খ. হিন্দুদের বর্ণভেদ প্রথা বলতে কী বোঝায়? বুঝিয়ে লেখ।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মিশরের অরাজকতার সাথে প্রাক-মুসলিম বাংলার সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থার কোনো সামঞ্জস্য আছে কি? ব্যাখ্যাসহ উত্তর দাও ।

ঘ. উদ্দীপকে মুহাম্মদ আলী পাশার কর্মকাণ্ডের আলোকে মুসলমানদের বঙ্গ বিজয়ের কাহিনি বিবৃত কর?

সৃজনশীল  উত্তর
ক. বাংলায় সেন বংশের শেষ রাজা ছিলেন লক্ষ্মণ সেন।

খ. হিন্দুদের 'বর্ণভেদ প্রথা' বলতে বোঝায় এক বর্ণের লোকের সাথে অন্য বর্ণের লোকের সামাজিক মেলামেশা না করা। প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র- এ চার প্রকার বর্ণ ছিল। অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও পূজা-পার্বণ এগুলো ব্রাহ্মণদের নির্দিষ্ট কর্ম ছিল। 

তারা সমাজে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করতেন। ক্ষত্রিয়দের পেশা ছিল যুদ্ধ করা। বৈশ্যরা ব্যবসায়-বাণিজ্য করত। সবচেয়ে নিচু শ্রেণির শূদ্ররা সাধারণত কৃষিকাজ, মাছ ধরা ও অন্যান্য ছোট কাজ করত। ব্রাহ্মণ ছাড়া বাকি সব বর্ণের মানুষ একে অন্যের সাথে মেলামেশা করত। 

সাধারণত এক জাতির মধ্যেই বিবাহ হতো, তবে উচ্চ শ্রেণির 'বর ও নিম্নশ্রেণির কন্যার মধ্যে বিবাহ চালু ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এ ব্যাপারে কঠোর নিয়ম চালু হয়।

মূলকথা : বর্ণভেদ প্রথা হচ্ছে সমাজের স্তরবিন্যাস।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মুহাম্মদ আলী পাশার মিশর বিজয়ের পূর্বে মিশরের সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থার সঙ্গে মুসলমানদের বাংলা জয়ের পূর্বের অবস্থার সামঞ্জস্য রয়েছে। নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

বাংলায় মুসলিম বিজয়ে নেতৃত্ব দেন বখতিয়ার খলজি। ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে তার বাংলা বিজয়ের পূর্বে বাংলায় সেন বংশের রাজত্ব ছিল। বাংলার বিস্তৃত অঞ্চলে সেন বংশের আধিপত্য থাকলেও কিছু কিছু অঞ্চলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাধীন রাজবংশ ছিল। 

এদের মধ্যে কোনো সম্ভাব ছিল না। পরস্পরের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক ঐক্য ছিল না। ফলে কোনো রাজ্য বিদেশি কর্তৃক আক্রান্ত হলে কেউ কারও সাহায্যে এগিয়ে আসত না। মুসলমানদের বাংলা বিজয়ের পূর্বে বাংলার মানুষের মধ্যে সামাজিক ঐক্যও ছিল না। 

তখন বাংলায় হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মবালম্বী মানুষ বেশি ছিল। সেনদের অত্যাচারে বৌদ্ধ ও নিম্নবর্ণের হিন্দুরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। তারা সেনদের শাসন মনেপ্রাণে মেনে নিতে পারেনি। ফলে তারা নতুন কোনো শক্তির অপেক্ষা করত। 

তাই এ সময় মুসলমানদের দ্বারা বাংলা আক্রান্ত হলে তারাসেনদের কোনো প্রকার সহযোগিতা করেনি। এ সুযোগে বখতিয়ার খলজি বাংলা জয় করেন উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, অদম্য সাহসী মোহাম্মদ আলী পাশার মিশর বিজয়ের পূর্বের সামাজিক ও রাজনৈতিক
অবস্থা এবং বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের পূর্বে সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থার মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে।

মূলকথা: বাংলার সামাজিক ও রাজনৈতিক অরাজকতার সুযোগে বখতিয়ার খলজি বাংলা জয় করেন।

ঘ. উদ্দীপকে মুহাম্মদ আলী পাশার মিশর বিজয়ের সাথেবখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের সাদৃশ্য রয়েছে। নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

বখতিয়ার খলজির পুরো নাম মালিক ইজুজ-উদ-দিন মুহাম্মদবখতিয়ার খলজি। তিনি আফগানিস্তানের গরমশিরের অধিবাসী ছিলেন। ভাগ্যান্বেষণে বেরিয়ে বদাউনের মাক্তাদারের অধীনে সৈনিকের চাকরিতে যোগ দেন। 

প্রথম জীবনে বিহার আক্রমণ করে অনেক ধনসম্পদ লুণ্ঠন করে কুতুবউদ্দিন আইবেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বাংলা অভিযানের অনুমতি লাভ করেন। বখতিয়ার খলজি লক্ষ্মণ সেনের রাজধানী নদীয়ার দিকে অগ্রসর হন। 

তিনি প্রধান পথ তেলিয়াগরহির গিরিপথ বাদ দিয়ে ঝাড়খন্ডের জঙ্গল দিয়ে অগ্রসর হন। তিনি এত ক্ষিপ্রতার সাথে অগ্রসর হন যে মাত্র ১৮ জন সৈন্য তার সাথে নদীয়ায় এসে উপস্থিত হয়। বখতিয়ার খলজি যখন রাজধানী নদীয়ায় এসে উপস্থিত হন তখন লক্ষ্মণ সেন মধ্যাহ্নভোজে ব্যস্ত ছিলেন। 

বখতিয়ার খলজি ১৮ জন সৈন্য নিয়ে ফটকে উপস্থিত হলে দ্বাররক্ষীরা মনে করল ঘোড়া ব্যবসায়ী এসেছে। ফলে তারা কোনো প্রকার বাধা দেয়নি। কিন্তু বখতিয়ার খলজি ফটক পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে অকস্মাৎ আক্রমণ করেন। 

ফলে অপ্রস্তুত লোকজন দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে। অন্যদিকে মধ্যাহ্নভোজে ব্যস্ত লক্ষ্মণ সেন মুসলিম আক্রমণের সংবাদ পেয়ে কোনো প্রকার প্রতিরোধ না করে পেছনের দরজা দিয়ে নৌকায় করে তার দ্বিতীয় রাজধানী বিক্রমপুরে (বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) চলে আসেন। ফলে বিনা বাধায় বখতিয়ার খলজি নদীয়া দখল করেন।

এভাবে বাংলায় মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়।পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে মুহাম্মদ আলী পাশার মিশর বিজয়ের সাথে বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের ঘটনার সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।

সৃজনশীল  প্রশ্ন-২৫। 

আফ্রিকার দুটি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী হুতু ও তুতশি পরস্পর চিরশত্রু। হুতুরা তুতশিদের হাতে ক্রমাগত পরাজয়কে দেবতা বামিনের অসন্তুষ্টি মনে করে দেবতা বামিনের সেবায় অধিক মনোযোগী হয়। এমনি পরিস্থিতিতে তুতশি নেতা হুমদু বামিনের মন্দির আক্রমণ করে দুটি উদ্দেশ্য সাধন করতে চাইলেন। প্রথমত আপন বীরত্বের স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠা, দ্বিতীয়ত ধনসম্পদ লুণ্ঠন।

ক. মুহাম্মদ বিন কাসিমের রসদবাহী সৈন্যসংখ্যা কত ছিল?

খ. মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত হুমদুর কার্যাবলির সাথে কোন মুসলিম ভারত অভিযানকারীর মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উক্ত মুসলিম বিজেতার মন্দির আক্রমণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুতশি নেতা হুমদুর অনুরূপ।- বিশ্লেষণ কর।

সৃজনশীল উত্তরঃ

ক. প্রায় ১২,০০০ জন সৈন্য।

খ. ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্য স্থাপনের পথপ্রদর্শক মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যুর কারণ নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। কিন্তু দামেস্কে উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদের মৃত্যুর পর সুলায়মান খলিফা হন।

 তিনি ভারতে মুসলমান অভিযান বন্ধ করতে বলেন ও মুহাম্মদ বিন কাসিমকে দামেস্কে ডেকে পাঠান এবং পরবর্তীতে হত্যা করেন। মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যু নিয়ে ঐতিহাসিকগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। 

বিখ্যাত আরব ঐতিহাসিক বালাজুরী ও ইবনে খালদুনের মতে, খলিফা সোলায়মান হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এবং তার ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতাকে ব্যক্তিগত কারণেই অপছন্দ করতেন। এজন্য খলিফা তাকে কারারুদ্ধ করেন এবং কারাগারে তাকে  মৃত্যুর কারণ হিসেবে এটিই অধিক যুক্তিযুক্ত।

মূলকথা: মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যুর মূল কারণ সুলতান সুলায়মানেরব্যক্তিগত ক্ষোভ।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত হুমদুর কার্যাবলির সাথে গজনির সুলতান মাহমুদের অভিযানের মিল রয়েছে। গজনির সুলতান মাহমুদ ১৭ বার ভারত আক্রমণ করে ভারতের ধনরত্ন লুণ্ঠন করে গজনিকে সমৃদ্ধ করেন। 

তুতশি নেতা হ্রমদু যেমন হ্রতুদের পরাজিত করে ধনসম্পদ লুণ্ঠন করেন তেমনি সুলতান মাহমুদও ভারত আক্রমণ করে তার বীরত্বের প্রকাশ ঘটান এবং ধনসম্পদ লুণ্ঠন করেন। 

সুলতান মাহমুদ ১০০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১০২৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন। তিনি পাঞ্জাব, ভীরা, মুলতান, নগরকোট, থানেশ্বর, কাশ্মীর, কনৌজ, গোয়ালিয়র, কালিঞ্জর, সোমনাথ মন্দির আক্রমণ করে অনেক ধনসম্পদ লুণ্ঠন করেন। 

সুলতান মাহমুদের সবচেয়ে বীরত্বের অভিযান হচ্ছে সোমনাথ মন্দির আক্রমণ। হিন্দুরা মনে করত সোমনাথ মন্দির বিজয় তুর্কিদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সবাই ধনসম্পদ সোমনাথ মন্দিরে গচ্ছিত রাখত। কিন্তু সুলতান মাহমুদ ১০২৬ খ্রিষ্টাব্দে সোমনাথ মন্দির আক্রমণ করেন। 

এ সময় হিন্দুরা মাহমুদকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে দেবতাদের পূজা-অর্চনা শুরু করে। কিন্তু কিছুতেই হিন্দুরা সোমনাথ মন্দির রক্ষা করতে পারল না। 

সুলতান মাহমুদ মন্দির লুণ্ঠন করে গজনিতে ফিরে যান। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়, আফ্রিকার তুতশি নেতা হ্রমদুর সাথে গজনির সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের মিল রয়েছে।

মূলকথা: সুলতান মাহমুদ তার বীরত্ব প্রদর্শন এবং সম্পদ লুণ্ঠনের জন্য পুনঃপুন ভারত আক্রমণ করেছিলেন।

ঘ. প্রশ্নে উল্লিখিত উক্ত মুসলিম নেতা বলতে গজনির সুলতান মাহমুদকে বোঝানো হয়েছে। উদ্দীপকের তুতশি নেতা হুমদু হুতুদের আক্রমণ করে ধনসম্পদ লুণ্ঠন করত। গজনির সুলতান মাহমুদেরও ভারত আক্রমণের উদ্দেশ্য ছিল একই। 

নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-* গজনির সুলতান মাহমুদ ভারত আক্রমণ করে এখানে কোনো স্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠা করেননি। তার ভারত আক্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ধনসম্পদে পরিপূর্ণ ভারতের ঐশ্বর্য লুণ্ঠন করা।গ. উদ্দীপকে পাঠ্যবইয়ের যে মহান শাসকের কথা বলা হয়েছে, তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন কাসিম। নিচে তার মৃত্যুর বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো-

মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যু নিয়ে নানা মত রয়েছে। ঐতিহাসিক ঈশ্বরী প্রসাদের ভাষায়, “তার পতন উত্থানের মতোই আকস্মিক।” চাচনামার বিবরণ মতে, মুহাম্মদ বিন কাসিম বন্দি রাজা দাহিরের দুই কন্যা সূর্যদেবী ও পরিমল দেবীকে দামেস্কে খলিফা সুলায়মানের নিকট প্রেরণ করলে তারা খলিফার নিকট অভিযোগ করেন যে, দামেস্কে প্রেরণের পূর্বে মুহাম্মদ বিন কাসিম তাদের শ্লীলতাহানি ঘটিয়েছেন। 

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে খলিফা মুহাম্মদ বিন কাসিমকে লবণমিশ্রিত গরুর চামড়ার থলিতে পুরে রাজধানীতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

তারিখ-ই-মাসুমির বর্ণনা মতে, চামড়ার থলিতে আবদ্ধ অবস্থায় তিন দিন পরে তার মৃত্যু ঘটে এবং মৃতদেহ খলিফার দরবারে উপস্থাপন করা হলে অভিযোগকারী রাজকুমারীদ্বয় খলিফাকে বলেন যে, মুহাম্মদ বিন কাসিমের বিরুদ্ধে আনীত তাদের অভিযোগ মিথ্যা, কেবল পিতৃহত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্যই তারা এরূপ অভিযোগ করেছিলেন। 

এতে খলিফা অনুতপ্ত বোধ করেন এবং মিথ্যা অভিযোগের অপরাধে রাজকুমারীদ্বয়কে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ঘোড়ার লেজের সাথে বেঁধে টানার নির্দেশ দেন। প্রকৃতপক্ষে মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যু সম্পর্কে উপরে বর্ণিত ঘটনাটির কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। 

ঐতিহাসিক বালাজুরি তার 'ফুততুল বুলদান' এবং ইবনে খালদুন তার 'আল মুকাদ্দিমা' গ্রন্থে বিন কাসিমের মৃত্যু সম্পর্কিত উপরে বর্ণিত কাহিনিকে মিথ্যা, অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং ফতুতুল বুলদানে উল্লেখ করা হয়েছে, খলিফার নির্দেশে মুহাম্মদকে রাজধানী দামেস্কে এনে কারারুদ্ধ এবং খলিফার আদেশেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

পরিশেষে বলা যায় যে, হাজ্জাজ বিন ইউসুফের প্রতি খলিফা সুলায়মানের ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে জামাতা মুহাম্মদ বিন কাসিমকে প্রাণ দিতে হয়েছিল।

মূলকথা : ব্যক্তিগত আক্রোশের জের ধরেই মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যু হয়। 

ঘ. হ্যাঁ, আমি মনে করি, সিন্ধু অভিযানে মুহাম্মদ বিন কাসিমের .ভূমিকা ছিল অপরিসীম । কারণ, মুহাম্মদ বিন কাসিম একজন সুদক্ষ সমরনায়ক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। তার পূর্বে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ওবায়দুল্লাহ এবং পরে বুদাইলের নেতৃত্বে পর পর দুটি অভিযান প্রেরণ করলেও ব্যর্থ হন। 

তাই তিনি তৃতীয় অভিযান প্রেরণ করেন ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে। সপ্তদশ বর্ষীয় এই তরুণ সেনাপতি শ্বশুর ও চাচার এ অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন। 

তিনি ৬০০০ সুদক্ষ সিরীয় ও ইরাকি সৈন্য, ৬০০০ উষ্ট্রারোহী এবং ৩০০০ রসদবাহী উষ্ট্র নিয়ে সিন্ধু অভিযানের উদ্দেশ্যে মাকরানের মধ্য দিয়ে সিন্ধুর দিকে অগ্রসর হন। 

ইতিহাসবিদ ঈশ্বরী প্রসাদ মুহাম্মদ বিন কাসিমের এ অভিযানকে একটি অন্যতম রোমাঞ্চকর ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। অগ্রগমনের পথে মুহাম্মদ বিন কাসিম মাকরানের শাসনকর্তাকে বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য করেন এবং তার নিকট থেকে আরও অস্ত্রশস্ত্র, রসদপত্র সাহায্যস্বরূপ লাভ করেন। 

এ ছাড়া সিন্ধুর রাজা দাহিরের অত্যাচারে বিক্ষুদ্ধ জাঠ ও মেডদের অনেককে সৈনিক হিসেবে গ্রহণ করে শক্তি বৃদ্ধি করেন। এভাবে দুর্ধর্ষ ও শক্তিশালী একটি বাহিনী নিয়েতিনি ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে দেবলে উপস্থিত হন।

সৃজনশীল  প্রশ্ন-৩১। 
'ক' এবং 'খ' দুটি দেশ। 'ক' থেকে 'খ'-এর দূরত্ব অনেক। পারস্য বিজয়ের পর 'ক' দেশের লোকদের দৃষ্টি 'খ' দেশের উপর পড়ে। ৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম এক অভিযানের চেষ্টা করে 'ক' দেশের লোকজন কিন্তু তা সফল হয়নি। রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক কারণে 'ক' দেশের ধর্মের সম্প্রসারণ অপরিহার্য ছিল।

ক. এশিয়া মহাদেশের কোন অংশে ভারতবর্ষের অবস্থান?
খ. ভারতবর্ষের ইতিহাসকে কয়টি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়, সেগুলো কী?
গ. উদ্দীপকে পাঠ্যবইয়ের যে ধারণার প্রতিফলন ঘটেছে, তা বর্ণনা কর।
ঘ. তুমি কি মনে কর, 'খ' দেশে অভিযান পরিচালনার অন্যতম কারণ ধর্ম প্রচার? মতামতের সপক্ষে যুক্তি দাও ।
'
সৃজনশীল  উত্তর

ক. এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণাংশের সর্ববৃহৎ উপদ্বীপ হলো ভারতবর্ষ।

খ. ভারতবর্ষের ইতিহাসকে তিনটি পর্যায়ে বিন্যস্ত করা যায়; যথা- 

(১) প্রাচীন যুগ (প্রাক-ইসলামী যুগ) – আরবদের সিন্ধু ও মুলতান বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত ভারতবর্ষের হিন্দু 

(২) মধ্যযুগ- ভারতবর্ষে মুসলিম অভিযান থেকে শুরু করে মুঘল আমলের শেষ পর্যন্ত এবং 

(৩) আধুনিক যুগ— ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ যুগের সূচনা হয়।

মূলকথা : ভারতবর্ষের ইতিহাস তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত।

গ. উদ্দীপক অনুসারে 'ক' দেশটি হলো আরব 'এবং 'খ' দেশটি হলো ভারতবর্ষ। আরবদের সিন্ধু বিজয় ইসলামের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। পারস্য বিজয়ের পর আরবদের দৃষ্টি প্রাচ্যের মুসলমানদের উপর পড়ে। 
৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দে তৃতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা)-এর আমলে ভারত অভিযানের প্ৰথম প্ৰচেষ্টা শুরু হয়; কিন্তু তা সফল হয়নি।খলিফা হজরত আলী ও মুয়াবিয়ার আমলেও অনেকগুলোঅভিযান পরিচালিত হয়; কিন্তু একটিও সফলতা লাভকরেনি। 
অতঃপর উমাইয়া খলিফা প্রথম ওয়ালিদের আমলেআরবরা আবার নতুন প্রেরণায় ভারতে অভিযান পরিচালনা করে এবং এতে বিজয়ী হয়।রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং অর্থনৈতিক কারণে ইসলামেরসম্প্রসারণ অপরিহার্য ছিল। 
এছাড়া তৎকালীন সাম্রাজ্যের সীমা বিস্তারের ব্যাপারে উচ্চাভিলাষী হাজ্জাজ বিন ইউসুফ স্বীয়শাসন আমলে পূর্বাঞ্চলে আরব সাম্রাজ্যের সীমা বিস্তারেরব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন। 
ঠিক এ সময় বিদ্রোহীদের আশ্রয় দানকরে সিন্ধুরাজ দাহির তার বিরাগভাজন হলে তিনি তাকেসমুচিত শাস্তি প্রদান এবং সিন্ধুদেশ আরব সাম্রাজ্যভুক্ত করতে মনস্থ করলেন।উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকে পাঠ্যবইয়েরআরবদের সিন্ধু বিজয়ের ধারণার প্রতিফলন ঘটেছে।

মূলকথা: আরবদের সিন্ধু বিজয় সম্পর্কিত ধারণার প্রতিফলন ঘটেছে।

ঘ. উদ্দীপকের 'খ' দেশটি হলো ভারতীয় উপমহাদেশ। আরবদের 'খ' দেশে অভিযান পরিচালনার অন্যতম কারণ ধর্ম প্রচার ছিল বলে আমি মনে করি না।

আরবদের ভারত অভিযানের পশ্চাতে যেসব কারণ ছিল তা নিচে আলোচিত হলো- তৎকালীন পূর্বাঞ্চলীয় শাসনকর্তা উচ্চাভিলাষী হাজ্জাজ বিন ইউসুফ স্বীয় শাসনামলে সাম্রাজ্য বিস্তারের ব্যাপারে অধিক আগ্রহী থাকার কারণেই সম্প্রসারণবাদের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। 
বহু যুগ পূর্ব থেকে নির্ভীক আরব নাবিকগণ ভারত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ক্রমশ তাদের বাণিজ্যিক ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করতে থাকেন। ব্যবসায়ের সম্প্রসারণ এবং ভারতের অফুরন্ত 'ধনসম্পদ আহরণের উদ্দেশ্যই আরবদের সিন্ধু আক্রমণের কারণ বলে মনে করা হয়। 
মুসলমানদের পারস্য অভিযানের প্রাক্কালে সিন্ধুর শাসনকর্তা আরবদের বিরুদ্ধে পারস্যরাজকে সৈন্য দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। সিন্ধুরাজের এরূপ হঠকারিতামূলক আচরণে আরবরা ক্ষুব্ধ হয়ে সিন্ধুর বিরুদ্ধে আক্রমণের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। 
আরবদের সিন্ধু অভিযান আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়। কারণ ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং বিপুল ঐশ্বর্য যেমন যুগে যুগে বিদেশি হানাদারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল, তেমনি এর অতুল ঐশ্বর্যে আরবরাও একদিন এ ভূখণ্ডের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। 
ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে একদিন ভারত ও আরবদের মধ্যে প্রীতিপূর্ণ বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু কালের চক্রে সম্পদের ভাগাভাগিতে তাদের সে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। উমাইয়া খিলাফতের শুরুতে আরবীয় মুসলমানরা কতগুলো বিশেষ কারণে সিন্ধুতে অভিযান পরিচালনা করে।. 
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে আমরা বলতে পারি, শুধু ধর্ম প্রচারের জন্যই 'খ' দেশে অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং অর্থনৈতিক ও কতগুলো বিশেষ কারণে 'খ' দেশে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মূলকথা: রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক এবং কতগুলো বিশেষকারণে 'খ' দেশে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সৃজনশীল  প্রশ্ন-৩৩। 
মুহাম্মদ আবদুস সুবহানের নেতৃত্বে একটি মহাদেশে মুসলমানদের আধিপত্য বিস্তার লাভ করে। কিন্তু তিনি বিজয় উল্লাসে কোনো রকম বাড়াবাড়ি করেননি, বরং তিনি নিজ ধর্মে শান্তির বাণী অন্যদের কাছে প্রচার করতে লাগলেন। তিনি বিজিত রাজ্যকে কয়েকটি জেলায় বিভক্ত করেন। তিনি জাকাত, ভূমিকর, জিজিয়া ইত্যাদি করের ব্যবস্থা করেন। [কাজ: আরবদের সিন্ধু বিজয়]।
ক. সিন্ধু অভিযানের প্রত্যক্ষ কারণ কী ছিল?
খ. সিন্ধু বিজয়ের ধর্মীয় ফলাফল ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের সেনাপতি কর্তৃক যে অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। তা ভারতবর্ষের কোন অভিযানকে সমর্থন করে, তার বর্ণনা প্রদান কর।
ঘ. "ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও উদারনীতি উক্ত সেনাপতিকে সম্মানিত করেছে"- মতামতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

সৃজনশীল উত্তর

ক. সিন্ধু অভিযানের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল জলদস্যু কর্তৃক আরব জাহাজ লুণ্ঠন করা।

খ. ধর্মীয় ক্ষেত্রে আরবদের সিন্ধু বিজয়ের ফলাফল ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এই বিজয়ের ফলে অসংখ্য পীর, দরবেশ, আউলিয়ার এদেশে আগমন ঘটে এবং তারা ইসলাম ধর্ম প্রচার করেন। আরব শাসনে নিম্নশ্রেণির হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা সামাজিক মর্যাদা লাভ করে। 

ইসলামের সাম্য, মৈত্রী ও উদারতায় মুগ্ধ হয়ে বহু হিন্দু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। সিন্ধু বিজয়ের ফলে মুসলিম সংস্কৃতিতে আরব-অনারব আদর্শের সংমিশ্রণ ঘটে। মূলকথা: ইসলামের একত্ববাদে আকৃষ্ট হয়ে বহু হিন্দু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।

গ. উদ্দীপকে সেনাপতি কর্তৃক যে অভিযানের কথা বলা হয়েছে তা ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম অভিযানের মুহাম্মদ বিন কাসিমের অভিযানকে সমর্থন করে। ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে তরুণ সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে সিন্ধু অভিযানে বের হন। 
মুহাম্মদ হারুন তাকে আরও সৈন্য ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করেন এবং হিন্দু অত্যাচারে বিক্ষুব্ধ উপজাতিরাও মুসলিম বাহিনীতে যোগদান করে শক্তি বৃদ্ধি করে। 
অতিরিক্ত সৈন্য ও অস্ত্র লাভের পর মুহাম্মদ বিন কাসিম রাজপুতদের সুরক্ষিত দেবল দুর্গটি দখলের সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং দেবল  মুসলমানদের অধিকারে আসে। 
নিরুনের অধিবাসীরা বিনা বাধায় তার নিকট আত্মসমর্পণ করে এবং সিহওয়ান ও সিসাম কা সামান্য বাধার পর অধিকার করেন তিনি। অতঃপর তিনি খ রাওয়ানে রাজা দাহিরকে পরাজিত করেন। 'রাওয়ার দুর্গ অধিকৃত হলে ব্রাহ্মণাবাদ দখলে আসে। 
এরপর তিনি মুলতান অভিযানে বের হন। হিন্দুদের দ্বারা দুই মাস বাধাপ্রাপ্ত হলেও শেষ পর্যন্ত দখলে সমর্থ হন। মুলতান বিজয়ের সাথে সাথে সিন্ধু অভিযানের পরিসমাপ্তি ঘটে।  
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম একের পর এক অভিযান চালিয়ে উপমহাদেশে মুসলিম আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হন। মূলকথা: মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সিন্ধু বিজয়ের নায়ক বলা হয়।

ঘ. শুধু সামরিক শক্তি নয়, উদারতা ও পরধর্মসহিষ্ণুতা দ্বারা গ শত্রুপক্ষকে দমন করা যায়। সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুদেশ জয়ের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হন। কম বয়সী হলেও তিনি উন্নত চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। 

যুদ্ধের চেয়ে মুহাম্মদ বিন কাসিমের উদার ব্যবহার শত্রুদের তার এবং আরবদের প্রতি আকৃষ্ট করত। তার ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে এলাকার সৈন্যরা আত্মসমর্পণ করত। পরাজিত রাজাদের সময়কার উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারীদের তিনি স্ব স্ব পদে বহাল রাখতেন।

রাজ্য বিজয়ের উল্লাসে মত্ত না হয়ে তিনি ইসলামের শান্তির বাণী সাম্যবাদ প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন। শাসনব্যবস্থা পরিচালনার জন্য আরব কর্মচারীরা পর্যাপ্ত থাকলেও তিনি স্থানীয় জনসাধারণকে নিযুক্ত করতেন। 

তার  শাসনব্যবস্থায় পরধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতা ও উদারতার পরিচয় পাওয়া যায়। সিন্ধু বিজয়ের পর তিনি হিন্দুদের ধর্ম পালনের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেননি, বরং মন্দির ও উপাসনালয়গুলো পুনর্নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিলেন। 

মুহাম্মদ বিন কাসিম সর্বপ্রথম উদারতার ভিত্তিতে এক নতুন শ্রেণিহীন সমাজ গঠনে ভারতবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তিনি সিন্ধুর জনগণের নিকট খুব জনপ্রিয় শাসক ছিলেন। 

তার মৃত্যু উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি দুঃখজনক ঘটনা। আলোচনা শেষে আমরা বলতে পারি, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও উদারনীতি সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমকে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠ শাসকের মর্যাদা দিয়েছে।

মূলকথা: উদারনীতি দ্বারা শান্তিপূর্ণভাবে রাজ্য শাসন করা সম্ব।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ