ধর্ম রাজ্য গল্পের মূল বিষয় সংক্ষেপে তুলে ধর
‘ধর্ম রাজ্য' গল্পের মূল বিষয় সংক্ষেপে তুলে ধর।
![]() |
| ‘ধর্ম রাজ্য' গল্পের মূল বিষয় সংক্ষেপে তুলে ধর। |
উত্তর : হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের বিশ্বাস জীবনের চেয়ে ধর্ম বৃহত্তর এবং ধর্মের ইজ্জতের চেয়ে জীবন তুচ্ছ। ধর্মের মর্যাদা রক্ষার্থে যুদ্ধ করলে তথা ধর্মযুদ্ধে অংশ নিয়ে প্রাণ সংহার হলে স্বর্গ বা জান্নাত বাস অবশ্যম্ভাবী।
এমন ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ইংরেজ সরকারের পুলিশবাহিনী হিন্দু-মুসলমানের ধর্মযুদ্ধের পবিত্রতা ও তাতে তাদের যোগদানের স্বাধীনতা রক্ষায় অদূরে নীরবে দাঁড়িয়ে থেকেছে এবং তাদের স্বর্গ বা জান্নাত গমনের ক্রিয়া-কর্ম প্রত্যক্ষ করেছে।
উভয় ধর্মাবলম্বীদের ধর্মের পবিত্রতা ও ধর্মপালনের স্বাধীনতা রক্ষায় ইংরেজ সরকার মসজিদ, মন্দিরের আধিক্য অনুসারে এর মধ্যস্থতা করে। মসজিদ বহুল এলাকাকে মুসলমান মহল্লা ও মন্দির বহুল এলাকাকে হিন্দুপল্লি ঘোষণা দিয়ে তাদের ধর্ম পালনের গতিবিধি সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেয়।
এ নির্দেশনা ন্যায্য মনে করে এদেশের হিন্দু ও মুসলমান মন্দির ও মসজিদের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত হয়ে উঠে। তারা কলকাতার সমস্ত ঘরবাড়ি, স্কুল কলেজে, অফিস আদালতে, এমনকি চার পাঁচতলা দালান পর্যন্ত মন্দির বা মসজিদে রূপান্তরিত করে। এতে ধর্ম সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান তো হয় না, বরং সমস্যার বৃদ্ধি ঘটে।
'ধর্ম রাজ্য' গল্পের মৌল উপজীব্য সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা পীড়িত কলকাতা। হিন্দু-মুসলমানের ধর্মান্ধতার চরমতম রূপ এবং তার প্রতিক্রিয়ার ফলাফল মানুষের জীবন নাশ, প্রকৃত প্রস্তাবে ধর্মনাশের কাহিনি এতে বিধৃত। ধর্মই এ গল্পে অগ্রবিবেচ্য। জীবনের অপরাপর অনুষঙ্গ এখানে মূল্যহীন।
হিতাহিত জ্ঞান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক শৃঙ্খলাবোধ, সর্বোপরি মানবিক মূল্যবোধ ও মনুষ্যত্ব বলি দিয়ে স্বধর্ম রক্ষাকল্পে আত্মোৎসর্গকারী বা অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রাণহরণকারীদের রাজ্য বা দেশই 'ধর্ম রাজ্য'।
আবুল মনসুর আহমদ এ গল্পেও স্বপ্নকে গল্পবলার মাধ্যম রূপে ব্যবহার করেছেন এবং কথকের বিবৃতিতে গল্প বর্ণনা করেছেন। গল্পকথক একটি পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগে চাকরি করে।
তার বিবরণে জানা যায়, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মসজিদের সম্মুখে বাদ্য বাজানোকে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনের তাতে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত। মসজিদের সামনে বাদ্য বাজালে মসজিদের পবিত্রতা ও ইসলাম ধর্মের সম্মান বিনষ্ট হয়।
সে কারণে মুসলমানগণ হিন্দুদের প্রতিরোধ করে, অপরপক্ষে নাগরিক অধিকার আদায়ের দাবিতে জাত বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সমবেত হয়ে মুসলমানদের মুখোমুখি বলে দাঙ্গা শুরু হয়। 'আল্লাহু আকবর' রব তুলে মুসলমানেরা এবং 'কালী মাইকি জয়' ধ্বনিতে হিন্দুরা পরস্পর সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনকে হতাহত করে ।
ভারতবর্ষের জনগণ ইংরেজদের কূটকৌশল অনুধাবনে ব্যর্থ হয়ে তাদের ফাঁদে পা দেয় এবং সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়টিই আবুল মনসুর আহমদ 'ধর্ম রাজ্য' গল্পে সূক্ষ্ম ব্যঙ্গের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন।
