১৭টি (গুরুত্বপূর্ণ) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ৩য় অধ্যায় অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ৩য় অধ্যায় অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর
![]() |
| ১৭টি (গুরুত্বপূর্ণ) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ৩য় অধ্যায় অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর |
প্রশ্ন-০১। 'সুলহ্-ই-কুল' আকবরের খ্যাতির অন্যতম সোপান।-- বর্ণনা কর।
উত্তর : পরধর্ম সহিষ্ণুতা অর্থাৎ 'সুল্হ-ই-কুল' আকবরের খ্যাতির | অন্যতম সোপান ছিল। হিন্দু-মুসলমানদের একই ছত্রতলে আনার জন্য এটি ছিল সর্বাপেক্ষা উপযোগী নীতি। ধর্মান্ধতা ও পরধর্মে হস্তক্ষেপ তিনি পছন্দ করতেন না।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য তিনি সর্বধর্মের উপাদান সমন্বয়ে একটি কৃষ্টির উদ্ভাবন করেন। এটি 'দ্বিন-ই-ইলাহি' নামে পরিচিত ছিল। অবশ্য ঐতিহাসিকদের মতে, তিনি তার পূর্ববর্তী ধর্ম পরিত্যাগ করেন নি।
আকবরের ধর্ম সহিষ্ণুতার ফলে ষষ্ঠদশ শতাব্দীতে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সমঝোতার সৃষ্টি হয়। ঐতিহাসিকদের ভাষায়, আকবর ছিলেন হিন্দু-মুসলমানদের মিলনগ্রন্থী।
এ ধর্মসহিষ্ণুতার ফলে পরবর্তীকালে ভক্তি আন্দোলন নামে হিন্দুদের মধ্যে একটি আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ।
প্রশ্ন-০২। মনসবদারি ব্যবস্থা বলতে কী বোঝ?
উত্তর : মনসব শব্দের অর্থ পদমর্যাদা বা সম্মান। মুঘলদের জায়গিরদার প্রথার ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং সৈন্যবাহিনী অযোগ্য ও দুর্বল হয়ে পড়ে।
১৫৭১ খ্রিষ্টাব্দে আকবর শাহবাজ খানকে মির বহুদি বা প্রধান সামরিক কর্মকর্তা নিযুক্ত করেন এবং তার সাহায্যে মনসবদার প্রথার ওপর ভিত্তি করে একটি অভিনব সামরিক সংগঠন সৃষ্টি করেন।
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের এ মনসব দেওয়া হতো এবং রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে তারা সম্রাটকে সামরিক দিক দিয়ে সাহায্য প্রদান করতে বাধা থাকতেন।
অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট মর্যাদার ভিত্তিতে মনসবদাররা একটি | নির্দিষ্ট পরিমাণ সৈন্য প্রতিপালন করতেন এবং সম্রাটের প্রয়োজনে সৈন্য দিয়ে তাকে সহায়তা করতেন।
প্রশ্ন-০৩। "জাহাঙ্গীরের জন্ম অত্যাশ্চর্য ঘটনা।”- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : আকবরের পুত্র সেলিম (পরবর্তীকালে সম্রাট জাহাঙ্গীর)-এর জন্ম অত্যাশ্চর্য ঘটনা। উত্তরাধিকারী হিসেবে পুত্র লাভের আশায় আকবর আজমিরে খাজা মঈনুদ্দীন চিশতীর দরগায় মানত করেন এবং সেলিম চিশতি তার জন্য দোয়া করেন।
রানি যোধাবাঈ-এর গর্ভে। ১৫৬৯ খ্রিষ্টাব্দে জাহাঙ্গীরের জন্ম হলে মুসলিম সাধক শেখ সেলিম চিশতির নামানুসারে তার বাল্যনাম রাখা হয় সেলিম। স্নেহভরে আকবর সেলিমকে 'রেখু বাবা' বলে ডাকতেন।
প্রশ্ন-০৪। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সম্রাট জাহাঙ্গীর কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন?
উত্তর : সিংহাসনে আরোহণ করেই সম্রাট জাহাঙ্গীর সুশাসন ও শান্তি- শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় মনোযোগ দেন। তার আদেশে ষাটটি ঘণ্টাযুক্ত ত্রিশ গজ লম্বা একটি সোনার শিকল আগ্রার দুর্গ থেকে যমুনা নদীর তীর পর্যন্ত ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। যেকোনো ব্যক্তি বিচার লাভের আশায় এই শিকলে টান দিয়ে সম্রাটের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারত।
এ ছাড়া জাহাঙ্গীর ১২টি আইন জারি করে রাজ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা করেন। জাহাঙ্গীরের এসব আইন প্রণয়নের মূলে ছিল সমাজ সংস্কারমূলক মনোভাব ।
প্রশ্ন-০৫। সম্রাট জাহাঙ্গীরের বাংলার বিদ্রোহ দমন সম্পর্কে লেখ।
উত্তর : জাহাঙ্গীরের রাজত্বে বাংলার আফগান দলপতিরা মুঘল সম্রাটের আনুগত্য প্রদর্শন করেন নি। তিনি ইসলাম খানকে বাংলার সুবাদার করে পাঠালে ইসলাম খান, ওসমান খানের নেতৃত্বে পরিচালিত আফগান বিদ্রোহকে নির্মূল করে ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকাকে প্রাদেশিক সরকারের রাজধানীতে রূপান্তর করেন এবং এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় জাহাঙ্গীরনগর।
এ সময় বারো ভূঁইয়াদের নেতা মুসা খানও মুঘলদের বশ্যতা স্বীকার করেন। রাষ্ট্রীয় কাজে আফগানদের নিয়োগ করা হলে তারাও মুঘলদের আনুগত্য স্বীকার করেন।
প্রশ্ন-০৬। শাহজাহান কেন বিদ্রোহ করেন?
উত্তর : জাহাঙ্গীরের স্বাস্থ্যের অবনতি হলে নূরজাহান সিংহাসনের অন্তরালে প্রকৃত ক্ষমতা পরিচালনা করতে থাকেন এবং শের আফগানের ঔরসজাত স্বীয় কন্যা লাডলি বেগমের স্বামী শাহরিয়ারকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করার ষড়যন্ত্র করেন।
এজন্য শাহজাহানকে কান্দাহার অভিযানে পাঠিয়ে দেন এবং বৃদ্ধ সম্রাটকে দিয়ে শাহরিয়ারকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করার ফন্দি আঁটেন।
শাহজাহান নূরজাহানের এ অভিসন্ধি বুঝতে পেরে কান্দাহার অভিযানের রহিমের আদেশ অমান্য করেন এবং রাজকর্মচারী খান-ই-খানান আব্দুর সাহায্যে পিতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।
প্রশ্ন-০৭। সম্রাট শাহজাহানের প্রাথমিক জীবন সম্পর্কে ধারণা দাও।
উত্তর : শাহজাদা খুররম (পরবর্তীকালে সম্রাট শাহজাহান) জাহাঙ্গীরের রাজপুত সম্রাজ্ঞী জগৎ গোসাঁইরের গর্ভজাত পুত্র ছিলেন।
১৫৯১ খ্রি. তার জন্ম হয়। তিনি জাহাঙ্গীরের তৃতীয় পুত্র ছিলেন। বাল্যকাল হতে তিনি আকবরের প্রিয়পাত্র ছিলেন।
দৃঢ় ও নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী খুররম তেজস্বিতা ও বীরত্বের সাথে বিভিন্ন অভিযানে নেতৃত্ব দান করেন। বিমাতা নূরজাহানের ষড়যন্ত্রে শাহজাহান বিদ্রোহ করলে পিতা জাহাঙ্গীরের সাথে বিরোধ ঘটে, কিন্তু তা ছিল সাময়িক।
প্রশ্ন-০৮। মমতাজ মহল সম্পর্কে যা জান লেখ।
উত্তর : প্রভাবশালী মঘল আমির আসফ খানের দুহিতা মমতাজ মহল | ১৪ গ্রহণ করেন। মমতাজ মহলের আসল নাম আরজুমান্দ বানু বেগম। অসামান্য সৌন্দর্যের অধিকারিণী, বুদ্ধিমতী ও বিদুষী মমতাজের সাথে ১৬১২ খ্রি. শাহজাহানের বিয়ে হয়।
শাহজাহান মমতাজকে সর্বাপেক্ষা প্রিয় মহীয়সীর আসনে সমাসীন করেন এবং তাকে বালিকা-ই-জামান খেতাবে ভূষিত করেন।
মমতাজ চতুৰ্দশ সন্তান প্রসবকালে ১৬৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই জুন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শাহজাহান প্রিয় পত্নীর স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য তার সমাধির উপর দৃষ্টিনন্দন তাজমহল নির্মাণ করেন।
প্রশ্ন-০৯। "শাহজাহানের স্থাপত্যকীর্তির সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শন হলো তাজমহল।"- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয়তমা পত্নী মমতাজের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য আগ্রায় যমুনা নদীর তীরে মমতাজের সমাধির উপর যে অপূর্ব দৃষ্টিনন্দন সৌধ নির্মাণ করেন, তাই তাজমহল নামে পরিচিত।
১৬৩৩ খ্রিষ্টাব্দে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়, এর প্রধান স্থপতি ছিলেন ঈসা খান। কথিত আছে, বিশ হাজার শ্রমিক বাইশ বছর পরিশ্রম করে। বহু মূল্যবান পাথর দিয়ে এর নির্মাণকাজ শেষ করেন। প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অপূর্ব নির্মাণশৈলীর এ স্থাপত্য নিদর্শন সকলকে বিস্মিত করে।
মধ্যযুগে এর তুল্য কোনো স্থাপত্য দেখা যায় না; তাই পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের অন্যতম হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই তাজমহল আজো মানুষকে তার স্থাপত্যশৈলী দ্বারা মোহাবিষ্ট করে। শাহজাহানের স্থাপত্যকীর্তির সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শন হলো তাজমহল ।
প্রশ্ন-১০। উত্তরাধিকার যুদ্ধে দারার শেষ পরিণতি কী হয়েছিল?
উত্তর : আওরঙ্গজেবের কাছে ধর্মটি ও সামুগড়ের যুদ্ধে পরাজয়ের পর দারা প্রথমে দিল্লি এবং সেখান থেকে পাঞ্জাবে ও পরে মুলতানে আশ্রয় গ্রহণ করেন।
আওরঙ্গজেব তার পশ্চাদ্ধাবন করলে দারা পরিবার- পরিজনসহ গুজরাটে আশ্রয় গ্রহণ করেন। আওরঙ্গজেবের হস্তক্ষেপে সেখানেও শান্তিতে থাকতে পারেন নি।
সেখান থেকে দাদরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় পথিমধ্যে উদরাময় রোগে তার প্রিয়তমা স্ত্রী নাদিরা বেগমের মৃত্যু হয় এবং দাদরের বেলুচ অধিপতি মুঘল সেনাবাহিনীর নিকট দারাকে ধরিয়ে দেন। তাকে ১৬৫৯ খ্রি. দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। অতঃপর মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় ।
প্রশ্ন-১১। সম্রাট শাহজাহানের শেষ জীবন কেমন ছিল?
উত্তর : সম্রাট শাহজাহান ১৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দে অসুস্থ হয়ে শয্যা গ্রহণ করেন। তার পুত্র দারাশিকো তার অবর্তমানে শাসনকার্জ পরিচালনা করতে থাকেন।
কিন্তু অচিরেই তার চার পুত্রের মধ্যে সিংহাসনের অধিকার নিয়ে যুদ্ধ শুরু হয় এবং সবাইকে পরাজিত করে আওরঙ্গজেব সিংহাসন লাভ করেন।
১৬৫৮ খ্রি. আওরঙ্গজেব সিংহাসন লাভ করে বৃদ্ধ ও পত্নীবিয়োগে শোকাভিভূত পিতা শাহজাহানকে আগ্রা দুর্গে | আটক করে রাখেন।
দীর্ঘ আট বছর বন্দি জীবনের দুঃখ-দুর্দশার মধ্যে জ্যেষ্ঠ কন্যা জাহানারাই ছিলেন বৃদ্ধ ও অসহায় সম্রাটের একমাত্র সান্ত্বনার স্থল। ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দে বন্দী অবস্থায় শাহজাহান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
প্রশ্ন-১২। আওরঙ্গজেব উপজাতীয় বিদ্রোহ দমনে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন?
উত্তর : সম্রাট আওরঙ্গজেব উপজাতীয় বিদ্রোহ দমনে কূটনৈতিক | দূরদর্শিতার পরিচয় দেন। তিনি বিক্ষুব্ধ উপজাতীয় নেতৃবর্গকে উপযুক্ত জায়গির ও ভাতা প্রদান করে মুঘল অধীনতা স্বীকারে বাধ্য করেন।
উপরন্তু কাবুলের নবনিযুক্ত শাসনকর্তা আমীর খানের সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবহার ও আপসকামী নীতির ফলে উপজাতীয়রা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে থাকে।
এ ছাড়া আওরঙ্গজেব এক উপজাতিকে অপর একটি উপজাতির বিরুদ্ধে প্রেরণ করে তাদের শক্তি খর্ব করেন। যেমন --- খুস-আল-খানকে কৌশলে বন্দি করে আওরঙ্গজেব তাকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ইউসুফজাই উপজাতির বিরুদ্ধে সমরাভিযানে বাধ্য করেন।
প্রশ্ন-১৩। যুবরাজ দ্বিতীয় আকবরের বিদ্রোহের কারণ কী ছিল?
উত্তর : বারংবার পরাজিত হয়েও দুর্ধর্ষ ও সাহসী রাজপুত জাতি মুঘল বাহিনীর সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকে। যুবরাজ দ্বিতীয় আকবর তাদের নিকট পরাজিত হলে তাকে মেবার থেকে মারওয়ারে স্থানান্তর করা হয় এবং তার স্থলে যুবরাজ আজমকে নিযুক্ত করা হয়।
এতে অপমানবোধ করে যুবরাজ আকবর পিতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে রাজপুতদের সাথে মিত্রতা স্থাপন করেন। কূটনৈতিক কৌশলে সম্রাট যুবরাজের সাথে রাজপুতদের মিত্রতা ভেঙে ফেলেন।
পুত্রকে উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে আওরঙ্গজেব দাক্ষিণাত্যে যুদ্ধযাত্রা করলে ১৬৮৩ খ্রি. দ্বিতীয় আকবর পারস্যে আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং সেখানে ১৭০৪ খ্রি. তার মৃত্যু হয় ।
প্রশ্ন-১৪। “সম্রাট মুহম্মদ শাহের দুর্বলতার সুযোগে বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাধীন রাজ্যের উদ্ভব হয়।”- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : মুহম্মদ শাহ ছিলেন অলস, অকর্মণ্য ও বিলাসপ্রিয়। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্বলতার সুযোগে বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাধীন রাজ্যের উর্ধ্ব ঘটে। মন্ত্রী নিজাম-উল-মুলক মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়ে দাক্ষিণাত্যে স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
অযোধ্যার শাসনকর্তা সাদত খান, বাংলাদেশের নবাব আলীবর্দী খান ও রোহিলাখন্ডের রোহিলারা স্বাধীনভাবে রাজত্ব করতে থাকেন।
মারাঠারা মালব ও গুজরাটে প্রাধান্য স্থাপন করে দিল্লি পর্যন্ত অগ্রসর হয়। এর ফলে মুঘল সাম্রাজ্যের সীমানা সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং এর ভীতকে দুর্বল করে দেয়।
প্রশ্ন-১৫। আহমদ শাহ আবদালির ভারত আক্রমণ সম্পর্কে ধারণা দাও ।
উত্তর : আফগানিস্তানের অধিপতি আহমদ শাহ আবদালি ১৭৪৮ থেকে ১৭৬৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত কয়েকবার ভারত আক্রমণ করেন।
১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে মুঘল সম্রাট মুহম্মদ শাহের রাজত্বের শেষ ভাগে আহমদ শাহ আবদালি পাঞ্জাব আক্রমণ করেন। কিন্তু যুবরাজ আহমদ শাহের হাতে পরাজিত হন।
এ পরাজয়ের গ্লানি মুছতে তিনি আহমদ শাহের রাজত্বকালে দু'বার ভারত আক্রমণ করে কাশ্মীর ও পাঞ্জাব অধিকার করেন। এরপরও তিনি কয়েকবার ভারত আক্রমণ করেন। তার আক্রমণে মুঘল ও মারাঠা শক্তি প্রচণ্ডভাবে খর্ব হয়।
প্রশ্ন-১৬। মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের বাহ্যিক কারণ কী ছিল?
উত্তর : মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের বাহ্যিক কারণ ছিল বহিঃশত্রুর আক্রমণ। ক্ষয়িষ্ণু মুঘল সাম্রাজ্য নাদির শাহ ও আহমদ শাহ আবদালীর আক্রমণে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।
নাদির শাহের আক্রমণ প্রতিহত করা দুর্বল ও অযোগ্য মুঘল সম্রাটের পক্ষে সম্ভবপর ছিল না। নাদির শাহের সাফল্যে আফগান নেতা আহমদ শাহ ভারতবর্ষ আক্রমণে উৎসাহিত হন।
তিনি পর্যায়ক্রমে নয়বার ভারতবর্ষ আক্রমণ করেন। এভাবে বহিঃশত্রুর আক্রমণে সাড়ে তিনশ বছরের মুঘল শাসনের অবসান হয়।
প্রশ্ন-১৭। আকবরের শাসক হিসেবে বৈরাম খান কেমন ছিলেন?
উত্তর : আকবর একদম অল্প বয়সে কোনোরকম অভিজ্ঞতা ছাড়াই সাম্রাজ্যের এক দুর্যোগপূর্ণ সময়ে সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন।
তবে সৌভাগ্য ছিল যে, তিনি বৈরাম খানের মতো একজন যোগ্য, বিচক্ষণ ও শক্তিমান অভিভাবক লাভ করেছিলেন।
সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সবাই যখন আকবরকে হিন্দুস্থান ত্যাগের পরামর্শ দেন, তখন একমাত্র বৈরাম খানই তাকে সংকট ও দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সাহস জুগিয়েছেন।
বৈরাম খানের সহায়তায় আকবর অত্যন্ত সফলতার সাথে দুর্দান্ত শক্তিতে হিমুর প্রচণ্ড আক্রমণের মোকাবিলা করেন ।
%20%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%87%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%20%E0%A6%93%20%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A6%BF%20%E0%A7%A8%E0%A6%AF%E0%A6%BC%20%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%20%E0%A7%A9%E0%A6%AF%E0%A6%BC%20%E0%A6%85%E0%A6%A7%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%20%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%A8%20%E0%A6%89%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0.jpg)