একটি ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর

একটি ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর 

একটি ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর
একটি ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর 

উত্তর : প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের প্রতি আমি কেমন যেন একটা আকর্ষণ অনুভব করি। সেই আকর্ষণেই একদিন গিয়ে হাজির হই। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে, যা সোমপুর বিহার নামেও পরিচিত। এই বিহারটির অবস্থান বর্তমান নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে। 

জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জ রেলস্টেশনে ট্রেন থেকে থেকে পাঁচ কিলোমিটার পশ্চিম দিকে পাহাড়পুর গ্রামে যখন পৌছালাম তখন বেলা প্রায় এগারোটা। স্থানীয় রেস্টুরেন্ট থেকে সকালের নাশতা সেরে আমরা মূল বিহারটি পরিদর্শনে মনোনিবেশ করলাম । 

পাহাড়পুর বা সোমপুর বৌদ্ধবিহারটি পাল বংশের দ্বিতীয় রাজ ধর্মপালদেব অষ্টম শতাব্দীর শেষের দিকে কিংবা নবম শতাব্দীর দিকে তৈরি করেন। 

এটি বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের প্লাবন সমভূমিতে অবস্থিত প্লাইস্টোসিন যুগের বরেন্দ্র নামক অনুচ্চ এলাকার অন্তর্ভু ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন। 

১৯৯ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। ভূমি-পরিকল্পনা বৌদ্ধবিহারটিতে গিয়ে দেখা গেল এটির চতুষ্কোনাকার। 

এটির চারদিক চওড়া সীমানা দেওয়াল নিয়ে যে ছিল। সীমানা দেওয়াল বরাবর অভ্যন্তরভাগে সারিবদ্ধ ছোট ছোট কর ছিল। উত্তর দিকের বাহুতে ৪৫টি এবং অন্য তিন দিকের বাহুতে ৪ করে কক্ষ ছিল। 

কক্ষগুলোর প্রতিটিতে দরজা আছে। কোনো কোনে কক্ষে কুলুঙ্গি এবং মেঝেতে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত নানা দ্রব্য পাঞ্জ গিয়েছে। বিহারের উত্তর বাহুর মাঝ বরাবর রয়েছে প্রধান ফটর এখান থেকে ভেতরের উন্মুক্ত চত্বরে প্রবেশের জন্য যে সিঁড়ি ব্যবহৃত হতো তা আজও বিদ্যমান।

বিহারের অন্তর্বর্তী স্থানে গিয়ে দেখা গেল চত্বরের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে কেন্দ্রীয় মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ। বিহারের কেন্দ্রে শূন্যগর্ভ করে একটি ইট বাঁধানো মেঝে অবিষ্কৃত হয়েছে। 

এই মেঝে কক্ষের বাইরে চারদিকের কক্ষ ও মণ্ডপের প্রায় একই সমতলে অবস্থিত। মন্দিরের শীর্ষদেশের কোনো নিদর্শন নেই বিধায় এর ছাদ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণ পাওয়া যায় না।

 বিহারের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ থেকে প্রায় উনপ্যাশ মিটার দক্ষিণে আনুমানিক তিন থেকে পাঁচ মিটার প্রশস্ত স্নানঘাট দৃশ্যমান হয়। অনুমান করা হয় এই ঘাট নদীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। 

স্নানঘাট থেকে ১২ মিটার পশ্চিমে পূর্বমুখী একটি ইমারত পাওয়া গেছে যেটাকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় গয়েশ্বরী মন্দির। এতে একটি চতুষ্কোণ হলঘর রয়েছে। 

পশ্চিমে উদ্‌গত একটি দেওয়ালের বাইরের দিকে রয়েছে একটি বর্গাকার পূজার কক্ষ। মন্দিরের সামনের দিকে রয়েছে বিশাল চত্বর।

মূল বিহার থেকে বেরিয়ে গেলাম পাহাড়পুর সংলগ্ন জাদুঘরে। সেখানে দেখলাম- বেলেপাথরের চামুণ্ডা মূর্তি, লাল পাথরের শীতলা মূর্তি, কৃষ্ণ পাথরের বিষ্ণু মূর্তি, বেলেপাথরের কীর্তি মূর্তি, গৌরীমূর্তি, বিষ্ণু মূর্তি, মনসা মূর্তি, দুবলহাটির মহারানির তৈলচিত্র ইত্যাদি। 

ঘুরতে ঘুরতে দিনের আলো প্রায় শেষ হয়ে আসছে দেখে অনিচ্ছা সত্ত্বেও রেলস্টেশনের দিকে রওয়ানা হলাম অসীম অভিজ্ঞতা সঞ্জয় করে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ