৫৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর ১ম অধ্যায় দশম শ্রেণি (বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়)
![]() |
| ৫৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর ১ম অধ্যায় দশম শ্রেণি (বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়) |
৫৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর ১ম অধ্যায় দশম শ্রেণি (বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়)
নীচে থেকে ৫৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তর ১ম অধ্যায় দশম শ্রেণি বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এর প্রশ্ন ও উত্তর গুলো দেখে নিন। এখানে যেসব প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হয়ে তা পরিক্ষার জন্য অনেক হেল্পফুল হবে। আমাদের ওয়েবসাইটে ক্লাস ৩ থেকে চাকরির প্রস্তুতি পর্যন্ত সকল পড়াশোনা কন্টেন্ট পেয়ে যাবে।
প্রশ্ন ১। আওয়ামী মুসলিম লীগ কেন গঠন করা হয়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : মুসলিম লীগের দ্বিজাতিতাত্ত্বিক ধ্যানধারণা থেকে বের হয়ে আসার জন্য আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়। অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল বাঙালি রাজনৈতিক নেতৃত্বে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজগার্ডেনে এক সম্মেলনে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক টাঙ্গাইলের সামছুল হক এবং যুগ্ম সম্পাদক হলো শেখ মুজিবুর রহমান।
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, জনগণের সার্বভৌমত্ব, বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দান ইত্যাদি কর্মসূচি গ্রহণ করায় দলটি দ্রুত পূর্ব বাংলার জনগণের নিকট জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন ২। আগরতলা মামলা সম্পর্কে লেখ।
উত্তর : পাকিস্তান সরকার ১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জন সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এ মামলাটি ইতিহাসে আগরতলা মামলা বলে পরিচিতি লাভ করে।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তারা সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্র থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ভারতের আগরতলায় ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এ মামলায় বিচারকার্যের জন্য একটি স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
প্রশ্ন ৩। তমদ্দুন মজলিস কর্তৃক গঠিত সংগ্রাম পরিষদের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর?
উত্তর : তমদ্দুন মজলিস কর্তৃক গঠিত সংগ্রাম পরিষদ ভাষা ! আন্দোলনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
১৯৪৭ সালে ডিসেম্বর মাসে করাচিতে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিবাদে সারাদেশে সভা, মিছিল, ধর্মঘট পালিত হয়। তখন তমদ্দুন মজলিস কর্তৃক গঠিত ‘সংগ্রাম পরিষদ' রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ নামে রূপান্তরিত হয়।
এ সংগ্রাম পরিষদ ৮ দফা দাবিতে স্বাক্ষর করতে খাজা নাজিমুদ্দীনকে বাধ্য করে। এতে বলা হয় যে, পূর্ব বাংলার ইংরেজির স্থলে বাংলাকে } সরকারি ভাষা ও শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হবে। যার প্রেক্ষিতে বাংলা ভাষা জাতীয় ভাষার মর্যাদা পায় ।
প্রশ্ন ৮। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের ভূমিকা খুবই গৌরবোজ্জ্বল। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের এক বিরাট অংশ মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। মুক্তিবাহিনীতে একক গোষ্ঠী হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।
ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের এক পর্যায়ে মুজিব বাহিনী গঠিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের সাহস, শক্তি ও মেধার মহান আত্মত্যাগ ব্যতীত বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন কঠিন হতো। এজন্য মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রশ্ন ৯। ‘তমুদ্দুন মজলিস' কে, কখন এবং কেন গঠন করা হয়?
উত্তর : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ নামক একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এ প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করা।
প্রশ্ন ১০। বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ১৯৫৪ সালে পূর্ববাংলা প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচন পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্ববহ ও তাৎপর্যপূর্ণ। এ নির্বাচন সমগ্র পাকিস্তানে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের পরাজয়ের ফলে তারা জনগণের কাছে জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলে। এ নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালিদের মধ্যে সংগ্রামের নতুন প্রেরণা জোগায়।
পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে বাঙালি জাতীয়তাবাদ আরও বিকশিত ও সুদৃঢ় হয়। তাই ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অত্যধিক।
প্রশ্ন ১৪। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব লেখ।
উত্তর : পাকিস্তানি শাসনামলে পূর্ব বাংলার সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সবচেয়ে বড় আন্দোলন ছিল ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান।
এ অভ্যুত্থানের ফলে পাকিস্তান সরকার আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয়। এর ফলে সরকারের ওপর যে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি হয় তা ৭০-এর নির্বাচনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।
আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এ আন্দোলনের ফলেই। শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয় এসময়েই। তাই ইতিহাসে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্ব অনেক বেশি।
প্রশ্ন ১৭। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কী?
উত্তর : ২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' বলা হয়। ইতিহাস পাঠে আমরা জানতে পারি যে, ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ১৯৫৩ সাল থেকে প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারি তারিখটি ‘ভাষা দিবস' বা 'শহিদ দিবস' হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিবেচনায় জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো (UNESCO) ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর দিবসটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
ফলে ২০০০ সাল থেকে প্রতিবছর গোটা বিশ্বে ২১শে ফেব্রুয়ারি দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
প্রশ্ন ১৮। আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হয়ে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মীর্জাকে উৎখাত ও দেশত্যাগে বাধ্য করে ক্ষমতা দখল এবং নিজেকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত করেন। তিনি উক্ত পদে বসে যেসব পদক্ষেপ নেন তা হলো-
১. নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা; ২. পূর্ব ঘোষিত ১৯৫৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচন স্থগিত করা; ৩. দুর্নীতি ও চোরাচালানি দূর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত ও ৪. রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা।
প্রশ্ন ১৯। যুক্তফ্রন্ট সরকার কেন ব্যর্থ হয়?
উত্তর : ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। কিন্তু পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ষড়যন্ত্রের কারণে যুক্তফ্রন্টকে ৫৬ দিন ক্ষমতায় থাকার পর ক্ষমতা ছাড়তে হয়। কারণ পাকিস্তান সরকার পূর্ব বাংলার যুক্তফ্রন্ট সরকারকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারে নি।
তাই তারা ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছিল। আর এরই ধারাবাহিকতায় আদমজী পাটকল ও কর্ণফুলীতে বাঙালি-অবাঙালি দাঙ্গাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে ।
প্রশ্ন ২০। শেখ মুজিবকে 'ফরিদপুর জেলে পাঠানো হয় কেন?
উত্তর : ভাষা আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধুকে বিনা বিচারে কারাগারে [মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা আটক রাখা হলে কারাগারের ভিতর থেকেও তিনি নেতৃবৃন্দকে বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিতেন।
ঢাকা মেডিকেলে বন্দী হিসেবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি আন্দোলনের পথনির্দেশনা দিতেন। তাই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ভীত হয়ে বঙ্গবন্ধু ও মহিউদ্দীন আহম্মদকে ফরিদপুর কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।
প্রশ্ন ২১। ভাষা আন্দোলনে শেখ মুজিবের ভূমিকা উল্লেখ কর
উত্তর : ভাষা আন্দোলনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা প্রশংসনীয়। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ 'বাংলা ভাষা দিবস' পালনের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং পিকেটিং করা অবস্থায় শেখ মুজিব, শামসুল হক, অলি আহাদসহ ৬৯ জনকে গ্রেফতার করলে ১২-১৫ মার্চ ঢাকায় ধর্মঘট পালিত হয়।
পরবর্তীতে কারাবন্দী শেখ মুজিব ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায়ও ২১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি পালনের জন্য ছাত্র ও আওয়ামী মুসলিম লীগের নেতা কর্মীদের ডেকে পরামর্শ দেন। এভাবে ভাষা আন্দোলনে বিভিন্নভাবে শেখ মুজিব গুৰুত্বপূৰ্ণ ভূমিকা পালন করেন।
প্রশ্ন ২২। ঐতিহাসিক ৬ দফার গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর ।
উত্তর : ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ত্ব অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিকসহ প্রায় সকল অধিকারের দাবি।
এ ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালির চেতনামূলে বিস্ফোরণ ঘটায়। এ কর্মসূচিতে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এটি বাঙালিদের স্বাধীনতার = মন্ত্রে উজ্জীবিত করে । তাই ঐতিহাসিক ছয় দফার গুরুত্ব অনেক।
প্রশ্ন ২৩। পাকিস্তানের সামরিক শাসন জারি হওয়ার কারণ বর্ণনা কর।
উত্তর : ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পরে পাকিস্তানে শক্তিশালী কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। কেন্দ্র ও প্রাদেশিক কাঠামোতে দুর্বল সম্পর্ক, ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন, সামরিক-বেসামরিক ষড়যন্ত্র এবং সংসদের অ-কার্যকারিতা সরকারকে দুর্বল করে তোলে।
এরই মধ্যে সাংসদদের মারামারিতে স্পিকার শাহেদ আলী আঘাত পেয়ে নিহত হয়। এমতাবস্থায় ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মীর্জা সামরিক শাসন আইন জারি করেন।
প্রশ্ন ২৪, যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার চারটি দফা উল্লেখ কর।
উত্তর : ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের দেওয়া ২১ দফার ৪টি দফা হলো—
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করতে হবে।
২. শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করতে হবে ।
৩. সকল প্রকার দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে।
৪. বাস্তুহারাদের পুনর্বাসন করতে হবে ।
প্রশ্ন ২৫। দ্বিজাতি তত্ত্ব কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হলে এ দলের নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতের মুসলমানদের একটি স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে ঘোষণা করেন। জিন্নাহ প্রদত্ত এ তত্ত্বের নামই হচ্ছে দ্বিজাতি তত্ত্ব।
দ্বিজাতি তত্ত্বের আলোকে তিনি ভারতের সমগ্র মানুষকে মুসলিম ও হিন্দু এ দুটি জাতিতে বিভক্ত করে তাদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের দাবি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “হিন্দু-মুসলমানরা দুটি পৃথক জাতি।
” তিনি হিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্যে সামাজিক, সাংস্কৃতিক পার্থক্য নিরূপণ করে পাকিস্তান ও ভারত নামের দুটি আলাদা রাষ্ট্র গড়ার পক্ষে মত দেন তার দ্বিজাতি তত্ত্বে। যার ওপর ভিত্তি করে ভারত ও পাকিস্তান জন্মলাভ করে।
প্রশ্ন ২৬। মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক তাৎপর্য গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উত্তর : বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বাংলাদেশ হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের মধ্যে প্রথম দেশ, যে দেশ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার যে ডাক দেন এবং ২৫ মার্চ রাতে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার যে ঘোষণা প্রদান করেন, ১৬ ডিসেম্বর তা বাস্তবে পূর্ণতা পায়।
মুক্তিযুদ্ধের ফলেই আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, যা বিশ্বের মানচিত্রে স্থান পেয়েছে। তাই মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক তাৎপর্য গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন ২৭। পাকিস্তানের দুই অঞ্চলের প্রশাসনিক বৈষম্য ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : পাকিস্তানের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তানের ভূমিকা ছিল অতি নগণ্য । প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বৈষম্য ছিল ব্যাপক।
১৯৬৬ সালে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের গেজেটেড কর্মকর্তা ছিল যথাক্রমে ১,৩৩৮ ও ৩,৭০৮ জন এবং নন-গেজেটেড কর্মকর্তা ছিল যথাক্রমে ২৬,৩১০ এবং ৮২,৯৪৪ জন।
১৯৬২ সালে ফরেন সার্ভিসে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব ছিল মাত্র ২০.৮%। বিদেশে ৬৯ জন রাষ্ট্রদূতের মধ্যে ৬০ জনই ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের।
প্রশ্ন ২৮।ভাষা আন্দোলন কীভাবে আমাদের জাতীয়তাবাদ বিকাশে ভূমিকা রাখে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির জীবনে একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা। বাঙালি জাতির জীবনে এ আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম।
কারণ এ আন্দোলনের সিঁড়ি বেড়ে বাঙালির জীবনে আসে ৫৪-এর নির্বাচন, ৬৬-এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান সর্বোপরি আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ।
এ আন্দোলন বাঙালিদের এক নবজাগরণে দীক্ষিত করে এবং পরবর্তী সকল আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জোগায়। পাকিস্তান সৃষ্টির পর এ আন্দোলনই সর্বপ্রথম বাঙালি জনগোষ্ঠীকে একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসে।
প্রশ্ন ২৯। স্বাধীনতাযুদ্ধে নারী সমাজ কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। মুক্তিযোদ্ধা শিবিরে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা অস্ত্র চালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়।
অপরদিকে সহযোদ্ধা হিসেবে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দান ও তথ্য সরবরাহ করে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এদেশের অগণিত নারী মুক্তিসেনা।
প্রশ্ন ৩০। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বলা হয়। পৃথিবীতে ৬০০০-এর বেশি ভাষা রয়েছে। এদিন পৃথিবীর সব ভাষার মানুষ যেন অন্য ভাষা বা সংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানায় সেই সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ২১ ফেব্রুয়ারিতে ভাষার জন্য জনগণের আন্দোলন ও রক্তদানের ইতিহাসে পৃথিবীর জাতিসমূহের নিকট উপস্থাপিত হওয়ার সুযোগ হয়।
পৃথিবীর সকল জাতি ২১ ফেব্রুয়ারি নিজ নিজ ভাষার গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ পেয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব অনেক।
প্রশ্ন ৩১। যুক্তফ্রন্ট কীভাবে গঠিত হয়?
উত্তর : ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সরকার কর্তৃক ১৯৫৪ সালের ১১ মার্চ পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ঘোষিত হলে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর মুসলিম লীগ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যেমন— আওয়ামী লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম এবং গণতন্ত্রী দল একত্রিত হয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে।
পরবর্তীতে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিল নৌকা। শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন যুক্তফ্রন্টের প্রথম সারির নেতা।
প্রশ্ন ৩২। পাকিস্তানি শাসনামলে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে কী ধরনের বৈষম্য ছিল?
উত্তর : পাকিস্তানি শাসনামলে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রেও অনেক বৈষম্য পরিক্ষিত হয়। পাকিস্তান সৃষ্টির আগে পূর্ব বাংলা পশ্চিম পাকিস্তানের চাইতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় এগিয়ে ছিল।
পাকিস্তান সৃষ্টির পর শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দে পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের দ্বিগুণের বেশি লাভ করতে থাকে।
ফলে পশ্চিম পাকিস্তানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার জন্য নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। এভাবেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্যের সৃষ্টি করে।
প্রশ্ন ৩৩। “পাকিস্তান সৃষ্টির পূর্বেই ভাষা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই ভাষা কী হবে তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে এ. কে ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে পাকিস্তান নামক একটি রাষ্ট্রের জন্ম প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় তখনই বিতর্কটি পুনরায় শুরু হয়।
১৯৪৭ সালের ১৭ মে তারিখ চৌধুরী খলীকুজ্জামান এবং জুলাই মাসে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন।
প্রশ্ন ৩৪ । উর্দু ভাষার বিপক্ষে যেসব প্রতিবাদ গড়ে তোলা হয় সেগুলো ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : চৌধুরী খলীকুজ্জামান ও উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রস্তাব দিলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা প্রতিবাদ গড়ে তোলেন।
তাদের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার ভাষাবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শহীদুল্লাহ এবং ড. এনামূল হকসহ বেশ কয়জন বুদ্ধিজীবী প্রবন্ধ লিখে প্রতিবাদ জানান ।
১৯৪৭ সালে কামরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বের গঠিত গণআজাদী লীগ মাতৃভাষায় ‘শিক্ষাদান' এর দাবি জানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ২ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ নামক একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
উক্ত প্রতিষ্ঠান উর্দু ভাষার বিপক্ষে বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানায়। তারপর ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও তাঁদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়।
প্রশ্ন ৩৫। শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষার সিদ্ধান্তের ফলাফল ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত এক শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে পূর্ব বাংলায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়।
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ওঠে, লেখালেখি শুরু হয় এবং ডিসেম্বর মাসেই 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' নতুনভাবে গঠিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সভাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারিসহ সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছাত্র-জনতা মিছিল করে এবং তাঁদের বুকের তাজা রক্তে রাষ্ট্রভাষার স্বকৃতি পায় বাংলা ভাষা।
প্রশ্ন ৩৬। ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের দাবি উপেক্ষিত পরবর্তী পরিস্থিতি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ গণপরিষদের ভাষা হিসেবে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলার ব্যবহারের দাবি জানান।
তার দাবি অগ্রাহ্য হলে ২৬ ও ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ধর্মঘট পালিত হয়। ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' পুনঃগঠিত হয়।
১১ মার্চ 'বাংলা ভাষা দাবি দিবস' পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ঐদিন সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ এ কর্মসূচি পালনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
পিকেটিং অবস্থায় শেখ মুজিব, শামসুল হক, অলি আহম্মদসহ ৬৯ জনকে গ্রেফতার করলে ঢাকায় ১০-১৫ মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।
প্রশ্ন ৩৭ । খাজা নাজিমুদ্দিন স্বাক্ষরিত আট দফা চুক্তি ব্যাখ্যা কর। উত্তর : চুক্তিগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. বাংলা ভাষার প্রশ্নে গ্রেফতারকৃত সকলকে অবিলম্বে মুক্তি দান করা হবে।
২. পুলিশি অত্যাচারের বিষয়ে তদন্ত করে একটি বিবৃতি প্রদান করা হবে।
৩. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার জন্য পূর্ব বাংলার আইন পরিষদে একটি বিশেষ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।
৪. পূর্ব বাংলার সরকারি ভাষা হিসেবে ইংরেজি ওঠে যাওয়ার পর বাংলাকে সরকারি ভাষা হিসেবে প্রবর্তন করা হবে।
৫. সংবাদপত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।
৬. আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।
৭. ২৯ ফেব্রুয়ারি হতে জারিকৃত ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হবে।
৮. রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন 'রাষ্ট্রের দুশমনদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয় নাই' মর্মে মুখ্যমন্ত্রী কর্তৃক বক্তব্য দান ।
প্রশ্ন ৩৮। “উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা” – ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসেন। ২১শে মার্চ রেসকোর্স ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন "উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।”
২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তনেও তিনি অনুরূপ ঘোষণা দিলে ছাত্রসমাজ প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে এবং 'না না' বলে তার উক্তির প্রতিবাদ জানায়। জিন্নাহর রেসকোর্স ময়দানের ঘোষণারও তারা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
প্রশ্ন ৩৯। “২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়”- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন জিন্নাহকে অনুসরণ করে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার নতুন-ঘোষণা প্রদান করেন ।
এ প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ৩০ জানুয়ারি ধর্মঘট পালন করে। আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' নতুনভাবে গঠিত হয়।
নতুনভাবে আন্দোলন সংগঠিত হতে থাকে এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোও যুক্ত হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। ২১শে ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী ঐদিন রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সাধারণ ধর্মঘট এবং
প্রশ্ন ৪০। ছাত্রজনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি এক ঘোষণায় ২১শে ফেব্রুয়ারি থেকে। চা ১৪৪ ধারা জারিসহ সভাসমাবেশ মিছিল এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে। আন্দোলনে নেতৃবৃন্দ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা নিয়ে অনেক আলোচনা শেষে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, ১০ জন করে মিছিল শুরু করা j আ হবে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের দিক থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে । সুে মিছিল এগিয়ে চলে।
প্রশ্ন ৪১ । প্রথম শহিদ মিনার উদ্বোধন ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ছাত্রজনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করলে পুলিশ প্রথমে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে, মিছিলে লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে গুলিবর্ষণ শুরু করলে আবুল বরকত, জব্বার, রফিক, সালামসহ আরও অনেকে শহিদ হন, অনেকে আহত হন। ঢাকায় ছাত্র হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে ২২ ফেব্রুয়ারি বিশাল র্যালি বের হয় এবং পুলিশের হামলায় শফিউর মারা যায়।
শহিদদের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য ঢাকায় ২২ ফেব্রুয়ারি ছাত্রজনতা মেডিকেল কলেজের সামনে একটি শহিদ মিনার নির্মাণ করে। ২০ ফেব্রুয়ারি শফিউরের পিতাকে দিয়ে প্রথম শহিদ মিনার উদ্বোধন করা হয়।
প্রশ্ন ৪২, শহিদ দিবসকে উপলক্ষ করে গীতিকার ও কবিগণের প্রতিক্রিয়া ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : আবদুল গাফফার চৌধুরী রচনা করেন ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।' সংগীতশিল্পী বে। আবদুল লতিফ রচনা ও সুর করেন, 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নাইন নিতে চায়, 'তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি।' ড. মুনীর চৌধুরী 1 জেলে বসে রচনা করেন, 'কবর' নাটক, জহির রায়হান রচনা করেন 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলায় শিল্প-সাহিত্য সংস্কৃতিচর্চায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের
প্রশ্ন ৪৩। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের বর্ণনা দাও।
উত্তর : পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগের শোচনীয় হয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর আওয়ামী লীগ ] যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। ২১ দফা প্রণয়ন শেষে ৪টি দল নিয়ে ।
যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। দল ৪টি ছিল আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, আলী নেজামে ইসলামী ও গণতান্ত্রিক দল। ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে এত প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জনগণ যুক্তফ্রন্টের নর ২১ দফাকে তাদের স্বার্থরক্ষার সনদ বলে বিবেচনা করে পূর্ব বাংলার মনি ।
প্রাদেশিক পরিষদের ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি না' ! মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন লাভ করে। বাকি আসন অন্যরা পায় ।
প্রশ্ন ৪৪ । যুক্তফ্রন্ট সরকারের বর্ণনা কর।
উত্তর : ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্টভুক্ত কৃষক-শ্রমিক পার্টির নেতা ত এ. কে ফজলুল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল। পাকিস্তান সরকার পূর্ব বাংলার যুক্তফ্রন্ট সরকারকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারেননি।
তারা ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। আদমজী পাটকল ও কর্ণফুলিতে বাঙালি-অবাঙালি " দাঙ্গাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে। শেরে বাংলাকে গৃহবন্দী করা হয়, শেখ মুজিবসহ তিন হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয় ।
প্রশ্ন ৪৫। পাকিস্তানের সামরিক শাসনের ব্যাখ্যা দাও ।
উত্তর : পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে নস্যাৎ করার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানভিত্তিক সামরিক-বেসামরিক শাসনগোষ্ঠী তৎপরতা চালিয়ে যেতে থাকে।
ফলে সংসদ ও সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখতে ] পারেনি। কেন্দ্রে এবং প্রদেশে ঘন ঘন সরকারের পরিবর্তন ঘটতে থাকে। ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী ক্ষমতা দখলের জন্য অপেক্ষায় ছিল।
পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের পরস্পরবিরোধী এমএল এদের মধ্যে মারামারির মতো এক অপ্রীতিকর ঘটনায় ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী গুরুতর আহত হয়ে পরবর্তীতে হাসপাতালে মারা যান। এ সুযোগে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মীর্জা সামরিক আইন জারি করেন।
প্রশ্ন ৪৪। আইয়ুব খানের ক্ষমতা দখলের বর্ণনা দাও।
উত্তর : ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মীর্জাকে উৎখাত ও দেশত্যাগে বাধ্য করে ক্ষমতা দখল এবং নিজেকে 'পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত করেন। তিনি উক্ত পদে বসে | যেসব পদক্ষেপ নেন তা হলো-
১. নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা।
২. পূর্ব ঘোষিত ১৯৫১ সালে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচন স্থগিত করা।
৩. দুর্নীতি ও চোরাচালানি দূর করার অঙ্গীকার ব্যস্ত ও
৪. রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা।
প্রশ্ন ৪৭। পূর্ব বাংলার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীতে বাঙালিদের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য বিরাজ করেছিল।
মোট অফিসারের মাত্র ৫%, সাধারণ সৈনিকদের মাত্র ৪%, নৌবাহিনীর উচ্চপদে ১৯%, নিম্নপদে ৯%, বিমান বাহিনীর পাইলটদের ১১%, টেকনিশিয়ানদের ১.৭% ছিলেন বাঙালি।
প্রশ্ন ৪৮। সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনের বর্ণনা দাও।
উত্তর : 'আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ১৯৬১ সালেই পূর্ব বাংলায় আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৬২ সালের জানুয়ারি মাসে বাঙালিদের প্রিয় নেতা ও পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দীকে গ্রেপ্তার করা হলে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে।
এরপর ফেব্রুয়ারি মাসে শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করা হলে রাজবন্দীদের মুক্তির j দাবিতে আন্দোলন আরও বেগবান হয়। ১৯৬২ সালে আইয়ুবের । প্রস্তাবিত শাসনতন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজ প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে।
ঐ সময় ছাত্র সমাজ ১৫ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। শিক্ষানীতি বিষয়ক আন্দোলনে বিভিন্ন পেশাজীবীরাও অংশগ্রহণ করে। এ সঙ্গে সাংবিধানিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) গঠিত হয়।
এ সংগঠন আইয়ুব খানের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৬৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক দলগুলো সামরিক শাসন বিরোধী বক্তব্য নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়ার সুযোগ পায় ।
প্রশ্ন ৪৯। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রভাব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যুদ্ধ শুরু হয়। এ যুদ্ধ ১৭ দিন ধরে অব্যাহত ছিল। তখন পূর্ব পাকিস্তান সম্পূর্ণরূপে অরক্ষিত ছিল। বিষয়টি পূর্ব বাংলার জনগণের কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বৈষম্যমূলক মনে হয়েছিল।
যুদ্ধে হেরে যাওয়ার পরও পাকিস্তান সরকার 'ভারতবিরোধী' জিগির তোলে। একই সঙ্গে ‘ইসলাম বিপন্ন হওয়া', রবীন্দ্র সংগীতকে 'হিন্দু সংস্কৃতি', নজরুল ইসলামের গানে 'হিন্দুয়ানি'র অভিযোগ তুলে এসব বাদ দেওয়ার যুগপৎ চেষ্টা করা হয়।
ফলে পূর্ব বাংলার জনগণ নিজেদের সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার জন্য স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করে। বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হতে থাকে।
প্রশ্ন ৫০। ছয় দফা কর্মসূচির পটভূমি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : পূর্ব বাংলার জনগণের প্রতি পাকিস্তান রাষ্ট্রের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবহেলার বিরুদ্ধে দীর্ঘ' আন্দোলন সংগ্রাম সুস্পষ্ট রূপলাভ করে ৬ দফার স্বায়ত্তশাসনের দাবিনামায়।
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের এক সম্মেলনে যোগদান করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান। সেখানে তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করে পূর্ব পাকিস্তানের) জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য ৬ দফা তুলে ধরেন।
প্রশ্ন ৫১। ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা কেন দায়ের করা হয়?
উত্তর : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতির চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং তাঁর বিশ্বাস ছিল শেষপর্যন্ত সশস্ত্র সংগ্রাম ব্যতীত বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করা সম্ভব হবে না।
তাই তিনি সশস্ত্র পন্থায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সে সময়ে গোপনে গঠিত বিপ্লবী পরিষদের সদস্যদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সম্মতি দিয়েছিলেন।
বিপ্লবী পরিষদের পরিকল্পনা ছিল একটি নির্দিষ্ট রাতে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে বাঙালিরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সবগুলো ক্যান্টনমেন্টে কমান্ডো স্টাইলে হামলা চালিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানিদের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে তাদের বন্দী করবে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করবে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হওয়ার পূর্বেই তা ফাঁস হয়ে যাওয়ার কারণে ঐতিহাসিক আগরতলা ('রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য') মামলা দায়ের হয়।
প্রশ্ন ৫২। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ব্যাখ্যা দাও ।
উত্তর : পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ১৯৬৯ সালে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন সংঘটিত হয় । ইতিহাসে এটি উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। এটি বিপ্লবাত্মক রূপ পরিগ্রহ করে।
সকল গণতান্ত্রিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও মানুষ যার যার অবস্থান থেকে এ আন্দোলনে যুক্ত হয়। এ 'আন্দোলনে যুক্ত হতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন।
প্রদেশব্যাপী ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিকসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ তখন রাস্তায় নেমে আসে। অবশেষে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান মুজিবকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হন। অন্যান্য নেতৃবৃন্দকেও মুক্তি দেওয়া হয়। আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
প্রশ্ন ৫৩। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রভাব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এর পূর্বে তিনি ‘ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা' তুলে নেন। ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন দিতে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নতুন সামরিক সরকার বাধ্য হয়।
গণঅভ্যুত্থানের ফলে পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটে। বাঙালি j জাতীয়তাবাদের প্রয়োজনীয়তা তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
১৯৭০- এর নির্বাচন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের ব্যাপক প্রভাব ছিল। মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভাবাদর্শে এসব অর্জন সম্ভব হয়।
প্রশ্ন ৫৪। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের বর্ণনা দাও।
উত্তর : ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইস্তফা দেন। ইয়াহিয়া খান উক্ত পদে আসীন হন। তিনি ২৮ মার্চ তারিখ এক ঘোষণায় পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। তবে পাকিস্তানে ইতোপূর্বে কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এ নির্বাচন নিয়েও নানা আশঙ্কা ছিল, কোনো নিয়মকানুনও ছিল না।
অবশেষে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর সর্বপ্রথম এক ব্যক্তির এক ভোটের ভিত্তিতে' নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, ন্যাপ (ওয়ালী), মুসলিম লীগ (কাইয়ুম), মুসলিম লীগ (কনভেনশন), পাকিস্তান পিপলস্ পার্টি, ডেমোক্রেটিক পার্টি, জামাত-ই-ইসলামি প্রভৃতি দল অংশগ্রহণ করে। আওয়ামী লীগ ৬ দফার পক্ষে নির্বাচনকে গণভোট হিসেবে অভিহিত করে। নির্বাচনে ৫ কোটি ৬৪ লাখ ভোটারের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানে ছিল ৩ কোটি ২২ লাখ।
১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন (৭টি মহিলা আসনসহ) লাভ করে। ১৭ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক পরিষদেও আওয়ামী লীগ একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা পায়।
.jpg)