আল হাকিম ফাতেমীয়দের পতনের জন্য কতটুকু দায়ী আলোচনা কর
![]() |
| আল হাকিম ফাতেমীয়দের পতনের জন্য কতটুকু দায়ী আলোচনা কর |
আল হাকিম ফাতেমীয়দের পতনের জন্য কতটুকু দায়ী আলোচনা কর
উত্তর : ভূমিকা : ইসলামের ইতিহাস পঠন-পাঠনে যে সকল বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণসহকারে আলোচনা করা হয় তার মধ্যে ১০৯ খ্রিস্টাব্দে উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠা অন্যতম।
আর এ খিলাফতের যে সকল শাসকবৃন্দ তাদের শাসনকালের বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য এ বংশের তথা ফাতেমীয় খিলাফতের পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল, তার মধ্যে আল হাকিম অন্যতম।
মূলত তিনি যেমন ছিলেন একজন দক্ষ শাসক, তেমনি ছিলেন একজন বিতর্কিত ব্যক্তি। তার আমলে সমস্ত রাজ্যে নানারকম ঝামেলা ও উন্মাদনামূলক নীতি প্রণয়ন করা হয়েছিল। যার কারণে এর ফলাফল অনেক খারাপ হয়েছিল।
→ আল হাকিমের পরিচয় : খলিফা আল হাকিম ১৮৫ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই আগস্ট মিশরের আল কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল আব্দুল আজিজ আল হাকিমের মাতা খ্রিস্টান ছিলেন।
তিনি মাত্র ১১ বছর বয়সে সিংহাসনের উত্তর ধিকারী নিযুক্ত হন। তার অভিবাবক ও গৃহশিক্ষক ছিলেন কোষাধ্যক্ষ বার জোয়ান আল হাকিমের মূল নাম ছিল আৰু আলি মুনসুর আল হাকিম বি আমর ইল্লাহ। তিনি ১০২১ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই ফেব্রুয়ারি মোকাত্তামে মৃত্যুবরণ করেন ।
→ আল হাকিম ফাতেমীয়দের পতনের জন্য কতটুকু দায়ী : আল হাকিম সম্পর্কে বলতে গিয়ে ঐতিহাসিক মুসা আনসারি বলেন, হাকিমের মৃত্যুর পর প্রায় ১৫০ বছর ফাতেমীয় খিলাফত টিকেছিল, তবে অত্যন্ত রুগ্ন অবস্থায়।
আর ঐতিহাসিকদের মতে, হাকিমের বিভিন্ন পদ্ধতি ও নীতির ফলে সাম্রাজ্যের লোকেরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। PK Himi বলেন, "Hakims reign was marked with monstrous atrocities [History of Arabs-620]
বিভিন্ন কার্যের ফলে খ্রিস্টানরা তার উপর অনেক ক্ষুব্ধ ছিল। আর খ্রিস্টানদের সাথে সম্পর্ক ছিন্নের কারণে বাইজান্টাইন সম্রাট ১০৫০ সালে বেসিলে ফাতেমীয়দের সাথে সকল প্রকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।
এর কারণে ফাতেমীয়দের সাম্রাজ্যে সমস্যা দেখা দেয়। আল হাকিম ১০০৯ সালে জেরুজালেমের জগৎ বিখ্যাত গীর্জা "Holy Sepulchre" ধ্বংস করে। এর প্রভাব ফাতেমীয়দের ভবিষ্যত শাসকদের উপর পড়ে।
কিন্তু আল হাকিমের সিংহাসনে আরোহণের কথা চিন্তা করলে তাকে এ বংশের পতনের জন্য দায়ী করা যায় না। কেননা তিনি রাজ্যের কল্যাণের জন্য এ সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছিলেন।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, খলিফা আল হাকিম জেরুজালেমের বহু গির্জা ধ্বংস সাধন করে। ফলে খ্রিস্টান বিশ্বে এর ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর ফলে শুরু হয়ে যায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে খ্রিস্টাদের 'ক্রুসেড' বা 'ধর্মযুদ্ধ'।
খলিফা আল হাকিম নিজের অজান্তে ফাতেমীয় খিলাফতের পতনের যে বীজ বপণ করেন তা আর কখনো রোধ করা যায়নি। খলিফা আল হাকিম যেমন ছিলেন সফল তেমনি ছিলেন বার্থ শাসকও। আর এ ব্যর্থতার মূল কারণ তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড।
