খুজে না পেলে সার্চ করো

আল হাকিমের স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক অবদান/কর্মকাণ্ড আলোচনা কর


আল হাকিমের স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক অবদানকর্মকাণ্ড আলোচনা কর
আল হাকিমের স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক অবদানকর্মকাণ্ড আলোচনা কর

আল হাকিমের স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক অবদান/কর্মকাণ্ড আলোচনা কর

  • অথবা, আল হাকিমের স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক অবদান/কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বর্ণনা দাও ।

উত্তর : ভূমিকা : ইসলামের ইতিহাস পঠন-পাঠনে যে সকল বিষয়াবলী খুবই গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা হয়। তার মধ্যে ফাতেমীয় খলিফা আল হাকিমের শাসন ক্ষমতা অধিষ্ঠিত হওয়া এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা হওয়া এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা অন্যতম। 

তিনি শাসক হিসেবে অনেক সমালোচনার সম্মুখীন হলেও জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গিয়েছেন। 

তার জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারে অন্যতম নিদর্শন দারুল হিকমা প্রতিষ্ঠা। তিনি তার এ অবদানের জন্য বিশ্বের ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে আছেন।

→ আল হাকিমের পরিচয় : খলিফা আল হাকিম ৯৮৫ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই আগস্ট মিশরের আল কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল আব্দুল আজিজ। 

আল হাকিমের মাতা খ্রিস্টান ছিলেন। তিনি মাত্র ১১ বছর বয়সে সিংহাসনের উত্তর ধিকারী নিযুক্ত হন। তার অভিবাবক ও গৃহশিক্ষক ছিলেন কোষাধ্যক্ষ বার জোয়ান। 

আল হাকিমের মূল নাম ছিল আৰু আলি মুনসুর আল হাকিম বি আমর ইল্লাহ। তিনি ১০২১ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই ফেব্রুয়ারি মোকাত্তামে মৃত্যুবরণ করেন।

স্থাপত্য ও সংস্কৃতির অবদান : খলিফা আল হাকিম স্থাপত্য ও | সংস্কৃতিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :

১. স্থাপত্যের পৃষ্ঠপোষক : আল হাকিম অনেক খামখেয়ালি শাসক হলেও তার অনেক কাজ কৃতিত্বের দাবিদার। তিনি ছিলেন একজন শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। তিনি তার বাবার তৈরি মসজিদের কাজ ১০০০ সালে শেষ করেন। 

তার এ মসজিদটি আল হাকিম মসজিন নামে পরিচিত। তিনি আল হাকিম রাশিদিয়া মসজিদও নির্মাণ করেন এবং এ মসজিদে তিনি জুম্মার সালাত আদায় করেন। আর এগুলো ছিল তৎকালীন সময়ের স্থাপত্যশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

২. পূর্তকার্য : আল হাকিমের অন্য মে শ্রেষ্ঠ কাজ হল পূর্বকার্যে অবদান রাখা। ১০০৪ সালে তিনি “হাকিমের মসজিদে মিমর যোগ করে তাতে অলংকরণ করেন। 

খলিফা আল হাকিম ঈক্ষঠ নির্মিত মসজিদ ভেঙ্গে সেখানে একটি বৃহত্তর ও অধিক সুন্দর মসজিদ নির্মাণ করেন। 

রশিদ নামক একজন ব্যক্তির নামানুসারে সেই মসজিদের নাম রাখা হল রশিদিয়া মসজিদ। এছাড়া তিনি শিয়াদের বহু মসজিদে পর্দা, মাদুর, কুরআন, রৌপা বাতিদান প্রভৃতির উপহার দেন।

৩. সংস্কৃতি ও জ্ঞান চর্চা : ফাতেমীয় খিলাফতের শাসকবৃন্দ মিশর জয়ের পর হতে তারা চিকিৎসাশাস্ত্র ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে বিশেষ উৎসাহী হয়ে ওঠেন। 

খলিফা আল হাকিম জ্ঞান অনুশীলনে অনেক আগ্রহী ছিলেন। তিনি জ্ঞান চর্চার জন্য 'দারুল হিকমা' নামে একটি ভবন নির্মাণ করেন। আর এ ভবনটি খলিফা আল হাকিমকে বিখ্যাত করে তোলে।

৪. নতুন নীতির প্রবর্তন : তিনি তার রাজ্য পরিচালনার জন্য নানা রকম নতুন নীতির প্রবর্তন করেন। তিনি বলেন বেপর্দা অবস্থায় মেয়েরা রাস্তায় বের হতে পারবে না। উলঙ্গ হয়ে গোসলখানায় গোসল করতে পারবে না। 

১০১০ সালে তিনি বলেন, নীল নদের তীরে আমোদ প্রমোদ করা যাবে না। পাড়ের | দিকের দরজা জানালা খোলা রাখা যাবে না। গান, খেলা, সভা ও উচ্ছৃঙ্খল আমোদ-প্রমোদ করা যাবে না।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, খলিফা আল হাকিম বিতর্কিত শাসক হলেও বিভিন্ন ধরনের সংস্কারমূলক কর্মসূচির পাশাপাশি স্থাপত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

তিনি ফাতেমীয় খিলাফতের ইতিহাসে একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন। জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতি, স্থাপত্য ও সাংস্কৃতির ক্ষেত্রে আল হাকিম যে অবদান রেখে গিয়েছিল। এজন্য তার অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ