পরিবর্তনশীল জনসংখ্যা তত্ত্বটি লিখ
![]() |
| পরিবর্তনশীল জনসংখ্যা তত্ত্বটি লিখ |
পরিবর্তনশীল জনসংখ্যা তত্ত্বটি লিখ
জনতাত্ত্বিক ক্রান্তিতত্ত্ব সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
উত্তর : | ভূমিকা : জনসংখ্যা যেকোনো একটি দেশের মূল্যবান সম্পদ। জনসংখ্যা ছাড়া রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না। জনসংখ্যা সম্পর্কে নানারকম তত্ত্ব বিদ্যমান। তার মধ্যে জনসংখ্যা অতিক্রমণ উল্লেখযোগ্য। জনসংখ্যার বাস্তব গতি-প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল বলে পরিবর্তনশীল, ক্রান্তিতত্ত্ব বেশ গুরুত্ব পেয়েছে ।
মতবাদটি কোনো সমাজের জনসংখ্যার বাস্তব অবস্থা এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধি বা হ্রাসের ধারা বিশ্লেষণের মাধ্যমে যে তাত্ত্বিক বক্তব্য প্রদান করে তা অনেকেই যুক্তিযুক্ত বলে মনে করে। জনসংখ্যার ক্রান্তিতত্ত্ব, পরিবর্তনশীল জনসংখ্যা তত্ত্ব বা জনসংখ্যার অতিক্রমণ তত্ত্ব মূলত একই অর্থে ব্যবহার হয়।
→ জনসংখ্যা অতিক্রমণ/ক্রান্তিতত্ত্ব : আধুনিক জনবিজ্ঞানীরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিগত বছরগুলোতে জনসংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধির গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনা করে জনসংখ্যার একটি সাধারণ তত্ত্ব বা মডেল দাঁড় করেছেন যার নাম Demographic Transition বা জনসংখ্যা অতিক্রমণ/পরিবর্তনশীল তত্ত্ব নামে পরিচিত।
কেননা বর্তমান শতাব্দীতে বিভিন্ন সমাজে জনসংখ্যার যে হ্রাস দেখা যাচ্ছে তা অষ্টাদশ শতাব্দীতে ম্যালথাসের পক্ষে আন্দাজ করা সম্ভব হয়নি।
তত্ত্বটির পটভূমি : “জনসংখ্যা ক্রান্তিতত্ত্ব” প্রতিষ্ঠার একটি পটভূমি আছে তা এই যে ঊনিশ শতকে যখন পাশ্চাত্যের শিল্পায়িত দেশে জন্ম এবং মৃত্যুহারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধিত হয় তখন জনবিজ্ঞানীরা এ পরিবর্তনকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জনতাত্ত্বিক ক্রান্তিকালীন পর্যায় সংক্রান্ত একটি তত্ত্ব প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হন। এসব পরিবর্তন লক্ষ্য করে TS. hompson সর্বপ্রথম ১৯২৯ সালে জনসংখ্যা অতিক্রমণ তত্ত্বটি প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৪৭ সালে CP Blacker-এ তত্ত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। ১৯৪৫ সালে Frank Notestein-এ তত্ত্বের উপর একটা প্রবন্ধ লিখেন। বর্তমানে এ তত্ত্বটি Thompson- Notestein-এর রূপান্তর তত্ত্ব নামে পরিচিত
তত্ত্বটির মূল বক্তব্য : পাশ্চাত্য সমাজ শিল্পবিপ্লবের ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে জনবিজ্ঞানীরা এ সিদ্ধান্তে আসেন যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেকোনো দেশেই মৃত্যু ও জনসংখ্যা হ্রাস ঘটাতে পারে।
অর্থনৈতিক উন্নতির ফলে মৃত্যু ও জনসংখ্যা হ্রাস পাবার একটি পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়ার কথা তারা ঐ তত্ত্বে উল্লেখ্য করেন। তারা মৃত্যু ও জন্মসংখ্যা হ্রাসের যে চারটি পর্যায়ের কথা বলেন তা নিম্নে বর্ণনা করা হলো :
১. প্রথম পর্যায় : এ পর্যায়টি প্রাক শিল্প যুগকে নির্দেশ করে। এ পর্যায়ে উচ্চ হারে যেমন জন্মছিল তেমন উচ্চ হারে মৃত্যু বিরাজ করতো ।
২. দ্বিতীয় পর্যায় : এ পর্যায়টি যেকোনো দেশে মারাত্মক জনসংখ্যাকে নির্দেশ করে। এ পর্যায়ে জন্মহারের তুলনায় মৃত্যুহার দ্রুততর গতিতে হ্রাস পায়। অর্থাৎ জন্মে বেশি মরে কম।
৩. তৃতীয় পর্যায় : এ পর্যায়ে মৃত্যুহারের তুলনায় জন্মহারের হঠাৎ করে হ্রাস পায়। ফলে দ্বিতীয় পর্যায়ের তুলনায় এ পর্যায়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস পায়। ফলে জনসংখ্যার মাঝে একটা সমতা বিরাজ করে ।
৪. চতুর্থ পর্যায় : চতুর্থ পর্যায় জন্ম ও মৃত্যুহার উভয়ই এমনভাবে হ্রাস পায় যাতে জন্ম ও মৃত্যুহারের একটি ভারসাম্য সৃষ্টি হয় ।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, আর্থিক সমৃদ্ধির কারণে প্রথম দিকে জন্মসংখ্যা কিছু দিনের জন্য বৃদ্ধি পেতে থাকলেও সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক কারণে এবং জীবনের প্রতিটি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ফলে ধীরে ধীরে জনসংখ্যা কমতে থাকে এবং জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যে সমতা বিরাজ করে। এ তত্ত্বটি জনসংখ্যার হ্রাস- বৃদ্ধি সম্পর্কে বাস্তবতা ব্যাখ্যা করে ।
