সম্রাট জাহাঙ্গীরের প্রশাসনিক ঘোষণাসমূহ আলোচনা কর

সম্রাট জাহাঙ্গীরের প্রশাসনিক ঘোষণাসমূহ আলোচনা কর
সম্রাট জাহাঙ্গীরের প্রশাসনিক ঘোষণাসমূহ আলোচনা কর

সম্রাট জাহাঙ্গীরের প্রশাসনিক ঘোষণাসমূহ আলোচনা কর

  • অথবা, সম্রাট জাহাঙ্গীর যে প্রশাসনিক ঘোষণা দেন তার বর্ণনা কর।

উত্তর : ভূমিকা : মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর একজন প্রতিভাবান ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য তিনি মানুষের প্রিয়ভাজন হয়েছিলেন। 

তার সময় রাজ্যের সর্বত্র শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজ করতো। তার রাজত্বকাল আকর্ষণীয় ও ঘটনা বহুল । তাই মুঘল ইতিহাসে তার স্থান শ্রেষ্ঠ শাসকদের মধ্যে।

→ জাহাঙ্গীরের প্রশাসনিক ঘোষণাসমূহ : সম্রাট জাহাঙ্গীর প্রশাসনিক ঘোষণাপূর্বক দাস্তারুল আমল নামক বারটি মঙ্গলজনক আইন জারি করেন। 

নিম্নে সম্রাট জাহাঙ্গীরের ঘোষণাসমূহ আলোচনা করা হলো :

১. ক্ষমাপ্রদর্শন : যেসব অভিজাতবর্গ তার সিংহাসনের বিরোধিতা করেন তিনি তাদেরকে ক্ষমা প্রদর্শন করেন। পিতার আমলের রাজকর্মচারীদের প্রতি উপযুক্ত শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতেও সম্রাট জাহাঙ্গীর ত্রুটি করেননি।

২. মুদ্রার প্রচলন : প্রশাসনিক কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি নিজ নামে টাকশাল এবং মুদ্রার প্রচলন করেন। মুদ্রার প্রচলন তার জীবনের উল্লেখ্য বিষয়।

৩. ন্যায়পরায়ণতা : সম্রাট জাহাঙ্গীর সকল মানুষের উপর সমান আচরণ করতেন। কোনো মানুষ যাতে কোনো প্রকার নির্যাতন ভোগ না করে সেদিকে তিনি খেয়াল রাখতেন। মুঘল বংশের ইতিহাসে তার ন্যায়পরায়তা ছিল উজ্জ্বল প্রতীক।

৪. বিচারব্যবস্থা : সম্রাট জাহাঙ্গীর প্রশাসনিক বিধি ব্যবস্থার দিকে মনোনিবেশ করেন। তিনি বিশ গজ লম্বা একটি সোনার শিকল আগ্রার দুর্গ থেকে যমুনা নদীর তীর পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেন ।

৫. কর রহিতকরণ : নিয়মিত কর দিয়ে অনেক দরিদ্র কৃষক নিঃস্ব হয়ে পড়ায় তিনি গরিবদের উপর কতিপয় কর রহিত করেন। এছাড়া তিনি তামগা, মীরবারী নামক কতগুলো অতিরিক্ত কর রহিত করেন।

৬. আইন প্রণয়ন : সম্রাট জাহাঙ্গীর প্রশাসনিক বিধি ব্যবস্থার জন্য ১২টি আইন প্রণয়ন করেন। যেমন- বিভিন্ন ধরনের শুল্ক রহিতকরণ, মাদকদ্রব্য তৈরি ও বিক্রয় নিষিদ্ধকরণ, মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির উত্তরাধিকার নির্ণয় প্রভৃতি ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, সুশাসক হিসেবে ভারতের ইতিহাসে সম্রাট জাহাঙ্গীর ছিলেন অতুলনীয়। তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে কৃতিত্ব অর্জন করেন। 

স্যার টমাস রো যথার্থই বলেন, “তার বদমেজাজ ও নানা কাজের মধ্যে নিষ্ঠুরতা দেখা গেলেও তার সদগুণ বা সদজ্ঞানের অভাব ছিল না।” তাই তাকে শ্রেষ্ঠ মুঘল শাসক হিসেবে গণ্য করা যায় ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ