বিদ্রোহী সংঘ গল্পের স্বরূপ বা মূলবিষয় বর্ণনা কর
'বিদ্রোহী সংঘ' গল্পের স্বরূপ বা মূলবিষয় বর্ণনা কর।
![]() |
| 'বিদ্রোহী সংঘ' গল্পের স্বরূপ বা মূলবিষয় বর্ণনা কর। |
উত্তর : ‘বিদ্রোহী সংঘ' লেখকের কালের ভণ্ড বিদ্রোহীদের ব্যঙ্গচিত্র। ব্যক্তি স্বার্থে বিদ্রোহী হয়ে ইংরেজ তাড়াবার বাসনা, স্বাধীনতার নামে স্বেচ্ছাচারিতা, বিদ্রোহের নামে রাজনৈতিক পলায়নপর মনোবৃত্তির আশ্রয় ইত্যাদির মুখোশ উন্মোচন করেছেন আবুল মনসুর আহমদ এ গল্পে।
সমালোচকের মতে, 'সমাজে এক শ্রেণির বিদ্রোহী আছে যাদের বিদ্রোহ পলায়নবাদের নামান্তর।' রাজনৈতিক বিদ্রোহে ঝুঁকি আছে বলে তারা সামাজিক আচার অনাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের বুলি কপচিয়ে দাম ও নাম বাড়াবার চেষ্টা করে।
অথচ সেটা যে অধিকাংশ সময় গা বাঁচাবার ফন্দি মাত্র মুখোশ একটু উন্মোচন ভাবত, ভারতবর্ষের স্বাধীনতা এলে কোনো প্রচলিত নিয়মকানুন মানতে হবে না এমনকি ট্রাম ট্রেনের ভাড়া পর্যন্ত দিতে হবে। করলেই সহজে বুঝা যায়। তাছাড়া, একশ্রেণির বিদ্রোহী আছে, যাদের কাছে স্বাধীনতা, উচ্ছৃঙ্খলতার নামান্তর।
কিছু লোক বিদ্রোহীদের দলে নাম লেখাতে চায় এবং রাতারাতি বিদ্রোহ বা বিপ্লব ঘটাতে চায়। এ জাতীয় বিদ্রোহীদের পরিচয় পাওয়া না। আবার কিছু কিছু ব্যক্তি আছে যারা দেশের প্রতি ভালোবাসায় নয়, শুধু ব্যক্তিস্বার্থে আঘাত লাগাবার কারণেই যায় বিদ্রোহী সংঘ গল্পে।
আগাগোড়া উদ্ভট কৌতুক উপাদানে ভরা গল্প বিদ্রোহী সংঘ। চাকরি লাভে ব্যর্থ হয়ে একজন ব্যক্তি রাতারাতি প্রচণ্ড বিদ্রোহী হয়ে গেল এবং সত্যিকার বিদ্রোহীদের খোঁজে সারা কলকাতা ঘুরে অবশেষে ঢাকার বিদ্রোহী নিয়মকানুনের উল্টোটা করার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাদের কাছে গান গাওয়া মানে বেসুরো চিৎকার, স্বাধীনতা মানে কোন সংঘের সন্ধান পেল।
বিদ্রোহী সংঘে ঘোরাফেরা করে সে হতাশ হলো। কারণ বিদ্রোহী সংঘের বিদ্রোহ ছিল, প্রচলি আইন না মানা ইত্যাদি। তাদের বিদ্রোহ ইংরেজদের বিরুদ্ধে নয়; কেননা ইংরেজরা হাত পা বাঁধলেও আত্মা বাঁধে নি। বিদ্রোহী খুব চটেছিল।
হঠাৎ সন্ধানদাতার দেখা পেলে জানতে পারল সন্ধানদাতা আসলে সি.আই.ডি র লোক এবং সেও বিশ্বমানবতা তাদের আদর্শ সে অর্থে ইংরেজও তাদের পর নয়। এ ধরনের বিদ্রোহী সংঘের সন্ধানদাতার উপর নানা তার হতাশার কথা ব্যক্ত করল আসল বিদ্রোহীদের খুঁজে না পাওয়ার কারণে।
অন্যদিকে, নব্য বিদ্রোহার আচরণে তথাকথিত বিদ্রোহী সংঘের সদস্যরা সন্দিগ্ধ হলো এবং ইংরেজদের কাছে লিখে জানাল ইংরেজ তাড়ানো তাদের উদ্দেশ্য নয়।
ঘটনাচক্রে সে চিঠি পৌঁছবার আগে ইংরেজ পুলিশদের, সংঘের দিকে আসতে দেখা গেল। যথারীতি অভিনব কায়দায়। নেতাসহ সকলে সংঘের অফিস থেকে পালাল। এ চিত্রের মধ্যে ব্যঙ্গরসের অবতারণায় লেখকের দক্ষতা তুলনা রহিত।
