খুজে না পেলে সার্চ করো

ইসমাঈলীয় মতাদর্শের উদ্ভব ও বিকাশে আদুল্লাহ্ বিন মায়মুন আল কাদ্দাহর অবদান আলোচনা কর


ইসমাঈলীয় মতাদর্শের উদ্ভব ও বিকাশে আদুল্লাহ্ বিন মায়মুন আল কাদ্দাহর অবদান আলোচনা কর
ইসমাঈলীয় মতাদর্শের উদ্ভব ও বিকাশে আদুল্লাহ্ বিন মায়মুন আল কাদ্দাহর অবদান আলোচনা কর

ইসমাঈলীয় মতাদর্শের উদ্ভব ও বিকাশে আদুল্লাহ্ বিন মায়মুন আল কাদ্দাহর অবদান আলোচনা কর 

  • অথবা, আব্দুল্লাহ বিন মায়মুন আল কাদ্দাহর অবদানের বিশেষ উল্লেখপূর্বক ইসমাঈলীয় মতাদর্শের উদ্ভব ও বিকাশ আলোচনা কর।

উত্তর : ভূমিকা : রাসূল (সা.) এর ইন্তেকালের পর হযরত আলী (রা.) ছিলেন খিলাফতের ন্যায় সঙ্গত দাবিদার এই মতবাদেকে সামনে রেখে একটি দলের উদ্ভাবক হয়। 

তারা মনে করতেন নবির পরিবারই খিলাফতের উত্তরাধিকারী এবং আলী ও ফাতেমা (রা.) এর বংশধরগণই এই খিলাফতের অধিষ্ঠিত হওয়ার একমাত্র প্রতিনিধি। 

এই বিষয়গুলো সামনে রেখে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটে। শিয়াদের বিভিন্ন দলের মধ্যে ইসলাঈলীরা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 

এ ইসমাঈলীয় শিয়ারা উত্তর আফ্রিকার ফাতেমীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন। আর এ খিলাফতের প্রতিষ্ঠা যাদের প্রচারণা করাও সম্ভব হয়েছিল তাদের | মধ্যে আব্দুল্লাহ বিন মায়মুন আল কাদ্দাহার অন্যতম।

→ ইসমাঈলীয় শিল্পা মতবাদ : ইসরাঈলীয় শিয়ারা সপ্তম ইমামে বিশ্বাসী শিয়াদের বিভিন্ন উপদলের মধ্যে অন্যতম। এই মতবাদের শিয়ারা ইমাম আবু জাফর আস সাদিকের পুত্র ইসমাঈলের অনুসারী বলে এদের ইসমাঈলীয় শিয়া বলা হয়।

১. আব্দুল্লাহ বিন মারমুন আল কান্দাহ : ইসমাঈলীয় মতবাদের যে তিনজন প্রধান প্রচারক ও সমর্থক ছিলেন আব্দুল্লাহ বিন মায়মুন তার মধ্যে অন্যতম। তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত ও জনপ্রিয় ছিলেন।

তিনি পারস্যের আওয়াজ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আওয়াজ ও সিরিয়ায় কাসেমীয় মতবাদ প্রচারের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তার সাংগঠনিক ক্ষমতা ছিল অসাধারণ।

২. আব্দুল্লাহ বিন মায়মুন আল কান্দাহর প্রভা : আব্দুল্লাহ বিন মায়মুন আল কান্দাহারকে ইমামদের রাবী বলা হতো। তিনি বিভিন্ন ইমামত সম্পর্কে অত্যন্ত স্বাহ জ্ঞানের আধিকারী ছিলেন। 

মুহাম্মদ আল রাকিব, আবু জাফর আস সাদিক এবং ইসমাঈলসহ অনেক ইমাম সম্পর্কিত বিষয়ে তিনি সুক্ষ জ্ঞান অর্জন করেন।

৩. ইসমাঈলী আন্দোলনে মামুন আল কান্দাহ : ইসমাঈলী আন্দোলনে মারমুন আল কান্দাহ বিশেষ ভূমিকা রাখেন। তিনি ইসমাঈলীয় আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে এত বেশি জ্ঞান রাখতেন যে, এজন্য তাকে অনেকে এই বংশের লোক বলে অবহিত করতেন।

৪. মায়মুনের সাংগঠনিক দক্ষতা : এই মতবাদকে প্রতিষ্ঠা ও সুবিন্যস্ত করে সকলের কাছে পৌঁছে দিতে এবং জনগণের সমর্থন লাভে মায়মুন অসামান্য অবদান রাখেন। এ ক্ষেত্রে তার সাংগঠনিক প্রতিভা 'পরিলক্ষিত হয়। তিনি সহজে সকলের মনজয় করতে পারতেন।

৫. ইসমাঈলীয় মতবাদ প্রচার : আব্দুল্লাহ আল মায়মুন ইসমাঈলীয় মতবাদ প্রচারে আত্ম নিয়োগ করেন। এই মতবাদ ছিল আব্বাসীয় খিলাফতের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক আন্দোলন। 

এই আন্দোলনের তার অবদান সম্পর্কে ঐতিহাসিকগণ বলেন, তিনি প্রচলিত ব্যবহার বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করেন এবং সঠিক মতাদশের প্রতি আহবান জানান এতে তিনি ব্যাপক জনসম্পন লাভ করেন।

৬. মায়মুনের জেরুজালেমে গমন : ইসমাঈলীয় মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্য মায়মুন জেরুজালেম গমন করেন। তিনি কিছু অনুসারী নিয়ে সমগ্র জেরুজালেমে ছড়িয়ে পড়েন। 

সমাজ্যের প্রত্যেক শ্রেণিতে তিনি প্রচারক প্রেরণ করেন। এ সময় তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হন।

৭. প্রচার কেন্দ্র স্থাপন : তিনি এই মতবাদ প্রচারের লক্ষ্যে তিনি প্রথমে বসরাতে প্রচার কেন্দ্র নির্মাণ করেন। সেখানে জনগণের বিরোধিতার ফলে তিনি পারস্যে প্রচার কেন্দ্র স্থাপন করেন। ২৬ হিজরিতে তিনি বসরা হতে পারস্য গমন করেন ।

৮. মুহাম্মদ বিন ইসমাঈলকে সহযোগিতা : ইসমাঈলের পুত্র ছিলেন মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল। তিনি হারুন অর রশিদদের শাসনামল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। পিতার মৃত্যু হলে বিনি সিরিয়ায় চলে যায়। এই মতাবাদ প্রচারে মায়মুন তাকে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন ।

৯. ইমামের সুরক্ষায় মায়মুন : মায়মুন বহুদিন জীবিত ছিলেন। তিনি মুহাম্মদ এর পরবর্তী তিনজনকে নিরাপত্তা দিয়েছেন। এই তিনজন ইমামই সালামিয়াতে অবস্থান করছিলেন। মায়মুন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই মতবাদ প্রচারে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন ।

১০. মায়মুনের গ্রন্থ রচনা : আব্দুল্লাহ বিন মায়মুন আল কাদ্দাহ ছিলেন ইসমাঈলীয় মতবাদ প্রচারের নিবেদিত প্রাণকর্মী সংগঠক। তিনি এই মতবাদকে সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছিয়ে দিতে বহু শিয়া গ্রন্থ রচনা করেন। 

এই গ্রন্থের মাধ্যমে এই মতাদর্শ কিভাবে সুসংগঠিত করা, জোরালো যুক্তির উপর দাঁড় করানো ইত্যাদি বিষয়গুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেন।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, আব্দুল্লাহ আল মায়মুন ইসমাঈলীয় মতবাদ প্রচারে অসামান্য অবদান রাখেন। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক জ্ঞানী বিচক্ষণ ও দূরদর্শী ব্যক্তি। 

তিনি সুন্নিদের নিকট আলী (রাঃ) এর গুণকীর্তন শিয়াদের নিকট আলী (রা.) ও ফাতেমা (রা.) এর অতিমানবীয় প্রশাংসা ইত্যাদি কৌশল অবলম্বন করে এই মতাবাদকে ব্যাপকভাবে প্রচার করেন । 

তার আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে এই মতবাদ ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করে । অনুসারীর সংখ্যা অধিক পরিমাণে বৃদ্ধি পায় ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ