প্রবাদ ও বচনের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ কর
প্রবাদ ও বচনের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ কর
![]() |
| প্রবাদ ও বচনের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ কর |
উত্তর : লোকসাহিত্য হচ্ছে সাহিত্যের এমন একটি শাখা যা প্রাচীনকালে কোনো এক সংহত-গোষ্ঠী-সমাজে সৃষ্টি হয়ে স্মৃতি দ্বারা সংরক্ষিত হয়ে মৌখিকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। যার মধ্যে লোকমানস ও লোকসমাজের চিত্র খুঁজে পাওয়া যায়।
তবে ব্যক্তিমানসের প্রতিফলন এতে ঘটে নি। যদিও ক্ষেত্রবিশেষে কোথাও কোথাও সামান্য অশ্লীলতা ও অভদ্রতার ছাপ খুঁজে পাওয়া যায় তবুও এর সহজসরল সজীবতা আমাদের মুগ্ধ করে।
প্রবাস প্রকৃতপক্ষে সমাজের কখন-ভাষণ বা উক্তি। এর মধ্যে অনুশাসন এবং আদেশের ভাবও আছে। অনেক সময় এতে পরোক্ষ ভাবও আছে। প্রবাদ বাক্যাংশ নয় বরং এর পরিবর্তে পূর্ণ একটি বাক্য।
প্রবাদ বহু প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের জীবনের সাথে মিশে আছে। এতে নানা প্রকার ব্যঙ্গ-রঙ্গ রচনা উপদেশ জড়িয়ে থাকে। ইহা এক বা দুই চরণে লিখিত হয়। যেমন-
ক. দিনে রোন রাতে জল তাতে বাড়ে ধানের বল।"
খ. নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা।”
প্রবাদ হলো গোষ্ঠীজীবনের অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ততম স্বরূপ অভিব্যক্তি যেখানে জীবনের একটি চিত্র ফুটে উঠে এবং সেই চিত্রের মাধ্যমে কোনো বক্তব্যকে প্রকাশ করা হয়।
এর সৃষ্টি মূলত মুখে মুখে হয়ে থাকে এবং তার নীতি বাক্যগুলো ছড়াগাঁথা ও প্রত্যক্ষ। এর মধ্যে তিনটি গুণ বিদ্যমান সংক্ষিপ্ততা, অর্থকতা ও সরলতা।
'বচন' শব্দটির অর্থ ভাষণ-কথন, অনুশাসন, আদেশ। এর মধ্যেও অনুশাসন এবং আদেশের ভাব আছে। অনেক সময় পরোক্ষ আদেশও বুঝায়। বচন শব্দটি দ্বারা পূর্ণ বাক্য বুঝায়। অনেক ফোকলোরবিদ বচনকে লোকসাহিত্যের স্বতন্ত্র শাখা বলতে চান না।
তাঁরা একে প্রবাদের অন্তর্ভুক্ত করতে চান। কিন্তু বচনের কতকগুলো স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আছে তাই এটিও লোকসাহিত্যের অন্যতম একটি শাখা।
প্রবাদ ও বচনের পার্থক্য : ব্যুৎপত্তিগত অর্থের দিক থেকে প্রবাদ ও বচনের কোনো প্রভেদ নেই কিন্তু প্রবাদ ও বচন রূপে যেসব রচনা আমরা পাই সূক্ষ্ম বিচারে সেগুলোর মাঝে কতকগুলো স্পষ্ট পার্থক্য ধরা পড়ে।
(১) প্রবাদ আকারে ক্ষুদ্র এটি এক দুই চরণের বেশি হয় না- কিন্তু বচন দীর্ঘতর হয়।
উদাহরণ :
* অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ
* অতি লোভে তাঁতী নষ্ট
বচন :
* ষোল চাষে মূলা
তার অর্ধেক তুলা
তার অর্ধেক ধান
বিনা চাষে পান
২. প্রবাদের তুলনার বচন অনেক বেশি সুসংগঠিত। যেমন-
* কিসের মাসি কিসের পিসি, কিসের বৃন্দাবন
আজ হতে জানলাম মা বড় ধনঃ (প্রবাদ)
* খনা বলে চাষার পো ।
শরতের শেষে সরিষা রোঃ (বচন)
৩. প্রবাসের নির্দিষ্ট ক্ষেত্র নেই- কিন্তু বচনের আছে। যেমন- কৃষি, জলবায়ু এবং মানবচরিত্র ও সংসার। ৪. বচন ও প্রবাদের মধ্যে সেটা অনেকটা পরোক্ষ, কিন্তু বচনের উপদেশ প্রত্যক্ষ।
প্রবাদ :
চিড়া বল পিঠা
বল ভাতের মত না
বচন :
খালা বল ফুফু বল মায়ের মত না।
চৈত্রে দিয়া মাটি
বৈশাখে কর পরিপাটি
৫. অধিকাংশ প্রবাদ গদ্যে রচিত কিন্তু বচন পদ্যে রচিত। যেমন-
ক. সময়ে না দেয় চাষ।
তার দুঃখ বার মাসঃ (বচন)
খ. আগে দেখি পরে লও,
শেষে দাও কড়িঃ (প্রধান)
৬. প্রবাদ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ও বচন অল্প বিষয় নিয়ে রচিত হয়।
৭. প্রবাসে ব্যাঙ্গবিদ্রূপ ও উপদেশ থাকে কিন্তু বচনে শুধু উপদেশ থাকে। যেমন-
প্রবাদ :
সাপ শালা জানোয়ার
তিন নয় আপনার
বচন :
খনা ডেকে বলে যান
রোদে ধান ছায়ায় পান
৮. প্রবাদ কল্পনা ব্যঞ্জনাধর্মী বচন বাচ্যার্থধর্মী।
৯. প্রবাদের শব্দগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ মিল আছে বচনে তা নেই।
