চিত্রাঙ্গদার পরিচয় দাও

চিত্রাঙ্গদার পরিচয় দাও

চিত্রাঙ্গদার পরিচয় দাও
 চিত্রাঙ্গদার পরিচয় দাও

উত্তর রাবণের স্ত্রী ও বীরবাহুর মা চিত্রাঙ্গদা একটি মর্মস্পর্শী করুণ চরিত্র। কিন্তু যুগের কারণে চরিত্রটি বীরগর্ভ করুণ। 

চরিত্রটির উপরে একটি অসহায়া উপেক্ষিতা নারীর কিন্তু ভেতরে শোনা যায় এক দলিত ফণিনীর ক্ষুব্ধ শ্বাস। চিত্রাঙ্গদাকেবল স্নেহাতুর জননী নয়, উপেক্ষিতা রাজ-মহিষী, অন্যায় অসহিষ্ণু অনাচারপীড়িত স্বাধীন নারী হৃদয়ের অধিকারিণীও বটে। 

শোকের কারুণ্য ও প্রতিবাদের সৎসাহস ও দৃঢ়তা চিত্রাঙ্গদাকে করেছে অনন্যা। বহু মহিষীর মধ্যে চরিত্রটি কতই না তুচ্ছ, কিন্তু শিল্পী একে বাংলা সাহিত্যে প্রথম প্রতিবাদী নারী চরিত্রে রূপ দিয়েছেন, যে স্বামীর সামনে তার পুত্রের মৃত্যুর কৈফিয়ত চেয়েছে অবলীলাক্রমে। রাবণ তার সামনে চমকে উঠেছে। 

একমাত্র অবলম্বন পুত্রকে হারিয়ে পাপাচারী স্বামীর বিরুদ্ধে জমে ওঠা পর্বতপ্রমাণ ঘৃণা ও অশ্রদ্ধা দৃপ্ততেজে উচ্চারিত। সে স্পষ্ট রাবণের পাপের ফিরিস্তি দিয়েছে। রাম-রাবণের যুদ্ধের কার্যকারণ ও ন্যায়-অন্যায়ের খতিয়ান তুলে ধরে উলঙ্গ নির্মম সত্য প্রচার করেছে। 

চিত্রাঙ্গদা তাই বীরবাহুর বীর জননী। করুণরসের সায়রে একটি অনুপম বীরাঙ্গনা শতদল । চিত্রাঙ্গদা উল্কাবৎ, তার আলোকে চোখ ঝলসে যায়। সে আলোকে স্পষ্ট দেখা যায় রাবণ চরিত্রের অন্তঃপ্রদেশ ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ