প্রমীলার পরিচয় দাও

 প্রমীলার পরিচয় দাও 
প্রমীলার পরিচয় দাও
প্রমীলার পরিচয় দাও

উত্তর মধুসূদনের মেঘনাদবধ কাব্যে প্রমীলা মেঘনাদের যোগ্য পত্নী। ইন্দ্রজয়ী মেঘনাদকে প্রমীলা জয় করেছে সতী নারীর সর্বজয়ী প্রেমবলে। কাব্যের মত এ চরিত্রটির শুরু অশ্রুধারায়, সমাপ্তি চোখের জলে।

সে পতিপ্রেমমুগ্ধা বলেই সাময়িক পতিবিরহ তার অসহ্য, ফলে পতি মিলনে সে রণরঙ্গিণী, বীরাঙ্গনা। তার বীরত্বের মূলে পতিমিলন । প্রমীলা মেঘনাদের চিরানন্দ। মেঘনাদ সূর্যকান্তমণি, প্রমীলা তার রবিচ্ছবি।এটাই প্রমীলার শাশ্বত পরিচয়। সে মেঘনাদের মর্মসহচরীও। 

প্রমোদবিহারে, মধুর গার্হস্থ্যজীবনের কর্তব্যে, সামরিক উদ্যোগে — এমনকি মরণেও সে স্বামীসঙ্গিনী। যুদ্ধে যাবার প্রাক্কালে মেঘনাদের বিদায় দৃশ্যে সে নিষ্ক্রিয়, কিন্তু সেখানেও তাকে ঘিরেই বিরাজ করেছে নীরব অথচ প্রোজ্জ্বল পূর্ণতার জ্যোৎস্নালোক, যে আলোয় আলোকিত মেঘনাদের সংসার। 

তার ইচ্ছা স্বামীকে বীরসাজে সাজাবে, কিন্তু শাশুড়ির আহ্বান সে উপেক্ষা করতে পারে নি। প্রমীলা পরিণত প্রেমের মানসকন্যা, নারীত্বের সম্পূর্ণতার অধিকারিণী, পরিণতা প্রমীলা। সতীত্বের আদর্শে গড়া ভারতীয় নারী। 

সে বীর্যে ভৈরবী, কিন্তু কোমলতায় কুলবধূর আদর্শস্থানীয়া। নারীত্বের মূল অভিজ্ঞান পতিপ্রেম। সেই প্রেমই তাকে অসাধ্য সাধন করিয়েছে। প্রমীলা বীরাঙ্গনাও নয়, লজ্জাশীলা কুলবধূও নয়, সে পতিপ্রাণতা প্রেমিকা

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ