কাবুলের প্রকৃতির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও

 কাবুলের প্রকৃতির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
কাবুলের প্রকৃতির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।

 কাবুলের প্রকৃতির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।

উত্তর : কাবুলে দেখার মতো কোনো বিখ্যাত জায়গা নেই। কিন্তু সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিচারে কাবুল মনোরম জায়গা। 

সবচেয়ে আরামের কথা হচ্ছে যে, যা কিছু দেখবার তা বিনা পরিশ্রমে দেখা যায়। গুলবাগ কাবুলের কাছেই—হেঁটে, টাঙ্গায়, মোটরে যে কোনো কৌশলে যাওয়া যায়। তিনদিকে উঁচু দেওয়াল, একদিকে কাবুল নদী; তাতে বাঁধ দিয়ে বেশ খানিকটা জায়গা পুকুরের মতো শান্ত স্বচ্ছ করা হয়েছে। বাগানে অজস্র আপেল-নাসপাতির গাছ, নারগিস ফুলের চারা, আর ঘন সবুজ ঘাস ।

দীর্ঘ তন্বঙ্গী চিনারের ঘন-পল্লবের ফাঁকে ফাঁকে দেখবেন অস্বচ্ছ ফিরোজা আকাশ। গাছের ফাঁক দিয়ে দেখবেন কাবুল পাহাড়ের গায়ে সাদা মেঘের হুটোপুটি। 

কিংবা দেখবেন হুটোপুটি নয়, এক পাল সাদা মেঘ যেন গৌরীশঙ্কর জয় করতে উঠে পড়ে লেগেছে। কোমর বেঁধে প্ল্যানমাফিক একজন আরেকজনের পিছনে ধাক্কা দিয়ে দিয়ে চূড়ো পেরিয়ে ওদিকে চলে যাবার তাদের মতলব। 

ধীরে সুস্থে গড়িয়ে গড়িয়ে খানিকটা চড়ার পর কোনো এক অদৃশ্য নন্দীর ত্রিশূলে ঘা খেয়ে নেমে আসছে, আবার এগুচ্ছে, আবার ধাক্কা খাচ্ছে। তারপর আলাদা ট্যাকটিক বালাবার জন্য দু'তিনজন একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে বিলকুল এক হয়ে গিয়ে নতুন করে পাহাড় বইতে শুরু করবে। 

হঠাৎ কখন পাহাড়ের আড়াল থেকে আরেক দল মেঘের চূড়োয় পৌঁছতে পেরে খানিকটা মাথা দেখিয়ে এদের যেন লজ্জা দিয়ে আড়ালে ডুবে মারবে।

উপরের দিকে তাকিয়ে দেখবেন চিনারপল্লব, পাহাড় সব কিছু ছাড়িয়ে ঊর্ধ্বে অতি ঊর্ধ্বে আপনারই মতো নীল গালচেয় শুয়ে একখানা টুকরো মেঘ অতি শান্ত নয়নে নিচের মেঘের গৌরীশঙ্কর অভিযান দেখছে আপনারই মতো। নাকে আসবে অজানা ফুলের মেশা গন্ধ । 

যদি গ্রীষ্মের অন্তিম নিঃশ্বাস হয়, তবে তাতে আরো মেশানো আছে পাকা আপেল, অ্যাপ্রিকটের বাসী বাসী গন্ধ। তিন পাঁচিলের বন্ধ হাওয়াতে সে গন্ধ পঁচে গিয়ে মিষ্টি নেশার আমেজ লাগায়। চোখ বন্ধ হয়ে আসে তখন শুনতে পাবেন। উপরের হাওয়ার দোলে তরুপল্লবের মর্মর আর নাম-না-জানা পাখির জান-হানা দেওয়া ক্লান্ত কূজন ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url
আরও পড়ুনঃ
আরও পড়ুনঃ